Text Size

২০২৩০৬১২ দর্শন

12 Jun 2023|Bengali|Public Address|Italy

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- তারপর রুক্মিণী বললেন, “আপনি জানেন না আপনার ভক্তরা আপনাকে কত ভালোবাসে এবং তারা আপনাকে কিভাবে ভালোবাসে! আমি জানি, রাধারানী জানেন, কিন্তু আপনি জানেন না।” এটা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য অতি আশ্চর্যজনক বিষয় ছিল। “ঠিক আছে!” তিনি বললেন, “আমি কলিযুগে ভক্ত রূপে অবতীর্ণ হব! আমি কলিযুগে আমার ভক্তরূপে অবতীর্ণ হব! আমি কলিযুগে আমার ভক্তরূপে অবতীর্ণ হব!” গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! 

অভয়চরণ নিমাই দাস:- একটি অভিযোগ আসছে গুরু মহারাজ যে আওয়াজ অনেক বেশি আছে, তাই আমাদের আরেকটু আস্তে বলা উচিত।  

জয়পতাকা স্বামী:- তাদেরকে যুক্ত হতে বল। তারা এই সব আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছে!

গৌরাঙ্গ রাধারানীর মনের ভাব, হৃদয় ও অঙ্গকান্তি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন। যেহেতু তিনি গৌর বর্ণের, তাই তাকে বলা হয় গৌরাঙ্গ। আমি ভিল্লা বৃন্দাবনে বলেছিলাম যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু সংকীর্তন করতেন এবং তিনি সবসময় তা করতেন। যখন ভক্তরা বাংলা থেকে জগন্নাথপুরীতে যেতেন, তখনও তিনি সংকীর্তন করতেন। তোমরা কি পিছনে শুনতে পারছ? চৈতন্য-চরিতামৃতের শেষে ভক্তরা বর্ষা ঋতুর পর আবার বাংলায় ফিরে আসতেন। চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর অবতীর্ণ হওয়ার অন্যান্য উদ্দেশ্যগুলি অন্বেষণ করছিলেন যে কেন তিনি এই পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি অত্যন্ত ভাবে বিভোর হয়ে থাকতেন। তিনি প্রায় উন্মত্ত হয়ে থাকতেন! তিনি রাধারানীর ভাব অনুধাবন করছিলেন এবং বলা হয়েছে যে কখনো কখনো জগন্নাথপুরী মন্দির এবং বৃন্দাবন গণ্ডিচার মধ্যে সেখানে যে একটি বড় রাস্তা আছে, সেই রাস্তার ধারে বৃন্দাবন বাগান আছে। চৈতন্য মহাপ্রভু হঠাৎ ভাবে বিভোর হয়ে সেই বাগানের মধ্যে গোপীদের ভাবে যেতেন, যখন শ্রীকৃষ্ণ রাসলীলা ছেড়ে চলে গেছেন, এইভাবে গাছেদেরকে জিজ্ঞেস করতেন, “কৃষ্ণ কোথায়?” এবং তাদের থেকে উত্তর পাওয়ার আশা করতেন। সাধারণত আপনারা গাছের সাথে কথা বলেন না, আর গাছের থেকে যে কোন উত্তর পাবেন তারও আশা করেন না। কিন্তু তিনি বলতেন, “তুমি কি দেখেছো যে কৃষ্ণ কোথায় গেছে?” কিছু গাছ হয়ত ফলের ভারে ঝুঁকে থাকত, তখন তিনি বলতেন, “কৃষ্ণ নিশ্চয়ই চলে গেছেন, আর তুমি এখনো তাঁকে প্রণাম করছ? তুমি কেন কথা বল না?” তখন তিনি বলতেন, “সমস্যাটা হচ্ছে এইসব গাছেরা পুরুষ তাই তারা আমাদেরকে বলছে না যে কৃষ্ণ কোথায় আছে কারণ তারা কৃষ্ণের সখা।” তারপর তিনি বলতেন, “আমি স্ত্রী লতাদের জিজ্ঞেস করবো।” ভাবুন যদি মানুষেরা চৈতন্য-চরিতামৃত গ্রন্থ খোলেন, তাহলে তারা বুঝতে পারবেন না যে কি হচ্ছে কারণ চৈতন্য মহাপ্রভু এই উন্মত্ততা প্রকাশ করছিলেন। কৃষ্ণ প্রেমের উন্মত্ততা! পুরো অন্ত লীলাই হচ্ছে এইরকম। চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি যেখানে থাকছিলেন, সেখানে সব দরজা তালা বন্ধ ছিল, কিন্তু কোন না কোনভাবে তিনি ভাবছিলেন তিনি কৃষ্ণের বংশী ধ্বনি শুনতে পারছেন ও কোনভাবে তিনি সেই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন, কিন্তু ঘরের সব দরজা তালা বন্ধ ছিল। তিনি জগন্নাথপুরী মন্দিরের পাশের গোশালায় এসে গেছিলেন এবং সেখানে গাভীদের মাঝে মাটিতে পড়েছিলেন, তাঁর হস্ত, চরণ সব শরীরের ভিতর ঢুকে গিয়েছিল। তাঁকে একটি কচ্ছপের মতো দেখতে লাগছিল! তারা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে তাকে স্বাভাবিক স্থিতিতে আনার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তিনি এত ভাবে বিভোর হয়েছিলেন যে তিনি তাঁর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছিলেন না।তাই স্বরূপ দামোদর এবং অন্যান্য ভক্তরা তাকে তার ঘরে নিয়ে যান এবং এই সমস্ত কিছু মানুষদের পক্ষে বুঝতে পারা খুবই কঠিন।  

আমরা জানি যে ভাব এবং প্রেমের স্তর পর্যন্ত আটটি স্তর আছে। ভাব হচ্ছে ভগবানের প্রতি মহাআনন্দময় প্রেম এবং প্রেম হচ্ছে ভগবানের প্রতি শুদ্ধ ভালোবাসা। মানুষেরা যা জানে না তা হচ্ছে, প্রেমেরও আটটি স্তর আছে এবং সেই সর্বোচ্চ প্রেমের স্তরকে বলা হয় মহাপ্রসাদ ভাব।  রাধারানীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং কিছু ভক্তরা যেমন মাধবেন্দ্রপুরি তা অনুভব করতে পারেন। হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে আমরা কিছু  স্তরের উপলব্ধি করতে পারি। আমি বলতে চাইছি এগুলিও অত্যন্ত চমৎকার! কিন্তু  কৃষ্ণদাস কবিরাজ বলেছেন যে আমি পারবো না, এমনকি অনন্ত দেব তাঁর সহস্র বদন দিয়েও চৈতন্য মহাপ্রভু এক দিনে যা উপলব্ধি করতেন সেই বিভিন্ন ভাবের কথা বর্ণনা করতে পারবে না। তাই তিনি যা কিছু বলেছেন, আমি কেবল সেটার ইঙ্গিত দিচ্ছি মাত্র এবং তিনি বলেছেন যে বিশ্বাস ও প্রেম সহ চৈতন্য মহাপ্রভুর এই ভাবের কথা শ্রবণ করলে আমরা শুদ্ধ হতে পারব। 

যাই হোক, এইভাবে আমরা বুঝতে পারি যে কৃষ্ণ প্রেমের উর্ধ্বস্তর কি, যা কেউ উপলব্ধি করতে পারে। মানুষেরা নেশার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী। [শব্দ বিচ্ছেদ] তিনি বাহ্যিক চেতনায় থাকতেন, কখনো কখনো অভ্যন্তরীণ এবং কখনো দুই চেতনার মধ্যবর্তী পর্যায়ে থাকতেন। তাঁর এই অভ্যন্তরীণ ভাব অত্যন্ত গুহ্য। যখন বাংলা থেকে ভক্তরা সেখানে থাকতেন, তখন তারা জগন্নাথপুরী মন্দিরকে পরিক্রমা করতেন, প্রত্যেক দলে সেখানে একজন মুখ্য নর্তক ছিল। চৈতন্য মহাপ্রভু মধ্যস্থানে থাকতেন এবং তাঁর চারিপাশে চারটি দল থাকত। একটা দলের নর্তক ছিলেন নিত্যানন্দ প্রভু, একটি দলে অদ্বৈত আচার্য, একটিতে শ্রীবাস আর অন্য আরেকটিতে ছিলেন বক্রেশ্বর পণ্ডিত। তাঁর সামনে কেউ আসলে, তিনি তাকে আলিঙ্গন করতেন। রাজা প্রতাপরুদ্র [হঠাৎ শেষ হয়ে গেল] 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 7/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions