Text Size

২০২৩০৬০৩ শ্রীমদ্ভাগবত ৭.১২.১ - ৬ (পাণিহাটি মহোত্সব উপলক্ষে প্রদত্ত প্রবচন)

3 Jun 2023|Duration: 00:46:17|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|Atlanta, USA

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
  যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
  পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
  হরি ওঁ তৎ সৎ 

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
      ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
      ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!

শ্রীমদ্ভাগবতম ৭/১২/১ - ৬
 
শ্লোক ১
শ্রীনারদ উবাচ
 ব্রহ্মচারী গুরুকুলে বসন্দান্তো গুরোর্হিতম্‌ ।
 আচরন্‌ দাসবন্নীচো গুরৌ সুদৃঢ়সৌহৃদঃ॥ ১ ॥

অনুবাদ :- নারদ মুনি বললেন — বিদ্যার্থীর কর্তব্য পূর্ণরূপে ইন্দ্রিয়-সংযম করার অভ্যাস করা। তার কর্তব্য বিনীতভাবে শ্রীগুরুদেবের প্রতি শ্রদ্ধা সহকারে সৌহার্দ্য পরায়ণ হওয়া, এবং দাসবৎ আচরণ করা। এইভাবে মহান ব্রত সহকারে, কেবলমাত্র শ্রীগুরুদেবের হিতসাধনের জন্য ব্রহ্মচারীর গুরুকুলে বাস করা উচিত। 

শ্লোক ২
সায়ং প্রাতরুপাসীত গুর্ব্যগ্ন্যর্কসুরোত্তমান্‌।
 সন্ধ্যে উভে চ যতবাগ্‌ জপন্‌ ব্রহ্ম সমাহিতঃ॥ ২ ॥

অনুবাদ:- প্রাতঃকালে এবং সায়ংকালে, উভয় সন্ধ্যায় সমাহিত চিত্তে মৌন হয়ে গায়ত্রী মন্ত্র জপ করে গুরু, অগ্নি, সূর্য এবং ভগবান শ্রীবিষ্ণুর উপাসনা করা ব্রহ্মচারীর কর্তব্য।

শ্লোক ৩
ছন্দাংস্যধীয়ীত গুরোরাহূতশ্চেৎ সুযন্ত্রিতঃ।
 উপক্রমেঽবসানে চ চরণৌ শিরসা নমেৎ ॥ ৩ ॥

অনুবাদ:- শ্রীগুরুদেব আহ্বান করলে, তাঁর কাছ থেকে নিয়মিত বৈদিক মন্ত্র অধ্যয়ন করা উচিত, এবং প্রতিদিন অধ্যয়নের প্রারম্ভে ও শেষে শ্রীগুরুদেবকে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করা শিষ্যের কর্তব্য।

শ্লোক ৪
মেখলাজিনবাসাংসি জটাদণ্ডকমণ্ডলূন্।
 বিভৃয়াদুপবীতং চ দর্ভপাণির্যথোদিতম্‌॥ ৪ ॥

অনুবাদ:- ব্রহ্মচারীর কর্তব্য হস্তে কুশঘাস ধারণ করে শাস্ত্রের নির্দেশ অনুসারে মেখলা, মৃগচর্মের বসন, জটা, দণ্ড, কমণ্ডলু এবং উপবীত ধারণ করা।

শ্লোক ৫
সায়ং প্রাতশ্চরেদ্ভৈক্ষ্যং গুরবে তন্নিবেদয়েৎ ।
 ভূঞ্জীত যদ্যনুজ্ঞাতো নো চেদুপবসেৎ ক্বচিৎ॥ ৫ ॥

অনুবাদ:- ব্দ্মচারীর কর্তব্য সকালে ও সন্ধ্যায় ভিক্ষা সংগ্রহ করা এবং ভিক্ষালব্ধ সমস্ত বস্তু শ্রীগুরুদেবকে দান করা। গুরুদেব যদি আদেশ দেন, তা হলেই কেবল তার আহার করা উচিত; শ্রীগুরুদেব যদি তাকে আদেশ না দেন, তা হলে কখনও বা তার উপবাস করা উচিত।

শ্লোক ৬
সুশীলো মিতভুগ্‌ দক্ষঃ শ্রদ্দধানো জিতেন্দ্রিয়ঃ।
 যাবদর্থং ব্যবহরেৎ স্ত্রীষু স্ত্রীনির্জিতেষু চ॥ ৬ ॥

অনুবাদ:- ব্রদ্মচারীর কর্তব্য সুশীল এবং নম্র হওয়া, পরিমিত আহার করা, অনলস এবং দক্ষ হওয়া, শ্রীগুরুদেব ও শাস্ত্রের নির্দেশে পূর্ণ শদ্ধাপরায়ণ হওয়া, জিতেন্দ্রিয় হওয়া এবং স্ত্রী ও স্ত্রৈণদের সঙ্গে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই ব্যবহার করা।

তাৎপর্য:- ব্রহ্মচারীর কর্তব্য অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে স্ত্রী অথবা স্ত্রী-সঙ্গীর সঙ্গ বর্জন করা। যদিও ভিক্ষা করতে গেলে কখনও কখনও তাদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়, তবুও কেবল ভিক্ষা করার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ঠিক ততটুকুই কথা বলা উচিত এবং অন্য কোন বিষয় আলোচনা করা উচিত নয়। ব্রহ্মচারী কর্তব্য স্ত্রীলোকদের প্রতি যারা অত্যন্ত আসক্ত, তাদের সঙ্গ করার সময় অত্যন্ত সাবধান থাকা।

***

জয়পতাকা স্বামী:- এই শ্লোকগুলি ব্রহ্মচারী জীবন এবং চিরাচরিত রীতি সম্পর্কে বলছে। এখানে শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে বলছেন যে একটি রীতি ছিল যে যতক্ষণ না আধ্যাত্মিক গুরু তোমাকে বলবে, ততক্ষণ প্রসাদ গ্রহণ করতে পারবে না, কিন্তু আমরা যখন ইসকন শুরু করি, তখন আমাদের ১১ জন গুরু ছিলেন এবং ১০৮টি মন্দির ছিল। আর এখন আমাদের প্রায় ১৫০জন গুরু আছেন ও ৮০০টি মন্দির আছে, তাই এই পরিস্থিতিতে এই প্রথাটি সম্ভব নয়। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ইসকন মায়াপুরে বলেছিলেন যে, আমাদের ১০০০০ দীক্ষা প্রদানকারী গুরু থাকা উচিত, তারপর লক্ষ লক্ষ এমন গুরু থাকা উচিত এবং এক মিলিয়নের পরে ১০ মিলিয়ন গুরু থাকা উচিত। সাম্প্রতিক জিবিসি এটি দেখেছে যে আমাদের আরো অনেক গরুর প্রয়োজন আছে, এবং তারা একটি আইন প্রণয়ন করেছেন যে এমনকি গুরুদেবের উপস্থিতিতেও শিষ্যরা দীক্ষা প্রদান করতে পারবে, যদি গুরু তাকে দীক্ষাগুরু হিসেবে পরিচিত হওয়ার সেই নিয়মের মধ্যে দিয়ে যেতে বলে তাহলে। তাই, আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার শত শত শিশ্যদেরকে আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে দেখতে চাইব। 

তবে আমরা এও দেখি যে ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে পুরুষ বা মহিলারা গুরু হতে পারবেন, ও তার জন্য তাদের ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী থাকতে হবে। যেহেতু আমি এর প্রারম্ভ করেছি যে আমি অনেক আধ্যাত্মিক গুরু দেখতে চাই, আজকে সকালেও শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী এটি উল্লেখ করেছেন যে তিন বছর হওয়া ভক্তরাও বলছে যে আমিও দীক্ষা প্রদান করতে চাই। এক্ষেত্রে অবশ্য জি.বি.সি বলেছেন যে ১০ বছর ধরে দ্বিতীয় দীক্ষিত থাকতে হবে এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে তাদের ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রি থাকতে হবে। সেই সময় কোন চৈতন্য-চরিতামৃত গ্রন্থ ছিল না, তাই তিনি বলেছিলেন যে সকলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা গ্রন্থটি পড়তে পারে। এরপর পরবর্তীতে ভক্তি সার্বভৌমতে চৈতন্যচরিতামৃতকে রাখা হয়েছিল। আমি একটা জনরব শুনেছি যে বৃন্দাবনে তারা নতুন ভক্তদের জন্য এটি শুরু করছে। ভক্তিবেদান্ত শুরু হচ্ছে বহু পুরনো ভক্তদের জন্য এবং শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যদের জন্য। যদি তারা দীর্ঘ সময় ধরে কৃষ্ণভাবনামৃতে থাকেন, যাদের অন্তত ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রী আছে, তাহলে তারা আধ্যাত্মিক গুরু হওয়ার এই নিয়মাবলীর মধ্যে দিয়ে যেতে পারবে।

এখন আমরা শুনছি যে বহু ভক্তরা তারা বলছে যে, “ওহ! না এটা আমার জন্য নয়।দেখো প্রত্যেক ভক্তের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাওয়া উচিত।  আমার মনে পড়ে যে চৈতন্য মহাপ্রভু সারঙ্গ ঠাকুরকে বলছিলেন যে তার অন্তত একজন শিষ্য গ্রহণ করা উচিত। তিনি তাকে অনেকবার বলেছিলেন ও অবশেষে সারঙ্গ ঠাকুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে কালকে আমি প্রথম যে ব্যক্তিকে দেখব তাকেই দীক্ষা প্রদান করব। তিনি গঙ্গায় গিয়েছিলেন এবং প্রাতকালে স্নান করছিলেন, তখনই এমন হয় যে এক মৃত শরীর গঙ্গার মধ্যে দিয়ে ভেসে আসছিল, সে শাপ বা কোন কিছু দ্বারা দংশিত ছিল। যাই হোক তিনি তাকে স্পর্শ করেছিলেন। এই প্রথম ব্যক্তি, যাকে তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। তাই তিনি তাকে মন্ত্র প্রদান করেন "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে" এবং তখন তার জীবন ফিরে আসে। তারপর তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তন আন্দোলনের এক শক্তিধর প্রচারক হয়ে ওঠেন এবং তিনি মুরারি চৈতন্য নামে পরিচিত ছিলেন এবং যেহেতু তিনি আগে একবার মারা গিয়েছিলেন, তাই তিনি মৃত্যু ভয়ে ভীত ছিলেন না। তিনি গ্রামের মধ্যে বাঘের পিঠে চড়ে যেতেন এবং কি দারুন! সেই বাঘ ছিল প্রায় ৮ ফুট লম্বা এবং তার ওজন ছিল এক টনেরও বেশি। এবং সাধারণত ওরা মানুষ খায়, কিন্তু তিনি সেই বাঘের উপর চড়েছিলেন এবং বলছিলেন, "হরেকৃষ্ণ জপ কর!" এবং তারা আত্মসমর্পণ করেছিল। তিনি এক ধরনের সক্রিয় প্রচারক ছিলেন। তিনি নিঃশব্দে জপ করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি গঙ্গার মধ্যে প্রবেশ করতেন এবং ২-৩ দিন ধরে জপ করতেন। আমি বলতে চাইছি যে তিনি এইরকম অদ্ভুত কার্যকলাপ করেছিলেন, যাইহোক তার হাজার হাজার শিষ্য ছিল এবং সারঙ্গ ঠাকুরের কেবল একজন শিষ্য ছিল, সেই একজন হাজার হাজার শিষ্য করেছেন ও এইভাবে সংকীর্তন আন্দোলনের প্রসার হয়েছিল। 

এখন এখানে ব্রহ্মচারীদের নারীর সাথে কথা বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়ার বিষয়ে এবং অন্যান্য কিছু বলা হয়েছে। শ্রীমদ্ভাগবতের নবম স্কন্ধের ১৪তম অধ্যায়ের ৩৬তম শ্লোকে কোন একজন অপ্সরা বলছিল যে সাধারণত তার সঙ্গ করা খুব ভালো নয়, কিন্তু সেই তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে — আধ্যাত্মিক জগতে পুরুষ, নারী, শূদ্র যেই হোক, যদি তারা কৃষ্ণভাবনামৃত স্তরে থাকে, তাহলে তারা সকলেই সমান। তাই আমরা চাই সব ব্যক্তিরা যাতে কৃষ্ণভাবনাময় হয়। চৈতন্য মহাপ্রভু জগন্নাথপুরীতে নিত্যানন্দ প্রভুকে ডেকেছিলেন এবং তাঁকে বলেছিলেন যে আমরা চার ধরনের মানুষদের উদ্ধার করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছি, যারা সাধারণত উদ্ধার প্রাপ্ত হয় না — মূর্খ, সেইসব মূর্খরা যারা মনে করে তারা তাদের শরীর; নিচ, যারা নিম্ন শ্রেণীতে জন্মগ্রহণ করেছে; পতিত, যারা নিয়ম নীতি ভঙ্গ করেছে এবং যারা দুঃখী, দুঃখিত এবং পীড়িত। তাই তিনি নিত্যানন্দ প্রভুকে বাংলায় ফিরে যেতে বলেছিলেন এবং যে স্থান থেকে তারা ছেড়ে এসেছিলেন, সেখান থেকে আবার তা শুরু করতে বলেছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভু প্রায় ৫০ জন ভক্ত নিয়ে বাংলায় ফিরে আসেন এবং প্রথম তিনি বাংলায় যেখানে এসেছিলেন তা হচ্ছে পানিহাটি। শ্রীল প্রভুপাদ আটলান্টায় এই মন্দিরকে নাম দিয়েছেন "নিউ পানিহাটি" তিনি এখানে এসেছিলেন এবং ব্যাস আসনে বসেছিলেন ও গৌর নিতাইয়ের সামনে কীর্তন করেছিলেন ও  প্রথমবার এই ভজনটি করেছিলেন — "পরম করুণাআমি শুনেছি যে আজকে আমরা প্রভুপাদের শিষ্যদের থেকে শ্রবণ করব, যারা এখানে উপস্থিত আছেন। 

তাই এটি এক অত্যন্ত বিশেষ স্থান এবং এখানে নিত্যানন্দ প্রভু তিনি পানিহাটিতে বিশেষ লীলা করেছিলেন। পানিহাটি হচ্ছে যেন ওঁনার স্থান এবং তারপর তিনি খড়দহতে তার গৃহে গিয়েছিলেন, যা প্রায় ৬ কিমি দূরে অবস্থিত এবং তিনি সমগ্র বাংলায় প্রচার করেছিলেন। তিনি আদি সপ্তগ্রামে কীর্তন করেছিলেন যা হচ্ছে স্বর্ণ বিক্রেতা এবং জহরীদের স্থান। সাধারণত তারা শুধু অর্থ উপার্জনে ব্যস্ত থাকে, তারা খুব একটা আধ্যাত্মিকভাবে পরিচিত নয়, কিন্তু তিনি তাদের সকলকে অত্যন্ত কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং তিনি সংকীর্তন দল নিয়ে গৃহে গৃহে, দোকানে দোকানে গিয়েছিলেন এবং যে সমস্ত ব্যক্তিরা আদি সপ্তগ্রামে ছিলেন, তারা সকলে ভক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। আসলে শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি সেই স্থানের কোন এক ব্রাহ্মণ পার্ষদের বংশধর। এইভাবে নিত্যানন্দ প্রভু তিনি বিভিন্ন স্থানে গিয়েছিলেন এবং তার সংকীর্তন করেছিলেন।  

একদিন তিনি গঙ্গার ধারে এক বট বৃক্ষের তলায় বসেছিলেন এবং সেই গাছ এখনও সেখানে আছে। আমি শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গে অন্তত দুটো অনুষ্ঠানে সেখানে গিয়েছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন যে আমাদের এখানে পানিহাটিতে একটা মন্দির থাকা উচিত, এটা হচ্ছে সেই সব স্থানের মধ্যে একটি স্থান যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভু নিত্য বিরাজমান। তিনি বলেছিলেন যে আমাদের কলকাতা থেকে মায়াপুর পর্যন্ত একটি নৌ পরিষেবা থাকা উচিত এবং তা পানিহাটিতে এসে থামবে এবং এখানে তারা চিরে ও দই প্রাতরাশ করবে ও তারপর মায়াপুরে যাবে। এইভাবে তিনি কিছু পরিকল্পনা দিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি একটি শালগ্রাম শিলা পেয়েছিলেন, সেটি হচ্ছে ইসকনের প্রথম শালগ্রাম শিলা এবং আরো অনেক কিছু হয়েছিল। 

চৈতন্য-চরিতামৃতের অন্তলীলায় এটি বলা হয়েছে যে রঘুনাথ দাস গোস্বামী তিনি অত্যন্ত ধনী পরিবারের উত্তরাধিকারী ছিলেন। তার কাকা এবং বাবা এক বছরে প্রায় ১২ লক্ষ স্বর্ণ মুদ্রা গ্রহণ করতেন, এক আউন্স সোনার মূল্য ১৭০০ মার্কিন ডলার। আমি জানিনা স্বর্ণমুদ্রার ভার কত ছিল, এটা হয়ত তোলায় হবে প্রায় ১১ গ্রামের মতো। যাইহোক, তখনকার দিনে জিনিসপত্র অনেক সস্তায় ছিল এবং একটি স্বর্ণ মুদ্রা বা তার এক ভগ্নাংশ দিয়ে সারা বছরের মুদি দ্রব্য কিনে নিতে পারতেন। তিনি ১২ মিলিয়ন স্বর্ণ মুদ্রা পাচ্ছিলেন, তিনি কোটিপতি ছিলেন। তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর সাথে যুক্ত হতে চাইছিলেন কিন্তু তার বাবা এবং কাকার নিজেদের সৈন্য ছিল, এবং  তারা তাকে ধরে ফেলতেন ও আবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতেন। তিনি এমনকি শান্তিপুরে চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছেও গিয়েছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু ওঁনাকে মর্কট বৈরাগী হতে না বলেছিলেন, যা কেবল পারিবারিক জীবন থেকে বৈরাগ্য এবং মর্কটের অনুকরণ করা। যাই হোক, তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে গিয়েছিলেন ও চৈতন্য মহাপ্রভু তাকে বলেছিলেন যে, "তোমার হৃদয় সর্বদা কৃষ্ণের প্রতি রাখো এবং পারিবারিক বাহ্যিক কার্যগুলি অত্যন্ত দায়িত্বশীলভাবে সম্পন্ন কর। ঠিক যেমন এক বিবাহিত মহিলা, যার নিজের স্বামী ছাড়া অন্য প্রেমিক আছে, সে তার গৃহস্থলির কার্যকলাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করবে, কিন্তু তার হৃদয়ে সব সময় তার প্রেমিকের প্রতি থাকবে। ঠিক একইভাবে তোমার হৃদয় কৃষ্ণের প্রতি রাখো কিন্তু বাহ্যিক কার্যকলাপ দায়িত্বশীল ভাবে কর।" তাই তিনি তা প্রায় এক বছর ধরে করেছিলেন এবং তারপর সমস্যা হয়েছিল।

তিনি গিয়ে নিত্যানন্দ প্রভুকে দর্শন করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তারপর তিনি দেখলেন যে নিতাই গাছের নিচে বসে আছেন, এবং তিনি তাঁকে দূর থেকে প্রণাম করলেন। নিত্যানন্দ প্রভুর একজন সচিব তাকে দেখেছিলেন, “রঘুনাথ দাস এসেছেন, তিনি আপনাকে প্রণাম করছেন।নিত্যানন্দ প্রভু বললেন, “ওহ, সে তো চোরের মতো! সে সবসময় দূরে থাকে! এখানে এসো আমি তোমাকে দণ্ড দেব!সাধারণত, কেউ দণ্ড পেতে চায় না। তিনি সেখানে বসেই প্রণাম নিবেদন করতে থাকলেন। তখন নিত্যানন্দ প্রভু উঠে এসে তাঁর মাথায় নিজের শ্রীপাদপদ্ম রাখলেন ও বললেন, “আমি আজ তোমাকে দণ্ড দেব!নিত্যানন্দ প্রভু এখন তো হাস্যকৌতুকপূর্ণ বলে পরিচিত এবং তাঁর দণ্ড ছদ্মবেশে আশীর্বাদের মতো। তিনি বললেন, “আমার শাস্তি এই যে, তোমাকে আমার সকল পার্ষদবৃন্দকে চিড়া-দধি, ও চিড়া-দই, ফলমূল এবং চিড়া ও ঘন দুগ্ধ ভোজন করাতে হবে।তিনি ছিলেন কোটিপতি, তাই প্রাতভোজে শস্য- ফলমূল খাওয়ানো কোন বড় কথা নয়! কিন্তু নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা লাভের জন্য তাঁর সকল পার্ষদবৃন্দকে ভোজন করানো, এটাই ছিল প্রকৃত আশীর্বাদ! তাই তখন রঘুনাথ দাস, তিনি স্বেচ্ছায় সেই দণ্ড গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তার সচিবদের বাইরে গিয়ে মাটির হাঁড়ি, চাল, দই এবং ফল কিনতে আনতে বলেন। স্বভাবতই এই শব্দ প্রচারিত হয়ে গেল মহোৎসব! মোহভোজ! মোহভোজ! সবাই হঠাৎ শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভুর সঙ্গী হয়ে উঠলেন! তখন সমগ্র মাঠ ভক্তে ভরে গিয়েছিল। এদিকে, রঘুনাথ, তিনি বড় পাত্রে চিড়া-দধি মিশাচ্ছিলেন। নিত্যানন্দ প্রভুকে তিনি সাতটি পাত্র দিলেন এবং যারা এসেছিলেন, তারা ২টি পাত্র, একটি দই ও ঘন দুধের এবং চিড়ে ও ফল পেয়েছিলেন। যেহেতু নিত্যানন্দ প্রভু সাতটি পাত্র পয়েছিলেন তাই আমরা এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, নতুন পাণিহাটি ধামে ভেবেছিলাম যে আমাদের যত বেশি সম্ভব পদ বানানোর প্রচেষ্টা করা উচিত। ক্রান্তিয় দেশগুলি থেকে আমাদের কাছে আম, লিচু, কলা ইত্যাদি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল আসে, এখানে পাশ্চাত্যে আমাদের পীচ, বরই, আপেল রয়েছে। ব্ল্যাক বেরি, ব্লু বেরির মতো বিভিন্ন বেরিফল রয়েছে এবং আমেরিকানরা এগুলির স্যালাড পছন্দ করে! তাই আমরা ভেবেছিলাম যে আমরা কিছু স্যালাড বানাব – ইতালীয় স্যালাড, মেক্সিকান স্যালাড, আমেরিকান স্যালাড, এইরকম। দক্ষিণ ভারত গরম, অতি উষ্ণ এবং উত্তর ভারত কিছুটা উষ্ণ! তাই আমাদের স্যালাডের জন্য ৬টি নোনতা পদ ছিল। সুতরাং, এই ভাবে আমরা ১৮টি পদ করেছিলাম কিন্তু আমেরিকান পদ্ধতিতে! শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, তোমরা আমেরিকান, ইউরোপীয়, এরকমভাবে কার্য কর।

যেহেতু নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে সাতটি পাত্র ছিল, তাই তিনি ভাবছিলেন যে দেখা যাক আমরা কি করতে পারি। যাইহোক, নিত্যানন্দ প্রভু তিনি গোপালকের ভাবে ছিলেন। তিনি ধ্যানের মাধ্যমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে দক্ষিণ ভারত থেকে নিয়ে এসেছিলেন, যদিও তিনি প্রায় সকলের কাছেই অদৃশ্য ছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে সেই ভক্ত সমাবেশে হেঁটেছিলেন। ওঁনারা দেখছিলেন যে সমগ্র মাঠ ভর্তি হয়ে গেছে, মাঠ ভর্তি হয়ে যাওয়ায় ভক্তগণ গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তারপর গঙ্গার তীর ভর্তি হয়ে গেলে, তারা গঙ্গার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তারা হাঁটু পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়েছিলেন এবং প্রত্যেকে তাদের দুটি পাত্র — দই, চিড়া, ঘন দুধ নিয়ে ছিলেন এবং নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে চৈতন্য মহাপ্রভু, যিনি অদৃশ্য ছিলেন, একত্রে হাট ছিলেন এবং নিত্যানন্দ প্রভু অন্য কয়েকটি পাত্র থেকে কিছু চিড়া নিয়ে চৈতন্য মহাপ্রভুর মুখে তুলে দেন, তখন ভক্তগণ দেখছিলেন যে তিনি একমুঠো চিড়া নিয়ে বাতাসে দিয়ে দিলেন এবং তারপর সু!! অদৃশ্য হয়ে গেল! চৈতন্য মহাপ্রভুও আরেক পাত্র থেকে এক মুঠো চিড়া নেন ও তা নিত্যানন্দ প্রভুর শ্রীমুখে দেন। যারা অত্যন্ত পর্যবেক্ষণশীল ছিলেন, তারা দেখছিলেন যে কিছু চিড়া-দধি বাতাসে উঠে যাচ্ছে ও অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে।

রাঘব পণ্ডিত আসলেন ও নিত্যানন্দ প্রভুকে বললেন যে, “আমি আপনার জন্য দুপুরের প্রসাদ বানিয়েছি।কিন্তু নিতাই প্রভু বললেন, “আমি এক গোপ বালক, তাই আমি আমার গোপ-সখাদের সাথে বনভোজন করছি, আমি পরে সন্ধ্যার সময় দুপুরের প্রসাদ গ্রহণ করব।এরপর তিনি দুটি পাত্র রাঘব পণ্ডিতকে দিলেন। যেমন কৃষ্ণ এবং বলরাম বৃন্দাবনে গোপবালকদের সাথে যমুনার তীরে বসে প্রসাদ গ্রহণ করতেন এবং কোনভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তিনি এই আশ্চর্য ঘটনা ঘটিয়েছিলেন যে প্রত্যেক বালকই ভাবছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণ তার দিকে তাকিয়ে আছেন। প্রত্যেকের দিকে তাকিয়ে থাকা কিভাবে সম্ভব? কৃষ্ণের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব! এটাও সম্ভব! এটি কৃষ্ণ বলরামের এক অত্যন্ত বিশেষ লীলা যে তারা গোপবালকদের সাথে বনভোজন করেছিলেন। তাই গৌর নিতাই সেই লীলারস আস্বাদন করছিলেন, ও এরই মধ্যে রাঘব পণ্ডিত ভক্তদের দিয়ে গাছ থেকে আম কাটিয়েছিলেন, তিনি অন্যান্য ফলও কাটান ও তারপর সেই সব একসাথে করে যে সব মানুষেরা এসেছিলেন তাদেরকে বিতরণ করেন। 

আমি এক মহাভোজে অংশগ্রহণ করেছিলাম, যেখানে হরিদাস ঠাকুরের শ্রীপাট আছে। সেখানে আমি শুনেছি যে তারা বলেমালসা ভোগ”, যার মানে মাটির পাত্র, যা হরিদাস ঠাকুরকে নিবেদন করা হয়েছিল। সেই মাটির পাত্রে চিড়া-দধি এবং ফল থাকে, ও বিভিন্ন সন্দেশ এবং অন্যান্য জিনিস দিয়ে উপরিভাগ সুসজ্জিত থাকে। আমি জানি এটা কিভাবে হয়েছিল, আমি বলতে চাইছি আমি তা দেখেছিলাম। যখন আমি এখানে আটলান্টায় এসেছিলাম, তারা পানিহাটি মহোৎসব উদযাপন করছিল না। আমি বললাম যে শ্রীল প্রভুপাদ নতুন পানিহাটি নামটি দিয়েছেন, তাই এটি অবিশ্বাসনীয় গুরুত্বপূর্ণ! নবদ্বীপ ছাড়া এই সমগ্র বিশ্বে এটি হচ্ছে এমন এক স্থান, যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে তিনি সবসময় সেখানে থাকবেন এবং সেখানে তাদের চিড়া-দধির উৎসব হয় ও প্রত্যেক বছর এই বার্ষিকী মহোৎসবে হাজার হাজার ভক্তবৃন্দ সেখানে সমবেত হন ও তারা চিড়া-দধি, ক্ষীর-চিড়া প্রসাদ পান। 

যখন থেকে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের সেখানে একটি কেন্দ্র থাকা উচিত, আমি সেখানে অনেকবার গিয়েছি, আমি এখানে আটলান্টাতে ২২ বছর ধরে জিবিসি আছি। তারপর আমি এখানে পানিহাটি উৎসব প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আসল পানিহাটিতে শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ প্রত্যেকদিন চিড়া-দধি বিতরণ করা শুরু করেছিলেন। তার কোন এক শিষ্য সেখানে পানিহাটিতে কিছু জায়গা পেয়েছিল। এখন এটি একটা শহর। সেখানে অনেক মানুষেরা আছে, প্রতিবছর কোন বিজ্ঞাপন বা কোন ব্যানার দেওয়া হয় না কিন্তু হাজার হাজার মানুষেরা আসে এই তিথিতে আসেন আর তা মুখে মুখে ছড়িয়ে যায় ও প্রত্যেকে সেখানে যায়। সেইদিন তোমরা সেখানে গেলে কিছু প্রসাদ পাবে, কৃপা পাবে।

তাই আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে এই উৎসব চলছে এবং তোমরা সকলে এতে অংশগ্রহণ করেছ আর আমরা আশা করি যে প্রতিবছর তা হবে। যেমন ল্যাটিন আমেরিকা, শ্রীল প্রভুপাদ সেটিকে বলতেননিউ দ্বারকাসেখানে তারা রুক্মিণী দেবীর আবির্ভাব দিবস উদযাপন করেন। এই স্থানটি তিনি নাম দিয়েছেননিউ পানিহাটিতাই আমাদের পানিহাটি উৎসব উদযাপন করা উচিত। অবশ্য আমরা এটি জুনের প্রথম সপ্তাহে ছুটির দিনে করি, কারণ ভারতের পানিহাটিতে আমি জানি না লোকেরা কিভাবে করে কিন্তু প্রত্যেকে সেখানে উপস্থিত থাকে। তারা হয়ত কর্মক্ষেত্রে অসুস্থতার অজুহাত দেখায়।ওহ আমি অসুস্থ আছি! আমি কিছু চিড়ে আর দই খাচ্ছি!আমি জানিনা মালিকেরা কি মনে করে যে প্রতিবছর একই দিনে তারা একসাথে অসুস্থ হয়ে পড়ে! যাইহোক, আমরা এখানে সেটা ছুটির দিনে করি। তাই রঘুনাথ দাসকে সাহায্য করার এটি এক বিশেষ সুযোগ, এরপর তুমি নিত্যানন্দ প্রভুর আশীর্বাদ পেতে পারবে এবং খুব সহজেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কাছে যেতে পারবে। যদি তুমি চৈতন্য মহাপ্রভুর আশ্রয় পেতে চাও, তাহলে তোমার নিত্যানন্দ প্রভুর আশীর্বাদ প্রয়োজন! হরিবোল! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/9/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions