Text Size

২০২৩০৬০১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

1 Jun 2023|Duration: 00:46:03|Bengali|Question and Answer Session|Dallas, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

কোন প্রশ্ন আছে কি?

প্রশ্ন:- আমরা কিভাবে মৃত্যুর সময় কৃষ্ণকে স্মরণ করার চেষ্টা করতে পারব, বিশেষত আমরা যদি অচেতন অবস্থায় মারা যাই

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণ সাহায্য করার প্রতিজ্ঞা করেছেন এবং এই জন্য আমরা পুরো জীবন ধরে কৃষ্ণের পূজা করি। তারপর কৃষ্ণ মৃত্যুর সময়, যখন আমরা এই শরীর ছাড়ব, তখন তিনি আমাদেরকে সাহায্য করেন, সেই জন্য আমরা কৃষ্ণকে স্মরণ করতে সক্ষম হই। কেউ যদি মনে করে যে আমি কেবল মৃত্যুর সময় ভগবানের নাম উচ্চারণ করব, তাহলে আমরা এক খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ব। কিন্তু তুমি যদি সর্বদা কৃষ্ণকে স্মরণ করার চেষ্টা করো, তাহলে কৃষ্ণ সেই ভাব বিনিময় করেন ও আমাদেরকে সাহায্য করেন। 

সর্বজয় মাধব দাস:- আমরা শুনেছি যে যদি সমগ্র বিশ্বের ১% ভক্তে পরিণত হয়, তাহলে বিশ্বের বাকি ৯৯% লাভবান হবে। আপনি কি দয়া করে আমাদেরকে এটি বুঝতে সাহায্য করবেন?

জয়পতাকা স্বামী:-  কেন তুমি এটিকে জড়াজাগতিকভাবে গণনা করার চেষ্টা করছ? এটা হচ্ছে ঠিক যেমন প্রতিবেশীদের ক্ষেত্রে যদি ১জন ব্যক্তি কৃষ্ণভাবনাময় হয়, তাহলে কোন না কোনভাবে অন্যান্যরা লাভবান হয়।

প্রশ্ন:- এটি আপনার পাঠ সংক্রান্ত নয়, কিন্তু আশা করি আমি জিজ্ঞেস করতে পারি। যখন আমরা ক্লিকারে জপ করি, তখন আমার “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদী গৌর ভক্তবৃন্দ” মন্ত্রটি বলার কথা মনে থাকে না, এটা কি ঠিক আছে? কারণ আমরা যখন জপমালায় জপ করি, তখন কৃষ্ণ গুটিতে আমরা শেষ করি ও তারপর আমরা এই মন্ত্র বলে শুরু করি। তাই আমরা যখন ক্লিকারে জপ করি, তখন আমরা যদি সেই মন্ত্র না বলি, তাহলে সেটা কি ঠিক আছে?

জয়পতাকা স্বামী:-  তুমি প্রথমে পাঁচবার বা তার অধিক বার “শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ” বলতে পারো। সেটি বলার মাধ্যমে আমরা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপের জন্য চৈতন্য মহাপ্রভু এবং পঞ্চতত্ত্বের কৃপা প্রার্থনা করছি। যখনই সম্ভব আমাদের মালা ব্যবহার করা উচিত। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে কখনো কখনো আমরা কাউন্টার মেশিন ব্যবহার করতে পারি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর দুই হাত দিয়ে জপ করতেন, তিনি তাঁর আঙুল দিয়ে গণনা করতেন। তিনি আঙুলে গননা করতেন, আর আমরা কাউন্টিং মেশিনে গণনা করছি, এতে কি পার্থক্য আছে? কিন্তু যখনই সম্ভব আমাদের মালা ব্যবহার করা উচিত। তবে কিছু কিছু সময় তা সম্ভব হয় না। যেমন আমি যদি এমন কোন দেশে যাই, যেখানে তারা ভক্ত বিরোধী মনভাবাপণ্য, তাহলে তখন আমি মালা ব্যবহার করতে পারব না।

সাধ্বী দেবী দাসী:- আমার প্রভু বলেছেন যে যদি কেউ দীক্ষিত হয়, তাহলে তার ৭ প্রজন্ম উদ্ধার পায়। যেহেতু আমি দীক্ষিত, তাই এক্ষেত্রে আমার পিতামাতার উদ্ধার পাওয়ার কতটা সম্ভাবনা আছে?

সর্বজয় মাধব দাস:- গুরু মহারাজ সংশোধন হবে — যদি কেউ দীক্ষা প্রাপ্ত হয় এর পরিবর্তে উদ্ধার প্রাপ্ত হয় কথাটি।

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তুমি কৃষ্ণভাবনায় থাক, তাহলে তুমি কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাবে এবং তাহলে আগের ও পরের চৌদ্দ পুরুষও উদ্ধার পাবে এবং এমনকি হয়ত আরো অনেকে উদ্ধার পাবে –  এটা যৎ সামান্য। আমরা কৃষ্ণভাবনামৃতে থাকতে চাই, এবং তাহলে তোমার পিতা-মাতা এবং পূর্বপুরুষেরা লাভবান হবে আর আমিও! ঠিক আছে!

প্রশ্ন:- আমার অনেক বন্ধু আছে যারা কৃষ্ণভাবনামৃতে বড় হয়েছে, কিন্তু কৃষ্ণভাবনামৃত থেকে সরে গেছে, তাদেরকে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য আমি কি করতে পারি যাতে তারা ফিরে আসে

জয়পতাকা স্বামী:- প্রত্যেকেই হচ্ছে ভিন্ন ব্যক্তি এবং একজনের জন্য যা কাজ করবে, তা হয়ত অন্যজনের জন্য কাজ করবে না, কিন্তু তুমি যদি কৃষ্ণভাবনাময় থাক, তুমি যদি সেই স্বাদ পাও, তাহলে এটি আরো সম্ভব হবে যে তুমি অন্যান্যদের প্রভাবিত করতে পারবে এবং সেইভাবে তুমি মানুষদের হরে কৃষ্ণ জপ করতে ও খুশি হতে উৎসাহিত করতে পারবে। যেমন যদি কেউ তোমাকে বলে নেশা কর না এবং তারা যদি নিজেরাই নেশা করছে, তাহলে তা বিশেষ একটা প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু তুমি যদি তা নিজে মেনে চল, ও অন্যান্য মানুষদেরকেও পালন করতে বল, তাহলে তা আরো বড় প্রভাব ফেলবে। সেই ব্যক্তি কেন এই পথ অনুশীলন করা ছেড়ে দিয়েছে, তা বুঝে তুমি সেই ভাবে কিছু বলতে পারো।  কখনো কখনো একজন বন্ধু হয়েও তুমি অন্য মানুষকে উৎসাহিত করতে পারবে। হরিবোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 11/10/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions