মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
প্রশ্ন:- আপনি কি বলতে পারবেন জীবনে সব সময় উৎসাহী থাকার উপায়টি কি?
জয়পতাকা স্বামী:- যদি তুমি ভাব যে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ কিভাবে আমাদেরকে সব সময় সাহায্য করছেন, তাহলে সেটা ভাবার মাধ্যমেই আমরা সবসময় তাকে সেবা করার ক্ষেত্রে উৎসাহী থাকতে পারব। এছাড়াও চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি তাদেরকে তাঁর কৃপা প্রদান করেন, যারা উৎসাহী।
প্রশ্ন:- আমরা এই জড়জগতে আসি কারণ আমরা সেই জগতে কৃষ্ণের সাথে সন্তুষ্ট ছিলাম না, তাই কি আশা আছে যে আমরা যখন আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাব, তখন আমরা সন্তুষ্ট থাকব?
জয়পতাকা স্বামী:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভগবদগীতায় বলেছেন যে একবার তুমি ভগবানের ফিরে গেলে তুমি আর এখানে ফিরে আসতে চাইবে না। এর মানে তুমি একবার সেই জগতে ফিরে গেলে, দুই জগতের তুলনা বুঝতে পারবে। এছাড়াও তুমি যতক্ষণ এখানে আছ, প্রত্যেকের ভিন্ন কাহিনী আছে, ভিন্ন ইতিহাস আছে। কেউ হয়ত আধ্যাত্মিক জগতে ছিল বা হয়ত ছিল না।
প্রশ্ন:- কৃষ্ণভাবনাময় গৃহস্থ জীবনের ক্ষেত্রে কত মানুষেরা কত বিভিন্নধরনের উপদেশ দেয়। গৃহস্থ জীবনের ক্ষেত্রে কেউ বলে যে কারো খুব দৃঢ় হওয়া উচিত ও এইসব কিছু নিয়ম সঠিকভাবে পালন করা উচিত আর অন্যান্যরা বলে যে তোমার তো বিয়ে হয়েছে সবে কয়েক মাস হয়েছে, তাই এই সব কিছুকে সরলভাবে গ্রহণ করো! এক্ষেত্রে কৃষ্ণভাবনামৃতে গৃহস্থ হিসেবে সব কিছু চালিয়ে যাওয়ার পন্থাটি কি? দয়া করে আপনার আশীর্বাদ দিন।
জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর যারা বিবাহিত হতে চায়, তাদের জন্য হারমনিস্টে একটি উপদেশ লিখেছিলেন। ছেলের এমন একজন সঙ্গী খোঁজা উচিত যে আধ্যাত্মিকভাবে অত্যন্ত উন্নত। মেয়ের এমন একজন স্বামী খোঁজা উচিত যে তার থেকে আধ্যাত্মিকভাবে আরো উন্নত। এই সুযোগ নিয়ে স্বামী স্ত্রী আলোচনা করতে পারবে যে তারা কিভাবে কৃষ্ণকে আরো আরো খুশি করতে পারবে, কিভাবে স্বামী এবং স্ত্রী একসাথে ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করতে পারবে এই ধরনের ভাবনা থাকা উচিত নয়, তাদের কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করা উচিত। ঠিক যেমন এখানে অনেক ভক্তিবৃক্ষ আছে, স্বামী-স্ত্রী একসাথে আলোচনা করে ও পরিকল্পনা করে যে কিভাবে তারা ভক্তিবৃক্ষ বৃদ্ধি করতে পারবে ও আরো বিস্তারিত করতে পারবে। কিভাবে তারা কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ভক্তে পরিণত করতে পারবে। তারা এটা ভাববে যে কিভাবে তাদের গৃহ হচ্ছে কৃষ্ণের, তারা কৃষ্ণকে ভোগ নিবেদন করবে এবং তারপর সেই প্রসাদ বিতরণ করবে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু হচ্ছেন শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের সন্তান, এইভাবে প্রত্যেক দম্পতির এমন সন্তান করা উচিত যে পরবর্তীতে একজন আচার্যের মতো হবে। আমাদের অনেক আচার্যের প্রয়োজন আছে। হরে কৃষ্ণ!
প্রশ্ন:- দয়া করে এই কলকাতা রথ যাত্রার কিছু মধুর স্মৃতির কথা বলুন যা আপনাকে প্রত্যেক বছর এই উৎসবে উৎসাহীভাবে যোগদান করার বিষয়ে সুদৃঢ় রেখেছে।
জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে কলকাতায় রথযাত্রা করার কথা বলেছিলেন। যেহেতু তিনি আমাকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাই রথযাত্রা আমার কাছে এক খুব খুব বিশেষ দিন। হরিবোল! হরে কৃষ্ণ!
প্রশ্ন:- আমি শুনেছি যে কিছু ভক্তরা আধ্যাত্মিক জগতে ঘাস এবং গাছ হয়, এই শুনে আমি একটু ভীত হয়েছি এবং আমি এখানে থাকাই ভালো ভাবছি। এটি আমার ভক্তি অনুশীলনের উৎসাহকে কমিয়ে দিয়েছে, আমি মনে করছি যে সেখানে ঘাস হওয়ার থেকে এখানে মানুষ থাকা ভালো। তাই কৃপা করে এটি স্পষ্ট করে বলুন।
জয়পতাকা স্বামী:- আধ্যাত্মিক জীবনে তুমি যা চাও, সেটাই হতে পারবে। পাঁচ ধরনের রস আছে — প্রথম হচ্ছে শান্ত রস, যদি কৃষ্ণের সাথে এই ধরনের সম্পর্ক থাকে, তখন তারা গাছ বা এইরকম কিছু হয়। যদি তুমি কৃষ্ণের সেবা করতে পছন্দ কর, তাহলে তুমি দাস হবে, যেমন হনুমান বা কৃষ্ণের রথচালক। কেউ যদি কৃষ্ণের বন্ধু হতে পছন্দ করে, তাহলে সে বন্ধু হবে, যেমন অর্জুন, উদ্ভব বা বৃন্দাবনের গোপবালকদের মতো। তারপর অন্যান্যরা যারা কৃষ্ণকে তাদের সন্তানরূপে পেতে চায় এবং যারা কৃষ্ণকে তার স্বামী বা প্রেমিক রূপে পেতে চায়, সেক্ষেত্রে তোমার যে সম্বন্ধ থাকবে সেই মতো শরীর পাবে। উদাহরণস্বরূপ তুমি যদি ময়ূর হতে চাও ও কৃষ্ণের সামনে নৃত্য করতে চাও, তাহলে তুমি ময়ূর হবে, কিন্তু যদি তুমি বন্ধু হতে চাও, তাহলে তুমি ময়ূর হবে না।
প্রশ্ন:- আমরা দেখেছি যে শ্রীল প্রভুপাদের বেশিরভাগ শীষ্যরাই তাদের লীলা সমাপ্ত করছেন, এই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে ভাবেন যে আমরা তাদের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত হব ও আপনি ইসকন সংঘের স্থায়িত্ব ও বিস্তার সম্পর্কে কি ভাবেন ?
জয়পতাকা স্বামী:- এই কারণে আমরা চাই সব ভক্তরা যাতে ভগবদগীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম চৈতন্য-চরিতামৃত ইত্যাদি পরে, সেইভাবে আমরা আশা করি যে এই সংঘ বিস্তারিত হতে থাকবে। এটি আমাদের আশা কিন্তু এটি একটি কঠিন কার্যও। তাই এই কারণে আমরা বলি তোমরাই হচ্ছ ভবিষ্যৎ! তোমরা শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যদের সঙ্গ করতে পার এবং আশা করি যে তোমরা আরো বলশালী হবে।
প্রশ্ন:- আমি কিভাবে আধ্যাত্মিক গুরুদেবের শ্রীচারণে সম্পূর্ণ শরণাগত হতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী:- প্রত্যেকের একটি মেয়াদ আছে, দৃষ্টান্তস্বরূপ যেমন ওষুধ। আমরা দেখি যে এর মেয়াদ ৬ মাস। আমরা ১০০ বছর বা ৮০ বছর বাঁচতে পারি, আমরা জানি না কতক্ষণ বাঁচবো, কিন্তু আমার পূর্বাশ্রমের মা আমাকে বলছিলেন যে, “কেন আমি খ্রিস্টান ধর্মযাজক হলাম না?” তারপর তিনি আমাকে বললেন, “কেন তুমি অপেক্ষা করছ না ও পরে ধর্মযাজক হবে না?” তাই আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আমাকে বল আমি কতদিন বাঁচব?” তখন তিনি কাঁদতে শুরু করেন ও বলেন যে, “কোন মা বাবাই জানেনা যে তার সন্তান কত দিন বাঁচবে।” তাই আমি তাকে বললাম, “কতক্ষণ অপেক্ষা করব? আমি হয়ত ততদিন পর্যন্ত নাও বাঁচতে পারি।” এইভাবে বিভিন্ন মানুষদের তাদের নিজেদের তত্ত্ব আছে, কিন্তু আমরা আসলে জানিনা কতদিন বাঁচব। তাই আমরা যতদিন জীবিত আছি, ততদিন কৃষ্ণের সেবা করতে চাই। একজন ভক্ত শ্রী শ্রীমৎ কদম্ব কানন স্বামী, তিনি বলেছেন, কৃষ্ণ আমাদেরকে অনেকবার বাঁচিয়েছেন কিন্তু কোন এক সময় আমাকে ছেড়ে যেতেই হবে, তাই আমি এখন সেবা করছি এবং যখন আমি এই শরীর ছেড়ে চলে যাব, তখনও আমি সেবাই করব। এটাই আমরা করতে চাই, আমরা সব সময় কৃষ্ণের সেবা করতে চাই।
প্রশ্ন:- যখন আমি যাত্রা বা উৎসবে যাই, আমি সাধারণত কিছু সময়ের জন্য ক্লান্ত বা অসাস্থ্যকর অনুভব করি, তা কিছুদিনের জন্য আমার সকালের সাধনায় ব্যাঘাত আনে। আমি বিভ্রান্ত যে কারণ যেহেতু বিরাট পরিচালনার ক্ষেত্রে ভক্তদের সহায়তার প্রয়োজন হয় তাই আমার কি যাত্রা বা ক্যাম্পে যাওয়া উচিত, নাকি ভালো হবে যদি আমি আমার শরীরের ক্ষতিসাধন না করি?
জয়পতাকা স্বামী:- হ্যাঁ! এই কারণেই আমাদের আধ্যাত্মিক গুরু আছে এবং এই ধরনের প্রশ্ন, এক ধরনের ব্যক্তিগত প্রশ্ন। এক্ষেত্রে গুরু আমাদেরকে ব্যক্তিগতভাবে বলবেন। হয়ত যদি সেই অনুষ্ঠান খুব প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে তোমার যাওয়া উচিত, এমন কি তুমি যদি অসুস্থ হয়ে পরো তাহলেও, সেক্ষেত্রে আমাদের হয়ত সহায়তাকারী হিসেবে সেবা করা উচিত। এই ধরনের প্রশ্ন তুমি তোমার আধ্যাত্মিক গুরুর সাথে আলোচনা করতে পারো।
Lecture Suggetions
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ