Text Size

২০২৩০৫১৭ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

17 May 2023|Duration: 00:13:28|Bengali|Question and Answer Session|Dallas, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

কোন প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- পাঠে আপনি বলছিলেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আনন্দোল্লাস অনুভব করছিলেন, একই সময় তিনি বেদনা অনুভব করছিলেন। এটি কি এই জগতের দৃষ্টান্ত যা আমাদেরকে ধারণা দেয় যে এটি কি রকম

জয়পতাকা স্বামী:- [শব্দ বিচ্ছেদ] আপনি জানেন ব্রহ্ম লোকে কি হচ্ছে, আপনি জানেন কৈলাসে কি হচ্ছে, আপনি জানেন অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডে কি হচ্ছে, কিন্তু একটি বিষয় আছে যা আপনি জানেন না। আমি জানি, রাধারানী জানেন, কিন্তু আপনি জানেন না।কেউ কখনো তাকে এই কথা বলেননি যে এমন কিছু আছে যা তিনি জানেন না।সেটি কি?” অবিশ্বাস্য! তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “সেটি কি?” এবং রুক্মিণী দেবী বললেন, “আপনি জানেন না ভক্তরা আপনার জন্য কি অনুভব করে, তারা আপনাকে কত ভালোবাসে।তারপর কৃষ্ণ ভাবলেন, “আমি আমার ভক্তরূপে আবির্ভূত হব! আমি আমার ভক্তরূপে আবির্ভূত হব! আমি আমার ভক্তরূপে আবির্ভূত হবো!তিনি এটি তিনবার বলেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি হলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। সেই সকল উপলব্ধি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৭২ বা ৭৩ খ্রিস্টাব্দে, ভারতে মায়াপুরে থাকাকালীন একবার আমার জ্বর হয়েছিল, আমি আমার শরীরে অনেক কষ্ট অনুভব করছিলাম, আমি বৃন্দাবনে শ্রীল প্রভুপাদের উপদেশামৃতের উপর দেওয়া একটি প্রবচন শুনছিলাম এবং আমি অনেক আনন্দ অনুভব করছিলাম। শারীরিকভাবে আমি অনেক কষ্ট অনুভব করছিলাম, কিন্তু আমার চেতনায় আমি অনেক আনন্দিত ছিলাম। এটিই হয়তো শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বেদনা এবং আনন্দ একইসাথে অনুভবের উদাহরণ। অবশ্যই আমি শ্রীল প্রভুপাদের প্রবচন শুনে অত্যন্ত আনন্দিত ছিলাম, তাই আমার চেতনায় অন্তরস্থিত আত্মা অনেক আনন্দিত ছিল। কিন্তু আমি অনুভব করছিলাম যে আমার চেতনা ও আমার শারীরিক স্থিতি এক ভাবে নেই। বেশিরভাগ মানুষদের কৃষ্ণচেতনা নেই, আমি জানিনা তোমরা কেউ কি জানো? চৈতন্য মহাপ্রভুর সব লীলাতেই লেখক বলেছেন যে, “আমি সঠিকভাবে লিখতে পারি না।আমার মনে হয় এই জড় জগতে এমন কোন উদাহরণ নেই যেখানে কেউ দুঃখ এবং আনন্দ একই সময়ে অনুভব করছে। আসলে এ জগতে দুঃখের মধ্যেও সন্তুষ্ট থাকা হয়। তোমরা কি দুঃখে আছো? তাহলে আমি তোমাদেরকে আইসক্রিম বা অন্য কিছু দিতে পারি। আর কোন প্রশ্ন আছে?  

প্রশ্ন:- আমার প্রশ্ন আপনার গতকালের প্রবচন থেকে, আপনি সেখানে উল্লেখ করছিলেন যে বৃন্দাবনে গোপীরা এবং বৃক্ষলতারা সবসময় বিরহ অগ্নিতে দগ্ধ হয়। যদিও তাঁরা সব সময় কৃষ্ণের সঙ্গ করেন, তবুও তাঁরা সব সময় তাঁকে স্মরণ করেন, তবুও তাঁরা তাঁর প্রতি বিরহ অনুভব করেন, কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি যে, আমরা কৃষ্ণের থেকে বিচ্ছেদে আছি কিন্তু আমরা কখনও সেই বিরহ অনুভব করি না। তাই আমরাও কিভাবে প্রতিমুহূর্তে এটি অনুভব করতে পারব যে আমরা কৃষ্ণের থেকে পৃথগীকৃত অবস্থায় আছি

জয়পতাকা স্বামী:- প্রকৃত বিষয়টি হল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে কিভাবে আমরা বিরহভাবে কৃষ্ণকে ভালবাসতে পারি এবং যদি আমরা আমাদের সেই বাসনা বিকশিত করি, তাহলে আমি যেমন  জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আমরা কিভাবে কৃষ্ণ প্রেম বিকশিত করতে চাই, প্রত্যেকে তাদের হাত তোলে, কিন্তু যদি তুমি তা অত্যন্ত গভীরভাবে কামনা করো, যদি আমরা খুব দৃঢ়ভাবে তা কামনা করি, তাহলে আমরা তা অর্জন করতে পারব। কিন্তু আমাদেরকে সব কার্য সেই ভাবে করতে হবে এবং ধীরে ধীরে আমরা কৃষ্ণের প্রতি আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রেম বিকশিত করতে পারব। ভক্তিরসামৃতসিন্ধুর প্রথমভাগে তা বর্ণনা করা হয়েছে যে আমরা কিভাবে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম পালনের মাধ্যমে ভক্তিমূলকসেবা প্রারম্ভ করতে পারব এবং ধীরে ধীরে ভক্তিমূলক সেবার মাধ্যমে তা স্বতঃস্ফূর্ত হবে, নিয়মনীতি পালনের পর কেউ তার স্বাদ আস্বাদন করতে পারবে এবং এর প্রতি আসক্ত হবে ও অত্যন্ত আনন্দিত হবে, এরপর তিনি সাত্বিক বিকার প্রকাশিত করতে পারবে, এরপর শুদ্ধ হবে ও তারপরে তিনি কৃষ্ণপ্রেম অর্জন করতে পারবে। এই হল এক এক ধাপ এবং এটি একটি ধীর পদ্ধতি। ভাবের আটটি স্তর আছে এবং প্রেমের আটটি স্তর আছে। আমরা হয়তো প্রেমের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাতে পারব না, কিন্তু যাই হোক এমনকি ভাব স্তরও অতি উত্তম।   

ঠিক আছে! আমি তাড়াতাড়ি শেষ করতে চাই কিন্তু সবসময় দেরি হয়ে যায়! আমি পুরুষদের এদিকে আশীর্বাদ দেব এবং মহিলাদের এইদিকে আশীর্বাদ দেব। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (6/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions