মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
কোন প্রশ্ন আছে?
সর্বজয় মাধব দাস:- আমরা গোপীদের নিঃশর্ত প্রেমের কথা বলি, যে তাঁরা এমনকি কৃষ্ণকে ভগবান মানেন না, তারা তাঁকে তাঁর সৌন্দর্য এবং সবকিছুর জন্য এতই ভালোবাসেন। আমার প্রশ্ন হল কৃষ্ণকে ২৪ ঘন্টা ভালোবাসার জন্য, কৃষ্ণের সেবা করার জন্য, কৃষ্ণের সম্পর্কে স্মরণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি বা নিয়ম-নীতিটি কি?
জয়পতাকা স্বামী:- আমি উল্লেখ করেছি যে পাঁচ ধরনের সম্পর্ক আছে। দুই অর্ধাংশ খুবই নিয়ম-নিষ্ঠ এবং সম্মানীয়, আর দুই অর্ধাংশ অত্যন্ত অন্তরঙ্গ ও প্রেমময়। আপনি নিজেকে কৃষ্ণের পিতা বা মাতা রূপে ভাবতে পারবেন না। ঠিক যেমন একজন ধনী ব্যক্তি, তিনি তার ঐশ্বর্যের জন্য নয়, তিনি একজন ব্যক্তি হিসেবে ভালোবাসা পেতে চান। এলেন মাস্কের মত কোন ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই খুব কঠিন, যেহেতু তিনি ধনী ব্যক্তি। কিন্তু আধ্যাত্মিক জগতে কৃষ্ণ ভক্তদেরকে তাঁর ভগবত্তা বিস্মৃত করানোর জন্য যোগমায়াকে ব্যবহার করেন। যেমন তিনি মথুরায় গিয়েছিলেন এবং সেখানে কংসকে মুক্তি প্রদান করেছিলেন। তারপর দেবকী এবং বসুদেব, তার পিতা-মাতা, তারা বিস্মিত হয়ে যান কারণ তিনি এত শক্তিশালী একজন অসুর ছিলেন এবং তাকে কৃষ্ণ হত্যা করলেন। ভগবান যখন কাউকে হত্যা করেন, তারা মুক্তিপ্রাপ্ত হয়। তখন বসুদেব এবং দেবকী প্রণাম নিবেদন করেন ও তারা অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ হয়ে যান। কিন্তু কৃষ্ণ তা চাননি, তিনি চেয়েছিলেন যে তারা যাতে তাঁর অভিভাবকের মতো ব্যাবহার করে। কিন্তু তারা কিছুক্ষণ আগেই তাঁকে সেই অসুর (যে তাদেরকে এত দীর্ঘ সময় ধরে দমিত করে রেখেছিল) হত্যা করতে দেখেছিলেন! তাই অবশ্যই তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী ও তারা তা স্মরণে রেখেছিলেন যে কিভাবে কৃষ্ণ পরম পুরুষোত্তম ভগবান রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তখন তিনি তাদের উপর লীলাধূলি ছিটিয়ে দেন এবং তারপর তারা বলে ওঠেন, “ওহ! আমার প্রিয় পুত্র।” এটাই তিনি চাইছিলেন। ভগবান এই সবকিছু করতে পারেন, কেবল তাকে পুত্র ও বন্ধুর মতো ভালোবাসার জন্য তিনি মানুষদের ভুলিয়েও দিতে পারেন যে তিনি কে। বৃন্দাবনে মানুষেরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভালোবাসেন, তারা তাঁকে ভগবান ভাবেন না। এমনকি নন্দ মহারাজকে বরুনের সেবকরা গ্রেফতার করেছিল, ইংরেজিতে আমরা একে বলি নেপচুন এবং তারপর তারা দেখে যে জলের দেবতা বরুণ কৃষ্ণ বলরামকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তারা বললেন, “দেখো কিভাবে বরুণ (নেপচুন) আমাদের ছেলের প্রশংসা করছে। ওহ! সে কত ভালো পুত্র!” তিনি কখনো ভাবেন না যে কেন সমুদ্রের দেবতা মাথা নত করছেন এবং কৃষ্ণকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। তিনি শুধু তার পিতা হিসেবে সেই সব দেখেন। তাই কিছু কিছু স্থানে কৃষ্ণ এমন পছন্দ করেন যেখানে মানুষেরা কেবল তাঁকে ভালবাসবে, তাঁর ভগবান হওয়ার জন্য নয়, কোন জড়জাগতিক আশায় নয়, মানুষেরা এমনিই তাঁকে ভালবাসবে। তারা তাঁকে তিনি কে সেইজন্য ভালবাসবে, তার গুণের জন্য ভালবাসবে। এই স্তর বিকশিত করার জন্য জানা দরকার যে এমন একটি স্তরও আছে, কিন্তু সাধারণত সেই স্তরে পৌঁছানো কঠিন। এটি অনেক বড় ব্যাপার! প্রথমে আমরা প্রণাম করি, আমরা প্রার্থনা করি, আমরা বিভিন্ন সেবা করি, আমরা তাঁর পবিত্র নাম জপ করি, আমরা পবিত্র হই। যখন আমরা অত্যন্ত বিশ্বস্তভাবে ভগবানের সেবা করব, তখন আমাদেরকে আশীর্বাদ প্রদান করবেন, তিনি আমাদেরকে গ্রহণ করবেন এবং তখন আমরা আমাদের প্রকৃত অবস্থান উপলব্ধি করতে পারব। কৃষ্ণের বন্ধু তাঁর পিতা-মাতা বা তাঁর প্রণয়ী হতে পারব। সেই সব কিছু ধীরে ধীরে প্রকাশিত হবে, হঠাৎ করেই হবে না। আমরা সেই স্তরে ঝাঁপ দিতে পারব না। কিছু কিছু ব্যক্তিদের সেই স্তরে পৌঁছাতে হয়তো অনেক অনেক জন্ম লাগবে, জন্ম মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সাধারণত কেউ জড় জগতে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করে, তারা ভাবে যে, “ওহ! যদি আমি ধনী হই, তাহলে আমি খুশি হতে পারব” পরবর্তী জন্মে তারা হয়তো ধনী হবে, তখন তারা মনে করবে “ওহ! যদি আমি ফুটবল খেলোয়ার হতাম, তাহলে হয়ত আমি সুখী হতাম” পরবর্তী জন্মে তারা হয়তো এক বড় ফুটবল খেলোয়ার হবে। আমি শুনেছি শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে রবিশঙ্কর ৭ জন্ম ধরে সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন এবং সপ্তম জন্মে তিনি বিশ্ব বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ হন, বেটেলসদের গুরু ও এমন কিছু পদ লাভ করেন। সাধারণত আমরা আমাদের জাগতিক কামনা বাসনা অনুসারে জন্মের পর জন্মগ্রহণ করি। কিন্তু আমরা যদি কৃষ্ণ সেবা করার ইচ্ছা বিকশিত করি, ভগবানকে সেবা করতে চাই, তাহলে আমরা ভগবৎ ধামে ফিরে যাব। আমরা এই জড়জগতের কারাগার থেকে মুক্ত হব। কিন্তু তার জন্য প্রথমে আমাদেরকে বিধিমার্গে সেবা করতে হবে। তারপর আমরা আমাদের ভগবত প্রেম স্বতঃস্ফূর্ত প্রেমে বিকশিত করতে পারব, প্রথমে নিয়মনীতি পালন করতে হবে, তা পালনের পরে পরবর্তী ধাপ, তারপর আমরা বিভিন্ন স্তরে ভগবানের প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত প্রেম বিকশিত করতে পারব। এর আটটি স্তর আছে — আমরা প্রেমের স্তরে যাওয়ার পর তার আটটি স্তর আছে এটি বিজ্ঞানসম্মত বিষয়। এবং আমাদের বিশ্বাস আছে, আমরা শ্রবণ করি, তারপর আমরা জ্ঞানদীপ্ত জীবাত্মাদের সঙ্গ করি, যাকে বলা হয় সাধুসঙ্গ। তারপর আমরা নিজেরা তা অনুশীলন করি, একে বলে ভজন ক্রিয়া। তারপর আমরা আমাদের অবাঞ্ছিত অভ্যাস থেকে মুক্ত হতে চেষ্টা করি, তাকে বলা হয় অনর্থ্য নিবৃত্তি। তারপর আমরা ভক্তিমূলক অনুশীলনের দ্বারা অত্যন্ত দৃঢ় হই, একে বলা হয় নিষ্ঠা। তারপর আমরা ভগবানের সেবার প্রতি রুচি বিকশিত করি, একে বলা হয় রুচি স্তর। তারপর আমরা আধ্যাত্মিক স্বাদ আস্বাদনে আসক্ত হই, একে বলা হয় আসক্তি। তারপর আমরা কৃষ্ণের প্রতি প্রেম বিকশিত করি, তাকে বলা হয় ভাব। তারপর আমাদের কৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ প্রেম লাভ হয়, একে বলা হয় প্রেম। কিন্তু প্রেমের আটটি স্তর আছে যাকে আমরা বলি মহা ভাব, এটি সর্বোচ্চ স্তর। প্রকৃতপক্ষে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্য উন্মত্ত ছিলেন। সেই স্তরে পৌঁছাতে আমাদেরকে অনেক দীর্ঘযাত্রা করতে হবে, তাই এটি শুনে ভালো লাগে যে এমন স্তরও আছে।
সর্বজয় মাধব দাস:- গুরু মহারাজ আপনি কি একটু লীলা-ধুলি ছিটাতে পারবেন?
জয়পতাকা স্বামী:- যদি আমার কাছে তা থাকত, তবে আমার কাছে তা নেই। আমি তাঁর দাসদাসানুদাস।
সর্বজয় মাধব দাস:- আজকে আমরা চোখের ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম, তিনি গুরু মহারাজকে সহায়তা করছিলেন। সেখানে অভয় প্রভু গ্রন্থ দিয়েছেন, যেমন গুরু মহারাজ করে থাকেন, তারা সেখানে গ্রন্থ বিতরণ করেছেন। তিনি গুরু মহারাজকে দেখে অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, তারপর আমরা তাকে নিমন্ত্রণ জানাই, আর এখন তিনি এখানে এসেছেন। আসলে আপনার নাম গুরু মহারাজ ভালোভাবে মনে রেখেছেন, উনি সারা রাস্তা ধরে আপনার নাম বলেছেন!
জয়পতাকা স্বামী:- পরম পুরুষোত্তম ভগবানের একটি নাম হল কানাই। দুকানাই। এক অর্থে আপনার নাম ভগবানকে বোঝায়, অন্যভাবে ‘দুঃখ নাই’ দুঃখ নাই মানে কোন কষ্ট নেই। (সেই মহিলা বললেন তার নাম দুরহানাই)
দুরহানাই:- আমি খুবই আনন্দ পেয়েছি, আমি কেবল আপনার সাথে দেখা করেছিলাম কিন্তু পূর্ববর্তী সাক্ষাত থেকেই প্রত্যেককে দেখেছি, তারা কত ভালো এবং বিনয়ী। আমার খুব ভালো লেগেছে যে আপনারা কত শুদ্ধ এবং আপনারা একই পোশাক পড়েন, কত সহজ সরল! এটি ভগবানের প্রতি প্রেম প্রদর্শন করে এবং আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ ও আপনাদের থেকে শিখতে পেরে ধন্য। আমার খুব ভালো লেগেছে যে আপনারা যা শেখেন তাই নিজের জীবনে প্রয়োগ করেন। আপনারা যে জ্ঞান পেয়েছেন, তা প্রয়োগ করেন, এটি অত্যন্ত সুন্দর এবং আমি এর সংযোগ ও শুদ্ধতা দেখতে পাচ্ছি যা সর্বত্র দীপ্তি প্রকাশ করছে। তাই আপনারা যখন আসেন, তখন আমি মনে করি আপনাদের যত্ন নেওয়া আমার কর্তব্য এবং আমি এর জন্য যথাসাধ্য করার প্রয়াস করি ও এর উর্দ্ধে কিছু করার চেষ্টা করি। ধন্যবাদ!
জয়পতাকা স্বামী:- আমি শুনলাম যে আপনার একজন অভিভাবক আফগানিস্তানি এবং আরেকজন কলম্বিয়ান। তাই আপনি কি স্প্যানিশ জানেন? চিলি থেকে আমাদের এখানে ভক্তরা আছে, আমি বলছিলাম যে কিভাবে আফগানিস্তানে মহিলারা তালিবানের অধীনে থেকে কাজ করতে বা শিক্ষা পেতে পারে না। সেখানে আপনাকে আপনার মাথা ঢেকে রাখতে হয় ও অন্য আরো কিছু মানতে হয়, তা অত্যন্ত কঠিন।
দুরহানাই:- এখানে থাকতে পেরে এবং শিক্ষা লাভ করতে পেরে আমি ধন্য।
জয়পতাকা স্বামী:- আজারবাইজানে আমার একজন শিষ্য আছে, তিনি পিএইচডি করেছেন ও তিনি হচ্ছেন মুসলিম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, যেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ৫ জন মোল্লা ও কাজীর সাথে দেখা করেছিলেন এবং তিনি কোরান থেকে বলেছিলেন। তিনি হৃদয় দিয়ে সেই সম্পর্কে জানেন, তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যে আল্লাহ একজন ব্যক্তি, তিনি নিরাকার নয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যেটি বলছিলেন তা কোরানের কোথায় আছে এবং তিনি আমাকে তা দেখিয়েছিলেন, তিনি এটিও বলেছিলেন যে সম্ভবত হাদীস বলে একটি গ্রন্থ আছে, যেটিতে প্রফেত মহম্মদের বিভিন্ন লীলা আছে। একদিন নামাজ প্রার্থনার জন্য সকালে তার দেরি হয়ে যায়, তিনি বলছিলেন, “আমাকে ক্ষমা করে দিন, আমার দেরি হয়ে গেছে। সকালের প্রার্থনায় আমি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমি যখন উঠলাম, তখন দেখলাম আল্লার হাত আমার কাধের উপর।” তিনি বলছিলেন আসলে আল্লাহ হলেন একজন ব্যক্তি কিন্তু বেশিরভাগ মোল্লারা তেমন বলেন না। যাই হোক, এটি কৌতুহলপূর্ণ! অন্য কোন প্রশ্ন আছে?
প্রশ্ন:- পরম পুরুষোত্তম ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য আপনি পাঁচ ধরনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন, আমাদেরকে কি এই পাঁচ ধরনের সম্পর্কই লাভ করতে হবে? তবে আমরা যদি দাস্যের প্রথম স্তরে বা সখ্য স্তরে থাকি, তাহলে কি ভগবৎ ধামে ফিরে যেতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী:- ভগবদ্গীতার চতুর্থ অধ্যায় থেকে বোঝা যায় যে পরমেশ্বর ভগবানের আবির্ভাব এবং তাঁর কার্যাবলী দিব্য, এটি বুঝতে পারলেই আপনি ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবেন। আপনার সেই পাঁচটির মধ্যে যেকোনো এক ধরনের সম্পর্ক আছে। বৃক্ষ, গাভীরা তারা শান্ত রসে আছে, হনুমান ও কৃষ্ণ বা নারায়ণের অন্যান্য সেবকরা দাস্য রসে আছে। যুধিষ্ঠির কৃষ্ণের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাপূর্ণ ছিলেন কিন্তু তিনি ছিলেন তাঁর বন্ধু, এইভাবে তা ছিল শ্রদ্ধাপূর্ণ বন্ধুত্ব। শ্রীদাম, সুবল, সুদাম তারা সবাই গোপবালক, তারা কৃষ্ণের অন্তরঙ্গ বন্ধু। তাই আপনার সম্পর্কটি কি? আপনি হয়তো এখন একজন পুরুষ হতে পারেন, কিন্তু আপনার সম্পর্ক হয় তো মা বা স্ত্রী হিসেবে হতে পারে। হয়তো এখন কেউ মহিলা হতে পারেন, কিন্তু আপনি কৃষ্ণের সেবক বা বন্ধু হতে পারেন। আসলে আমরা আত্মা, যদি মৃত্যুর সময় আপনি আপনার স্ত্রীর কথা মনে করেন, তাহলে পরবর্তী জন্মে আপনি নারী হিসেবে জন্মগ্রহণ করবেন, যদি স্ত্রী তার স্বামীর সম্পর্কে চিন্তা করে, তাহলে সে পরবর্তীতে পুরুষ হয়ে জন্মগ্রহণ করবে। মৃত্যুর সময় আপনি যা চিন্তা করবেন তাই আপনাকে পরবর্তী জন্মের দিকে নিয়ে যাবে। আপনার এখন যে শরীর আছে তা পরম পুরুষোত্তম ভগবানের সাথে আপনার আধ্যাত্মিক সম্পর্কের কথা ইঙ্গিত করে না। তাই আপনাকে পাঁচটি স্তরের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যদি আপনি কৃষ্ণের সেবা করেন, যদি আপনি বুঝতে পারেন যে পরম পুরুষোত্তম ভগবান কে, তাহলে আপনি ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে পারবেন। আপনি যদি নিরাকাররূপে ভগবানের প্রশংসা করেন, তাহলে আপনি হয়তো নিরাকার ব্রহ্মে যাবেন। যেমন আমি বলেছি, বেশিরভাগ লোকেরা ভগবান সম্পর্কে এত ভাবে না, ভাবলেও তারা ভগবানের কাছে জাগতিক কিছু কামনা করে। লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের মধ্যে একজন প্রকৃতপক্ষে আধ্যাত্মিক বিষয়ে জানতে চায় যে তিনি কে, সেই রকম লক্ষ লক্ষ জ্ঞানী যারা প্রকৃত সত্য জানতে চেষ্টা করছে, তাদের মধ্যে একজন মুক্ত, সেইরকম লক্ষ লক্ষ মুক্ত জীবেদের মধ্যে একজন হয়ত ভক্ত, যেখানে তারা কৃষ্ণের সাথে তাদের সম্পর্ক বিকশিত করছে। এখানে এমন আপনারা সকলে উপস্থিত, এটি অত্যন্ত বিশেষ। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কে যোগ্য, কে অযোগ্য সেই বিচার ছাড়াই অবাধে ভগবত প্রেম প্রদান করছেন, তাই তাঁকে ভগবানের সবথেকে কৃপাময় অবতার হিসেবে গণ্য করা হয়। নয়তো সেই প্রেম পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু তাঁর কৃপায় বর্তমানে সেই প্রেম লাভ করা অত্যন্ত সহজ।
দুরহানাই:- যখন ২ ধর্মের কথা হয়, তখন দেখা যায় যে আমাদের মধ্যে অনেক মিল আছে, বিশেষত পোশাকে। গেরুয়া বস্ত্র, যেমন আমরা শ্বেত বস্ত্র পড়ি যা শুদ্ধতার প্রতীক, এবং আমরা সকলেই এক ভগবানের অধীনে আছি, তাতে কেউ কোন সংস্কৃতির থেকে এসেছে তা দেখা হয় না, আপনার দেহের রং কি, বা জাগতিক এমন কিছু বিবেচনা করা হয় না। আমরা সরল ভাবে থাকি। আমি খেয়াল করেছি যে এটি প্রায় একই, আমি ভাবছি এটি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। আমি এখানে এসেছি কারণ প্রত্যেকের জীবনধারা কি রকম, তাদের জীবনের উদ্দেশ্য কি, তা জানতে আমি ভালবাসি, সবশেষে আমরা সকলেই এক। আমাদের সম্পর্ক প্রেমের ও আমরা সকলেই মানুষ। এটিই আমি সকলের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই, আমি সকলের মধ্যে প্রেম নিয়ে আসতে চাই। আমার এখানে থেকে যে উপলব্ধি হচ্ছে তা বিনম্রভাবকে উন্মুক্ত করছে। আসলে আমার মাথায় একটি প্রশ্ন এসেছে। আপনারা কি নরকে বিশ্বাস করেন বা আমি যা বুঝলাম যে আপনারা বলছিলেন আপনারা আধ্যাত্মিক জগতে ছিলেন?
জয়পতাকা স্বামী:- বর্ণনা আছে যে ১৪টি ভুবন আছে, এবং আমরা ৭তম ভুবনে আছি। আমাদের উপরে আরো ৬টি স্তর আছে। আমরা ভূলোকে আছি, তারপর ভুব লোক, স্ব লোক আছে। স্ব হচ্ছে স্বর্গলোক, আপনি সেখানে যেতে পারেন ও অনেক জাগতিক আনন্দ পেতে পারেন। কিন্তু জড়জাগতিক আনন্দ প্রায় একই, সুখ এবং দুঃখ। তার উপরে আরো চারটি স্তর আছে, তার উপরে আছে আধ্যাত্মিক জগত, যেখানে জন্ম নেই, মৃত্যু নেই, জরা-ব্যাধি নেই। এবং সেখানে প্রত্যেকেই ভগবানের প্রেমে আছেন। জগতে যারা অত্যন্ত পূণ্যবান, ধার্মিক কিন্তু জাগতিক সুখ পেতে চায়, তারা স্বর্গে যায়। যখন তাদের পুণ্যকর্ম শেষ হয় তখন তাদেরকে আবার নিচে নেমে আসতে হয়। তারপর সেখানে নিন্মে সাতটি ভুবন আছে, তারা কম ভগবৎ চেতনাময়। এর নিচে আছে সব নরক। যদি আপনি পাপী হন, তাহলে কিছু সময়ের জন্য আপনি নরকে যাবেন, সেখানে আপনার পাপ শেষ হবে ও আবার আপনাকে জন্ম নিতে হবে। আমরা মানুষদের এই জড়জগৎ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করছি এবং তা হবে যদি আপনি তপস্যা করেন। বর্তমান সময়ের এবং এই যুগের তপস্যা হচ্ছে ভগবানের পবিত্র নাম জপ করা, আমরা বিশ্বাস করি যে ভগবান একজনই, আপনি তাকে আল্লাহ, জিহভা বা কৃষ্ণ নামে ডাকতে পারেন, কিন্তু তিনি একজন ব্যক্তি যার অনন্ত নাম আছে। মালয়েশিয়াতে খ্রিস্টানরা মালেশিয়ান ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেছে, সেখানে ভগবান বলার পরিবর্তে তারা আল্লাহ বলেছে, কিন্তু মুসলমানরা তার বিরোধ করেছে এবং বলেছে আল্লাহ কেবল মুসলিমদের জন্য! সেই শব্দটি তারা ভগবানকে বোঝাতে ব্যবহার করেছে, তারপর পার্লামেন্টে বলা হয়েছে যে আমাদের হিন্দুদের মত হওয়া উচিত, তারা বলে ভগবানের লক্ষ্য লক্ষ্য নাম আছে। তাই যারা মুসলিম বা জিউ বা খ্রিস্টান আমরা তাদেরকে ধর্ম পরিত্যাগ করতে বলিনা। অন্য ধর্মে যা আছে সেই শিক্ষা উচ্চ বিদ্যালয় বা এমনি বিদ্যালয়ের শিক্ষার মত এবং এইখানে শিক্ষাটি হল পিএইচডি। আমরা কেবল মানুষদের আধ্যাত্মিক জগতে স্থানান্তরিত হতে ও তাদের ভগবত প্রেম জাগ্রত করার বিষয়ে মনোযোগী। শ্রীমদ্ভাগবতমের পঞ্চম স্কন্ধে, ব্রহ্মাণ্ডের গঠন বিষয়ে নরক সম্পর্কে একটি সম্পূর্ণ অধ্যায় আছে। যদি আপনি অবৈধ সম্পর্ক করেন তাহলে তার জন্য একটি বিশেষ নরক আছে, যদি লোকেরা প্রাণী হত্যা করে বা তাদেরকে হত্যা করতে পছন্দ করে তাহলে তার জন্য একটি নরক আছে, যদি কেউ অন্য কাউকে প্রতারণা করে তার জন্য একটি নরক আছে। এইভাবে ২৬টি ভিন্ন ভিন্ন নরক আছে। কিন্তু কখনও কখনও কিছু কিছু ব্যক্তিরা এত পাপী হয় যে সেখানে স্থপতিশিল্পী দিয়ে তাদের জন্য বিশেষ নরকের ব্যবস্থা করা হয়। কত অরুচিকর কার্য! যাই হোক এর একটি আকর্ষণীয় লীলাও আছে। যে ব্যক্তি বিচার করে তিনি বিশেষত ভগবানের শক্তি প্রাপ্ত এবং তার নাম যমরাজ। আজকে একাদশীর বিশেষ দিন। আজকের দিনে শস্য গ্রহন করলে তা পাপ ফল প্রদান করে। তাই আমরা আজকে শস্য খাই না, আমরা প্রতি মাসে এটি দুইবার পালন করি। কিছু ব্যক্তিরা উপবাস করে তবে অন্ততপক্ষে শস্য, দানা শস্য বা ডাল জাতীয় খাবার বর্জন করা হয়। যেমন রমজানে আপনারা একমাস ব্যাপী উপবাস করেন, আপনারা কেবল রাতে খাবার খান, দিনের বেলা খাবার খান না, আর আমরা বছরের ২৬ দিন একাদশী উপবাস পালন করি, যেমন আপনি বললেন যে অনেক মিল আছে। শ্রীমদ্ভাগবতমে সবকিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণিত আছে যে কিভাবে সর্বোচ্চ সুখ হচ্ছে ভগবত প্রেম বিকশিত করা, আমি আশা করি আপনি প্রত্যেক দিন আসবেন। এটি তার (সর্বজয় মাধব দাস) বাড়ি, আমি এখানে থেরাপির জন্য রয়েছি, সপ্তাহে এমনি দিনে আমি এখানে থাকি আর ছুটির দিনে আমি কখনও কখনও ডালাস মন্দিরে প্রবচন দিতে যাই বা কখনও অন্যান্য জায়গায় যাই। গত সপ্তাহের ছুটির দিনে আমি হাসটন ও নিউ অরলেন্সে ছিলাম, পরবর্তী ছুটির দিনটিতে আমি ডেট্রয়েট থাকবো।
দুরহানাই:- আমি আপনার জন্য প্রার্থনা করব!
জয়পতাকা স্বামী:- যখন আপনি এখানে আসবেন, তখন আমরা আপনাকে কিছু প্রার্থনা শিখাতে পারি। আমি যখন মালেশিয়াতে ছিলাম, সেখানে তারা বিশেষ যজ্ঞ করছিল। আমরা জামা পড়ি না, আমরা চাদরের মত পড়ি। সেখানকার কোন একজন মোল্লা আমাকে দেখেছিলেন, তিনি মক্কার হজে ছিলেন, তারা বলছিলেন যে যদি আমরা হজ করি তাহলে আমরা কোন জামা পড়ি না, অন্তত পুরুষেরা, তাই তারা শ্বেত বস্ত্র পড়েছিল। তিনি প্রশংসা করছিলেন যে আপনিও এইরকম ধরনের বস্ত্র পড়েন। আমাদের ভক্ত বিশ্বম্ভর ব্যাস দাস সেইরকম পরে, সে এই কথা বলছিল ও এটির প্রশংসা করছিল।
ঠিক আছে, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
Lecture Suggetions
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ