Text Size

২০২৩০৫২৩ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

23 May 2023|Duration: 00:21:57|Bengali|Question and Answer Session

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

কোন প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- কেন হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কেবল আমাদেরকে ভগবদ্ধামে নিয়ে যেতে পারে? কেন অন্য কোন মন্ত্র নয়?

জয়পতাকা স্বামী:- এটি অনুমোদিত হয়েছে যে কলিযুগে আমাদের হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করা উচিত, এখানে অন্য কোন মন্ত্রের কথা বলা হয়নি, যা আপনাকে ভগবৎ ধামে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু আমাদের হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে বলা হয়েছে এবং এটি আপনাকে ভগবৎ ধামে ফিরে যাওয়ার জন্য সব থেকে নিরাপদ পন্থা। কিন্তু ভগবানের অন্যান্য নামও কাউকে মুক্তি প্রদান করতে পারে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু হরিদাস ঠাকুরকে বলেছিলেন যে তিনি সকল ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে এসেছেন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন তাহলে ইসলামধর্মীরা কিভাবে উদ্ধার প্রাপ্ত হবে? তখন হরিদাস ঠাকুর বলেছিলেন যে যখন তাদের শুকর আক্রমণ করে ও আঘাত করে, তখন তারা বলে, “হারাম!! হারাম!!তাদের ভাষায় এর মানে হচ্ছে অপরাধ, কিন্তু আসলে তারা বলছে, “হা রামএমনকি তারা যদি অন্য কিছু ভেবেও তা বলে, যার সংস্কৃত অর্থ, “হে আমার প্রভু রাম!তাহলেও তারা উদ্ধার প্রাপ্ত হবে। অন্য কোন প্রশ্ন আছে?  

ফাণেশ্বরী লক্ষ্মী দেবী দাসী, সান ডিয়াগো:- আমি শুনেছি যে গুরু মহারাজের শিষ্য হওয়ায় আমাদেরই কেবল তাঁর মহাপ্রসাদ পাওয়া উচিত। তা কি কেবল তাঁর শিষ্যরা পেতে পারে? নাকি অন্যান্যরাও নিতে পারে? একইভাবে আমাদের কি কেবল আমাদের গুরুদেবেরই মহা-মহাপ্রসাদ নেওয়া উচিত? নাকি আমরা আমাদের সম্প্রদায়ের অন্যান্য গুরুবর্গের মহা প্রসাদও পেতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- তুমি যে কোন শুদ্ধ ভক্তের থেকে প্রসাদ গ্রহণ করতে পারো, যদি তুমি কোন অতিথির থেকে বা অন্য কারোর থেকে তা গ্রহণ করো, তাহলে তুমি রোগগ্রস্ত হতে পারো, তা খুব একটা মঙ্গল জনক নয়। কিন্তু এমনকি আমরা যদি শুদ্ধ ভক্তের প্রসাদ গ্রহণের ফলে রোগগ্রস্তও হই, তাহলে তাও মহিমান্বিত। প্রসাদ বা মহা প্রসাদ এমনকি যিনি তোমার দীক্ষাগুরু নয় তেমন কারোর থেকেও নেওয়া যেতে পারে। ধন্যবাদ ফাণেশ্বরী লক্ষ্মী দেবী দাসী।  

প্রশ্ন:- এই জড় জগতে আমাদের বিভিন্ন সম্পর্ক আছে, যেমন ভাই, বোন, বাবা, মা, গুরুদেব, শিষ্য। আধ্যাত্মিক জগতে কেমন সম্পর্ক থাকে?

জয়পতাকা স্বামী:- আধ্যাত্মিক জগতেও বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক আছে, কিন্তু কৃষ্ণ হচ্ছেন কেন্দ্রবিন্দু। এবং কেউ হয়তো গোপ বালক, কেউ হয়তো তাঁর পিতা-মাতা, কেউ হয়তো গোপী বা রানী, যশোদা মাতার বান্ধবী এবং যেমন বসুদেব তার অনেক পত্নী আছে। দেবকী কৃষ্ণের মাতা এবং বসুদেবের অন্যান্য পত্নীরা হচ্ছেন কৃষ্ণের সৎ-মাতা। ঠিক যেমন রাজা দশরথের তিনজন পত্নী ছিলেন, কৌশল্যা ছিলেন রামের মাতা এবং অন্যান্য পত্নীরা ছিলেন সৎ-মাতা। এইভাবে আধ্যাত্মিক জগতেও বিভিন্ন ধরনের সম্পর্ক আছে, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে বৈকুন্ঠে স্বামী স্ত্রীও আছেন, তারা হয়তো একে অপরকে চুম্বনও করতে পারেন, কিন্তু তারাও কৃষ্ণের সেবা করছেন এবং তারা তাদের নারায়ন স্বরূপে থাকেন। কিন্তু সেখানে আধ্যাত্মিক জগতে কোন জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধি নেই। 

প্রশ্ন:- শিক্ষাষ্টকমের তৃণাদপি সুনীচেন শ্লোকটি স্মরণ করে বলা যেতে পারে যে আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেবের সামনে শ্রদ্ধেয় এবং বিনম্র হওয়া অত্যন্ত সহজ, কিন্তু কখনো কখনো আমরা তা অন্যদের সামনে প্রদর্শন করতে ভুলে যাই। আমরা কিভাবে এমন মনোভাব বিকশিত করতে পারব?  

জয়পতাকা স্বামী:- শ্লোকটিতে তা কেবল গুরুর সামনে করতে বলা হয়নি। এটি প্রত্যেকের জন্য। আমরা বিনম্র, সহনশীল হতে চাই ও অন্যদের প্রশংসা করতে চাই, কিন্তু নিজেদের প্রশংসা কামনা করি না। তাহলে এইভাবে তুমি সবসময় হরেকৃষ্ণ মন্ত্র জপ করতে পারবে, যদি তুমি সব সময় জপ করতে চাও, তাহলে তোমাকে এই নিয়মটি পালন করতে হবে। আমাকে একজন ডেল কার্নেগীর একটি বই দিয়েছিল, যার নাম ছিলহাউ টু উইন ফ্রেন্ডস এন্ড ইনফ্লুয়েন্স পিওপলএবং সেই বইটিতে তিনি কেবল উল্লেখ করেছেন যে, “আপনি সকলকে সম্মান করুন এবং নিজের কোন সম্মান আশা করবেন না।তাই আমি অবাক হয়েছিলাম যে এই বিখ্যাত ব্যক্তি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষাষ্টকমের তৃতীয় শ্লোকের সারমর্ম প্রদান করেছেন। তুমি চেষ্টা করো!  তোমার সাথে যাদের দেখা হয়, তুমি তাদেরকে বলো যে তারা কত ভালো, তাহলে তারা মনে করবে যে তুমি কত মহান মানুষ। কিন্তু এর বিনিময়ে নিজের সম্মান আশা করবে না, যদি তারা তোমায় সম্মান করে তাহলে ঠিক আছে, নয়তো তুমি তা আশা করবে না। 

প্রশ্ন:- আমরা ভক্তিবৃক্ষ করছি এবং সেখানে নতুন ভক্তদের জন্য কিছু মানদণ্ড নিশ্চিত করা হয়েছে, নতুন ভক্তদের জন্য কি কোন নিয়ম-নীতি থাকে? কারণ কোন কোন ভক্তিবৃক্ষে তারা নতুন ভক্তদের সুযোগ প্রদান করে, পরে তারা ভক্ত হয়ে যায়। তাই এমনকি কোন নিয়ম আছে যার দ্বারা আমরা অনুভব করতে পারব বা বুঝতে পারব যে, ঠিক আছে এই ভক্তকে আমরা রান্নার সেবার সুযোগ দিতে পারি, এমনকি যদি তারা তখনও ৪ মালা বা ৮ মালা বা ১৬ মালাও জপ না করে।  

জয়পতাকা স্বামী:- যদি তারা তোমার তত্ত্বাবধানে রান্না করে, তাহলে ঠিক আছে। তুমি তখন দেখছ যে তারা ঠিকভাবে সব কিচ্ছু করছে। কিন্তু যদি তারা তাদের বাড়িতে রান্না করে, তাহলে আমরা জানি না যে তারা সেটা আগে খেয়েছে নাকি বা তাদের বাড়িতে কোন বিড়াল, কুকুর আছে নাকি। তাই যদি তোমাদের এখানে নতুন ব্যক্তিরা থাকে, তারা যদি তোমার তত্ত্বাবধানে রান্না না করে, তাহলে আমরা তাদেরকে অরাঁধা খাবার আনতে বলি, যেমন স্যালাড, ফল। আর নয়তো তাদেরকে তোমার তত্ত্বাবধানে রান্না করাও এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে তাহলে সেটা ঠিক আছে, কারণ তুমি তখন খেয়াল রাখছ যে তারা সমস্ত নিয়ম-নীতি পালন করে তা করছে নাকি। 

প্রশ্ন:- যদি কারোর পরিবারের নিকটজন যেমন ভাই, বোন তারা যদি আমিষ আহার করে, তাহলে আমাদের কি সেখানে তাদের বাড়িতে গিয়ে কোন খাবার খাওয়ার অনুমতি আছে? নাকি আমাদের তাদের বাড়িতে গিয়ে কোন কিছু খাওয়া উচিত নয়?

জয়পতাকা স্বামী:- আমার পূর্বাশ্রমের মা আমার জন্য রান্না করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তার অনুমতি দেইনি। তিনি কাউকে তার রান্নার পদ্ধতি বলে দিতেন, আর তারা রান্না করতো। আমি জানিনা তুমিও কিভাবে তা করতে পারবে। আমি আমার পূর্বাশ্রমের মাকে দিয়ে তা করাতাম। তাই যদি তারা বাচ্চা হয়, তাহলে তুমি তাদেরকে বলতে পারো যে তুমি আমার জন্য রান্না করবে, আমিও তোমাদের জন্য রান্না করবো। ওহ! খুব ভাল। কিন্তু তারা যদি নিরামিষভোজী না হয় তাহলে তুমি সততার সাথে সবকিছু বলতে পারো যে, তুমি কেবল প্রসাদ গ্রহণ করো এবং নিয়ম-নীতি পালন করো। 

ভক্ত:- তা আমাদের সামাজিক জীবনকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। যেমন লোকেরা আমাদেরকে নিমন্ত্রণ করে, আমরা জানি না তারা কি খায় না খায়, তবে এমনকি যদি তারা নিরামিষ খাবারও রান্না করে, তাহলেও দীক্ষিত ভক্ত হিসেবে আমাদের তাদের রান্না করা খাবার খাওয়ার অনুমতি নেই। 

জয়পতাকা স্বামী:- কেউ লাইফ মেম্বার হলে প্রভুপাদ কারো কারো বাড়িতে যেতেন এবং তিনি তাদেরকে বলতেন যে তার জন্য রান্না করার মানদণ্ড কি, যেমন কোন পেঁয়াজ রসুন ব্যবহার হবে না, কারণ সেইসব জিনিস খেলে আমরা সবসময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ ছিলেন একজন আদর্শ অতিথি। তারা শ্রীল প্রভুপাদকে বলে যে তারা খাবারে পিঁয়াজ দিয়েছে, কিন্তু তিনি সেই পিঁয়াজ তুলে বের করে নেন, তিনি পিয়াজ খাননি তবে তার পরিবর্তে কিছু বলেননি। তিনি সেই ব্যক্তিদের অসন্তুষ্ট করতে চাননি, তুমি কিভাবে তা করবে? তোমাকে কিছুটা সতর্ক থাকতে হবে। আমি জানি যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের তাদের গ্রাহকদের বাইরে আসবপান ও ভোজনের জন্য নিয়ে যেতে হয়, অন্ততপক্ষে ভোজ খাওয়াতে নিয়ে যেতে হয়। সেখানে তারা শুধু স্যালাড খায়, আর অতিথিরা হয়তো যা খুশি আজেবাজে খেতে পারে। এটাই ব্যবসা করার প্রতিকূলতা।  

প্রশ্ন:- প্রভু এক্ষুনি শিক্ষাষ্টকমের শ্লোক থেকে প্রশ্ন করলেন, আমরা কিভাবে গাছের মতো সহনশীল হব? “তরোরপি সহিষ্ণুণাযখন আমাদের সামনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি উপস্থিত হয়, তখন আমরা কিভাবে গাছের মতো সহনশীল থাকবো

জয়পতাকা স্বামী:- অনুশীলন সাফল্যের চাবিকাঠি! তাই আমরা তাদেরকে অনুশীলন করতে বলি এবং তাহলে তারা এতে আরো সাফল্য পেতে পারবে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, আমাদের সেই শ্লোকটি আমাদের গলায় ঝুলিয়ে রাখা উচিত এবং প্রত্যেকদিন তা পালন করার চেষ্টা করা উচিত, তাই তুমি যত তা অনুশীলন করবে, ততই পারদর্শী হতে পারবে, যদি তুমি দেখো যে কেউ তা অনুশীলন করছে, তুমি যদি মনে করো যে তারা সেটি অনুশীলন করছে, তাহলে তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারো যে তারা কিভাবে তা অনুশীলন করছে। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (6/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions