Text Size

২০২৩০৬০৫ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

5 Jun 2023|Duration: 00:26:12|Bengali|Question and Answer Session|Dallas, USA

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

ডাক্তার পণ্ডিত হচ্ছেন একজন ENT স্পেশালিস্ট (চক্ষু-কর্ণ-নাসিকা বিশেষজ্ঞ), কিন্তু সে কি এই অমৃতময় বাণী সম্পর্কে জানে? হা! হা! তুমি তোমার রোগীদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারো। আমি তোমাকে এখানে স্বাগত জানাই ও একটি মালা দিতে চাই। তোমার পরিবার কোথায়? আমি ব্রাউন ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হয়েছিলাম, কিন্তু আমি স্নাতক পড়িনি, আমি শ্রীল প্রভুপাদের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম। সকল শিল্পবিদরা আশীর্বাদ নিচ্ছে!

কোন প্রশ্ন আছে কি

প্রশ্ন:- আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম্ থেকে শুনেছি যে কিভাবে কৃষ্ণ আবির্ভূত হন, কিভাবে তাঁর তরঙ্গাকুল কেশ, মন্দ মন্দ মুসকান (স্মিত হাসি), তিনি কিভাবে চলেন কিন্তু আমি সর্বদা এটা জানতে আগ্রহী যে তাঁর কণ্ঠস্বর কিরকম, তিনি কিভাবে কথা বলেন? আমি কখনও জানতে পারিনা যে কৃষ্ণের কণ্ঠস্বর কি রকম! গুরু মহারাজ আপনি কি আমাকে একটি ধারণা দিতে পারবেন যে তা কি রকম?  

জয়পতাকা স্বামী:- এটি বলা হয়েছে যে শুধু সবথেকে ভাগ্যবান ব্যক্তিরাই এটা শুনতে পারেন! হা! হা! 

ভক্ত:- তাহলে আপনি তো জানেন গুরু মহারাজ!

জয়পতাকা স্বামী:- অন্যভাবে বলতে গেলে আমাদের তত ভাগ্যবান হতে হবে যাতে আমরা কৃষ্ণের কণ্ঠস্বর শুনতে পারি, তাঁর গান, তাঁর বাঁশি, তাঁর অলংকারের শব্দ। ভাব যে ব্রজবাসীরা কত ভাগ্যবান যে তারা কৃষ্ণের কথা, কৃষ্ণের গান, কৃষ্ণের পায়ের নুপুরের ধ্বনি, তাঁর বংশীধ্বনি শুনতে পারতেন। এমনকি যদি এক মুহূর্তের জন্যও হয়, তাহলেও ভাব কত অপূর্ব হবে! আমিও তা শুনতে চাই — এই একটি ইচ্ছাই আমাকে আধ্যাত্মিক জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত মানুষেরা অন্যান্য বিষয়ে ভাবছে, আমরা এই জড়জগতে বারংবার এই ভেবে জন্ম নিচ্ছি যে অন্য জিনিসটি আমাকে আনন্দিত করবে, তারপর তা যখন আমাকে আনন্দিত করে না, তখন ভাবছি অন্য কিছু সম্পর্কে। আমি জানিনা কতটা তবে শুনেছি যে কিছুটা পরিমাণে তারা তোমার শরীরকে হিময়িত করে দেবে, আর যখন বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবে যে মৃতের শরীরে কিভাবে প্রাণ সঞ্চার করা যাবে, তখন তারা তা করবে। এইসব ভবিষ্যতের নিরীক্ষণ। প্রকৃতপক্ষে বেদ আমাদেরকে এই ধারণা দেয় যে জীবন আসে জীবন থেকে, যতক্ষণ শরীরের মধ্যে জীবন আছে, শরীর সুন্দর কারণ তার মধ্যে জীবনী শক্তি আছে, আত্মা আছে। এটা কোন জড়জাগতিক বস্তু নয়, যা কেউ নিজের মতো করে ঠিকঠাক করে নিতে পারবে। এইসব ধনী ব্যক্তিরা, বিজ্ঞানীরা পারমার্থিক জীবনের ভিত অ, আও জানে না। এই শরীর হচ্ছে একটি যন্ত্র, আমাদের সেই যন্ত্র ঠিক করার জন্য ডাক্তারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ডাক্তার মৃত শরীরের মধ্যে জীবনকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তারা বলছে আমাদেরকে অর্থ দিন, আমরা আপনার শরীরকে হিমায়িত করব এবং যখন ডাক্তাররা বুঝতে পারবে, তখন আমরা আবার সেই অবস্থা থেকে আপনাকে মুক্ত করব। এটি প্রতারণা! শ্রীল প্রভুপাদ ভারতবর্ষের একটি গ্রামে ছিলেন এবং তিনি একটি সরল উদাহরণ দিচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, কোন ব্যক্তির ঠাকুরদা মারা গেলে তার স্ত্রী কান্না করে যে আমার স্বামী ছেড়ে চলে গেছে, তার ছেলে এবং মেয়েরা কান্না করে আমার বাবা ছেড়ে চলে গেছে, নাতি নাতনিরা কান্না করছে যে আমাদের ঠাকুরদা ছেড়ে চলে গেছে। সেই গ্রামে প্রত্যেকেই তাদের সম্পর্ক অনুযায়ী বিলাপ করছে যে তিনি চলে গেছে! তিনি চলে গেছে! শ্রীল প্রভুপাদ তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কে চলে গেছে? সেই একই শরীর, একই চুল, একই হাত সবকিছু আছে, তাহলে কে চলে গেছে?” প্রত্যেকেই বিলাপ করছে যে তিনি চলে গেছে, কিন্তু কে চলে গেছে? এটা হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে আত্মা, সেই আত্মা চলে গেছে এবং যদি আত্মা শরীরে থাকে, তাহলে শরীর জীবিত থাকে। যদি আত্মা শরীরের না থাকে, তাহলে শরীর মৃত হয়। তাই এটি দুর্ভাগ্যপূর্ণ ব্যাপার যে মানুষেরা পারমার্থিক জীবনের এই ভিত্তিটুকুও জানেনা। আমার পূর্বাশ্রমের মা তিনি ভারতে এসেছিলেন, তিনি শ্রীল প্রভুপাদের কাছে এসেছিলেন, তিনি তাকে প্রত্যেকদিন গোলাপ দিতেন। আমি দেখে আশ্চর্য হয়েছিলাম যে শ্রীল প্রভুপাদ তাকে জীবনী শক্তি সম্পর্কে বলছিলেন এবং এত সহজ ভাষায় তিনি বললেন — জীবনী শক্তি। আমি কখনো শ্রীল প্রভুপাদকে তা বলতে শুনিনি। সাধারণত আমরা আত্মা শুনেছি। তিনি বলছিলেন যে জীবনী শক্তি কি এবং আপনি হচ্ছেন এই শরীরের জীবনী শক্তি। যখন আপনি শরীর ছেড়ে যাবেন, সেই জীবনী শক্তি শরীর ছেড়ে দেয়, তখন তা মৃত হয়ে যায়। আমি শুনেছি যে ডিজনি বা অন্য কেউ তারা তাদের শরীর হিমায়ত রেখেছিল। তারপর তাদের উত্তরাধিকারীরা লড়াই করতে শুরু করে যে তার উত্তরাধিকারী কে হবে, হয়ত সে জীবন ফিরে পাবে, তাই এক বড় লড়াই হয়েছিল ও কেউ একজন সেই বাঁধা দড়ি টেনে দিয়েছিল, তারপর দেখে তার শরীরে পচন ধরেছে, তখন তারা ভাবল ঠিক আছে, মানে তারা অর্থ নিয়ে নিতে পারবে।  

আর কোন প্রশ্ন আছে?...  আমাদের অতিথি পণ্ডিত জি?

ডাক্তার পণ্ডিত:- আমি এখন নিউইয়র্কে থাকি এবং নিউইয়র্ক সম্পর্কে একটা ব্যাপার হচ্ছে এখানে অনেক মানুষ, অনেক উৎসব, অনেক ভিড়, অনেক অর্থ আছে আর আমি ২৫ বছর বয়সি। একটি বিষয় আমি ভাবছি যে কিভাবে জড় বিশ্বের জীবনযাপন, কৃতিত্ব লাভ, বিভিন্ন ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ ও যোগাযোগের সাথে আধ্যাত্মিকতা পূর্ণ শান্তিময় জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়? আমি ২৫ বছর বয়সি যে উচ্চাশি ও আমার সমাজের সেবা করতে চাই, তবে আমি এত বিভিন্ন জিনিসের মধ্যে আসক্ত হতে চাই না, তাহলে এক্ষেত্রে আমি কিভাবে সমতা বজায় রাখতে পারব

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু অনেক মানুষদের বলেছিলেন যে তাদের হৃদয় কৃষ্ণের প্রতি রাখা উচিত। কিন্তু নিজেদের জাগতিক কার্যাবলী অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণভাবে করা উচিত। তিনি একটি উদাহরণ দিয়েছিলেন যে একজন বিবাহিত মহিলার যদি তার স্বামী বাদে অন্য কোন প্রেমিক থাকে, তাহলে সে তা প্রকাশ হতে দিতে চায় না, তাই তার কাজকর্ম খুব সতর্কপূর্ণভাবে করে, বাড়ির কাজকর্ম খুব ভালোভাবে করে, কিন্তু মনে মনে সে সব সময় তার প্রেমিকের কথা চিন্তা করে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু নির্দেশ দিয়েছেন যে তোমার মন সর্বদা কৃষ্ণতে রাখো কিন্তু জড়জাগতিক কাজকর্ম খুব দায়িত্বপূর্ণভাবে কর, এইভাবে তিনি সমতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যেমন আমরা দেখতে পাই যে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে আমরা যখন কৃষ্ণভাবনামৃতে প্রথম যুক্ত হয়েছিলাম, তখন আমরা রাস্তায় হরিনাম করতাম এবং মানুষেরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আমাদেরকে দেখত ও বিভিন্ন  প্রতিক্রিয়া করত। আমরা এক অন্য পরিবেশের মধ্যে ছিলাম আর মানুষেরা যে সব বিভিন্ন মানসিক ভ্রান্তি ও বিষয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারতাম। তাই নিউইয়র্কে থেকেও তুমি অনেক মানুষদের দেখ, কিন্তু তুমি বুঝতে পারো যে জীবনের আসল উদ্দেশ্য কি। আর যতক্ষণ তুমি এই জগতে আছ, এই জীবনে আছ, তোমাকে নিজের পরিবার চালানোর জন্য কাজ করতে হবে। কিন্তু সর্বতভাবে তোমাকে পারমার্থিক জগতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা রাখতে হবে, যাতে তুমি তোমার মন কৃষ্ণতে নিবিষ্ট রাখতে পার। 

ডাক্তার পন্ডিত:- আমি ডাক্তার বিনয় গৌরচন্দ্র দাসের সাথে কথা বলছিলাম, তিনি আমাকে বলছিলেন যে যখন আপনার স্ট্রোক হয়েছিল, তখন আপনার কাছে একটি বিকল্প ছিল যে হয় আপনি কৃষ্ণের কাছে ফিরে যান, না হয় এখানে থেকে এই আন্দোলনে সেবা করুণ। সেই উপলব্ধির সম্পর্কে কি আপনি কিছু বলতে চান

জয়পতাকা স্বামী:- অবশ্যই! আমি ১৯৬৮ সালে যুক্ত হয়েছিলাম এবং সেই সময় আমি ভাবলাম আমার মা বাবা খুব খুশি হবেন। আমি আমার মাকে ফোন করেছিলাম, তিনি আমাকে খ্রিস্টান পুরোহিত হওয়ার জন্য রাজি করাতে চেয়েছিলেন। আমি আমার পূর্বাশ্রমের বাবাকে ফোন করেছিলাম এবং তিনি খুব রেগে গিয়েছিলেন। তিনি বললেন, “তুমি এক্ষুনি ফিরে আসো! নয়ত আমি তোমার নাম সেনাবাহিনীতে দিয়ে দেব আর তুমি ভিয়েতনামে মারা যাবে!” আমি শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আমার কি করা উচিত?” তিনি বললেন, “ভালো হবে তুমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে যুক্ত হও” হা! হা! হা! আমি তাই করেছিলাম এবং তখন থেকে এখনো পর্যন্ত আমি এই সেনাবাহিনীতেই আছি। ২০০৮ সালে আমার স্ট্রোক হয় এবং শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারূ স্বামী মহারাজ ও অন্যান্যরা আমাকে বলেছিলেন যে আমার এখানে থাকা উচিত। আমি বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি দেখতে চাইছিলাম এবং অন্যান্য বিভিন্ন সেবা যা আমাকে শ্রীল প্রভুপাদ দিয়েছিলেন, আমি সেই সব করতে চাইছিলাম। কৃষ্ণ কোনভাবে, ডাক্তারেরা বলেছিল যে আমি মারা যাব ৯৯% এবং ১% সুযোগ আছে যে যদি আমি বেঁচে যাই, তাহলেও আমি কিছুই করতে পারবো না। কিন্তু কোন না কোনভাবে কৃষ্ণের কৃপায় তবুও আমি এখনও কথা বলতে পারছি, আমি ভাবতে পারছি, আমি এত বেশি চলা ফেরা করতে পারি না। হা! আমি চৈতন্য মহাপ্রভুর এই অপূর্ব নির্দেশাবলীর মর্ম উপলব্ধি করতে সক্ষম আছি। আমি সব গ্রন্থ মিলিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর ওপর ইংরেজিতে একটি গ্রন্থ করছি, যাতে মানুষেরা চৈতন্য মহাপ্রভুর সম্পর্কে বুঝতে পারে। আমি জানিনা কৃষ্ণ আর কত সময় আমাকে এখানে রাখবেন, আমি এখন একটি থেরাপি নিচ্ছি। আমি দ্বিতীয় শেষ থেরাপিটি আমার ত্বকের ক্যান্সারের জন্য নিয়েছিলাম। এই বুধবার এটার শেষ দিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তারা বলল যে এরপর আমি ধীরে ধীরে ভালো অনুভব করব। ডালাসে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানে শ্রী শ্রীমৎ শচীনন্দন মহারাজ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “আপনি কেমন আছেন?” আমি বললাম, আপনি কি বলতে চাইছেন — জড়জাগতিকভাবে নাকি আধ্যাত্মিকভাবে? জড়জাগতিক দিক থেকে আমার স্ট্রোক হয়েছিল, হুইল চেয়ারে চলাফেরা করি, আমার লিভার ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয়েছে, ত্বকে ক্যান্সার হয়েছে। জড়জাগতিকভাবে আমি হচ্ছি অক্ষম ব্যক্তি। কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে আমি খুব আনন্দিত! হা! হা! কিছু মানুষেরা বলে যে আমাদের কার্য শব্দের থেকেও বেশি জোরে কথা বলে। তবে বেশিরভাগ মানুষদের তাদের কোন সমস্যা নেই, যদিও আমাকে বসে থাকতে হয়, আর বিমানে ঢোকার সময় আমি হচ্ছি প্রথম ব্যাক্তি ও বেরোনোর সময় শেষ ব্যক্তি। যাইহোক, এই জড়জগত থাকার জন্য খুব একটা ভালো স্থান নয়, কিন্তু তুমি যখন তরুণ থাকবে, তখন সেটা ততটা ভাবতে পারবেন না, তবে আমরা দেখি যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি ব্রজ ধামের ভক্তদের প্রতি এত প্রশংসনীয় ছিলেন যে কিভাবে তারা কৃষ্ণভাবনাময়। এই আনন্দ হচ্ছে অতুলনীয়! 

আর কোন প্রশ্ন আছে? শেষ প্রশ্ন। 

প্রশ্ন:- আজকের প্রবচনে আপনি কৃষ্ণের বাণী শোনার কথা বললেন। কখনো কখনো যখন আমরা শ্রীমদ্ভাগবত বা চৈতন্য-চরিতামৃত পড়ি, তখন আমরা ততটা অমৃত অনুভব করি না। কিন্তু আমরা যখন শ্রীল প্রভুপাদের বা আপনার বাণী শুনি তখন অনুভব হয়। তাই কোনটা ভালো একা একা পড়া নাকি গুরু এবং শ্রীল প্রভুপাদের কথা শোনা নাকি দুটোই একই গুরুত্বপূর্ণ

জয়পতাকা স্বামী:- ভক্ত সঙ্গে শ্রবণ করা হচ্ছে সব থেকে ভালো, কারণ তখন আমরা সেই স্বাদ পাব। কিন্তু কোন না কোনভাবে তোমাকে পড়তে হবে, তোমাকে আত্মসাৎ করতে হবে এবং এমন নয় যে প্রত্যেক সময় আমরা পাঠ শুনতে পারব, আমরা মানুষদের শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ার জন্য উৎসাহিত করি। আমি ভক্তদের গ্রন্থ পড়ার জন্য উৎসাহিত করছি এবং তারা ভক্তিশাস্ত্রী, ভক্তিবৈভব ভক্তিবেদান্ত এবং ভক্তিসার্বভৌম ডিগ্রি লাভ করছে। কিছু তরুণ ভক্তরা পড়েছে এবং ইতিমধ্যেই তাদের ডিগ্রীও পেয়েছে। আমি গ্রন্থাবলী অনেকবার পড়েছি, প্রথম দীক্ষা পাওয়ার জন্য শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাকে ১০ বার ভগবদগীতা পড়তে হবে। তাই আমি মানুষের বলি যে যদি তারা দীক্ষা চায়, তাহলে তাদের ভগবদ্গীতা অন্তত দুবার পড়তে হবে। তারপরও মানুষেরা এমনকি অভিযোগ করে বলে আমি এটা পরে পড়ব, আমাকে দীক্ষা দিন, আমি এক বছরে এই গ্রন্থ শেষ করব। হা! হা! কিন্তু আসলে তারা আমাকে এমনি সম্মানসূচক উপাধি দিতে চেয়েছিল কিন্তু আমি বলেছি যদি আমি এমনি সেই উপাধি গ্রহণ করি, তাহলে তা এক ভালো দৃষ্টান্ত হবে না। তাই আমি পরীক্ষা দেব তারপর ভক্তিবৈভব ডিগ্রী পাব। এখন তারা একটি সামেটিভ পরীক্ষা করেছে। আপনারা পুরো কোর্স না করে এই পরীক্ষা দিতে পারেন কিন্তু আমি তা করিনি। সেই সময় তাদের এই ব্যবস্থা ছিল না। আমি প্রত্যেক স্কন্ধ পরীক্ষা দিয়েছি ও A, A+ পেয়েছি! আমি ভক্তিবেদান্ত পড়া শুরু করেছি কিন্তু আমি কেবল সপ্তম স্কন্ধ পর্যন্ত করতে পেরেছি। আমি এখন খুবই ব্যস্ত আছি! আমাকে এটা তাড়াতাড়ি করতে হবে কারণ অনেক ভক্তরাই অধ্যয়ন করছে ও এগিয়ে যাচ্ছে, আমাকেও তাড়াতাড়ি করে করতে হবে। প্রতি রাতে কেউ একজন আমার সামনে ভাগবতম পড়ে। আমার এখন ১০ম স্কন্ধ চলছে; ১০ম স্কন্ধ ১১ অধ্যায়। আমি প্রতিরাতে শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ি, সন্ধ্যায় পাঠ দিই এইভাবে। হরে কৃষ্ণ!

ভক্ত:-  আপনাকে ধন্যবাদ গুরু মহারাজ, অধ্যয়নের সাধনা বাড়ানোর জন্য আমার আপনার আশীর্বাদ প্রয়োজন। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 11/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions