মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- আমি এখানে সব ভক্তদের দেখে খুব খুশি হয়েছি। এই সবই প্রভুপাদের কৃপা, এনারা শ্রীল প্রভুপাদের বংশধর। যেমন আমি বলেছিলাম যে চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি জগন্নাথপুরীতে নিত্যানন্দ প্রভুকে ডেকেছিলেন। তিনি বললেন যে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে যখন আমরা আধ্যাত্মিক জগত থেকে আসব, তখন আমরা চার ধরনের ব্যক্তিদের উদ্ধার করব — সে সমস্ত মানুষেরা যারা সাধারণত উদ্ধার প্রাপ্ত হয় না — মূর্খ, যারা মনে করে যে তারা তাদের শরীর, সেই সমস্ত মানুষেরা যারা আধ্যাত্মিকতা ভিত্তিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেনি, যারা পতিত আর যারা বিভিন্ন ধরনের দুঃখ ভোগ করছে। শ্রীল প্রভুপাদ সেই কৃপা নিয়ে সমগ্র বিশ্বে এসেছিলেন। এক ছিঁচকে চোর ছিল যে দেখেছিলে যে শ্রীল প্রভুপাদ এক খুব বহুমূল্যবান ঘড়ি পড়ে আছেন এবং সে ভেবেছিল যে আমি তাঁর সেই ঘড়িটা চুরি করার চেষ্টা করব, কিন্তু তাঁকে সেবা করার মাধ্যমে সে শুদ্ধ হয়েছিল এবং সে ভক্ত হয়ে গিয়েছিল। শ্রীল প্রভুপাদ তাকে তার কৌতূহলের উপর ভিত্তি করে সেই মতো নাম প্রদান করেছিলেন।
একইভাবে নিত্যানন্দ প্রভু চৈতন্য মহাপ্রভু কর্তৃক আদেশ প্রাপ্ত হয়েছিলেন বাংলায় ফিরে যাওয়ার জন্য তাই তিনি পানিহাটিতে গিয়েছিলেন, খরদহ, আদি সপ্তগ্রাম; আদি সপ্তগ্রামে এটি বলা হয়েছে যে তিনি কীর্তন করেছিলেন এবং নবদ্বীপের মত এক ধরনের বিবর্তন করেছিলেন। আদি সপ্তগ্রাম হচ্ছে সেই স্থান যেখানে মূলত বৈশ্য, স্বর্ণ এবং রত্ন ব্যবসায়ীরা থাকে। তারা সাধারণত অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে আগ্রহী থাকে, কিন্তু কোনভাবে নিত্যানন্দ প্রভু তাদেরকে সংকীর্তন আন্দোলনে যুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে তার পরিবার আদি সপ্তগ্রামের ভক্তদের বংশধর। যাই হোক শ্রীমান নিত্যানন্দ প্রভু তারপর নবদ্বীপে ফিরে গিয়েছিলেন এবং শচীমাতাকে (চৈতন্য মহাপ্রভুর মা) দেখেছিলেন, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে নবদ্বীপ মায়াপুরে কিছুদিন থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু তার সংকীর্তন দল নিয়ে বের হতেন এবং তিনি একজন ভক্তের গৃহে থাকছিলেন, যিনি একা ছিলেন ও চৈতন্য মহাপ্রভু তখন সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত তপস্বী ছিলেন, কিন্তু তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে বলেছিলেন যে তাঁর ঐশ্বর্য প্রকাশ করা উচিত। তাই নিত্যানন্দ প্রভু হীরের কর্ণকুণ্ডল এবং মুক্তর মালা পরেছিলেন এবং প্রত্যেক অঙ্গুলিতে আংটি পরেছিলেন, তার উপর রত্ন ছিল এবং রত্নমণ্ডিত বাজু বন্ধ পরেছিলেন ও রুপোর তোরা পরেছিলেন। সেখানে এক ডাকাতের দল আসে, ডাকাতেরা এক ধরনের অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত চোরেদের মতো ছিল, সেই ডাকাতদের নেতা ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম নিয়েছিল, কিন্তু সে সব সময় চোর এবং দুবৃত্তদের সঙ্গ করত। বলা হয়েছে যে সে অত্যন্ত কঠোর হৃদয়ী ছিল, সে ছিল এক আপনারা যাকে বলেন পেশাদারী খুনি, সে ঠান্ডা মেজাজে কাউকে মেরে ফেলতে পারত এবং সেই সম্পর্কে আর ভাবতেই না, তখন ডাকাতদের দল যারা সেখানে এসেছিল, সে তাদেরকে বলল, “চন্ডী মা তিনি আমাদের কাছে সব ধন একই স্থানে পাঠিয়েছেন, এই নিত্যানন্দ তার হীরের কানের দুল আছে, মুক্তর হার আছে, তাঁর আঙুলের উপর রত্ন আছে, এ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা, একই স্থানে, কি দারুন! আমরা তার থেকে সব রত্ন ও ধন পাব।” এই হচ্ছে সেই কাহিনী যে কিভাবে নিত্যানন্দ প্রভু সেই অস্ত্র সজ্জিত চোরেদের সাথে লীলা করেছিলেন এবং অবশেষে কিভাবে তিনি যেহেতু তারা ছিল অসভ্য মানুষ! তারা ভদ্র মানুষ ছিল না, তারা ছিল চোর-দুবৃত্ত-খুনি তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তারা নিত্যানন্দ প্রভুর ধন চুরি করবে, সেই রাতে তারা সেখানে এসেছিল এবং সেই ডাকাত দলপতি একজন ব্যক্তিকে গুপ্তচর হিসেবে পাঠায় এবং সে দেখে যে নিত্যানন্দ প্রভুর চারিপাশে ভক্তরা নৃত্য কীর্তন করছে এবং নিত্যানন্দ প্রভু সেই চোর ফিরে আসে এবং বলে যে নিত্যানন্দ “ভাত খাচ্ছে” — এটা হচ্ছে এক ধরনের অমার্জিতভাবে বলা। তিনি অন্ন প্রসাদ পাচ্ছেন বা অন্য কিছু বলার পরিবর্তে এটা বলেছিল। সেইসব অমার্জিত ব্যক্তি, সে বলেছিল যে সেখানে অনেক ভক্তরা নৃত্য কীর্তন করছে, তখন চোরেরা বলেছিল যে, “আমাদেরকে একটা গাছের নিচে অপেক্ষা করতে দাও তারা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বে, এভাবে যখন তারা ঘুমিয়ে যাবে, তখন আমরা নিত্যানন্দ প্রভুর থেকে রত্ন চুরি করব।” একজন বলল, “আমি তার হীরের কানের দুল চাই, কি দারুন কানের দুল গুলো! হীরের!” একজন বলল, “আমি তাঁর মুক্ত হার চাই” আরেকজন বলল, “আমি তার রত্নমন্ডিত আংটিগুলো চাই।”[শব্দ বিচ্ছেদ]
তারপর তারা ঠিক করলেও যে আমাদের লুকানো উচিত, পিছনে ফের যদি তারা আমাদেরকে ধরে ফেলে বা আমাদেরকে দেখে নেয়, তাহলে আমরা শেষ। আমরা আবার এক সপ্তাহের মধ্যে আসব এবং তারা চলে যায়, এভাবে তারা দৌড়ে চলে যায় এবং এক সপ্তাহ বা ১০ দিন পরে সেই সময় তারা সেই কাজ করার জন্য সমবেত হয়। কিন্তু হঠাৎ করে তারা যখন নবদ্বীপে এসেছিল, তা পুরো অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং কৃষ্ণকায় হয়ে যায়, তারা কোন কিছুই দেখতে পাচ্ছিল না, তারপর কেউ একজন খাদে পড়ে গিয়েছিল — সেখানে এক আবর্জনার স্তুপ ছিল, যেখানে তারা জৈব জিনিসপত্র ফেলেছিল, তারা জোঁকের দ্বারা দংশিত হয় এবং মশা তাদের রক্ত শুষে নিয়েছিল। কিছু কিছু মানুষেরা খালের মধ্যে পড়ে গিয়েছিল এবং তখন বৃষ্টি শুরু হয়, খুব ভারী বৃষ্টি হয় ও খুব জোর শিলাবৃষ্টি হয়। ভগবদগীতাতে কৃষ্ণ বলছেন যে, “তিনি জ্ঞান, স্মৃতি এবং বিস্মৃতি প্রদান করেন” তখন সেই ব্রাহ্মণ, ডাকাতদের দলপতিতাকে নিত্যানন্দ প্রভু দ্বারা স্মৃতি প্রদান করা হয়েছিল, যাতে সে উপলব্ধি করেছিল যে যত বার তারা নিত্যানন্দ প্রভুর থেকে চুরি করার প্রয়াস করেছে, ততবারই তা খুব খারাপ পরিস্থিতি হয়েছিল তাই নিত্যানন্দ প্রভু নিশ্চয়ই পরমেশ্বর ভগবান হবেন এবং তারা তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করছিল, তাঁর থেকে চুরি করার চেষ্টা করছিল, তাই সে আসে ও নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা ভিক্ষা চেয়েছিল, কিন্তু তখন অন্যান্যরা বলছিলেন যে, “আপনি তাকে বিশ্বাস করতে পারবেন না” বাংলাতে একটা কথা আছে — ‘অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ’ — যদি কেউ শুদ্ধ ভক্তি খুব সহজেই প্রকাশ করছে, তার মানে এটা হচ্ছে একটি লক্ষণ যে সে আসলে এক চোর, কারণ ভক্তি হচ্ছে ক্রমান্নয়নের পদ্ধতি। যাই হোক, অন্যান্য ভক্তরা বলছিলেন, “আমরা তাকে বিশ্বাস করতে পারি না, সে হয়ত আমাদের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করছে এবং চুরি করার চেষ্টা করছে।” নিত্যানন্দ প্রভু তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমাদেরকে তোমার উপলব্ধি বলো।” সে বলল, “যদিও আমি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি, কিন্তু আমি আমার পুরো জীবন চোর এবং দুর্বৃত্তদের সঙ্গ করেছি এবং আসলে আমি আমি আপনার ক্ষতি করতে চেয়েছিলাম, আমি আপনার হীরে, মুক্ত আর সবকিছু চুরি করতে চেয়েছিলাম। আমি অত্যন্ত পাপী ব্যক্তি এবং এর প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ আমার গঙ্গায় ডুবে যাওয়া উচিত।” নিত্যানন্দ প্রভু বললেন, “সেটা কর না, আমি তোমাকে রক্ষা করব এবং দেখো তুমি ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছ। তখন সেই ব্যক্তি, সেই চোরকে বলল, “এমনকি যদি আপনি মাটিতে পড়ে যান, তাহলে সেই মাটির উপর ভর দিয়েই আপনাকে উঠে দাঁড়াতে হবে। আসলে যদিও আমরা আপনার থেকে চুরি করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু আমি উপলব্ধি করেছি যে আপনি হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান এবং আমার মনে পড়ে যে কিভাবে আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম এবং তারপর কিভাবে আপনি সৈনিকদের দ্বারা সুরক্ষিত ছিলেন এবং সবশেষে আমরা কিভাবে খাদে পড়ে গেলাম ও আমাদের হাড় ভেঙে গেল। আসলে আপনি অত্যন্ত কৃপাময়, আপনি আমাদের চেতনা ফিরিয়ে এনেছেন, তাই আমরা আপনার আপনার ক্ষতি করতে পারিনি, এর পরিবর্তে আমরা এত কষ্ট পাচ্ছি, তাই দয়া করে আমাদের কৃপা করুন যাতে “আমি পবিত্র নাম জপ করতে পারি এবং আমি ভক্ত হতে পারি ও এইসব পাপকার্য ছাড়তে পারি।” নিত্যানন্দ প্রভু তিনি বললেন যে, “তুমি অন্যান্য চোর ও ডাকাতদের নিয়ে আসো, তুমি তাদেরকে আমার কাছে নিয়ে আসো।”
প্রকৃতপক্ষে এটাই যা শ্রীল প্রভুপাদ করেছিলেন, তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা সমগ্র বিশ্বে নিয়ে এসেছিলেন এবং সেই সব মানুষেরা, যারা সাধারণত উদ্ধার প্রাপ্ত হয় না, তিনি তাদেরকে উদ্ধার করেছেন। অর্ধ-কুম্ভমেলায় যেখানে ২১ লক্ষ ভক্ত ত্রিবেণীতে স্নান করার জন্য সমবেত হয়েছিলেন, সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে ভগবানের কৃপায় কেউ ভক্তিমূলক সেবায় আসতে পারে এবং তিনি নিশ্চিতরুপে বিভিন্ন ধরনের যজ্ঞ, তপস্যা এবং শুভ কর্ম অনুষ্ঠান করেছে, তখন একজন ভক্ত তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “শ্রীল প্রভুপাদ আপনি বললেন যে যদি আমরা অনেক শুভ কর্ম অনুষ্ঠান করি, তাহলে আমরা ভক্তিমূলক সেবা করার সুযোগ পাই, কিন্তু আমি আমার পূর্ব জীবন দেখি, আমি এটা দেখতে পাই না যে আমি কোন ভালো কিছু করেছিলাম। তাহলে আমি কিভাবে ভক্তিমূলক সেবা করার সুযোগ পেলাম?” শ্রীল প্রভুপাদ উত্তর দিয়েছিলেন, “আমি তোমার সৌভাগ্য করে দিয়েছি!” হরিবোল!
শ্রীল প্রভুপাদ, তিনিই নিত্যানন্দ প্রভু, চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা সমগ্র বিশ্বের কাছে নিয়ে এসেছেন এবং চৈতন্য মহাপ্রভু সংকীর্তন করেছিলেন, অনেক মানুষেরা হরে কৃষ্ণ কীর্তন করেছিলেন এবং তিনি সংকীর্তন আন্দোলনের প্রারম্ভ করেছিলেন, কিন্তু যেমন আমি উল্লেখ করলাম যে রুক্মিণী ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে দ্বারকাতে বলেছিলেন যে, “আপনি সবকিছু জানেন, আপনি জানেন যে ব্রহ্মা কি করছেন, শিব কৈলাসে কি করছেন, আপনি জানেন অসীম লক্ষ লক্ষ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কি হচ্ছে, সবাই কি করছে কিন্তু একটি বিষয় আছে যা আপনি জানেন না, আমি জানি, রাধারানী জানেন, কিন্তু আপনি জানেন না।” তিনি আশ্চর্য্যন্বিত হয়েছিলেন, কেউ কখনও পরমেশ্বর ভগবানকে বলেননি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না, তিনি রুক্মিনি দেবীকে জিজ্ঞেস করলেন, “সেই বিষয়টি কি যা আমি জানিনা?” তিনি বললেন, “আপনি জানেন না যে আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে, আপনি জানেন না যে আপনার ভক্তরা আপনাকে কিভাবে ভালোবাসে।” এবং তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিনি বললেন যে “কলিযুগে আমি আমার ভক্তরূপে আসব।” তিনবার তিনি বলেছিলেন! তিনি তা বলেছিলেন এবং তারপর তিনি চৈতন্য মহাপ্রভু রূপে এসেছিলেন, একটি বিষয়ে যা তিনি করেছিলেন, তা হচ্ছে সংকীর্তন আন্দোলনের প্রারম্ভ এবং মানুষদের পবিত্র নাম জপ করা ও নৃত্য করা।
যখন ভক্তরা জগন্নাথ পুরী থেকে বাংলায় ফিরে গিয়েছিলেন এবং তিনিও গোপীদের, রাধারানীর তাঁর প্রতি যে প্রেম তা অনুসন্ধান করতে লাগেন। জগন্নাথপুরীতে গ্র্যান্ড রোড যেখানে রথ যায়, সেখানে একটি বাগান আছে ‘বৃন্দাবন বাগান’ নামে চৈতন্য মহাপ্রভু গোপীদের ভাবে সেই বাগানে গিয়েছিলেন এবং তিনি বৃক্ষদের সাথে কথা বলেছিলেন যে, “তুমি কি কৃষ্ণকে যেতে দেখেছ?” সাধারণত যখন মানুষেরা বৃক্ষের সাথে কথা বলে, তখন তুমি এর কোনো উত্তর আশা করতে পারো না এবং সাধারণত মানুষেরা গাছেদের সাথে কথা বলে না। কিন্তু তিনি গাছেদের সাথে কথা বলছিলেন, ঠিক যেমন রাসলীলায় কৃষ্ণ চলে যাওয়ার পর গোপীরা করেছিলেন, সেই ভাবে তিনি দেখলেন যে কিছু গাছের আম ও বিভিন্ন বস্তু নিচের দিকে ঝোকা, “ওহ! নিশ্চয়ই কৃষ্ণ এসেছিলেন, তাই তারা এখনো তাঁকে প্রণাম নিবেদন করছে। তুমি কি এখানে কৃষ্ণকে আসতে দেখেছ?” কোন গাছই কোন উত্তর দেয়নি, চৈতন্য মহাপ্রভু তখন গোপিদের ভাবে তিনি বললেন, “এইসব গাছেরা পুরুষ, তারা নিশ্চয়ই কৃষ্ণের সখার মত, তাই তারা আমাদেরকে বলছে না। কোন নারী বৃক্ষকে জিজ্ঞাসা করা উচিত, লতাকে। তারা আমাদেরকে সত্য বলবে।” এইভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু রাধারানী এবং গোপীদের উন্মত্তভাব অনুভব করছিলেন, এটা চৈতন্য-চরিতামৃতে দেওয়া আছে যে কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন যে, “আসলে এটা বর্ণনা করা আমার ক্ষমতার বাইরে, এমনকি অনন্তদেব তাঁর হাজার হাজার মস্তক সহ তা বর্ণনা করতে পারবেন না, তাই আমি শুধু একটা ইঙ্গিত দিচ্ছি যাতে আপনারা সবাই তা বুঝতে পারেন।”
চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি আসলে এই ধরনের উন্মত্ততা, ভাবাবেশ অনুভব করছিলেন, ভাব বা আনন্দময় প্রেমের আটটি স্তর আছে এবং তারপর প্রেমের বা শুদ্ধ কৃষ্ণ প্রেমের আবার আটটি স্তর আছে। রাধারানীর সেই মহাভাব আছে যা হচ্ছে কৃষ্ণ প্রেমের সর্বোত্তম স্তর, তাই চৈতন্য মহাপ্রভুর এইসব ভাবাবেশ বর্ণনা করা কঠিন, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ এই দিব্যশাস্ত্র, কৃষ্ণভাবনামৃত আমাদের কাছে এনে দিয়েছেন। এবং আমরা ধীরে ধীরে তা বুঝতে পারব এবং এইসব শুদ্ধভাব উপলব্ধি করতে পারব। তাই শ্রীল প্রভুপাদ নিতাই গৌরের কৃপা সমগ্র বিশ্বের কাছে এনেছেন এবং আমরা আশা করি যে তোমরা সবাই এর স্বাদ পাবে। আমরা আসলে কখনও চৈতন্য মহাপ্রভুর পূর্ণভাব উপলব্ধি করতে পারব না, কিন্তু আমরা যদি একটুও পারি, তাহলেও তা সবকিছুর থেকে এত বিশাল। আমি আশা করি যে তোমরা সবাই এই বিশেষ ভজন সভায় আস্বাদ পাচ্ছ।
যাই হোক, সেই পুরো ডাকাতের দল তারা নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, তিনি তাদের প্রতি একটু কঠোর হয়েছিলেন, কিন্তু তারা ছিল সবাই চোর এবং শেষে তারা সবাই সংকীর্তন আন্দোলনের অংশ হয়ে যায়। তাঁর (নিত্যানন্দ প্রভু) এই হাস্যরসাত্মক ভাব ছিল এবং তিনি জানেন যে কিভাবে প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে প্রচার করতে হবে। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ