Text Size

২০২৩০৫১৩ সান্ধ্যকালীন প্রবচন

13 May 2023|Duration: 00:43:56|Bengali|Evening Darśana|New Orleans, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- মায়াপুরে আমার একজন শিষ্য শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী, তিনি আমার থেকে নির্দেশ পেয়েছিলেন যে তার দীক্ষা গুরু হওয়ার প্রক্রিয়াকরণ গ্রহণ করা উচিত, এখন ইস্‌কনের নিয়ম হচ্ছে যে শিষ্য যদি গুরুর থেকে আদেশ পায়, তাহলে তিনি দীক্ষা প্রদান করতে পারেন। অবশ্য তাকে জিবিসি প্রদত্ত প্রণালীর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী তা করেছেন এবং তাকে গ্রহণ করা হয়েছে। আজকে তিনি দীক্ষাগুরু হওয়ার শপথ গ্রহণ করেছেন। এখন আমরা দেখছি যে তিনি মায়াপুরে আছেন। গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী, আমি সেই ভিডিওটি দেখেছি যে তিনি অনেকদিন ধরে নামহট্ট অফিসে সেবা করছেন। তিনি অত্যন্ত ভালো ভক্ত এবং সকলকে নবদ্দীপ দর্শন শিক্ষা প্রদান করেন। আমরা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী এবং গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামীর নাম প্রদান করেছিলাম। এখন গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামীকে দীক্ষাগুরু হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভক্তি পুরুষোত্তম স্বামী অপেক্ষামান আছেন। 

১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে ইস্‌কনের দশ হাজার দীক্ষাগুরু থাকা উচিত, তারপর এক লক্ষ, এক লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ ও এরপর এক কোটি। এইভাবে আমি আশা করি যে অনেক শিষ্যরা দীক্ষাগুরু হবে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সারঙ্গ ঠাকুরকে অন্ততপক্ষে একজন শিষ্য গ্রহণ করতে বলেছিলেন। তার সাক্ষাৎ হয় মুরারী চৈতন্য দাসের সাথে, সে তার শিষ্য এবং তিনি ছিলেন তার দীক্ষাগুরু। 

শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন

পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম,
সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম।
(চৈ.ভা. অন্ত্য খন্ড ৪.১২৬) 

এটি বাস্তবায়িত করার জন্য আমাদের ১ কোটি দীক্ষাগুরু থাকা উচিত, তাহলে তা সম্ভবপর হবে। এইভাবে মায়াপুর ও  অন্যান্য স্থানে আমার শিষ্যরা দীক্ষাগুরু হলে, তা কার্যকর হবে। তাদেরকে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে হবে এবং আমি আশা করি আপনারা সকলে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করবেন এবং বিভিন্ন ডিগ্রী প্রাপ্ত হবেন। কিছু বছর আগে আমি এটি গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামীকে বলেছিলাম কিন্তু তিনি সেই মতো করেননি। তবে এর পরবর্তীতে যখন জিবিসি তাকে নির্দেশ দেন, তখন তিনি সেই দীক্ষা প্রণালী সম্পন্ন করেছেন। [শব্দ বিচ্ছেদ] আমার নির্দেশে দীক্ষাগুরু হওয়ার যোগ্য. . . হরে কৃষ্ণ! তাই আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে মায়াপুরে এই অনুষ্ঠান হয়েছে। এখন এখানে রাত্রি কিন্তু মায়াপুরে এখন সকাল। আমি আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা জানাই ও আশীর্বাদ প্রদান করছি। কৃষ্ণে মতি রুহু!

অনেক ভক্তরা দীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে, তাই সেই অনুষ্ঠান শুরু হতে পারে। নিউ অরলেন্সের অনেক ভক্তরা এটি অনলাইনেও দেখছে।

এই অনুষ্ঠানের যুক্ত হওয়ার জন্য এবং গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামীকে আশীর্বাদ প্রদান করার জন্য আমি মায়াপুরের সকলকে ধন্যবাদ জানাই। [শব্দ বিচ্ছেদ] শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর আন্দোলনে তিনি শ্রীল প্রভুপাদ এবং জিবিসিকে অনুসরণ করতে অত্যন্ত সফল হবেন। হরে কৃষ্ণ! 

শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু রাধারানী ও গোপীদের ভাবে ছিলেন। তিনি একটি বাগিচা দেখেছিলেন, যা হচ্ছে  জগন্নাথপুরীর জগন্নাথ বল্লভ বাগিচা এবং তিনি জিজ্ঞেস করছিলেন, রাসলীলায় কোথায় কৃষ্ণ গোপীদের ছেড়ে রাধারানীর সঙ্গে গিয়েছিলেন? এবং তারা কৃষ্ণকে খুঁজছিলেন। গোপীরা সেখানে গাছেদের জিজ্ঞেস করছিলেন যে, তোমরা কি কৃষ্ণকে দেখেছো? যখন গাছেরা উত্তর দেয়নি, তখন গোপীরা ভাবছিলেন যে তারা সকলে কৃষ্ণের পুরুষ সখা এবং সেই জন্য তারা আমাদেরকে বলছে না। তারা তুলসী দেবীর কাছে যান, “দয়া করে তুলসী আমাদেরকে বলুন। আপনি কৃষ্ণের অতি প্রিয়, কৃষ্ণ কোথায় গেছেন?” সাধারণত মানুষেরা কোন কিছুর প্রতি আসক্ত হয় এবং তাতে উন্মত্ত হয়ে যায়। কিন্তু আসলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কৃষ্ণ প্রেমে ভাবে বিভোর ছিলেন। তিনি বৃক্ষদের সাথে কথা বলছিলেন, “তোমরা কি কৃষ্ণকে দেখেছো? আমার খুঁজে বের করা দরকার যে কৃষ্ণ কোথায় গেছেন।” এইভাবে তিনি গোপীদের ভাবে বৃক্ষদের জিজ্ঞেস করছিলেন। বৃক্ষরা সাধারণত কথা বলতে পারে না এবং আপনি যদি কোন বৃক্ষকে জিজ্ঞেস করেন, তাহলে আপনি তার থেকে কোন উত্তর পাওয়ার আশা করতে পারেন না। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে প্রদর্শন করছিলেন যে কিভাবে কেউ কৃষ্ণের বিরহে কৃষ্ণ প্রেমে ভাবে বিভোর হতে পারে। 

আমরা আশা করি যে সকল ভক্তরাই কৃষ্ণ প্রেমে ভাবে বিভোর হবে। তা সম্ভব হবে যদি আপনি নিতাই গৌরের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তারা কে যোগ্য কে অযোগ্য এই বিচার ছাড়াই অবাধে কৃষ্ণ প্রেম বিতরণ করছেন। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভুকে বলেছেন যে, “তোমার বাংলায় ফিরে যাওয়া উচিত এবং আমরা যে পর্যন্ত প্রচার করেছিলাম, সেই স্থান থেকে আবার তা শুরু করা উচিত। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে আধ্যাত্মিক জগৎ থেকে আমরা চার ধরনের মানুষদের উদ্ধার করার জন্য এসেছি, যারা সাধারণত উদ্ধার প্রাপ্ত হয় না— মূর্খ, নিচ জাত, পতিত এবং দুঃখিত।” আপনারা কি এমন কাউকে জানেন? আমেরিকাতে কি এমন কেউ আছে? প্রত্যেকে! হ্যাঁ! এমনকি কেউ যদি উচ্চ জন্ম লাভ করে, তবে তারা মনে করে যে তারা তাদের শরীর। এইভাবে তারাও মূর্খ। আমাদের বোঝা উচিত যে শ্রীল প্রভুপাদ বারংবার পুনরাবৃত্তি করেছেন যে আমরা এই শরীর নই, আমরা চেতনা। আমরা আত্মা যা এই শরীরের মধ্যে আছি এবং শরীর হচ্ছে জড় শক্তি দ্বারা নির্মিত যন্ত্র মাত্র। আমার মনে হয় আপনারা অনেকেই গাড়ি চালান। সেই গাড়ি হচ্ছে যন্ত্র, তাতে একজন চালক দরকার। অবশ্য এখন নতুন গাড়ি রিমোটের দ্বারা চলে, কিন্তু কোনো ব্যক্তি বা রিমোট দ্বারা সেই গাড়ি চালাতে হবে। এইভাবে আমরা হচ্ছি আসলে চেতনা বা আত্মা যা সেই যন্ত্রকে জীবিত রাখে। 

শ্রীল প্রভুপাদ বাংলার একটি গ্রামে প্রবচন দিচ্ছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে যখন ঠাকুরদা মারা যায়, তখন প্রত্যেকে তাদের সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে সেই বিষয়ে বিলাপ করে, ওহ! আমার ঠাকুরদা আর নেই, আমার পিতা আর নেই, আমার স্বামী। এইভাবে প্রত্যেকের বিলাপ করে, কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন, “কে নেই? সেই একই শরীর সেখানে আছে। একই বর্ণ, একই চুল সবকিছুই একই, তাহলে কি চলে গেছে?” প্রত্যেকে বলছে পিতা, ঠাকুরদা চলে গেছে। কি চলে গেছে? আসল ব্যক্তি হচ্ছে সেই শরীরে থাকা জীবনী শক্তি, চেতনা। সেই চেতনা হচ্ছে আত্মার লক্ষণ। বেশিরভাগ মানুষেরাই তা বোঝেনা, তারা মনে করে যে তারা এই যন্ত্র। [শব্দ বিচ্ছেদ] তিনি একটি প্রবচন দিচ্ছিলেন, যেখানে তিনি বলছিলেন যে এই মনুষ্য জীবন অত্যন্ত দুর্লভ। [শব্দ বিচ্ছেদ] এই মনুষ্য চেতনায় আমরা এই শরীর নই, আমরা শরীরের মধ্যে থাকা চেতনা এবং সেই জন্য আমরা যদি আমাদের আধ্যাত্মিক সচেতনতা বিকশিত করতে পারি, তাহলে আমরা সুখী হব। আমরা যদি কৃষ্ণকে পরম পুরুষ বুঝে তাঁর সাথে আমাদের সম্পর্ক স্থাপন করতে পারি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কুকর্ম ধ্বংস হবে ও তারপর আমরা আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার যোগ্য হব। কিন্তু যতক্ষণ আমরা এই জগতে আছি, ততক্ষণ আমাদেরও কৃষ্ণ সেবার প্রতি সম্পূর্ণ আগ্রহী হওয়া উচিত। 

আমি শ্রীবিগ্রহগণ নিতাই গৌর, রাধা রাধাকান্ত, জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা সুদর্শন চক্রকে সুন্দরভাবে সুসজ্জিত দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। আমার পূর্বাশ্রমের মাতা এখানে নিউ অরিলেন্সে কিছু সময়ের জন্য ছিলেন, তিনি প্রতিদিন মন্দিরে আসতেন ও ৪ মালা জপ করতেন। তিনি একবার বলেছিলেন যে, “আমি যখনই মন্দিরে যাই, তখনই শ্রী গৌরাঙ্গ আমার দিকে তাকিয়ে থাকেন কেন?” শ্রীবিগ্রহ হচ্ছেন অর্চাবতার। বিশেষত আমাদেরকে সেবা প্রদান করার জন্য, তাঁরা হচ্ছেন কৃষ্ণের অবতার। আমরা জানি যে অনেক মানুষেরা কোভিড ১৯ এর সময় মারা গেছে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ছিল আমাদের অনেক প্রিয় বন্ধু। এই কারণেই আমি কিছু বছর আসতে পারিনি এবং শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় আমি এখন এখানে আসতে পেরেছি। আর এখানে সকল ভক্তদের দেখে আমি আনন্দিত হয়েছি, আমাকে বলা হয়েছে যে আমি যখন এখানে থাকবো, তখন আমাকে অন্তত দুটি গৃহে যেতে হবে। আমরা এখানে ৫-৬ জন এসেছি, আর পুরো পাড়াতে ডজনাধিক ভক্ত গৃহ আছে বলে মনে হয়। 

খুব ভালো হয়েছে যে ভক্তরা বাংলা, বাংলাদেশ ও বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছে, কিন্তু আমরা তাদেরকেও সাহায্য করতে চাই যেখানে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা আছে, এখানে থাকা সকলকে! আপনারা সকলে তত্ত্বগতভাবে বলশালী হন এবং অন্যান্য মানুষদের সাহায্য করুন। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে মানুষেরা এই বিরল মনুষ্য জীবন পেয়েছে, কিন্তু তারা তা আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য ব্যবহার করে না। বিড়াল, কুকুর তারা আহার-নিদ্রা-ভয় মৈথুনে লিপ্ত। কিন্তু মানুষেরা উন্নততত্ত্ব বুঝতে সক্ষম যে তাদের সাথে কৃষ্ণের সম্পর্ক কি। যেখানে শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু এক লীলায় বীরাসনে, যৌগিক আসনে বসেছিলেন, সেখানে বিভিন্ন ভক্তরা তার সামনে আসছিলেন এবং নৃত্য কীর্তন করছিলেন। এইভাবে ভক্তরা আসলে তাঁর সামনে অত্যন্ত আনন্দে নৃত্য করছিলেন, তারপর শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু তিনিও নৃত্য করছিলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “যেখানে তিনি নৃত্য করেন আমি সেখানে থাকবো। এটি অপ্রাকৃত! আমি তা না দেখে থাকতে পারবো না! ” শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যা করেছেন আমাদের তা করার সক্ষমতা নেই। যেখানেই শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু নৃত্য করেন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে থাকবেন। যখন নিতাই নৃত্য করছিলেন, তখন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে এসেছিলেন। তারপর নিত্যানন্দ প্রভু নৃত্য বন্ধ করে অঙ্গুলিনির্দেশ করে বললেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এখানে আছেন! আপনারা তাঁকে দেখতে পারবেন না, হয়তো আপনারা তাঁর মালার সুঘ্রাণ গ্রহণ করতে পারেন। প্রত্যেকেই ঘ্রাণ নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন! সুঘ্রাণ নেওয়ার মাধ্যমে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে খুঁজে পাওয়ার প্রচেষ্টা করছিলেন। কেউ একজন সেই সুঘ্রাণ পেল, হরিবোল! হরিবোল! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! বলে তিনি মাটিতে গড়াগড়ি দিতে থাকেন। আরেকজন বললেন, “আমিও এই সুঘ্রাণ পেয়েছি!” আর তিনিও মাটিতে গড়াগড়ি দিতে থাকেন। এইভাবে তা ছিল যেন প্রেম ধুম্র, তা ছড়িয়ে গেছে এবং প্রত্যেকেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সুঘ্রাণ নিতে থাকে ও ভাবে বিভোর হয়ে যায়। 

আমি আটলান্টায় নতুন পানিহাটি ধামে এই লীলাটি বলেছি যে পানিহাটিতে কি হয়েছিল। আমি সেখানে শ্রীল প্রভুপাদ এবং একজন পূজারির সাথে গিয়েছিলাম, তিনি শ্রীল প্রভুপাদকে শালগ্রাম শিলা দিয়েছিলেন। তাই শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের পানিহাটি ধামে মন্দির থাকা উচিত। এখন আমাদের কাছে তা আছে, শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এবং আমি সেখানে গিয়েছিলাম। এটি অত্যন্ত সুন্দর স্থান। এর কাছেই আছে সেই বৃক্ষ যার তলায় নিতাই বসেছিলেন। আসলে শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে গোপ সখারা ছিলেন। কৃষ্ণ লীলায় সেই গোপ সখারা কৃষ্ণ বলরামের সাথে লীলাখেলা করেছিলেন। সেই একজন গোপ সখা গৌর নিতাইয়ের সাথে লীলায় যুক্ত হয়েছিলেন। শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু তাকে খাঁটো করে, কলিযুগের আকারে করে দিয়েছিলেন। তিনি অবিরাম রাম দাস নামে পরিচিত।   

অবিরাম, তিনি তাঁর কৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহের অত্যন্ত ঘনিষ্টভাবে সেবা পূজা করতেন। তিনি সেই শ্রী বিগ্রহের যত্ন নিতেন, অভিষেক করতেন, মালিশ করতেন এবং সব রকম ভাবে সেবা করতেন। সেই সময় এক তান্ত্রিক যোগী সেখানে আসে এবং সে অত্যন্ত হিংসুক ছিল। যেই বৃক্ষের তলায় শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু বসতেন, তিনি সেই স্থানে মায়াপুর কৃষ্ণনগরে এসেছিলেন এবং তিনি তার শক্তি দেখানোর জন্য সেই বৃক্ষকে জ্বালিয়ে দেন। যখন অভিরামকে বলা হল যে নিত্যানন্দ প্রভু যেই বৃক্ষের তলায় বসতেন, সেই বৃক্ষকে এক তান্ত্রিক যোগী পুড়িয়ে দিয়েছে, তখন তিনি সেখানে যান ও অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন। সেই বৃক্ষ যার তলায় শ্রীমান নিত্যানন্দ প্রভু বসতেন, সেখানে তিনি একটি যষ্টি বের করে আনেন এবং মাটিতে গেঁথে দেন। বুম! আর সেই বৃক্ষ আবার বেরিয়ে আসে। তিনি যোগীর কাছে যান, এখন বৃক্ষ পুড়িয়ে দেওয়া তা আর কোন বড় বিষয় নয়, কোন জিনিস সৃষ্টি করা আরও বড় কিছু। সেই যোগী উপলব্ধি করেন যে কি অভূতপূর্ব! এই অবিরাম ঠাকুর কত শক্তিশালী। তিনি কোন কিছু ছাড়াই একটি গাছ সৃষ্টি করে দিলেন। “আমি সেই বৃক্ষ পুড়িয়ে দিয়েছিলাম তা ঠিক আছে কিন্তু তিনি আবার তা সৃষ্টি করে দিলেন।” তারপর তিনি মাথা নত করে বললেন, “দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।” “যদি তুমি হরে কৃষ্ণ জপ করো, তাহলে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।” হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। তারপর সেই তান্ত্রিক যোগী সংকীর্তন আন্দোলনের এক সদস্য হয়ে ওঠেন। হরিবোল! গৌরাঙ্গ! হরি! হরি! হরিধ্বনি! 

এইভাবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর নিত্য মুক্ত পার্ষদদের দ্বারা সংকীর্তন আন্দোলনের প্রচার প্রসার করেছিলেন, শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভুও তা করেছিলেন। কিন্তু এখানে পাশ্চাত্য দেশ সেটি থেকে বঞ্চিত ছিল, তবে কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ এসেছিলেন সেই কৃপা প্রদান করার জন্য। সমগ্র বিশ্বে ১০৮টি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, এখন আমাদের ৬০০ – ৮০০টি কেন্দ্র আছে কিন্তু নিউ অরিলেন্স, নিউ তালবন হলো সেই প্রকৃত ১০৮টি মন্দিরের অংশ। আমি ভাবছিলাম যে শ্রী সম্প্রদায়ে তাদের ১০৮টি মন্দির আছে, যাকে বলা হয় দিব্যদেশ। তারা বলে যে আপনি যদি এই সবকটি মন্দির পরিদর্শন করেন, তাহলে আপনি ভগবদ্ধামে ফিরে যাবেন। সেগুলি সব ভারতে আছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদবর্গ গৌর মন্ডল ভূমিতে মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেগুলিকে বলা হয় শ্রীপাট। আমাদেরও শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ১০৮টি মন্দিরকে, কিছু বিশেষ নামে  অন্ততপক্ষে শ্রীপাট নামে ডাকা উচিত। তা হয়তো দিব্যদেশের মত বা ভিন্ন হবে। শ্রীপাট নিউ অরিলেন্স, শ্রীপাট  নিউ তালবন। ডালাসও একটি শ্রীপাট, শ্রীপাট আটলান্টা। আমাদের শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সেই প্রকৃত মন্দিরগুলি দেখা উচিত। এইগুলি অত্যন্ত বিশেষ। দয়া করে এটি সংরক্ষণ করুন, এটি অত্যন্ত বিশেষ মন্দির, নিউ অরিলেন্স শহরের নগরাধক্ষ এই শহরের চাবিকাঠি শ্রীল প্রভুপাদকে দিয়েছিলেন। এটির একটি ছবি আছে, একটি সার্টিফিকেট আছে, আমি সেটি মন্দিরে দেখেছিলাম। আমি এখানে থাকতে পেরে ও আপনাদের সকলের সাথে সময় অতিবাহিত করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। কোনো প্রশ্ন আছে কি

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (19/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions