Text Size

২০২৩০৬২২ জগন্নাথ রথযাত্রা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বার্তা

22 Jun 2023|Duration: 00:47:29|Bengali|Public Address|Kolkata, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- অনেক ভক্তবৃন্দ দেখা যাচ্ছে, তাই আমি অত্যন্ত খুশি হয়েছি। জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র রথে এখানে মাসির বাড়ি চলে এসেছেন। এখানটাকে বলা হয় গুন্ডিচা। উনি যেখানে থাকেন, বড় মন্দির, সেটা হল নীলাচল। এবং যে গুন্ডিচায় ৬ দিন থাকেন, সেটা সুন্দরাচল। ব্রজবাসী অনেক বিরহের মধ্যে আছেন, কিন্তু ভগবান জগন্নাথদেব প্রতি বছর সুন্দরাচল বৃন্দাবনে চলে আসেন। হরিবোল.....!

বিভিন্ন দেশে রথযাত্রা হয়। এখানে ভারতবর্ষে আমরা একদিনের মধ্যে করি। অন্য দেশে সবসময় গভর্নমেন্টের অনুমতি পাওয়া যায় না। তো ওখানে আটলান্টা, তারপরে নিউ ইয়র্কে এবং ইটালিতে এখন রথ হয়েছে। এবং নিউ ইয়র্ক শহরে ফিফথ এভিনিউতে রথযাত্রা চলে আসে। বিভিন্ন জায়গায় রথ হয়। আমার মনে হয়, আমি গুনিনি, কিন্তু প্রায় ১০০ বেশি রথ হয়। এখন প্রভুপাদ চেয়েছেন, ওঁনার জন্মস্থান কলকাতা শহরে রথ সবথেকে বড় হোক। এখন কত বছর চলছে? এখানে কলকাতায় ৫২ বছর রথযাত্রা চলছে। এটাকে কলকাতা রথ বলা হয়। কলকাতা রথ আয়োজন করে ইসকন আপনাদের সকলের জন্য। জগন্নাথ, বলদেব, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র, প্রতি বছর এই রথ উৎসব হয়। আমার মনে আছে প্রায় বহু বছর আগে, বলদেবের রথ চাকা ভেঙে গেছে। সেই বছর জগন্নাথ পুরিতেও রথ, বলদেবের রথ ভেঙে গেছে। বলেদেবের রথের চাকা ভেঙে যায় মানে কোথাও কোথাও যুদ্ধ হচ্ছে। এবং সেই বছর ... আমেরিকা এবং ইরাকের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সেই যুদ্ধকে বলা হয় ‘ডেজার্ট স্ট্রর্ম’। যাইহোক, এখন আমরা আশা করছি এই রথের দ্বারা বিশ্বের শান্তি হবে। এখন রাশিয়া আর ইউক্রেন মধ্যে যুদ্ধ চলছে। দুইদেশ আমাদের মিত্র। এই দুইদেশের মধ্যে যুদ্ধ হওয়ায় আমরা অনেক দুঃখ পাচ্ছি। 

এই রথের সময় প্রতিবার চৈতন্য দেব জগন্নাথপুরীতে ছিলেন, তিনি সাতটা কীর্তন দলের মধ্যে যেতেন। এখন প্রতাপরুদ্র মহারাজ, ছত্রপতি তিনি যেতে পারেননি। তিনি তাঁর প্রাসাদের ছাদের থেকে দেখছেন। রাজা, তিনি যেখানে খুশি যেতে পারেন, কিন্তু রথের সময় তিনি তাঁর প্রাসাদের ছাদের ওপর থাকতেন। রথের উদ্বোধনের সময় তিনি রথের সামনে ঝাড়ু দিতেন এবং বিভিন্ন রকমের ফুল, আলপনা, চন্দনের ধূলি ইত্যাদি করতেন। এই চন্দনের ধূলি, বিভিন্ন আরতি আমাদের এখানের মুখ্যমন্ত্রী করলেন এবং তিনি বললেন যে ইসকন মায়াপুরের উন্নয়নের জন্য তিনি কিছু করবেন। সাধারণত কোনো সংস্থার জন্য একটা নির্দিষ্ট ভূমি সীমা থাকে। উনি ঈশ্বরের জন্য সেটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। উনি চাইছেন যে আমি পারমার্থিক একটা শহর এই মায়াপুরে গড়ে তুলি। যাইহোক, আমরা চেষ্টা করছি এবং এই TOVP (বৈদিক তারামণ্ডলী) মন্দির এবং গ্রহলকের প্রদর্শনী নির্মাণ করছি। সেটা কিছু বাকি, প্রায় শেষ। 

প্রতাপরুদ্র মহারাজ, তিনি দেখেন চৈতন্য দেব এই সাতটা কীর্তন সম্প্রদায়ের সঙ্গে একসাথে নৃত্য করতেন। তিনি রামানন্দ রায়কে বললেন, এখানে কি সাতটা চৈতন্য দেব আছেন? উনি উত্তর দিলেন, আপনার খুব ভাগ্য যে আপনি দেখতে পাচ্ছেন। এক একটা দল, যারা কীর্তন করছিলেন, তারা ভাবতেন চৈতন্য দেব আমাদের সাথেই আছেন। সমস্ত রকমের খেলা ইত্যাদি সব দেখা যায়, এখন ভিডিওর মাধ্যমে দেখা যায়। তখন এসব ছিল না। এই দৃশ্য দেখার জন্য সবাইকে কৃষ্ণ সুযোগ দেন না। চৈতন্য দেব এবং জগন্নাথ একই। কিন্তু জগন্নাথ দেব হচ্ছেন স্থল বিগ্রহ, আর চৈতন্য দেব হচ্ছেন জল বিগ্রহ। এইভাবে চৈতন্যদেব বিভিন্ন লীলা করতেন। কেননা চৈতন্য দেব, তিনি শ্রীকৃষ্ণ এবং তিনি এসেছেন ভক্ত রূপে। কেন তিনি এসেছেন? সেটা রুক্মিণী দেবী ওঁনার কাছে বলেছিলেন, “আপনি পরমেশ্বর ভগবান, আপনি সবকিছু জানেন। সত্য লোকে, ব্রহ্ম লোকে কি হচ্ছে সব জানেন, কৈলাসে মহাদেব কি করছেন জানেন। অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডে ভগবান রূপে কোথায় কি হচ্ছে সব কিছুই জানেন। কিন্তু একটা জিনিস আপনি জানেন না। আমি জানি, আমি জানি এবং রাধারানী জানে, আপনি জানেন না।” কৃষ্ণ অবাক হয়ে গেলেন! এইভাবে ওঁনাকে কেউ বললেন যে উনি কিছু জানেন না, এটা উনি বিশ্বাস করতে পারেন নি।

উনি বললেন, “এটা কি? আমি কি জানি না?”

রুক্মিণী দেবী বললেন, “আপানি পরমেশ্বর ভগবান, আপনার ওপরে কেউ নেই। কিন্তু আপনি জানেন না।”

“কি জানি না?”

“আপনি জানেন না আপনার ভক্ত আপনাকে কত প্রেম করে, কত ভালোবাসে। এবং আপনার ভক্ত কিভাবে আপনাকে ভালোবাসে - এটা আপনি জানেন না। রাধারানী জানে। আমি জানি। আপনি জানেন না।”

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “ঠিক আছে আমি কলি যুগে আসব। ভক্ত রূপে আসব। ভক্ত রূপে আসব। আমি কলি যুগে ভক্ত রূপে আসব।”

হরিবোল! হরিবোল! ….. তাই, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এসেছেন শ্রীচৈতন্য রূপে। ভগবান তিনি ভক্ত রুপে এসেছেন। এটা বিশেষ একটা কাহিনী। তিনি মায়াপুরে, নবদ্বীপে সংকীর্তন যজ্ঞ শুরু করেন। এবং এই সংকীর্তন যজ্ঞ যখন চলছে, নবদ্বীপে তখন তিনি সন্ন্যাস লীলা করলেন এবং জগন্নাথপুরীতে গিয়েছেন। এবং সেখানে যখন ভক্তরা নবদ্বীপ থেকে এসেছেন, তখন তিনি সংকীর্তন করলেন। কিন্তু দেখলেন যে সংকীর্তনের প্রচার কমে গেছে, তখন তিনি বাংলা ছেড়ে চলে এসেছেন। 

একদিন নিত্যানন্দ প্রভুকে তিনি বললেন নীলাচলে, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে বললেন, “আমরা যখন গোলক-বৃন্দাবন থেকে নেমে এসেছিলাম, তখন আমরা প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে আমরা চার রকমের মানুষকে উদ্ধার করব। যারা সাধারণত উদ্ধার হয় না।” আপনারা কি জানেন চার ধরণের মানুষ কি? একজন বলুন। (ভক্তদের মধ্যে একজন উত্তর দিলেন) গুরু মহারাজ বললেন – দাঁড়ান, দাঁড়ান, মূর্খ, নীচ, পতিত এবং দুঃখী। আপনারা যদি কেউ এই জড়-জগতে কষ্ট পাচ্ছেন, তাহলে এরা উদ্ধার করবেন। আমরা পাশ্চাত্য দেশ থেকে আসছি। ওখানে নীচ, মূর্খ, পতিত সবাই। এটাতে অবাক নেই। মূর্খ যে তারা বলে তারা দেহ। কিন্তু এই দেহ আমরা নই। আমরা নিত্য, শাশ্বত জীবাত্মা। এবং ভগবান চৈতন্য দেব এসেছেন সবাইকে উদ্ধার করার জন্য। কিন্তু উনি সন্ন্যাস নিয়ে কাটোয়া থেকে নীলাচলে চলে গেলেন। এবং তারপর উনি নিত্যানন্দ প্রভুকে বললেন, “তোমরা বাংলায় ফিরে গিয়ে প্রচার কর।” এবং তারপর নিতাই প্রভু এসে পানিহাটি ইত্যাদি জায়গাতে সংকীর্তনের প্রচার করলেন। 

যখন মহাপ্রভু কাটোয়া থেকে নীলাচলে গেলেন, তখন তিনি গ্রাম্য পথে চলে গেলেন। তারপর তিনি গঙ্গা পার করলেন, চক্র-তীর্থ স্থানের সামনে, সেই জায়গায় সেখানে অম্বুভৃঙ্গ আছে। অম্বুভৃঙ্গ! আপনারা কি দেখেছেন অম্বুভৃঙ্গ? গঙ্গাজল থেকে অম্বুভৃঙ্গ প্রকাশ হয়েছে। ভগবান মহাদেবের লিঙ্গ জলের মধ্যে। চৈতন্য দেব সেখান দিয়ে পার হলেন এবং নীলাচলে চলে গেলেন। পথে বিভিন্ন পশু ইত্যাদি ছিল। কিন্তু সেখানেও চৈতন্য দেব কীর্তন করলেন - হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। মাঝি ভয় পেয়ে গেছে, বলছে চুপ চুপ বেশি শব্দ করবে না। চৈতন্য দেব কি করলেন? হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। আরও জোরে কীর্তন করলেন। এইভাবে চৈতন্য দেবের অনেক সঙ্গী ছিল। এখন তিনি সন্ন্যাসী। তিনি বললেন, “তোমরা পার কর, আমার কোনো দায়িত্ব নেই।” সেইখানে তখনকার দিনের রাস্তায় বিভিন্ন রকম টোল কালেক্টর বা কর আদায়কারী লোক ছিল। তখন চৈতন্য দেব সন্ন্যাসী হয়ে পার করে গেলেন। ওঁনার কাছে কিছু চায় নি। কিন্তু টোল কালেক্টর সব ভক্তদের ধরে বলছে, “দাও পয়সা দাও!” গৃহস্থ হলে পয়সা দিতে হয়, এখন চৈতন্য দেব বসে অপেক্ষা করছেন এবং একি বিপদ হল … এই গৃহস্থরা কীভাবে আসবে? এখানে খুব সুন্দর লীলা হয়েছিল। সবাই বলল আমরা ওঁনার সাথে। এখন চৈতন্যদেবের কাছে বলল, “ওরাও কি সব আপনার সাথে?” এইভাবে যারা চৈতন্যদেবের সাথে ছিল, তারা সবাই যেতে পেল। হরিবোল! গৌরাঙ্গ! নিত্যানন্দ! এইভাবে চৈতন্যদেব বিভিন্ন লীলা বিস্তার করলেন। এখন নীলাচল থেকে নবদ্বীপের ভক্তরা ফিরে গেলেন বাংলায়। রথের জন্য যেতেন এবং চার মাস সেখানে থাকতেন। এই চার মাস ধরে চৈতন্য দেব কীর্তন করতেন সব ভক্তদের সঙ্গে। ৪টে দল ছিল, ৮টা খোল, ৩২ জোড়া করতাল এবং ৪জন নৃত্য করতেন। নিত্যানন্দ, অদ্বৈত, শ্রীবাস ও বক্রেশ্বর পণ্ডিত এই ৪জন নৃত্য করতেন। হরিদাস নৃত্য করতেন নবদ্বীপে। এইভাবে চারদিকে ৪ টা দল ছিল এবং মাঝখানে চৈতন্য দেব। এইভাবে তারা পুরী মন্দির ও সারা পুরী পরিক্রমা করত। তখন কেউ চৈতন্যদেবের কাছে যদি আসতেন, তিনি তাঁদেরকে আলিঙ্গন করতেন। এইভাবে সংকীর্তন লীলা হত। কে চৈতন্যদেবের বিশেষ কৃপা চান? 

চৈতন্য দেব, যখন ভক্তরা চলে যেতেন তখন তিনি রাধারাণীর ভাব, গোপীদের ভাব আস্বাদন করতেন। এখন এই যে বড় আঙ্গন, পুরী মন্দিরে সামনে দিয়ে গুন্ডিচা পর্যন্ত যে বড় রাস্তা আছে, সেই রাস্তার পাশে একটা বড় উদ্যান আছে। সেটাকে বলা হয় বৃন্দাবন উদ্যান। এবং তখন চৈতন্য দেব, তিনি গোপীভাবে ভাবাপন্ন ছিলেন। কৃষ্ণ যখন রাস ছেড়ে চলে গেলেন, তখন গোপীরা বনের মধ্যে চলে গেলেন তাঁকে পাওয়ার জন্য। সেইভাবে ভাবাপন্ন ছিলেন চৈতন্য দেব। তিনি গাছের কাছে জিজ্ঞাসা করতেন। এখন সাধারণত গাছেকে কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করে না। গাছের কাছে বললে গাছ কিছু উত্তর দেয় না। কিন্তু গোপীভাবে ভাবপন্ন হয়ে তিনি গাছের কাছে জিজ্ঞাসা করছেন, “আপনারা কি কৃষ্ণকে এদিক দিয়ে যেতে দেখেছেন?” উত্তর দিত না। কিন্তু একটা আম গাছ, সে ভাব-ভক্তি নিয়ে হেলান দিয়ে পরল। তখন উনি ভাবলেন যে কৃষ্ণ নিশ্চই এই পথে গেছেন। তাই, এই গাছ ওনাকে এইভাবে নত হয়ে প্রনাম করছেন। তখন উনি গাছেকে বললেন, “আপনারা নত হয়ে প্রনাম করছেন। কৃষ্ণ নিশ্চই এই পথে গিয়েছেন, আপনারা দেখলেন।” তারপর উত্তর না পেয়ে, গোপী ভবাপন্ন হয়ে বলেন, “এই গাছ হচ্ছে ধূর্ত, কৃষ্ণের বন্ধু, সেইজন্যই ও বলছে না। আমরা অন্য গাছেকে জিজ্ঞাসা করব।” চৈতন্য দেব গোপীভাব, রাধাভাব এইভাবে আস্বাদন করলেন। গম্ভীরায় তিনি থাকতেন, কিন্তু দরজা বাইরে থেকে তালা দেওয়া বন্ধ। কিন্তু তখন দরজা বন্ধ তা সত্ত্বেও চৈতন্য দেব ভিতর থেকে চলে গেলেন। যেহেতু তিনি কৃষ্ণের বাঁশি শুনছেন, তাই তিনি চলে গেলেন। তখন সমস্ত ভক্ত স্বরূপ দামোদর ইত্যাদি দেখলেন, চৈতন্যদেব নাই। দরজা বন্ধ, তালা দেওয়া, তবুও তিনি কীভাবে বেরিয়ে গেলেন? তারা অনেক জায়গায় খুঁজেছেন, তখন একটা গোশালার পাশে পেয়েছেন, মন্দিরের পাশে। সেখানে তারা চৈতন্যদেবকে পেয়েছেন। তখন চৈতন্য দেবের হাত-পা সব শরীরের মধ্যে প্রবেশ করেছে, যেমন কচ্ছপের হয়। তারা বিভিন্নরকম ভাবে চেষ্টা করলেন। কিন্তু তিনি স্বাভাবিক হন নি। এইভাবে তাঁকে তারা তুলে আবার গম্ভীরায় নিয়ে গিয়েছেন। তারপরে আবার কীর্তনের দ্বারা তিনি স্বাভাবিক হয়ে গেলেন। এইভাবে তিনি জগন্নাথ পুরীতে বিপ্রলম্ভভাবে রাধারাণীর গোপীভাব আস্বাদন করলেন। এইভাবে জগন্নাথের চৈতন্যদেবের লীলা হত জগন্নাথপুরীতে। 

এখন হচ্ছে রথের সময়। রথের সময় নৃত্য করে তিনি কীর্তন করতেন। আশা করি কীর্তন করে আপনাদের ভালো লেগেছে। এই কীর্তন করবেন। ভগবানের নাম আর ভগবান অভিন্ন। এইভাবে ভগবানের নাম দ্বারা চিত্ত শুদ্ধ হয়ে যায়। যাইহোক, আশা করি আপনারা এইভাবে চেষ্টা করে সবসময় ভগবানের নাম-কীর্তন আস্বাদন করবেন।  

আমি লন্ডন হয়ে এসেছি। ওখানে ১৯৭৩ সালে প্রভুপাদ লন্ডনের ভক্তদের বললেন, আমার গুরুদেব শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর, তিনি এক সন্ন্যাসী পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেই সন্ন্যাসী তেমন কিছু সফল হয়নি। কিন্তু আমি পাঠিয়েছি তিনটি গৃহস্থ দম্পতিকে, স্বামী-স্ত্রীকে। এবং তারা লন্ডনকে অত্যন্ত ভালো করল। আমি দেখছি যে লন্ডনে অনেক বড় মন্দির আছে এবং বড় শহরে অনেক বড় বড় উৎসব হচ্ছে। প্রভুপাদ বলতেন যে, “আমি চাই, আমার সমস্ত গৃহস্থ অনুগামী পরমহংস হোক।” আপনারা পরমহংস হয়ে যান। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আলোচনা হবে যে কীভাবে কৃষ্ণ সন্তুষ্ট হবে, কীভাবে চৈতন্যদেব খুশি হবেন। কীভাবে বাড়ি হবে, গাড়ি হবে, সন্তান হবে - এইরকম নয়। সবকিছু করতে হবে কৃষ্ণের জন্য। যদি সন্তান হয়, তবে সন্তান যেন ভক্ত হয়। যদি গৃহ হয়, তাহলে গৃহের মধ্যে যাতে কীর্তনের জায়গা থাকে। যদি টাকা উপার্জন হয়, তাহলে চেষ্টা করবে কীভাবে কৃষ্ণের জন্য টাকা ব্যয় হবে। যাইহোক, আমি এখানে এবার সমাপ্ত করছি। আমি এবার জগন্নাথদেবকে দর্শন করতে যাব। 

হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by উদ্ধারিণী সুরাধুনি দেবী দাসী 10/ JUL / 2024
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions