Text Size

২০২৩০৫২৬ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

26 May 2023|Duration: 00:16:39|Bengali|Question and Answer Session|Dallas, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

কোন প্রশ্ন আছে?

আমি ১৬টি থেরাপি নিয়েছি, আর ৪টি নেওয়া বাকি আছে। এবং এখন এই স্মৃতি দিবসের ছুটিতে আমি ৪দিন ছুটি পেয়েছি। কোন প্রশ্ন আছে কি?

প্রশ্ন:- আপনি কি উল্লেখিত অধরের শ্লোকের তাৎপর্যটি আবার বলতে পারবেন? এখানে অধর নিয়ে যে উপমা দেওয়া হয়েছে, তাতে এর জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক অভিসন্ধি সম্পর্কে আমি একটু বিভ্রান্ত। না বুঝতে পারার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। 

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণের অধর বিষয়ে জাগতিক কিছু নেই। আমাদের ঠোঁট আছে, তা জাগতিক। কৃষ্ণের ওষ্ঠ দিব্য। আমরা প্রসাদ গ্রহণ করি এবং তা উচ্ছিষ্ট হিসেবে বিবেচিত এবং যখন কৃষ্ণ আহার গ্রহণ করেন, তখন এটিকে বলা হয় মহা প্রসাদ। যদি কোন বৈষ্ণব প্রসাদ গ্রহণ করেন, তাহলে সেটি হয় মহা মহা প্রসাদ। তাই প্রত্যেকে প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে এই অমৃত আস্বাদন করতে পারে এবং আপনাকে এর জন্য মাধুর্য রসে থাকতে হবে না। কিন্তু গোপীরা সরাসরি কৃষ্ণের অধর থেকে সেই অমৃত আস্বাদন করতে পছন্দ করেন। কিন্তু এই জড় জগৎ হচ্ছে এর বিকৃত প্রতিবিম্ব। তবে আসলে, এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের দিব্য প্রকৃতি, তাঁর অধর, তাঁর দৃষ্টি এবং তিনি যে বংশী বাজান ও সেই সকল মানুষদের সম্পর্কে বুঝতে পারা। কখনো কখনো তিনি তাঁর ওষ্ঠ দিয়ে বংশী বাজান, কখনো ভোগ সেবন করেন, কখনো পান চর্বণ করেন। সব কিছু যা তিনি তাঁর ওষ্ঠ দ্বারা করেন, তা অমৃতে পরিণত হয়। এবং একটি শ্লোক আছে যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে স্বর্গলোকেও এমন অমৃত আছে, কিন্তু কৃষ্ণের অধরামৃত স্বর্গের অমৃত থেকেও অধিক অমৃতময়। এটি আজকে আমরা যেই শ্লোকটি পাঠ করেছি তাতে বলা হয়েছে, এমনকি মহান দেবতা, মহান দেবগণ, তারাও সহজে সেই প্রসাদ পান না। একটি লীলা আছে যেখানে ১২ বছর ধরে নারদ মুনি লক্ষী দেবীর আরাধনা করেছিলেন এবং তারপর লক্ষী দেবী বলেছিলেন যে, “আমি তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি, তুমি কি চাও?” তিনি বলেছিলেন, “আমি ভগবান নারায়ণের ভোজন পাত্র থেকে প্রসাদ ছাড়া আর কোন কিছু চাই না।তিনি বললেন, “কিন্তু উনি(নারায়ণ) আমাকে বলেছেন আমি যাতে তা কাউকে না দেই।” “তবে আমি এই বিনা আর কিছুই চাই না।তখন ভগবান নারায়ণ দেখছিলেন যে লক্ষী দেবী চিন্তাগ্রস্ত, বইকুন্ঠে সাধারণত কেউ কুণ্ঠাগ্রস্ত হন না, তাই তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি চিন্তিত কেন?” তিনি তাকে সবকিছু বললেন। তিনি বললেন, “ঠিক আছে! আমি দেখবো না এমন কোন সময় তুমি তাকে তা প্রদান করতে পারো।তাই তারপর তিনি নারদ মুনিকে মহাপ্রসাদ দিয়েছিলেন এবং তিনি এত গভীর ভাবে বিভোর ছিলেন যে তিনি সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের উপর দিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছিলেন, তিনি কোটি কোটি সূর্যের থেকেও অধিক উজ্জ্বল দেখাচ্ছিলেন। কোনোভাবে তিনি কৈলাসে যান এবং দেবাদিদেব শিব তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছে? তুমি কিভাবে এত জ্যোতির্ময় ও আনন্দময় দেখাচ্ছ?” তিনি তার কাছে সবকিছু বিশ্লেষণ করে বললেন যে কিভাবে লক্ষ্মী দেবীর থেকে তিনি প্রসাদ পেয়েছেন, তখন দেবাদিদেব শিব বললেন, “আমি ভেবেছিলাম তুমি আমার বন্ধু, কিন্তু তুমি আমার জন্য কোন প্রসাদ রাখোনি?” নারদ মুনি একটু লজ্জিত হলেন এবং নিচের দিকে তাকালেন, তিনি দেখলেন যে তার একটি আঙ্গুলের নখে একটু প্রসাদ লেগে আছে, “ওহ! এইতো এখানে এক কণা লেগে আছে!এরপর দেবাদিদেব শিব এই প্রখ্যাত শব্দ বলেছিলেন, “কণিকা মাত্র দাউকণা মাত্র, কণিকা, ক্ষুদ্র কণা মাত্র। এটি হলো সুবিক্ষাৎ শব্দ। আপনারা ভারতীয় নয়, তবে আমরা ভারত থেকে এসেছি, তাই আমরা জানি! তারপর তিনি সেই কনা মাত্র প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি ভাবে বিভোর হয়ে পড়েন, চমৎকার! সুহহ! আমি এটি এখানেই শেষ করব।  আর কোন প্রশ্ন আছে

ভক্ত:- আমরা শুনতে চাই কি হয়েছিল — আপনি যেটি বলছিলেন, তারপর কি হয়েছিল গুরু মহারাজ

জয়পতাকা স্বামী:- আপনারা পার্বতী দেবী দেবাদিদেব শিবকে কি জিজ্ঞেস করেছিলেন সেটি শুনতে চান? দেবাদিদেব শিব এত ভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য করছিলেন যে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কাঁপছিল এবং ভূমিকম্প হচ্ছিল। পার্বতী বুঝতে পেরেছিলেন যে এখন মহাপ্রলয় এর সময় নয়, তাই তিনি কৈলাসে দেবাদিদেব শিব কি করছেন তা দেখতে যান। পার্বতী কৈলাসে ফিরে এলেন, তিনি দেখলেন যে তার স্বামী ভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য করছেন, তিনি বললেন, “মহাদেব! স্বামী!তিনি(মহাদেব) বললেন, “তুমি আমার ভাবে বিঘ্ন ঘটালে, তুমি এমন কেন করলে? তিনি বললেন, “আপনার ভয়ংকর নৃত্যে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড কাঁপছিল, আমি পাতাললোকে দেখলাম ভূমিকম্প হচ্ছে, কিন্তু এখনো প্রলয়ের সময় আসেনি, তাই আমি যেহেতু জগত মাতা, তাই আমি এই ব্রহ্মাণ্ডের কথা চিন্তা করছিলাম। দয়া করে আমার অপরাধ ক্ষমা করুন।দেবাদিদেব শিব আশুতোষ নামে সুপরিচিত আর তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি বললেন, “আপনি এত আনন্দময় কেন?” তখন তিনি বললেন যে কিভাবে নারদ মুনি প্রসাদ এনেছিলেন এবং তিনি তা থেকে কণিকা মাত্র পেয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, “আমি আপনার অর্ধাঙ্গিনী এবং আপনি এই সম্পর্কে আমাকে অনেক কিছু বলেছেন, তাহলে তা কি শুধুমাত্র প্রদর্শনের জন্য? আপনি কি আমার জন্য কিছু রেখেছেন?” তিনি বললেন, “না!” “আপনি আমার জন্য কেন কিছু রাখেননি?” তিনি প্রত্যুত্তরে বললেন, “আমার মনে হয় তুমি এর জন্য যোগ্য নও!” “আমি যোগ্য নই? আমি শ্রীকৃষ্ণের বোন, আমার শ্রীবিগ্রহ আছে। আমি বৈষ্ণবী, ভাগবতী, আমি কেন কৃষ্ণ প্রসাদ পাবো না? মানুষেরা পায়, এমনকি কুকুরও পায়, প্রত্যেকে কৃষ্ণপ্রসাদ পায়, প্রসাদ না পাওয়া সবথেকে দুঃখজনক।”  এইভাবে তখন এক বিশাল বাক-বিবাদ হয়, অর্থাৎ দেবাদিদেব শিব ও পার্বতীর মধ্যে বৈবাহিক ঝামেলা। তা অনেক গুরুতর হয়ে ওঠে, পার্বতী দেবীকে শান্ত করার জন্য দেবাদিদেব শিব কিছুই বলতে পারছিলেন না, তখন সেখানে বিষ্ণু আসেন এবং ভগবান বিষ্ণু পার্বতীকে বলেন, তিনি তাকে একদিকে নিয়ে গিয়ে বললেন, “আমি জগন্নাথরূপে দারুব্রহ্ম হিসেবে আবির্ভূত হবো এবং আমার প্রসাদ সর্বপ্রথম তোমাকে নিবেদন করা হবে ও এমনভাবে তিনি তাকে সান্তনা দেন।এইভাবে জগন্নাথ দেবের সব প্রসাদ বিমলা দেবীকে নিবেদন করা হয়, জগন্নাথপুরীতে পার্বতী দেবীর শ্রীবিগ্রহ আছে, যাকে বলা হয় বিমলা দেবী এবং জগন্নাথের প্রসাদ প্রথম বিমলা দেবীকে নিবেদন করা হয়। দেবাদিদেব শিবের মন্দির ভুবনেশ্বরে আছে। আপনারা কি এটাই জানতে চেয়েছিলেন?

আমি এখানে কালকে থাকবো এবং রবিবার সকালে আমি শ্রীমদ্ভাগবত প্রবচন দেব, এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে এবং এখন আপনারা সকলেই যেতে চান। আমি এই ঘরে প্রত্যেক সন্ধ্যায় আরেকটু আগে থেকে পাঠ দিতে চাই। কেউ কি আশীর্বাদ নিতে চান

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (6/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions