মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
কোন প্রশ্ন আছে?
ডক্টর বিনয় গৌড়চন্দ্র দাস:- আমি বিভ্রান্ত যে কৃষ্ণের বিরহ ভালো অনুভব করায় নাকি খারাপ অনুভব করায়? তা আনন্দ অনুভব করায় নাকি দুঃখ অনুভব করায়? আমি শুধু আগে যা অনুভব করেছি তা থেকে বলতে পারি, আপনার থেকে দূরে যাওয়ার অনুভূতি ভয়ংকর, ভালো অনুভব হয় না, আমি অনেক দুঃখিত অনুভব করি। কৃষ্ণের বিরহ কেমন অনুভব করায়?
জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ তার একস্থান ছেড়ে যাওয়ার একটি ভিডিও দেখছিলেন এবং সকল ভক্তদের মধ্যে বেশিরভাগ ভক্তরা অত্যন্ত বিরহ অনুভব করছিলেন, একজন ভক্ত ক্যামেরার সামনে এসে জপ করতে শুরু করেন, হাততালি দেন, হরে কৃষ্ণ! হরে কৃষ্ণ! শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে তিনি তত উন্নত নন। এটি স্বাভাবিক যে তুমি গুরুর থেকে বিরহ অনুভব করবে, স্বাভাবিকভাবেই ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদ যখন চলে যেতেন তখন তাঁর বিরহে বেদনা অনুভব করতেন। শ্রীল প্রভুপাদ এটির প্রশংসা করে বলেছিলেন যে এইরকম গভীর ভাব আধ্যাত্মিক উন্নতির লক্ষণ এবং তাতে ভক্তরা আবেগপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিছু কিছু পরিস্থিতি জপ করা এবং আনন্দে নৃত্য করার জন্য উপযুক্ত। যখন আধ্যাত্মিক গুরু চলে যান, তখন বেশিরভাগ ভক্তরা অত্যন্ত বেদনা অনুভব করেন। যদি কোন ভক্ত হাসছেন, হরিবোল! শ্রীল প্রভুপাদ সেটির প্রশংসা করেননি। তারা পূর্ণ চেতনাময় নয় যে সেখানে কি হচ্ছে, তারা শ্রীল প্রভুপাদের ভাবনায় নেই। এইভাবে কৃষ্ণকে দর্শনের ক্ষেত্রে তা আরো বহু গুণ এবং তা এমন কিছু নয় যা তুমি ব্যাখ্যা করতে পারবে, কোন শব্দ দিয়ে তা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে না। যদি আমরা শুনি যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কি অনুভব করছিলেন, তাহলে তা যত গভীরভাবে আমাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে, সেই অনুভবের মাধ্যমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেই সময়ের ভাব কেমন ছিল তা ধ্যান করার মাধ্যমে আমরা কৃষ্ণের আশ্রয় পেতে পারি। তাই, কেউ একজন বলেছিলেন যে এই জগতে সবথেকে গভীর বিরহ হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্তের থেকে বিচ্ছেদ।
গৌরাঙ্গি গন্ধর্বিকা দেবী দাসী:- আমি বিভ্রান্ত যে কেন বৃন্দাবনের পশু পাখিরা শান্ত রসে আছে, কারণ গাভীরা দুধ প্রদান করে বা টিয়া পাখিরা কৃষ্ণকে জাগিয়ে তোলে, তাহলে এটি কি তাদের সেবা নয়?
জয়পতাকা স্বামী:- পরোক্ষভাবে গাছ গাভী তারা ফল, দুধ ইত্যাদি প্রদান করে তবে তারা সক্রিয়ভাবে কোন সেবা করে না। কৃষ্ণ গিয়ে দুধ দোহন করেন, এক অর্থে তারা কিছু সেবা করে কিন্তু তারা হনুমানের মত সেবা করছে না, যিনি সমুদ্র পার করে রাক্ষসদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। কৃষ্ণ সেবায় প্রকৃতপক্ষে তারাও কৃষ্ণকে সেবা করছে। আমরা বলছি না যে পশু-পাখিরা, গাছেরা তারা কিছুই করছে না, তারাও সেবা প্রদানকারী। কিন্তু এমন নয় যে তারা অনেক সেবা করছে, তারা তাদের কিছু সেবা সম্পাদন করে যেমন ফল উৎপাদন, দুগ্ধ প্রদান। হরিণ হয়ত গিয়ে কৃষ্ণকে লেহন করছে। শান্ত রসের অর্থ হলো তারা কৃষ্ণের প্রতি প্রশংসাপরায়ন, এক অর্থে তুমি বলতে পারো যে সেটি তাদের সেবা। কিন্তু যারা দাস্য রসে আছে, প্রকৃতপক্ষে তারা অনেক সেবা করে।
আরেকটি প্রশ্ন নেব।
প্রশ্ন:- আপনার পাঠ খুব আনন্দদায়ক, খুব ভালো। আমরা যখন পাঠ শুনি, তখন আমরা ভালো অনুভব করি কিন্তু যখনই আমরা এর থেকে বেরিয়ে যাই ও আবার এই জগতের সম্মুখীন হই, তখন সেই সবকিছু যেন অদৃশ্য হয়ে যায়। আমরা পাঠে যেমন অনুভব করি, সবসময় কিভাবে সেইরকম চেতনায় থাকবো?
জয়পতাকা স্বামী:- এইজন্য প্রত্যেকদিন জপ করা ও গ্রন্থ অধ্যয়ন করা গুরুত্বপূর্ণ। যখন তুমি কাউকে দেখবে, তখন তুমি ভাববে যে আমি কৃষ্ণভাবনামৃতের পথে এই ব্যক্তিকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি? তুমি অন্য কাউকে দেখে ভাববে যে কৃষ্ণ তাদের হৃদয়ে উপস্থিত, যদি তুমি অন্য কিছু চিন্তা করো তাহলে তা ঠিক নয়। তুমি স্মরণ করো যে কৃষ্ণ তাদের হৃদয়ে উপস্থিত, তাই খারাপ কিছু হলে তুমি ক্ষমা চাও। যদি তুমি মনে করো যে অনুচিত কিছু হয়েছে, আমি ভুল কিছু করেছি, তাহলে তুমি সব সময় চিন্তা করবে যে কৃষ্ণ তাদের হৃদয়ে উপস্থিত, তিনি সবকিছু দেখছেন তুমি কি করছ, তুমি কি ভাবছ। যাই হোক তোমাকে তোমার অফিস এবং অন্যান্য বিষয় ও অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে কথা বলা সবকিছু নিয়ে চলতে হবে। যখন তারা তোমার সাথে কথা বলবে, তখন তুমি কৃষ্ণকে স্মরণ করতে পারো। যদি তুমি কোন কাজ করো, তাহলে তা থেকে অর্থ পাবে ও সেই অর্থ দিয়ে তুমি কৃষ্ণের সেবা করতে পারো। তুমি গৃহে শ্রী বিগ্রহের সেবা করতে পারো, পরিবারে সকলকে প্রসাদ দিতে পারো, মন্দিরে অনুদান দিতে পারো। এইভাবে বিভিন্নভাবে আমরা কৃষ্ণকে স্মরণ করতে পারি। তাই হয়তো সাময়িকভাবে তোমাকে কিছু কার্যকর বিষয় নিয়ে ভাবতে হতে পারে, কিন্তু তার মধ্যেও তোমার উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষ্ণেরসেবা করা। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদ লন্ডনে তাঁর ব্যাস পূজায় বলেছিলেন যে, তিনি তার সকল গৃহস্থ অনুগামীদের পরমহংস রূপে দেখতে চান। সে (অভয়চরণ নিমাই দাস, যিনি গুরু মহারাজের কথা পুনরায় বলেন) সব সময় আমাকে জিজ্ঞেস করে যে এটি কিভাবে সম্ভব? পরমহংস সব সময় কৃষ্ণের কথা চিন্তা করেন। অন্যরা হয়তো ভাবতে পারে যে আমি কাজ করি, আমি অর্থ উপার্জন করি, আমি তোহিতি বা এরকম কোন স্থানে ছুটিতে যেতে পারি। কিন্তু আমরা সবসময় কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করতে চাই, আমি গুরু কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করতে চাই।
শেষ প্রশ্ন।
প্রশ্ন:- যখন আমরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বা অন্য ধর্মে বিশ্বাসী মানুষদের সাথে সাক্ষাৎ করি, যারা ইস্কন এবং আমাদের কৃষ্ণের প্রতি বিশ্বাস সম্বন্ধে প্রশ্ন করে, তখন আমাদের প্রতিক্রিয়া কি হওয়া উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- প্রত্যেক ব্যক্তি ভিন্ন। যদি তারা খোলা ভাবে বলে বা আপত্তিকর ভাবে আহ্বান দেয় তা ভিন্ন। আমি ত্রিবিক্রম মহারাজকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন কি করা উচিত? ব্যাটন রগে স্বাধীনভাবে বক্তৃতা প্রদানের স্থানে, তিনি বলেছিলেন, তাদেরকে আহ্বান জানাতে, লউসিয়ানা রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তিনি বলেছিলেন যে তাদেরকে এমন প্রশ্ন করুন যার উত্তর তারা দিতে পারবে না। তারা বলে আপনারা কর্মে বিশ্বাস করেন এই ওই, তখন তুমি তাদের বলবে ঠিক আছে তাহলে মানুষেরা পঙ্গু হয়ে জন্মায় কেন? তারা বলে এটি একটি রহস্য, তাই আমি তাদেরকে আরেকটি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তাতে তারা একেবারে চুপ হয়ে যায়। সাম্প্রতিক এখানে ডালাসে আমি একজন ভালো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করেছিলাম, তিনি সুবিধাপূর্ণা ছিলেন এবং তাই আমি বলেছিলাম কিভাবে যীশু বলেছেন যে আমাদের ভগবানকে ভালোবাসা উচিত, এটি ছিল তাঁর প্রথম আদেশ। যদি তুমি অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে কিছু জানো, তাহলে তা তাদেরকে বলতে পারো। ভক্তিযোগের অর্থ হচ্ছে ভগবানকে ভালোবাসার বিজ্ঞান, যেমন শ্রীল প্রভুপাদ তেহরানে আয়াতুল্লাহতে একজনের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন, তারা প্রকাশ করেছিলেন যে আল্লা-হু-আকবর বলার অর্থ পরম সত্যম ধীমাহি। আমি একজন ভক্তের সাথে সাক্ষাৎ করি, লোকেরা বলছিল আপনি হিন্দু, তারা বাকবিবাদ করতে চাইছিল, আমি বলেছি আমি ভগবানের ভক্ত। তারপর তিনি আমার কাছে আসেন এবং বললেন ভগবান একজন, প্রত্যেক ধর্মে সেই একই ভগবানকেই পূজা করা হয়। আমি বললাম আমরা বিশ্বাস করি যে কেবল একজন ভগবান আছেন এবং সমস্ত ধর্মে কেবল সেই ভগবানকেই পূজা করা হয়, কিন্তু তারা তাঁকে বিভিন্ন নামে ডাকে। আসলে এই সবকিছুই নির্ভর করে মানুষেরা তোমার কাছে কিভাবে আসছে তার ওপর, যে তারা তোমাকে সব সরাসরি খুলে বলছে কি না।
হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ