Text Size

২০২৩০৬১৫ দীক্ষা প্রবচন

15 Jun 2023|Duration: 00:32:46|Bengali|Initiation Address|Bhaktivedanta Manor, London

 মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ 

জয়পতাকা স্বামী:- যখন থেকে আমার স্ট্রোক হয়েছিল, আমার মুখের বাম দিক প্যারালাইজড আছে। সেই জন্য কিছু মানুষেরা আমি কি বলছি তা বুঝতে পারেনা। আমি যা বলছি বিশ্বম্ভর ব্যাস দাস তা পুনরাবৃত্তি করে বলবে। 

এটা হচ্ছে হাভেলি, আমার প্রথম আগমন। আমার মনে হয় এটা অবন্তি স্কুলের থেকেও বড়। দীক্ষা প্রার্থীরা কি ইতিমধ্যেই দশবিধ অপরাধ সম্পর্কে শুনেছে? আমরা ভগবানকে বিভিন্ন কিছু নিবেদন করি — ভোগ নিবেদন, পুষ্প নিবেদন, বিভিন্ন জিনিস কিন্তু সব থেকে মূল্যবান হচ্ছে শ্রীবিগ্রহের প্রতি, ভগবানের কাছে আত্মনিবেদন। এই দীক্ষার অর্থ হচ্ছে আমরা ভগবানের সেবায় নিজেদেরকে অর্পণ করছি এবং এই হচ্ছে সেই বিষয় যা মানুষেরা অনুভব করে না যে প্রকৃত আনন্দ হচ্ছে সেবা করায় এবং কৃষ্ণের সেবা করা হচ্ছে পরম। সেই জন্য দীক্ষা হওয়ার সাথে সাথে আমরা উপাধি পাই দাস বা দেবী দাসীর এবং এর মানে আপনি হচ্ছেন সেবক এবং আমাদের জীবন দিয়ে আমরা কৃষ্ণের সেবা করতে চাই। প্রকৃতপক্ষে, সাম্প্রতিক আমি আমেরিকাতে আমার ডাক্তারকে একটি ভগবদ্গীতা দিয়েছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন যে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে এতদিন তিনি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছিলেন তাকে এটা ওটা দেওয়ার জন্য, কিন্তু ভগবদগীতা পড়ার পর তিনি উপলব্ধি করেছেন যে আমরা ইতিমধ্যেই কৃষ্ণের কৃপায় সবকিছু প্রাপ্ত হচ্ছি, তাই আমাদের তাঁর সেবা করার প্রার্থনা করা উচিত, এই ছিল তার উপলব্ধি এবং এটাই হচ্ছে সারমর্ম। 

চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি আধ্যাত্মিক জগত থেকে নিত্যানন্দ প্রভু এবং অন্যান্যদের সাথে আবির্ভূত হয়েছেন এবং নিত্যানন্দ প্রভুকে তিনি বলেছিলেন যে আমরা কথা দিয়েছি যে আমরা চার ধরনের ব্যক্তিদের উদ্ধার করব, যারা সাধারণত উদ্ধার প্রাপ্ত হয় না — মূর্খ, নিচ, পতিত এবং দুঃখী। মূর্খযারা মনে করে তারা এই শরীর, তারা মনে করে যে তারা একটি নির্দিষ্ট দেশ বা কোন এক নির্দিষ্ট উপাধীর অন্তর্ভুক্ত, তারা এই উপলব্ধি করে না যে তারা হচ্ছে নিত্য জীবাত্মা, তাদের আসল পরিচয় হচ্ছে কৃষ্ণের সেবা করা —জীবের 'স্বরূপ' হয়কৃষ্ণের 'নিত্যদাস'” [ চৈতন্য-চরিতামৃত মধ্য ২০.১০৮] তাই আমরা হচ্ছি জীব কৃষ্ণের সেবা করার জন্য, কিন্তু আসলে এই জড় জগতে মানুষেরা তারা অধিক থেকে অধিক উচ্চস্তরে যেতে চায় নিয়ন্ত্রক হওয়ার জন্য। আমি সাম্প্রতিক এক কাউন্সিলরের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম এবং তারপর এক পার্লামেন্টের সদস্যের সাথে দেখা করেছিলাম, এরপর তিনি বলেছিলেন যে আমি মন্ত্রী হতে চলেছিমুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু আসলে উচ্চতর সেবা হচ্ছে ভগবানের সেবক। অবশ্য তারা বলে ভারতে এখানে আমরা, রাজনীতিবিদরা বলে আমাকে আপনাদের ভোট দিন আমাকে আপনাদের ভোট দিন, আমি আপনাদের সেবা করব, কিন্তু ভোট নেওয়ার পর আমি জানিনা যে তারা সেবা করে কি না। যাইহোক, মানুষেরা হয়ত বলতে পারে যে আমরা নির্বাচিত হয়েছি মানুষদের সেবা করার জন্য কিন্তু আমাদের আসল স্বভাব হচ্ছে সেবায় থাকা এবং আমরা পরমেশ্বর ভগবানের সেবা করি, সেটাই হচ্ছে সর্বোচ্চ। 

যেমন আমি উল্লেখ করলাম, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তিনি নিম্নে এসেছেন আসলে মানুষদের উদ্ধার করার জন্য, কিন্তু আমরা বুঝতে পারি না যে উদ্ধার প্রাপ্ত হওয়া কি? এর মানে এটা নয় যে আমরা ভগবান হয়ে গেছি, আমরা ভগবানের সেবক থাকি এবং এইভাবে আমরা এক মহা-আনন্দ অনুভব করি। ভাবাবেশকর কৃষ্ণ প্রেমের আটটি স্তর আছে তারপর প্রেম অর্থাৎ শুদ্ধ কৃষ্ণ প্রেমের আটটি স্তর আছে। সর্বোচ্চ স্তর কেবল রাধারানী, চৈতন্য মহাপ্রভুর ও অন্যান্য কিছুজনের অর্জিত, এটিকে বলা হয় মহাভাব। দীক্ষা গ্রহণ করা মানে আটটি স্তরের তৃতীয়তম স্তর। প্রথম হচ্ছে শ্রদ্ধা, সাধুসঙ্গ, ভজন ক্রিয়া, ভজন ক্রিয়ার একটি অংশ হচ্ছে দীক্ষা গ্রহণ করা এবং তারপর আসে অনর্থ্য নিবৃত্তি সকল অনর্থ, সকল সমস্যা থেকে শুদ্ধ হওয়া। অনর্থ্য নিবৃত্তির পর হচ্ছে নিষ্ঠা, ভক্তিমূলক সেবায় অত্যন্ত দৃঢ় থাকা। নিষ্ঠা থেকে আসে রুচি, ভক্তিমূলক সেবার অতি সুমিষ্ট স্বাদ, আর রুচি থেকে আসে আসক্তি — আধ্যাত্মিক আনন্দের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হওয়া এবং রুচি আসক্তি ও তারপর ভাব, ভাব হচ্ছে কৃষ্ণের প্রতি ভাবাবেশকর প্রেম। এটিই হচ্ছে অষ্টম স্তর। তখন যখন আমরা কৃষ্ণকে উপলব্ধি করি, আমরা প্রেম পাই, প্রেমের আবার আটটি স্তর আছে এবং সেখানে যে কোন স্তরেই অত্যন্ত সুন্দর। তাই কৃষ্ণভাবনামৃত হচ্ছে একটি ক্রমান্বয়মান পন্থা। আমরা এখন কেবল তৃতীয় স্তর প্রাপ্ত হচ্ছি ভজন ক্রিয়া, তাই আমাদের এক দীর্ঘ পথ যেতে হবে এবং প্রত্যেক ধাপে আমরা অগ্রগতি লাভ করব, এটি আসলে আমাদের সুকৃতির স্থায়ী পদক্ষেপ কিন্তু আমাদের কোন অপরাধ না করার প্রতি অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। অপরাধ হচ্ছে আমাদের আধ্যাত্মিক জীবনের বাঁধা এবং পবিত্র নামের প্রতি অপরাধ, শ্রীবিগ্রহের প্রতি অপরাধ, গুরুর প্রতি অপরাধ ও আরো কত কিছু অপরাধ আছে যা ভক্তিরসামৃতসিন্ধুতে প্রথম অংশে বলা আছে, যেগুলি তোমাকে এড়িয়ে চলতে হবে। 

চৈতন্য মহাপ্রভু, গতকাল আমি পড়ছিলাম যে, কিভাবে আসলে কৃষ্ণ হচ্ছেন পরম সত্য, সেই জন্য তাঁর নাম তাঁর থেকে অভিন্ন এবং তাই আমরা যদি তাঁর নাম জপ করি, তাহলে আমরা কৃষ্ণের সঙ্গ লাভ করি। চৈতন্য মহাপ্রভু নবদ্বীপে পবিত্র নাম জপ করতেন, গয়াতে যাওয়ার পর এবং দীক্ষা গ্রহণের পর তিনি এক পরিবর্তিত ব্যক্তি হয়ে গিয়েছিলেন, তারপর তিনি নবদ্বীপে ফিরে যান, সেখানে তিনি গঙ্গার পাশে যান এবং সেখানে এক স্থানে থেকেছিলেন, সেটিকে বলা হয় কানাইনাটশালা। সেই মন্দির এখন ইসকনের অধীনস্থে আছে, আমরা আশা করি তোমরা সকলে সেই মন্দিরে যাওয়ার জন্য সময় বার করবে। চৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে বসেছিলেন এবং তিনি শুনলেন ও দেখলেন যে এক গোপ বালক বাঁশি বাজাচ্ছেন, অত্যন্ত সুন্দর বংশী বাজাচ্ছেন। তিনি কাছে আসতে লাগলেন এবং তিনি দেখলেন যে তিনি হলুদ ধুতি পরিহিত, তাঁর পাগড়ীতে ময়ূরের পালক আছে, তিনি দেখলেন যে তিনি হচ্ছেন কৃষ্ণ এবং তিনি আরো আরো কাছে যাচ্ছিলেন, নৃত্য করছিলেন এবং তাঁর বংশীধ্বনি করে খেলছিলেন, তারপর তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর দিকে দৌঁড়ে আসলেন ও তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। কি দারুন! চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে কৃষ্ণ এসেছিলেন ও তাঁকে আলিঙ্গন করলেন। আপনারা কতজন চান যে কৃষ্ণ যাতে আসেন ও আপনাকে আলিঙ্গন করেন? তারপর কৃষ্ণ দৌড়ে চলে গিয়েছিলেন ও চৈতন্য মহাপ্রভু তার পিছন পিছন দৌড়াচ্ছিলেন কিন্তু তিনি এক গাছের পিছনে দৌঁড়ে গিয়েছিলেন ও চৈতন্য মহাপ্রভু সেই গাছের পিছনে গিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি দেখলেন যে সেখানে নেই! এত বিরহ অনুভব করে তিনি মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিলেন। সেই গাছ এখনও সেখানে আছে, সেই স্থান যেখানে চৈতন্য মহাপ্রভু মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিলেন তা এখনও সেখানে আছে। তারপর তিনি নবদ্বীপে ফিরে এসেছিলেন। আগে তিনি ছিলেন নিমাই পণ্ডিত, এক মহান যুক্তিবিদ  এবং ব্যাকরণবিদ, তিনি তার যুক্তি দিয়ে যে কোন কাউকে পরাস্ত করতে পারতেন; কিন্তু নিমাই পণ্ডিত যখন তিনি ফিরে এসেছিলেন, তিনি ছিলেন গৌর হরি, তিনি সম্পূর্ণ ভক্তিময় হয়ে গিয়েছিলেন। মানুষেরা তারা ভেবেছিল যে তাঁর কোন মানসিক সমস্যা হয়েছে এবং চৈতন্য মহাপ্রভু শুক্লাম্বর ব্রহ্মচারীর গৃহে সকল ভক্তদের ডেকেছিলেন এবং তিনি গদাধর প্রভুকে বলেছিলেন যে, “তুমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান, অত্যন্ত! কারণ তুমি তোমার সারাজীবন ধরেই ভক্ত ছিলে, কিন্তু আমি ছিলাম নিমাই পণ্ডিত আমি আমার জীবন শিক্ষকতায় ও তর্ক বিতর্ক করে নষ্ট করেছি কিন্তু এখন আমি কৃষ্ণকে পেয়েছি, কিন্তু তোমরা কি জানো যে তাঁকে প্রাওয়া এবং আবার হারিয়ে ফেলার অনুভূতি কিরকম?” তিনি ক্রন্দন করছিলেন, তখন তিনি ছিলেন পরিবর্তিত ব্যক্তি। এই হচ্ছে তাঁর লীলা! 

 

তারপর তিনি শ্রীবাস ঠাকুরের কাছে, যান তিনি বললেন যে, “আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?” শ্রীবাস ঠাকুর বললেন, “কেন নয়? আপনার কি প্রশ্ন আছে?” তিনি বললেন, “মানুষেরা বলে যে আমার রোগ হয়েছে, আমি আপনার থেকে জানতে চাই যে আমার কি কোন রোগ হয়েছে নাকি না?” শ্রীবাস ঠাকুর তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “ঠিক আছে! আপনার কি কি লক্ষণ আছে?” তিনি বললেন, “যখনই আমি কাউকে কৃষ্ণ নাম জপ করতে শুনি, আমার রোম শিহরিত হয়, আমার গলার স্বর রুদ্ধ হয়, কখনও কখনও আমি ক্রন্দন করি, কখনও কখনও আমি হাসি, কখনও কখনও আমি মূর্ছিত হয়ে পড়ে যাই। মানুষেরা বলে যে আমার একটি রোগ আছে, আমার কি কোন রোগ আছে?” শ্রীবাস ঠাকুর বললেন, “হ্যাঁ! আপনার একটি রোগ আছে এবং আমিও সেই রোগ চাই, আপনার কৃষ্ণ প্রেমের রোগ আছে।” এটিই হচ্ছে দীক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য এবং ধীরে ধীরে তা তোমাকে কৃষ্ণ প্রেম লাভের স্তরে নিয়ে যাবে কিন্তু তা এক ক্রমান্বয়ের পন্থা এবং তোমাকে অত্যন্ত আন্তরিক হতে হবে। এবং তাহলে তারপর তুমি ধাপে ধাপে উন্নত হতে পারবে। দেখো আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি যে শ্রীল প্রভুপাদ অনেক কষ্ট করে তিনি অনুবাদ করেছিলেন এবং তাঁর গ্রন্থাবলী লিখেছিলেন। এই গ্রন্থ গুলি শুধু বিতরণ করার জন্য নয়, যদিও এটি আমাদের একটি কার্য ,কিন্তু ভক্ত হয়ে আমাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত। তিনি ভগবদগীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম, চৈতন্য-চরিতামৃত এবং অন্যান্য গ্রন্থ লিখেছেন, তাই শ্রীল প্রভুপাদ চাইতেন যে আমরা যাতে তাঁর গ্রন্থ পড়ি। তাই আমি আশা করি যে সকল শিষ্যরা, সকল ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়বে এবং অধ্যয়ন করবে। শ্রীল প্রভুপাদ ভক্তিশাস্ত্রী, ভক্তিবৈভব, ভক্তিবেদান্তের মত কোর্স করেছিলেন। যদিও তারা আমাকে সম্মানীয় উপাধি দিতে চেয়েছিলেন কারণ আমি অনেকবার গ্রন্থ পড়েছি, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি, আমি বলেছি না যে আমি পরীক্ষা দেব এবং এইভাবে আমি ভক্তিবৈভব উপাধি পেয়েছি ও এখন সাম্প্রতিক আমি ভক্তিবেদান্ত পড়ছি। আমি চাই সকল শিষ্য-শিষ্যারা যাতে মূলত এই গ্রন্থগুলি পড়ে এবং এই সমস্ত উপাধি পায় ও গ্রন্থ বিতরণের মাধ্যমে বা লোকেদের সাথে কথা বলার মাধ্যমে বা ভালো দৃষ্টান্ত হয়ে প্রচার করে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীক্ষা গ্রহণ করা মানে এখন আমরা নিজেদেরকে কৃষ্ণের সেবায় উৎসর্গ করছি। 

শ্রীমদ্ভাগবতের নবম স্কন্ধে উর্বশী মহিলাদের বিরুদ্ধে কিছু সমালোচনামূলক কথা বলছে, কিন্তু সেই শ্লোকের তাৎপর্যে ৯.১৪.৩৬-এ শ্রীল প্রভুপাদ বলছেন, তোমরা তা দেখতে পারো ৯.১৪.৩৬ সেখানে তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলছেন যে আধ্যাত্মিক জীবনের ক্ষেত্রে কেউ যদি কৃষ্ণভাবনামৃতের স্তরে উন্নীত হয়, তা সে পুরুষ হোক বা নারী বা শূদ্র বা যাই হোক না কেন, কৃষ্ণভাবনামৃতের স্তরে তারা সকলে সমান, তাই আমাদের বোঝা উচিত যে এটিই হচ্ছে আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের দূরদৃষ্টি যে আমাদের সবার কৃষ্ণভাবনামৃতের এই স্তরে উন্নীত হওয়া উচিত। এটিই হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর বিশেষতা, তিনি সমগ্র বিশ্বে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রদান করতে এসেছেন। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর বার্ধক্যে তিনি সমগ্র বিশ্বে অনেকবার ভ্রমণ করেছেন, তিনি এসেছিলেন এবং এখানে ইংল্যান্ডে কৃষ্ণভাবনামৃত প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তারা বলছিল যে কৃষ্ণভাবনামৃতের পিতা হচ্ছেন আমেরিকা, তাই আমি ভাবছিলাম যে আমেরিকা যদি পিতা হয়, তাহলে ইংল্যান্ড হচ্ছে পিতামহ!

চৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীবাস ঠাকুর তাঁকে বললেন তাঁর প্রাঙ্গনে আসতে এবং কীর্তন করতে, কিন্তু তারপর মানুষেরা চৈতন্য মহাপ্রভুকে দেখতে পারতেন না, তারা তাঁকে দর্শন করতে চাইতেন। চাঁদ কাজী মাটির মৃদঙ্গ ভেঙে দিয়েছিলেন এবং তিনি আদেশ দিয়েছিলেন যে, “তোমরা জনসমক্ষে কীর্তন করতে পারবে না” তখন চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন, “কেউই সংকীর্তন আন্দোলন বন্ধ করতে পারবে না” তারপর তাদের চারটে কীর্তনের দল নবদ্বীপের চারিদিকে গিয়েছিল এবং হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষেরা সমবেত হয়েছিল — একটি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন অদ্বৈত গোঁসাই, একটি দলে শ্রীবাস ঠাকুর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, আরেকটিতে হরিদাস ঠাকুর এবং শেষেরটিতে চৈতন্য মহাপ্রভু ছিলেন ও তাঁর দুই পাশে একদিকে নিতাই আর আরেক দিকে গদাই ছিলেন। সেই কীর্তন চলেছিল প্রায় যেন ব্রহ্মার একদিন পর্যন্ত। আমি বলতে চাইছি ঘড়ি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষেরা কীর্তন করছিলেন ও সেই শব্দ তরঙ্গ সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে গিয়েছিল, এমনকি তা আধ্যাত্মিক জগত বৈকুণ্ঠ পৌঁছে গিয়েছিল। তারপর ইন্দ্রদেব, বায়ুদেব, তারা নিম্মে এসেছিলেন ও তারা দেখলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু নৃত্য-কীর্তন করছেন এবং আনন্দে ক্রন্দন করছেন, তারা জানতেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, তিনি হচ্ছেন ভগবান, তিনি এইভাবে মহাআনন্দে কীর্তন এবং ক্রন্দন করছেন তা দেখে ইন্দ্রদেব, বায়ু দেব তারা মূর্ছিত হয়ে পড়েন। যখন তাদের চেতনা ফেরে, তখন তারাও মনুষ্য শরীর ধারণ করেন এবং সেই কীর্তনের যুক্ত হন। তারা চৈতন্য মহাপ্রভুর সংকীর্তনের অংশ হতে পেরে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান অনুভব করছিলেন, তারাও কীর্তন করছিলেন এবং চৈতন্য ভাগবতে এর আরো বর্ণনা আছে। চৈতন্য-চরিতামৃতে আমাদের শুধু বর্ণনা আছে যে চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি চাঁদ কাজীর কাছে এসেছিলেন, কিন্তু অন্যান্য শাস্ত্রে তারা সেই কীর্তনের বর্ণনা করেছে যে কিভাবে সেই কীর্তন হয়েই যাচ্ছিল এবং কিভাবে মানুষেরা কীর্তন করছিলেন এবং মহা আনন্দে নৃত্য করছিলেন। সেখানে কিছু অজ্ঞ মানুষেরা, নাস্তিকেরা ছিল তারা ভক্তদের দেখে হাসছিল ও তাদের নিয়ে পরিহাস করছিল, তারপর যখন তারা দেখেছিল যে চৈতন্য মহাপ্রভু নৃত্য করছে, তারা যখন চৈতন্য মহাপ্রভুকে একদিকে নিতাই ও অন্যদিকে গদাই সহ নৃত্য করতে দেখেছিল যে কখনও কখনও তিনি অচেতন হয়ে পড়ছিলেন ও তাঁরা তাঁকে ধরছিলেন। যখন এই সমস্ত মানুষেরা, এইসব উপহাসকারীরা চৈতন্য মহাপ্রভুকে কীর্তন এবং নৃত্য করতে দেখেছিলেন, তখন তারাও সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তিত হয়েছিল এবং কীর্তন করতে শুরু করেছিল, তারাও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। এই হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর কীর্তনের শক্তি। তোমরাও যুক্ত হচ্ছিলে, তোমরা ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়েছ এবং এখন তোমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর এই সংকীর্তন আন্দোলনে নিশ্চিতকরণ করছি, আর মানুষেরা এই দিব্য আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তাই তোমরা আছ এই আন্দোলন প্রসারিত করতে সাহায্য করার জন্য। আমি জানিনা কত দীর্ঘ সময় আমি এই জগতে থাকব, আমাদের সবার নির্দিষ্ট সময় আছে, যেমন বলা হয় যে মেয়াদ। তাই প্রত্যেক প্রজন্মের এই আন্দোলন প্রসারিত করার এক বিরাট দায়িত্ব আছে। 

গতরাতে আমি শ্যামসুন্দর প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করি, যিনি লন্ডন থেকে এখানে এসেছেন এবং আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলাম ১৯৬৮ বা ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে, তিনি এক মুখ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে তার ব্যাস পূজার দিনে বক্তৃতায় উল্লেখ করছিলেন যে তার গুরুদেব ইংল্যান্ডে একজন সন্ন্যাসীকে পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সফল হননি। তবে শ্রীল প্রভুপাদ তিন জন গৃহস্থ দম্পতিকে পাঠিয়েছিলেন এবং তারা সফল হয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে সকল গৃহস্থ অনুসারীদের পরমহংস হওয়া উচিত, যা এক দীর্ঘ নির্দেশ — এর মানে শতভাগ কৃষ্ণের প্রতি মনোযোগী হওয়া! চেন্নাইতে দক্ষিণ ভারতে তাদের একটি নাটক হয়েছিল, দুজন শিশু যমদূতের অভিনয় করেছিল এবং একজন শিশু যমরাজের অভিনয় করেছিল। যমদূতরা অভিযোগ করছিল যে, “এই হরে কৃষ্ণ আন্দোলনের গৃহস্থরা তারা জগন্নাথ, নিতাই গৌর, ইত্যাদি শ্রীবিগ্রহ অর্চনা করে, তাদের গৃহে তারা প্রসাদ নিবেদন করে, তারা পবিত্র নাম জপ করে, তারা গীতাভাগবত পড়ে, আমরা কিভাবে তাদেরকে নরকে নিয়ে আসতে পারব? আমরা তাদেরকে নির্যাতন করতে পারি না, কিছুই করতে পারি না।” তারা বলছে, “যদি সবাই এইরকম করে তাহলে আমাদের কাজ চলে যাবে।” তাই কারা যমদূতদের কৃপা করতে চায়? তাদেরকে এই ভালো কাজ দিতে চায়? তাদের দ্বারা নির্যাতিত হতে চায়? তোমাদের হাত তোলো! কারা তাদেরকে সাহায্য করতে চায়? হা! কেউ চায় না! কারা তাদেরকে ছুটিতে পাঠাতে চায়? হরিবোল! এটিই হচ্ছে দীক্ষার উদ্দেশ্য। আমাদেরকে ভাবতে হবে যে কিভাবে সবকিছু এমনভাবে করা যাবে যাতে কৃষ্ণ প্রসন্ন হন এবং আমরা চাই তোমরা সবাই যাতে যমদূতদের থেকে মুক্তি পাও। এইভাবে তোমার পরিবারের সদস্যদের, তোমার প্রতিবেশীদের, কর্মক্ষেত্রে তোমার সহকর্মীদের, ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করার চেষ্টা কর, যেকোনোভাব তাদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য কর। যমদূতদের ছুটিতে পাঠাও!

তোমাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ! হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 6/11/23
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions