Text Size

২০২৩০৫১৩ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

13 May 2023|Duration: 00:15:26|Bengali|Question and Answer Session|New Orleans, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

কোন প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে আমরা এই দেহ নই, আমরা আত্মা। আপনিও আজকে পাঠে তা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আমি কিভাবে এটি অনুভব করতে পারব যে আমি এই শরীর নই আমি আত্মা? আমি সবসময় দেখি কেউ মহিলা, পুরুষ, শ্যাম বর্ণ, ফর্সা, আমেরিকান, ভারতীয় এইসব। আমি কখনো অনুভব করি না যে আমি আত্মা, আমি মনে করি আমি এই শরীর। দয়া করে এই বিষয়ে আলোকপাত করুন।  

জয়পতাকা স্বামী:-  শ্রীল প্রভুপাদ অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গিয়েছিলেন। সেখানে সংবাদপত্রের সাংবাদিক বিমানবন্দরে তার সাথে সাক্ষাৎ করে, তাঁকে বলেছিলেন, “আপনি ভারত থেকে এসেছেন, গরিব দেশ থেকে। আপনি অস্ট্রেলিয়াতে এসেছেন, আমরা ধনী দেশ। আপনি এখানে আমাদের থেকে কি নিতে এসেছেন?” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, “আমি তোমাদের থেকে কিছু নিতে আসিনি, আমি তোমাদেরকে বিড়াল কুকুরের মত জীবনযাপন করা থেকে বাঁচাতে এসেছি।” “তাহলে আপনার মতে আমরা বিড়াল কুকুর?” “হ্যাঁ! কি পার্থক্য আছে? বিড়াল রাস্তায় পড়ে থাকা যা কিছু খেয়ে নেয়, তোমরা হোটেল রেস্তোরায় খাবার খাও। তোমরা চামচ, কাঁটা চামচ, ছুঁড়ি ইত্যাদি দিয়ে খাবার খাও। বিড়াল বা কুকুর যে কোন জায়গায় ঘুমিয়ে পড়ে, আর তোমরা  হয়তো বিছানায় ঘুমাও। বিড়াল কুকুর যেকোন স্থানে মৈথুন ক্রিয়া করে, তোমরা হয়তো তোমাদের গৃহে মৈথুন ক্রিয়া করো। বিড়াল কুকুর তাদের দাঁত, নখ দিয়ে নিজেদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, তোমরা হয়তো বন্দুক, মিসাইল ইত্যাদি যন্ত্র ব্যবহার করো।” 

গতকাল আমি খবরে দেখলাম এক পাগল ব্যক্তি ডালাসের মলে আট জন মানুষকে গুলি করে দিয়েছে এবং পুলিশ তাকে গুলি করেছে ও ৯ জন মানুষ মারা গেছে। কিযাই হোক, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে মানুষ কি অত্যাধুনিক পশু? মনুষ্য হওয়ার অর্থ হচ্ছে কৃষ্ণকে উপলব্ধি করা। এবং এটি উপলব্ধি করা যে আমরা এই শরীর নই। আপনারা গাড়ি চালান, আপনারা সেই গাড়ির খেয়াল রাখেন। তেমনি আপনার শরীর আছে, আপনি তার যত্ন নেন। কিন্তু উপলব্ধি করার এর থেকেও উচ্চতর আনন্দ আছে। আপনি আপনার গাড়িতে পেট্রোল বা ডিজেল ঢালেন, এখন ইলেকট্রিক গাড়িও আছে। আপনি সেগুলিকে প্লাগের সাথে যুক্ত করে চালান। কোনভাবে আপনি আপনার দেহকে পেট্রোলপূর্ন করার জন্য প্লাগে যুক্ত করতে পারবেন না, আপনাকে খাবার খেতে হবে, যা এর জন্য উপযুক্ত, ঠিক তেমনি যদি আপনি উপলব্ধি করেন যে আপনি হলেন জীবাত্মা, তাহলে আপনি উচ্চতর আনন্দ পেতে পারবেন। আসলে আমরা এই দেহ থেকে যে আনন্দ লাভ করি তা দীর্ঘস্থায়ী নয়, এটি বাহ্যিক বিষয়। শ্রীল প্রভুপাদ ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে তার শিষ্যদের বলছিলেন যে, আমি আমার সকল গৃহস্থ অনুসারিদের পরমহংস রূপে দেখতে চাই, তারা যাতে এটি উপলব্ধি করে যে তা ও শরীরের মধ্যে পার্থক্য কি। রাজহংশ দুধ ও জলের মিশ্রণ থেকে দুধ পান করে এবং জল রেখে দেয়, এইভাবে যদি আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে আমরা এই শরীর নই, তাহলে তা হল সারমর্ম, আধ্যাত্মিক বিষয়টি গ্রহণ করা। যেমন আমি বললাম আমার গুরু, তিনি একজন আচার্যের সন্তান ছিলেন। তাই তিনি বলেছিলেন যে আমি চাই আমার সকল গৃহস্থ অনুসারীদেরও আচার্য সন্তান হোক। আজকে আমাদের এখানে আচার্য তৈরির অনুষ্ঠান ছিল, আমাদের এখানে অনেক আচার্য হবেন, আমাদেরকে উপলব্ধি করতে হবে যে আমরা এই শরীরের থেকেও বেশি কিছু, আমরা আত্মা। শারীরিক অভিজ্ঞতা থাকতে পারে কিন্তু আমরা উপলব্ধি করি যে এর থেকেও বেশি কিছু আছে। শ্রীল প্রভুপাদ বারবার পুনরাবৃত্তি করতেন কেন যে, আমরা এই শরীর নই! আমরা এই শরীর নই! আমরা এই শরীর নই! কারণ এই সব কিছু সত্বেও আমরা তবুও ভাবি যে আমরা এই শরীর। আমাদের শরীরে ইন্দ্রিয় আছে। এই ইন্দ্রিয় সমূহের কিছু নির্দিষ্ট তৃপ্তি সাধনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ইন্দ্রিয় আপনাকে কখনো সন্তুষ্ট করবে না। তারা কেবল আপনাকে বলবে— আমাকে তৃপ্ত করা দরকার। আমার খাবার দরকার, আমার এই দরকার, আমার ওই দরকার। ঠিক যেমন রক এন্ড রোল গ্রুপ তারা একটি গান গেয়েছিল, “আমি কোন সন্তুষ্টি পাই না —  কোন তৃপ্তি নেইসন্তুষ্টি আসে পারমার্থিক উপলব্ধি থেকে। কেবল এই সম্পর্কে ভাবার চেষ্টা করুন, তাহলে আপনি অনুভব করতে পারবেন যে আপনি এই শরীর নয়। আমি তা অনুভব করেছিলাম। যেমন ১৯৭২ বা ৭৩ খ্রিস্টাব্দে আমার খুব জ্বর হয়েছিল, আমি খুব কষ্ট অনুভব করছিলাম, তখন আমি বৃন্দাবনে শ্রীল প্রভুপাদের ভক্তিরসামৃতসিন্ধু থেকে দেওয়া একটি প্রবচন শুনছিলাম। তাতে আমি এত আনন্দিত অনুভব করেছিলাম। শারীরিকভাবে আমি কষ্ট পাচ্ছিলাম কিন্তু আমি আনন্দ অনুভব করছিলাম। আমি অনুভব করছিলাম যে আমি এই শরীর নই। এটি খুব একটা কঠিন কিছু নয়। হরে কৃষ্ণ! আর কোন প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- আমি সব থেকে বড় মূর্খ, আপনি যদি আমার হাত না ধরে থাকেন তাহলে আমি আধ্যাত্মিকভাবে অগ্রসর হতে পারবো না। আমি আপনার সাথে হিমালয় পর্বতের অনেক মিল দেখতে পাই। মানুষেরা যারা হিমালয়ে চড়ে, তারা নত হয়। আপনাকে দেখে, যখন কেউ একইভাবে আপনার আশ্রয়ে আসে তখন তারা বিনীত হয়। তারা স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনি উল্লেখ করেছিলেন যে, গোপীরা এবং রাধারানী গাছের সাথে কথা বলেন। এর কি কোন আধ্যাত্মিক মর্মার্থ আছে

জয়পতাকা স্বামী:-  অবশ্যই কৃষ্ণ গাছের ভাষাও জানেন। আমার মনে হয় সেই বিষয়টি হল গোপীরা কৃষ্ণকে দর্শন করার জন্য এত উন্মত্ত যে এমনকি তাঁরা বৃক্ষদের জিজ্ঞাসা করছেন যে তিনি কোথায়। এটি কৃষ্ণের প্রতি তাদের বিরহভাব প্রদর্শন করে যে তাদের কৃষ্ণকে দর্শন করার বাসনা কত গভীর। আপনি কি কৃষ্ণের প্রতি বিরহ অনুভব করছেন

ভক্ত:- আমি তাঁকে সেবা করার চেষ্টা করছি। 

জয়পতাকা স্বামী:- আপনিও বিচ্ছেদ অনুভব করতে পারেন, কেননা আপনি এখনো কৃষ্ণকে দেখেননি। 

প্রশ্ন:- কিন্তু আমরা তাঁকে শ্রীবিগ্রহ রূপে দর্শন করি।  

জয়পতাকা স্বামী:-  তা সহায়ক! যেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন জগন্নাথদেবকে দর্শন করতেন, তখন তিনি তাঁকে ব্রজেন্দ্রনন্দন কৃষ্ণ, নন্দ মহারাজের পুত্রর রূপে দর্শন করতেন। তা তাঁকে এত আনন্দ প্রদান করত। কৃষ্ণ সেবায় এত আনন্দ আছে, এমনকি আপনি গাছেদের সাথেও কথা বলতে পারেন। আপনাকে গাছেদের সাথে কথা বলার জন্য সেই স্তরে থাকতে হবে। ঠিক? তিনি উন্মাদ ছিলেন না, তিনি কৃষ্ণের জন্য পাগল ছিলেন। আমরাও যদি কৃষ্ণের প্রতি সেই উন্মত্ততার এক বিন্দু পেতে পারি, তাহলে আমরা অসীম আনন্দ অনুভব করতে পারব। শ্রীল রূপ গোস্বামী বলেছিলেন, আমি লক্ষ লক্ষ মুখ ও লক্ষ লক্ষ কান দিয়ে হরে কৃষ্ণ নামজপ করতে ও তা শ্রবণ করতে চাই। হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।  

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (7/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions