মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
মহাবরাহ দাস:- তারা আমাদেরকে বলেছিলেন যে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে ছোট অনিষ্ট দিয়ে বড় অনিষ্টের সওদা করা, যার অর্থ হচ্ছে প্রতিস্থাপন করার মাধ্যমে আপনি জীবিত থাকতে পারবেন কিন্তু তবুও কিছু শারীরিক সমস্যা থাকবে, সামান্যকিছু শারীরিক সমস্যা। এর কারণ হচ্ছে প্রত্যেক রোগী যারা এই প্রতিস্থাপনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন, সেটা কিডনি হোক বা যকৃত হোক, প্রতিস্থাপনের পর সেই রোগীকে সারাজীবন ধরে অনাক্রম্যতা দমনকারী ওষুধ নিতে হবে। এটা কৃত্রিমভাবে অনাক্রম্যতার স্তরকে দমিত রাখবে। এইজন্য তাদের বিভিন্ন অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিসম্পন্ন। আপনি তবুও জীবিত থাকবেন, কিন্তু এই সমস্ত ছোট ছোট শারীরিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে — যা হয়ত মানুষের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে অথবা ভিন্ন ভিন্নভাবে হতে পারে। সেই কারণে ওঁনারও এইসব হওয়ার কথা, যদি প্রতিস্থাপন না হত তাহলে ২০১৮ তেই তিনি তার শরীর ছেড়ে দিতেন। কিন্তু কৃষ্ণের কৃপায় তিনি এখনও আমাদের সঙ্গে আছেন এবং এত কিছু শারীরিক সমস্যা সত্বেও তিনি সেই সমস্ত সেবা অব্যাহত রেখেছেন যা তিনি এত বছর ধরে করে আসছেন — শ্রীল প্রভুপাদের জন্য ৫ দশক ধরে!
সাম্প্রতিক যা হয়েছিল তা হচ্ছে ত্বকের ক্যান্সার। যে সমস্ত মানুষেরা অনাক্রম্যতা দমনকারী ওষুধ গ্রহণ করে, তাদেরকে দীর্ঘ ক্ষণের জন্য রোদের মধ্যে রাখা যাবে না এবং কোন না কোনভাবে ওঁনার কপালে, মাথায় এবং নাকে ত্বকের ক্যান্সার হয়। তাই আমরা খুঁজে দেখলাম যে আমেরিকাতে ত্বকের ক্যান্সারের চিকিৎসার ভিন্নপদ্ধতি আছে, সেখানে কিছুটা উন্নত চিকিৎসা হয়। তাই আমরা ওঁনাকে আমেরিকাতে নিয়ে আসি এই ধারণা নিয়ে যে সেটা দুই সপ্তাহ চলবে, কিন্তু তা দু মাস চলেছে, কারণ তা ছিল ২০ বারের এবং সেটা দুই মাস ধরে হয়েছিল। যথারীতি সেটা একটা কারণ ছিল, অন্যথায় এটা হচ্ছে সেই সময় যখন গুরুমহারাজ ভারত থেকে ইংল্যান্ড হয়ে বা ইউরোপ হয়ে, বেশিরভাগ সময় ইংল্যান্ড হয়ে আমেরিকাতে পানিহাটি উৎসবের জন্য যান এবং সেখানে বিভিন্ন মন্দিরের উৎসবেও যান। এই বছর তাঁর ব্যাস পূজার ঠিক পরেই তিনি দুবাই হয়ে আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং আমেরিকাতে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে মে-এর শেষ সপ্তাহ বা জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত টানা ২ মাস ধরে তিনি সেখানে ছিলেন। তিনি লস এঞ্জেলসে গিয়েছিলেন এবং ডালাসে এসেছিলেন। ডালাস হচ্ছে সেই স্থান, যেখানে তিনি দীর্ঘ সময় থেকেছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলেছিল ডালাসে। ডালাস থেকে প্রত্যেক সপ্তাহের ছুটির দিনে তিনি বিভিন্ন শহরে প্রচারের জন্য যেতেন এবং তিনি অস্টিন, ম্যাকেলেন, হস্টন, নিউ ওরলেন্স, ডেট্রয়েট, মিনিয়াপলিস, আটলান্টা যেতেন প্রতি সপ্তাহের ছুটির দিনে এবং তার চিকিৎসা চলত সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার। সোমবার দিন সকালে তিনি সেই চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতেন সেই চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে বিমানে করে ডালাস থেকে অন্য শহরে যেতেন, শুক্রবার সকালে তিনি চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতেন এবং তারপর আবার সোমবার সকালে তিনি ডালাসে ফিরে আসতেন, বিমানবন্দর থেকে সোজা চিকিৎসা কেন্দ্রে যেতেন এবং তারপর সোমবার থেকে শুক্রবার ডালাতে থাকতেন এবং এর মধ্যে অন্যান্য কিছু অনুষ্ঠান হত ও প্রত্যেকদিন রাতে তিনি যে গ্রন্থের উপর কাজ করছেন সেই চৈতন্য লীলা পাঠ দিতেন। কমবেশি এইভাবে তিনি ডালাসে গত দুই মাস অতিবাহিত করেছেন, পুরো আমেরিকায় থাকাকালীন। সেখানে সব জায়গায় বড় অনুষ্ঠান হয়েছিল এবং বিশেষত এই বছর প্রথমবারের জন্য তিনি সাধুসঙ্গ উৎসবে গিয়েছিলেন, যা ডালাসে হয়েছিল। সেখানে অনেক অদম্য ভক্তরা ছিলেন যেমন — শ্রী শ্রীমৎ রাধানাথ স্বামী মহারাজ, শ্রী শ্রীমৎ সচীনন্দন স্বামী মহারাজ, শ্রী শ্রীমৎ ইন্দ্রদুম্ন মহারাজ, শ্রী শ্রীমৎ গিরিরাজ স্বামী মহারাজ। এইসময় গুরুভ্রাতাদের সাথে এবং অন্যান্য ভক্তদের সাথে ওঁনার এক খুব ভালো প্রেমময় ভাববিনিময় হয়েছিল এবং আপনাদের মধ্যে বেশিরভাগই সাধু-সঙ্গের সেই ছোট ভিডিওটি দেখেছেন যে গুরুমহারাজ শ্রীমদ্ভাগবত ক্লাস দিয়েছিলেন, আমার মনে হয় মে-এর ২৮ তারিখে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ চলাকালীন পাঠ শেষ হওয়ার পর প্রশ্ন উত্তরের জন্য বেশি সময় ছিল না, তাই শ্রী শ্রীমৎ শচীনন্দন মহারাজ মঞ্চে এসেছিলেন এবং তিনি ঘোষণা করলেন যে মহারাজ আমি নিশ্চিত যে ভক্তরা (সেখানে থাকা দর্শকেরা) আপনাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে অত্যন্ত আগ্রহী, কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে সময় হচ্ছে আমাদের শত্রু এবং আমাদের প্রশ্ন নেওয়ার আর সময় নেই। কিন্তু আমার একটি প্রশ্ন আছে, তিনি বললেন, তিনি গুরু মহারাজকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কেমন আছেন মহারাজ?” গুরু মহারাজ উত্তর দিয়েছিলেন যে, “আমি বেশ খানিকটা অক্ষম।” আপনারা জানেন অক্ষম মানে কি? ঠিক যেন ধ্বংসপ্রাপ্ত জাহাজের মত। তিনি বলেছিলেন, “আমার শরীর খানিকটা অক্ষম, আমার স্ট্রোক হয়েছিল, আমি ঠিকভাবে কথা বলতে পারি না, আমার কিডনি এবং যকৃত প্রতিস্থাপন হয়েছে এবং এখন আমার ত্বকের ক্যান্সার হয়েছে, কিন্তু তবুও আমি খুশি।” তিনি এই কথাটা বলেছিলেন। যখন তিনি এই কথা বললেন, তখন সেখানে বসে থাকা সকল ভক্তদের তাদের চোখে জল চলে এসেছিল কারণ তিনি হচ্ছেন একজন জীবন্ত দৃষ্টান্ত যে কিভাবে আন্তরিকভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করার মাধ্যমে একজন প্রকৃতপক্ষে জীবনের এই সমস্ত সমস্যার দ্বারা প্রভাবিত হওয়া থেকে দূরে থাকতে পারে, কারণ বেশিরভাগ সময় যেমন ভগবদ্গীতার ২.১৪তে বলা হয়েছে —
“মাত্রাস্পর্শাস্তু কৌন্তেয় শীতোষ্ণসুখদুঃখদাঃ।
আগমাপায়িনোহনিত্যাস্তংস্তিতিক্ষস্ব ভারত”।।
অস্থায়ী সুখ এবং দুঃখ এবং তাদের আগমন হচ্ছে শীত এবং গ্রীষ্মের গমনাগমনের মত এবং সেগুলি ইন্দ্রিয়ের উপলব্ধির দ্বারা হয় আর কাউকে তা অবশ্যই বিরক্ত না হয়ে তা সহন করতে শেখা উচিত। আমাদের বিভিন্নধরনের ভক্তরা আছেন, যখন আমরা জীবনে, ভক্তি জীবনে কোন সমস্যার সম্মুখীন হই, আর আমরা তা মান্য করি। আমাদের সবাইকেই বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, জাগতিক জীবনে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় এবং কখনও কখনও আমরা যারা আধ্যাত্মিকভাবে দৃঢ় নই, তখন যখন আমরা ছোট কিছু সমস্যার সম্মুখীন হই, আমরা সেটার দ্বারা বিরক্ত হই এবং আমাদের মন সবসময় সেই সম্বন্ধে চিন্তা করতে থাকে, আর সেই সেই ছোট সমস্যা আরো অধিক অধিক বড় মনে হয় শুধু সেই সম্বন্ধে চিন্তা করার জন্য এবং এমন কিছু কিছু ভক্তরা আছেন যে তারা যখন কোন সমস্যায় পড়েন, তখন তারা সেই সমস্যা সহ্য করেন কিন্তু তারা বিরক্ত হন না, তারা নিজেদের ভিতর আনন্দিতও থাকেন না কিন্তু তবুও তারা সেটা সহ্য করতে পারেন, তবে তারা এর দ্বারা বিরক্ত থাকেন, তারা আনন্দিত থাকেন না। আরেকধরনের ভক্ত আছেন যে তারা যখন কোন সমস্যার সম্মুখীন হন, তারা তা সহ্য করেন, তবে তারা আনন্দিত থাকেন। তারা তাদের জীবনে এই সমস্ত কঠিন পরিস্থিতি বা সমস্যার দ্বারা বিরক্ত হয় না এবং এই হচ্ছেন গুরুমহারাজ, যেটা আমরা তাঁর মধ্যে দেখতে পাই। আমি জানিনা, যদি আমাদের কাছে সময় থাকে, তাহলে আমরা সেটা পরে বর্ণনা করে বলতে পারি যে তাঁকে তাঁর প্রাত্যহিক জীবনে কত তপস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এইধরনের তপস্যা তিনি যাত্রা করার সময়, ভক্তদের সাথে সাক্ষাৎ করার সময়, খাবার গ্রহণ করার সময়, স্নানের সময় করেন ও সব ক্ষেত্রেই এই ধরনের তপস্যার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এটি হচ্ছে এক তপস্যার জীবন এবং এই ধরনের শারীরিক সমস্যা যার আছে, তবুও এই সবকিছু সত্বেও তিনি নিষ্কপটে বলেছিলেন যে আমি আনন্দিত কারণ তিনি ভেতর থেকে কৃষ্ণের সাথে সংযুক্ত। যেহেতু তিনি ভক্তিমূলক সেবায় গভীরভাবে সংযুক্ত এবং সেটাই তাকে এই সমস্ত বাহ্যিক কঠিন পরিস্থিতি ও সমস্যার দ্বারা প্রভাবিত হতে দিচ্ছে না। এটা হচ্ছে নিখুঁত বাস্তব দৃষ্টান্ত যে কিভাবে আমরা যদি নিজেদেরকে গভীরভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, আমরা ভক্তরা আসলে আমাদের এই সব কঠিন পরিস্থিতিকে অতিক্রম করতে পারব। এটি একটি নিঁখুত দৃষ্টান্ত, এটি হচ্ছে জীবন যেমন একটি প্রবচনে, কারণ এটাই মানুষেরা চায়, এটাই আমরা সবাই চাই। অন্য একদিন আমি এবং একনাথ গৌর দাস আলোচনা করছিলাম যে জড়জাগতিক জীবন হচ্ছে কাঁটাযুক্ত গাছে বসে থাকার মত, এটা কোন ব্যাপার নয় আপনি কোথায় বসে আছেন বা ঠিক কোন ভঙ্গি করে বসে আছেন, আপনি পাশ ফিরলে কাটাই দেখতে পারবেন, যা আপনাকে আঘাত দিতে চলেছে। আমরা এই জড়জগতে নিজেদেরকে যেভাবেই খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করি না কেন, তবুও তা আমাদেরকে কষ্টই দেবে। তাই এই জড় জগৎ থেকে পলায়নের কোন উপায় নেই, যতক্ষণ না আমরা নিজেদেরকে গভীরভাবে কৃষ্ণ ভাবনামৃতে যুক্ত করছি। তখন তাহলে এত কিছু সমস্যা থাকা সত্ত্বেও, কোন ব্যাপার হবে না যে আমরা কত কি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। শুধু নিজেদেরকে গভীরভাবে কৃষ্ণভাবনামৃতে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে, নিশ্চিতরূপে কৃষ্ণ আমাদের রক্ষা করবেন এবং কৃষ্ণ খুব অনায়াসেই আমাদেরকে এই সমস্ত কঠিন পরিস্থিতি এবং সমস্যা পার হতে দেবেন। তাই এটি হচ্ছে এক নিখুঁত দৃষ্টান্ত যে কিভাবে গুরু মহারাজ তাঁর জীবন পরিচালনা করছেন। হরে কৃষ্ণ!
একনাথ গৌর দাস:- আমি আমার গুরুভ্রাতা এবং গুরু-ভগিনীদের সঙ্গে ইংল্যান্ডে থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। প্রথমত, এই যাত্রায় আমি জানিনা যে আপনারা খেয়াল করেছেন কিনা যে নতুন ভক্তরা এসেছেন। আপনারা কি খেয়াল করেছেন? তিনজন ভক্ত মালয়েশিয়া থেকে এসেছেন, কারণ মালয়েশিয়াতে তাদের একটি বিশেষ বৃক্ষ আছে যা খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন, তা কেবল মালেশিয়াতেই আছে। প্রভু সেখানে ছিলেন একটা গাছ, আপনারা হাভেলিতে যে বিন্স দেখছেন সেটা একটি গাছ থেকে কাটতে পারবেন; এইভাবে চৈতন্য দাস, কৃপাসিন্ধু দাস, গোকুল, মহা বরাহ দাস সবাইকে একটা গাছ থেকেই কাটা হয়েছে। আমরা তাদেরকে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত কারণ তারা অত্যন্ত উৎসর্গীকৃত আন্তরিক ভক্ত, খুব বরিষ্ঠ ভক্তবৃন্দ। তারা সেবা করছেন, তারা মন্দির উদ্বোধনের জন্য অনুদান সংগ্রহ করছেন, ফার্ম দেখছেন, ফুড ফর লাইফ, গ্রন্থ বিতরণ, প্রচার, মালেশিয়াতে রথযাত্রা এবং এখন তারা একটু সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করছেন। তাই যখন তারা শুনেছেন যে আমেরিকাতে মহাপ্রসাদের কিছু প্রয়োজন আছে, তখন মালেশিয়ান ভক্তরা তাদের টিকিটের খরচা বহন করেছে এবং গুরু মহারাজকে সাহায্য করেছেন। যদিও ওঁনারা হচ্ছেন মন্দির অধ্যক্ষ, কিন্তু তবুও তারা এখানে এসেছেন। যখন তারা গুরু মহারাজের সেবা করেন, সেক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত মনোযোগী। তারা শুধু, আপনারা জানেন যে তারা খুব মনোযোগ সহকারে সেবার সবকিছু করেন। আপনারা কতজন তামিল বলতে পারেন? তারা ভালো তামিল প্রচারক, তাই ভবিষ্যতে প্রচারের জন্য আপনারা তাদেরকে আসার নিমন্ত্রণ দিতে পারেন এবং আপনাদের মধ্যে কতজন বিশ্বম্ভরকে জানেন? তিনি অনেক তরুণ বয়সে আমেরিকা থেকে এসেছেন। তিনি অনেক অল্প বয়সে আমেরিকাতে গুরুমহারাজের সেবা করছেন এবং তারপর তিনি মায়াপুরে এসেছেন। তিনি রোগ চিকিৎসায় নিপুণ, তিনি গুরুমহারাজের দেখশোনা করছেন, তিনি গুরুমহারাজের ওষুধপত্রের খেয়াল রাখছিলেন। তিনি অত্যন্ত মনোযোগী এই বিষয়ে যে কি ওষুধ গুরুমহারাজকে দেওয়া হচ্ছে বা কি দেওয়া হচ্ছে না। তিনি গুরুমহারাজের সেবা করছেন অন্তত ১০ বা ১৫ বছর ধরে আমি ঠিক মনে করতে পারছি না!
আমাদের রাধা জীবন প্রভু আছেন পিছনে। তিনিও আমেরিকা থেকে আসছেন, তিনি মিচিগানে ফার্মে থাকেন, তিনি জানেন যে বলদ দিয়ে কিভাবে ফার্মিং করতে হয় এবং কিভাবে মাটি দিয়ে গৃহ নির্মাণ করতে হয় সেই প্রশিক্ষণ দিতেও বিশেষ নিপুণ।
মহাবরাহ দাস:- অনেক মানুষেরা এটা শিখতে আসে যে কিভাবে গাভীকে আদর করতে হয়। সেই ব্যক্তি রাধা জীবন সেখানে আছেন, আপনারা তার থেকে তা শিখতে পারেন।
একনাথ গৌর দাস:- তিনিও এতে খুব নিপুণ। তারা খুব সুন্দরভাবে গুরুমহারাজকে সেবা করতে এসেছেন, তাই দয়া করে তাদের সঙ্গ গ্রহণ করুন। এবং আপনারা কি গৌরাঙ্গ কে জানেন? ইটালি থেকে? তিনি গুরু মহারাজের সাথে সমগ্র ভারতে ভ্রমণ করা শুরু করেছেন। কোভিডের পর থেকে তার সেই সেবা স্থির হয়ে গেছে, তিনিও খুব তরুণ অবস্থায় এসেছেন। এই হচ্ছে নতুন দল। তারা গুরুমহারাজের সেবায় অত্যন্ত উৎসর্গীকৃত। চলুন তাদের জন্য বড় করে হরিবোল বলা যাক।
আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রয়োজন, কিন্তু তারা খুব সুন্দরভাবে সেবা করছে, তাই আমি তাদের সঙ্গে থেকে অত্যন্ত আনন্দিত। ইতালিতে তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে গুরুমহারাজের সাথে আপনাদের ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা কি? আজকে আমি স্নান করছিলাম এবং সেই উপলব্ধি সম্পর্কে ভাবছিলাম এবং একটা বিষয় আমার মাথায় আসে যে আপনারা জানেন যে কোন না কোনভাবে আমাদের এই জড় জগতে একটা চরিত্র আছে, কিছু একটা আমাদের আছে তাই তো? কিন্তু তবুও এমন কি যদিও আমরা আমাদের অনর্থের দ্বারা বদ্ধ, এবং মায়া শক্তি ও জড়জগৎ থেকে প্রতিমুহূর্তে বোমা নিক্ষেপিত হচ্ছি, তবুও একজন ব্যক্তি আছেন যিনি এমনকি যদিও আমাদের এই সবকিছু আছে, তবুও আমাদেরকে নিজেদের শ্রেষ্ঠতা উন্মোচনে অনুপ্রাণিত করছেন। ঠিক কিনা? কে এই মতামত সমর্থন করছে? হরিবোল! আমি দেখেছি যে গুরুমহারাজ এমনকি যদিও আমরা যোগ্য নই, আমাদের এত অনর্থ, অহংকার এই ওই আছে; তবুও যখন আমরা সেবা করি, যখন ভক্তরা আধ্যাত্মিক শক্তির সাথে যুক্ত হয়, তখন তারা তাদের শ্রেষ্ঠতা উন্মোচিত করে। তারা এত এত প্রচার করে এবং তারা এত ভক্তদের নিয়ে আসে যদি আমরা সংযোগ ছিন্ন হই তখন অনর্থ আসে কিন্তু তবুও যখন আমরা সংযুক্ত হই তার সব ভক্তদের শ্রেষ্ঠতা উন্মোচিত করে এবং আমি চিন্তা করছিলাম যে গুরুমহারাজের এই গুনটি আছে যে আমাদের শ্রেষ্ঠ ভাব আনয়ন করেন, যদি আমরা সেই মনোভাব নিয়ে শ্রীল প্রভুপাদের আন্দোলনে সংযুক্ত হই। এবং বৈদিক তারামণ্ডলীর মধ্যে গুরুমহারাজ মিউজিয়াম প্রদর্শনের দিকটি করছেন, সেখানে আমরা সাতটি গ্রহণ মন্ডল এবং তারপর আধ্যাত্মিক জগত সম্পর্কে বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। একটি বর্ণনা হচ্ছে যে বিভিন্ন ধরনের চেতনার মাধ্যমে আপনি এই জগতের বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবেন এবং যখন আপনার মন পারমার্থিক হবে এবং এই সবকিছু অতিক্রম করবে, তখন আপনি কৃষ্ণভাবনামৃতে স্থির হবেন, তখন আপনি আধ্যাত্মিক জগতে যাবেন। তাই এতে দেখান হচ্ছে যে যখন আমরা কৃষ্ণের সাথে সংযুক্ত হই, যখন গুরুমহারাজ আমাদেরকে কৃষ্ণের সাথে সংযুক্ত হতে অনুপ্রাণিত করেন, তখন আমরা আধ্যাত্মিক জগতে থাকি। প্রভুপাদ তাঁর একটি চিঠিতে বলেছেন, যারা এই শ্রীল প্রভুপাদের পত্রসমূহ পড়বে যে কৃষ্ণভাবনাময় স্থিতিতে থাকলে আপনি পতিত নয়, এই মুহূর্তে আমরা যেই মুহূর্তে আমরা কৃষ্ণভাবনা ছেড়ে দেই, তখনই আমরা পতিত হই এবং আমরা দেখতে পাই যে যেহেতু আমি সেই অনুপ্রেরণা সম্পর্কে কথা বলছি যে যখন আমরা সেই আধ্যাত্মিক শক্তির সাথে সংযুক্ত হই, আমরা ভিন্ন ধরনের চেতনায় থাকি এবং সেই শক্তিতে থাকি কৃষ্ণের শক্তিতে এবং তারপর অদ্ভুত ঘটনা ঘটাতে পারি, ঠিক যেমন শ্যামসুন্দর প্রভু গুরু মহারাজকে অন্য একদিন পার্কে বলছিলেন। তারা অভয় থাকতেন, তিনি বলেছিলেন যে আমরা কৃষ্ণের জন্য নির্ভীক থাকতাম এবং আপনি যত নির্ভীক, ততই জীবনে কঠিন পরিস্থিতি আসবে এবং যত কঠিন পরিস্থিতি আসবে, আপনি ততই কৃষ্ণকে দর্শন করতে পারবেন এবং আপনারা সবাইও দেখবেন যে আপনাদের প্রচারে এবং আপনাদের সেবায় হয়ত অনেক কঠিন পরিস্থিতি থাকবে। কিন্তু আপনারা দেখবেন যে কিভাবে কৃষ্ণ তাতে হস্তক্ষেপ করেন হ্যাঁ কি না? তাই আমি ভাবছিলাম যে আমি আপনাদেরকে বলব যে কিভাবে গুরুমহারাজ সেই আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে সংযুক্ত করেন।
এখন গুরুমহারাজ আসছেন, আমরা ওঁনাকে স্বাগত জানাব উচ্চস্বরে বলে — গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! জয় নিতাই! গৌরাঙ্গ! নিতাই! গৌরাঙ্গ! নিতাই! গৌরাঙ্গ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address