Text Size

২০২৩০৬২২ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

22 Jun 2023|Duration: 00:32:58|Bengali|Question and Answer Session|Kolkata, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

তোমরা যেই ভাষায় প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে আমি সেই ভাষাতেই উত্তর দেব বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ওড়িয়া, আসাম, নেপালি। 

প্রশ্ন:- আমরা শুনেছি কিছু ব্যক্তিরা যেমন রামানন্দ রায় হচ্ছেন দুইজনের সংমিশ্রণ — অর্জুন এবং বিশাখা সখী, এটি কিভাবে বুঝব? 

জয়পতাকা স্বামী:- অর্জুন হচ্ছে সখ্য রসের এবং বিশাখা সখী মাধুর্য রসের। কখনো কখনো রামানন্দ রায় চৈতন্য মহাপ্রভুর বন্ধুর মতো থাকতেন, আবার তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি মাধুর্য রসেও আচরণ করতেন। চৈতন্য মহাপ্রভু যখন মাধুর্য রসে থাকতেন, তখন রামানন্দ রায় বিভিন্ন শ্লোক উদ্ধৃতি করে বলতেন। এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভুর ভক্তরা কখনো সখ্য রস প্রকাশিত করতেন এবং কখনও মাধুর্য রস প্রকাশিত করতেন।

প্রশ্ন:- আমি দীক্ষ গ্রহণের জন্য আকাঙ্ক্ষী হতে চাই, কিন্তু এতজন দীক্ষাগুরুর মাঝে আমি নির্বাচন করতে অক্ষম। যখনই আমি কোন উন্নত ব্যক্তির কাছ থেকে কিছু শ্রবণ করি, তখনই আমার তার থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণের ঝোক থাকে। তাই দয়া করে আমাকে পথ নির্দেশনা প্রদান করুন যাতে আমি কাউকে বেছে নিতে পারি।

জয়পতাকা স্বামী:- দেখো শ্রীল প্রভুপাদ, এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ হচ্ছেন আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এবং তার নিতাই গৌরের সাথে বিশেষ মধুর ভাব ছিল। তাই যদি তোমার আধ্যাত্মিক গুরুদেব বুঝতে পারেন যে প্রচার তোমাকে শ্রীল প্রভুপাদের আরো কাছে নিয়ে আসে, তাহলে তুমি উপলব্ধি করবে যে শ্রীল প্রভুপাদ তোমার আধ্যাত্মিক গুরুর মাধ্যমে তোমার সাথে কথা বলছেন এবং তুমি যদি কোনোভাবে আধ্যাত্মিক গুরুদেবের মাধ্যমে কৃষ্ণের আরো কাছের অনুভব কর এবং কোন বিশেষ আধ্যাত্মিক গুরুকে অনুসরণ করার মাধ্যমে সেই বিশ্বাস অনুভব কর, যেমন আমার কাছে ১৫ জনের নামের তালিকা আছে, তুমি দেখতে পারো যে এর মধ্যে কোন ব্যক্তি তোমার আধ্যাত্মিক গুরু হতে পারবে কিনা। তুমি যদি চাও, তাহলে কালকে আমি তা আনতে পারি। তুমি কি চাও? আমি ছোট করে উত্তর দেব, যেহেতু আমাদের দেরি হয়ে গেছে।

প্রশ্ন:- আমি শুনেছি যে আমাদের শুদ্ধ ভক্তদের প্রতি অপরাধ করা উচিত নয়, কিন্তু আমার অভিভাবক তা বোঝেনা, তারা নিন্দা করে। আমি চেষ্টা করেছি তাদের বলার কিন্তু তারা বোঝেনা। 

জয়পতাকা স্বামী:- পবিত্র নাম জপের ক্ষেত্রে দশটি অপরাধ আছে, নামের প্রতি প্রথম অপরাধ হচ্ছে শুদ্ধ ভক্তকে নিন্দা করা। অপরাধ পাপের থেকেও বাজে। পাপ হচ্ছে জাগতিক যে তুমি চুরি করলে বা মিথ্যে বললে এগুলো হচ্ছে পাপ, কিন্তু যদি তুমি শুদ্ধ ভক্তের বিরুদ্ধে কোন কিছু করো, তাহলে সেটা অপরাধ। একজন শুদ্ধ ভক্ত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অতি প্রিয়, তাই শুদ্ধ ভক্তের প্রতি অপরাধ করলে তা আমাদের ভক্তিমূলক পথে এক বড় বাঁধা হবে।

প্রশ্ন:- শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কখনও বৈষ্ণব অপরাধীকে ক্ষমা করেননি, যতক্ষণ না সেই বৈষ্ণব তাকে ক্ষমা করেছেন, কিন্তু তাছাড়াও ছোট হরিদাসের লীলায় আমরা দেখতে পাই যে চৈতন্য মহাপ্রভু তাকে ক্ষমা করেন নি। তাই এক্ষেত্রে আমরা পুরুষ বা মহিলা হিসেবে অপর লিঙ্গের ব্যক্তির সাথে আচরণের ক্ষেত্রে কি শিক্ষা পাই

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু ছোট হরিদাসকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা পরে করেছিলেন, ততক্ষণে ছোট হরিদাস প্রয়াগে তার শরীর ছেড়ে দিয়েছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু সেই সময় আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে না এবং তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে ছোট হরিদাস কোথায়। চৈতন্য মহাপ্রভু জানতেন যে সন্ন্যাসী হয়ে সে মহিলার প্রতি ভুল আচরণ করেছিল, ছোট হরিদাসের মানসিকতা ভুল ছিল, তাই চৈতন্য মহাপ্রভু তার প্রতি অপ্রসন্ন ছিলেন এবং সেই জন্য তিনি বলেছিলেন যে তিনি আর তাকে দেখতে চান না। পরবর্তীতে তিনি ছোট হরিদাসকে দেখতে চেয়েছিলেন। আমরা এর থেকে বুঝি যে তিনি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কিন্তু তা অনেক পরে। আসলে শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর লিখেছিলেন যে কিভাবে জীবনসঙ্গী বাছাই করা উচিত। জীবন সঙ্গী মানে স্ত্রী এর জন্য তার স্বামী এবং স্বামীর জন্য তার স্ত্রী। তিনি বলেছিলেন যে সঙ্গী এমন নির্বাচন করা উচিত যে আধ্যাত্মিকভাবে আরো উন্নত। কে বেশি সুন্দর সেটা প্রশ্ন নয়, কে বেশি শক্তিশালী সেটা প্রশ্ন নয়, কে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত সেটাই দেখার। ঠিক যেমন আজকে আমি বলছিলাম যে স্বামী ও স্ত্রী একসাথে আলোচনা করবে যে কিভাবে তাদের চৈতন্য মহাপ্রভুর, কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করা উচিত।

প্রশ্ন:- অনেক সময় মায়া আমাকে পরাস্ত করে এবং আমি খুবই লজ্জিত অনুভব করি। পতিত না হওয়ার ক্ষেত্রে সুরক্ষিত ও উৎসাহী হতে আমার কি করা উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- তোমার যেতা উচিত, হারা উচিত নয়! যাইহোক, এই কারণে কৃষ্ণভাবনামৃত শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে এটি ধীর পদ্ধতি। তুমি যখন ছোট শিশু, তখন তুমি কয়েকবার পড়ে যাবে, কিন্তু যখন তুমি বেড়ে উঠবে, তখন আর তোমার পড়ে যাওয়া উচিত নয়। তিন বছর বয়সী শিশু পড়ে যায় কিন্তু তুমি যদি ১২ বছর বয়সী বাচ্চা হও, তাহলে তোমার পড়ে যাওয়া উচিত নয়। যত তুমি কৃষ্ণভাবনামৃতে অগ্রসর হবে, তত শক্তিশালী হতে পারবে।

প্রশ্ন:- কেন ভগবান অনেক সময় আমাদের প্রিয়জনকে নিয়ে নেন, কেন আমাদের প্রিয়জনকে কিছুক্ষণের জন্য রেখে আমাদের থেকে তাদেরকে দূরে নিয়ে যান

জয়পতাকা স্বামী:- যেমন কে? প্রত্যেকের সময় আছে, প্রত্যেকের মেয়াদ আছে। যেমন ওষুধের একটি মেয়াদ আছে! আমি মিনেসোটাতে আমার পূর্বাশ্রমের দাদার কাছে গিয়েছিলাম এবং সেখানে আমি আমার দাদার সাথে দেখা করেছি। কিন্তু আমার নিজের ভক্ত শিষ্যদের সাথে আরো কাছের সম্পর্ক আছে। যাইহোক, আমার একজন শিষ্য পূর্বাশ্রমের দাদার জন্য কিছু ওষুধ নিয়ে গিয়েছিল, আর সে কিছু প্রসাদ পেয়েছিল এবং আমাদের মধ্যে কিছু কথোপকথন হয়েছিল। তারপর তিনি ঘরে ফিরে যান। আমাদের যতক্ষণ থাকার কথা, ততক্ষণই আমরা এই শরীরের মধ্যে থাকি, সাধারণত আমরা মনে করি যে যদি আমরা এইটা করি তাহলে আনন্দিত হব, আর তার ফলস্বরূপ এই শরীরের পরবর্তীতে আমরা আরেকটি শরীর পাই। কেউ ভাবে আমি যদি বড়লোক হই তাহলে আমি খুশি হব, কেউ মনে করে যদি আমি মহিলা হই, তাহলে খুশি হব। কোন কোন মানুষেরা মনে করে যদি আমি পুরুষ হই, তাহলে খুশি হব। কেউ মনে করে আমি যদি শুকর হই, তাহলে খুশি হব। এইভাবে বারংবার আমরা বারবার জন্মগ্রহণ করি এবং এইসব বাসনার কারণে আমরা বিভিন্ন দেহ গ্রহণ করি, কিন্তু আমরা যদি মনে করি যে আমরা কৃষ্ণের সেবা করে খুশি হব, তাহলে আমাদের এই পুনরায় জন্মগ্রহণের সমাপ্তি হয় এবং হয়ত আমরা ভগবানের ধাম বৈকুণ্ঠ ধামে ফিরে যাব, সেখানে কোন মৃত্যু বা জন্ম নেই, সেই স্থানে আমাদের নিত্য জীবন থাকবে। হরিবোল! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 1/10/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions