Text Size

২০২৩০৫৩১ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

31 May 2023|Duration: 00:52:39|Bengali|Question and Answer Session|Dallas, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

কোন প্রশ্ন আছে? দুটি প্রশ্ন নেব একটি পুরুষদের থেকে আরেকটি মহিলাদের থেকে। 

প্রশ্ন:- আমরা যে সম্পর্কে আলোচনা করলাম তা থেকে আমার প্রশ্নটি ভিন্ন। কিন্তু আসলে আমাদের কিভাবে শিক্ষা জীবন ও নিজেদের সাধনার মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলতে হবে? কারণ কিছু কিছু মানুষেরা বলে যে নিজের জীবনের অগ্রগতির দিকে মনোযোগী হওয়া উচিত এবং সাধনা পরে করা যেতে পারে। 

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তুমি তোমার পড়াশোনা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি নিবেদিত সেবা হিসেবে গ্রহণ করো, তাহলে তুমি সেই শিক্ষা দিয়ে ভগবানের সেবা করবে। তাহলে সেবার সাথে এর কোনো পার্থক্য থাকবে না। ঠিক যেমন আমাদের ডাক্তারেরা আছে, তারা ঔষধপত্র সম্বন্ধে জানে, তাদেরকে অনেক প্রশিক্ষণের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে এবং একবার যখন তারা প্রশিক্ষিত ডাক্তার হয়ে গেছে, তখন তারা সেই শিক্ষা দিয়ে ভক্তদের সেবা করে। এবং তারা যে অর্থ পায় সেটি কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করে এবং এইভাবে তুমি যে শিক্ষা পাচ্ছ তা কৃষ্ণের সেবায় ব্যবহার করতে পারো। হরে কৃষ্ণ!

বিনয় গৌরচন্দ্র দাস:- আমার প্রাণীদের সম্পর্কে একটি প্রশ্ন আছে। আপনি যেই অধ্যায়টি সম্পর্কে বললেন, সেখানে অনেক জায়গায় গাভীদের দিব্য আনন্দ উপলব্ধির উল্লেখ আছে। এর সাথে পূর্ববর্তী অধ্যায়েও বাঘ ও অন্যান্য প্রাণী, গাছ তারা সেই দিব্য আনন্দ অনুভব করছিল। এটা হয়তো কোন অর্থহীন প্রশ্ন হতে পারে, কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে আজকের দিনে আমরা কিভাবে দেখতে পারব যে কুকুর বা বিড়াল বা গাভী তারা দিব্য আনন্দ অনুভব করছে এবং দ্বিতীয়ত গাভীদের শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে লেহন করা ও দিব্য আনন্দ অনুভব করার এই বিষয়টির কি তাৎপর্য আছে? তৃতীয়ত আপনার পূর্ববর্তী প্রবচনে এটি উল্লেখ করা হয়েছিল যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, নিমাই পণ্ডিত শিশুরূপে একটি কুকুরকে, তাঁর কুকুরছানাকে উদ্ধার করেছিলেন। পুরো চৈতন্য চরিতামৃতে এটি বিশেষ প্রসঙ্গ হিসেবে আছে, এটি দেখে মনে হয় তা গুরুত্বপূর্ণ কারণ তা ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আপনি কি এই বিষয়ে কিছু বলবেন? 

জয়পতাকা স্বামী:-  পাঁচ ধরনের রস আছে এবং শান্তরস আছে যা হলো কেবল কৃষ্ণের প্রতি প্রশংসা পরায়ণতা। কিছু নির্দিষ্ট প্রাণীরা আছে, যেমন গাছ, তারা কৃষ্ণের সাথে শান্ত রসে সম্পর্কিত। তারা সরাসরিভাবে কোন সেবা করে না, কিন্তু তারা ভগবানের লীলায় বিভিন্ন সুযোগ করে দেয়, তাই তারাও আনন্দ অনুভব করে। তাদের পক্ষেও আনন্দ অনুভব করা সম্ভব, কারণ তারাও জীবাত্মা। ঠিক যেমন মানুষদের আরও উন্নত চেতনা থাকে, পশু পাখিদেরও চেতনা থাকে। আমি সকালে কলকাতা থেকে মায়াপুরে আসতাম এবং শহরের কিছু নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে আসার সময় শোনা যেত তারা নির্মমভাবে হত্যা করছে, আর শুকররা কাঁদছে, ভয়ংকর আওয়াজ করছে। আমরা মনে করি প্রাণীদের চেতনা নেই। আমরা দেখি কখনো কখনো দোকানদাররা কুকুরদের উপর গরম জল ছুঁড়ে দেয়, আর তারা চেঁচাতে থাকে ও দৌঁড়িয়ে চলে যায়। তাই তাদেরও বোধ আছে, তাদেরও চেতনা আছে। আমরা এক সময় প্রাণী ছিলাম, তারপর আমরা জন্ম-জন্মান্তরের পর অবশেষে এই মনুষ্য জীবনে এসেছি। তাই পশুপাখিদের ক্ষেত্রে তাদের ঠিক সময়ে ঠিক স্থানে থাকা অতি বিরল বিষয় এবং তারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা পায়। কিন্তু মানুষদের ক্ষেত্রে মনোনয়ন করার সুবিধা আছে যে, “আমি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা পেতে চাই! আমি হরে কৃষ্ণ জপ করতে চাই!” কিন্তু পশুপাখিদের সেই স্বাধীনতা নেই, তবে তারাও কোন না কোন ভাবে কৃপা পেয়েছে। এই কারণে বলা হয় যে আমরা উচ্চস্বরে হরিনাম করি যাতে পশু, পাখি, গাছ, পোকামাকড় ও অন্যান্য জীবেরা যদি জেগে থাকে ও এই পবিত্র নাম শোনে, তাহলে তারাও সেই ফল পাবে। তুমি এতে এত আশ্চর্য হচ্ছো কেন? তুমি কি মনে কর পশুরা কেবল চলন্ত মাংসপেশী? মেক ডোনাল্ড এবং অন্যান্যরা আনন্দিত গাইয়ের ছবি ব্যবহার করে কিন্তু যখন তাদেরকে হত্যা করা হয়, তখন তারা খুশি থাকেনা। যখন তাদেরকে সুরক্ষা দেওয়া হয়, তখন তারা খুশি থাকে, এই কারণে শ্রীকৃষ্ণ তিনি গোরক্ষা কার্য করেন। 

বিনয় গৌরচন্দ্র দাস:- সে কেবল কৌতূহলী যে কিভাবে পশু পাখিরা কৃপা পায়, বিশেষত যদি আমরা একসাথে গাভীর খামার করি, তাহলে তাদেরও কি প্রতিনিয়ত জপের ক্ষেত্রে উদ্ভাসিত করা যাবে

জয়পতাকা স্বামী:- হ্যাঁ! কেন নয়! তুমি তাদের দুধ কৃষ্ণকে নিবেদন করতে পারো এবং তাদের সুরক্ষিত রাখতে পারো যাতে তাদের কোন কসাইখানায় বিক্রয় করা না হয়, তাহলে আমরা আমাদের সুরক্ষিত গাভীদের থেকেই দুধ নিতে পারব। 

অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি কালকে উত্তর দেব। (অনলাইনে অনেক প্রশ্ন আছে)।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (8/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions