Text Size

২০২৩০৫১২ আগমনী প্রবচন

12 May 2023|Bengali|Arrival Address|New Orleans, USA

প্রদত্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ ইস্‌কন নিউ অরলেন্স, লউসিয়ানা, আমেরিকায় প্রদান করেছেন।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

এটি চৈতন্য লীলা পাঠের পরবর্তী সংযোজিত অংশ: 

জয়পতাকা স্বামী:- আমি যেসব গ্রন্থে চৈতন্য লীলা আছে, সেই সবগুলো এক গ্রন্থে সংকলিত করার চেষ্টা করছি। যেমন কৃষ্ণ বইতে শ্রীমদ্ভাগবতমের দশম স্কন্ধের কৃষ্ণলীলা বর্ণিত আছে। এমন চৈতন্য লীলাও অনেক গ্রন্থে আছে, আর আমি সেই সব গ্রন্থ থেকে সব লীলা নিয়ে একটি চৈতন্য গ্রন্থ সংকলিত করতে চাই। এবং আমি প্রায় এই গ্রন্থের শেষের দিকে, আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিভিন্ন লীলা যেমন তরুণ বয়সে চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা, তাঁর সংকীর্তন, সন্ন্যাস গ্রহণ, জগন্নাথপুরীতে যাওয়া, সমগ্র ভারত ভ্রমণ, বৃন্দাবনে দর্শন করে ফিরে এসে অবশেষে জগন্নাথপুরীতে তার অন্তলীলাগুলি সংকলন করছি। 

আমি যা বলছি আপনারা কি তা বুঝতে পারছেন? কিছু বছর আগে আমার স্ট্রোক হয়েছিল এবং আমার অর্ধেক মুখ প্যারালাইজড। আমার কথা খুব একটা স্পষ্ট নয় তাই পুনরাবৃত্তি করা হয়। আমি জানিনা আপনারা সকলে বুঝতে পারছেন নাকি, তবে আমি বুঝতে পারছি। হ্যাঁ! 

যাই হোক, আমরা দেখি যে চৈতন্য লীলায় কত অমৃত আছে এবং তাই আমরা চাই যে প্রত্যেকের শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করা উচিত। যারা কাজ করে, যেমন ট্যাক্সিতে যাওয়ার সময় তারা গ্রন্থগুলির অডিও টেপ রেকর্ডার চালাতে পারে, রান্না করার সময় আপনি গ্রন্থের অডিও শুনতে পারেন। যাদের নামহট্ট ও ভক্তিবৃক্ষ আছে, তারা তাদের পরিবারের সাথে গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারে। এখন ভক্তিশাস্ত্রী, ভক্তিবৈভবে সমষ্টিগত পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে। যেমন ভক্তিশাস্ত্রীতে তারা আপনাকে আগে থেকেই ৫০টি প্রশ্ন দেবে, আর সেই প্রশ্ন থেকে তারা ২০টি প্রশ্ন করবে এবং আপনি যে কোন ৮টির উত্তর দিন! এবং আপনি যদি ৮টি প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে দিতে পারেন, তাহলে সার্টিফিকেট পাবেন! প্রকৃতপক্ষে ১৯৭৫-৭৬ সালে আমি যখন ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রী পেয়েছিলাম, তাতে আমি একটি পরীক্ষা দিয়েছিলাম। তারা আমাকে সম্মান জানিয়ে ভক্তিবৈভব, ভক্তিবেদান্ত ও অন্যান্য ডিগ্রী দিতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি বলেছি না! আমি সকল ভক্তদের কাছে এক ভালো দৃষ্টান্ত হতে চাই, তাই আমি গ্রন্থগুলি আবার পড়েছি এবং সব পরীক্ষা দিয়ে ভক্তিবৈভব ডিগ্রী লাভ করেছি। তারা আমাকে A দিয়েছে! এখন আমি আমার ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রির জন্য পরীক্ষা দিচ্ছি। আমি ইতিমধ্যেই সপ্তম স্কন্ধের পরীক্ষা দিয়েছি। ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রি ৭,,, ১০, ১১, ১২ স্কন্ধ নিয়ে করা। আমি চাই প্রত্যেক ভক্ত, বিশেষত আমার শিষ্যরা যাতে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ে ও অধ্যয়ন করে। আমি শুনলাম যে এখানে অনেক ভক্তরা দ্বিতীয় দীক্ষা নেবে, কিন্তু তাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রি নেই। কিন্তু আমি বলেছি যে যারা দ্বিতীয় দীক্ষা চায়, তাদের ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রী থাকা উচিত। যদি কেউ বিশেষভাবে সুপ্রস্তাবিত হয়, তাহলে তারা একটি সমষ্টিগত পরীক্ষা দিতে পারে। যদি আপনি গ্রন্থ পড়েন, তবে পরীক্ষা দেওয়া কঠিন হবে না। কিন্তু আপনি যদি গ্রন্থ না পড়েন, তাহলে আপনাকে জল্পনা-কল্পনা করতে হবে, আর যদি মানসিক কল্পনা করার চেষ্টা করেন ও তারা যদি তা ধরে ফেলে তবে আপনি মুশকিলে পড়বেন! তাই আপনি যদি গ্রন্থ পড়েন, তাহলে তা আপনার জন্য কঠিন হবে না। আপনি বুঝতে পারবেন যে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থে কত অমৃত আছে। অমৃত! অমৃত! 

এখানে আপনারা অত্যন্ত সুন্দর কীর্তন করেছেন, আমি অনেক নামহট্ট ভক্তদের দেখেছি। আপনারা নামহট্টে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়তে পারেন। শ্রীল প্রভুপাদ মায়াপুরে ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে একটি প্রবচন দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে আমাদের দশ হাজার আচার্য থাকা উচিত। আচার্য বলতে তিনি দীক্ষাগুরুর কথা বলেছেন। তারপর তিনি বলেছিলেন ১০ হাজার থেকে তার সংখ্যা ১লক্ষ হওয়া উচিত। ১ লক্ষ থেকে আমাদের ১০ লক্ষ আচার্য হওয়া উচিত, তারপর আবার ১০ লক্ষ থেকে এক কোটি আচার্য হওয়া উচিত। এইভাবে আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ভবিষ্যৎবাণী পূর্ণ করতে পারব, প্রতি নগর ও গ্রামে তাঁর পবিত্র নাম উচ্চারিত হবে, আমি নবম স্কন্ধ পড়ছিলাম, সেখানে অপ্সরা উর্বশী রাজাকে বলছিলেন যে তিনি তার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, রাজার নারীর প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত নয়, এই বলে তিনি নারীদের নিন্দা করছিলেন। সেখানে তাৎপর্যে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে পুরুষ বা মহিলা, তারা যদি কৃষ্ণভাবনাময় হয়, তাহলে তাদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই। তাই আমি আশা করি যে এখানে ভবিষ্যতের অনেক আচার্য আছে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত করার জন্য মানুষদের শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ সম্বন্ধে জানতে হবে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “কিবা বিপ্র কিবা ন্যাসী শূদ্র কেনে নয়। যে কৃষ্ণতত্ত্ব বেত্তা সেই গুরু হয়।।” (চৈ চ মধ্য ৮.১২৮) তাই কোন না কোনভাবে আপনাকে কৃষ্ণতত্ত্ব জানতেই হবে। শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর গ্রন্থে কৃষ্ণতত্ত্ব প্রদান করেছেন। অর্থাৎ আপনি তত্ত্ব সম্বন্ধে ভালোভাবে জানলে প্রচার বিস্তার করতে পারবেন। 

আমরা দেখেছি যে টেক্সাসের মানুষেরা ও আমার মনে হয় লউসিয়ানাতেও মানুষেরা অত্যন্ত খোলা মনের। যেই ডাক্তার আমার দেখভাল করছিলেন, তাকে আমি শ্রীল প্রভুপাদের কিছু গ্রন্থ দিয়েছিলাম, তিনি বলছিলেন যে পূর্বে তিনি ভগবানের কাছে সবসময় এই ওই দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করতেন কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ার পর তিনি বুঝেছেন যে তার ভগবানের সেবা প্রার্থনা করা উচিত। তিনি ভারতীয় নন। তিনি জানে না যে অর্জুন শব্দটি কিভাবে উচ্চারণ করতে হয়। তাই ডক্টর বিনয় গৌরচন্দ্র দাস বলেছেন ইংরেজি শব্দ R(আর) এবং জুন মাস নিয়েঅর্জুনতিনি তার জন্য এটি সহজ করে বলছিলেনঅর্জুননয়তো তার জন্য এটি একটি অন্য দেশের শব্দ, তাই তিনি তা বুঝতে পারছিলেন না। এইভাবে আপনারা আপনাদের প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মীদের ধীরে ধীরে কৃষ্ণভাবনামৃতের জ্ঞান প্রদানের চেষ্টা করুন। যেমন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, “যারে দেখ, তারে কহকৃষ্ণ’-উপদেশ।আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ যে আজ সন্ধ্যায় আপনারা সকলে অত্যন্ত ধৈর্যসহ উপস্থিত আছেন এবং আজ চারটে পর্যন্ত আমি আমার দুপুরের প্রসাদ পাইনি আর এখনও  রাতের প্রসাদও পাইনি। আপনারা সকলেও নিশ্চয়ই ক্ষুধার্ত! আমি জানিনা আমার পেছনে কিসের ঘন্টি বাজজে? এটি হরিধ্বনী না! যাইহোক, আমি এখানে নিউ অরিলেন্সে থাকতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি, তারা আমার জন্য এত সুন্দর সুব্যবস্থা করে দিয়েছে, হয়তো নিউ অরিলেন্স আমার হেডকোয়াটার হওয়া উচিত, আমি সকল ভক্তদের দেখে খুব আনন্দিত হয়েছি। আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ! 

আমি মায়াপুরের বৈদিক তারামণ্ডলী (TOVP) দেখতে চাই, সেখানে আমি পশ্চিমভাগের প্রদর্শনীর দিকটি দেখছি, যেখানে শ্রীল প্রভুপাদের তত্ত্ব প্রদর্শিত হবে। তিনি বলছিলেন যে কিভাবে জীবন আসে জীবন থেকে এবং তিনি নাস্তিকদের তত্ত্ব খণ্ডন করেছিলেন। আমি শুনেছি যে নিউ তালবণ ও নিউ অরিলেন্সের অনেকেই অনুদানের জন্য প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়েছেন, তবে অনেকে দেননি। একটি বিষয় হচ্ছে যদি আপনি কিছু প্রদান করেন, তাহলে দেখবেন আপনি যদি বলেন যে আপনি আমার দীক্ষিত, শিক্ষা, আশ্রিত বা আকাঙ্ক্ষী শিষ্য বা হিতাকাঙ্খী এমনকিছু, তাহলে আপনার অর্ধেক অনুদান সেই পশ্চিমভাগের প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে যাবে। বিশ্বম্ভর ব্যাসের মা এই বিষয়টি দেখছেন। তিনি বলছিলেন যে ১৫০,০০০ ডলারেরও বেশি আমার শিষ্যরা দিয়েছে কিন্তু সেই অনুদান থেকে কিছু পশ্চিমভাগের প্রদর্শনীতে দেওয়া হয়নি। তারা সাধারণত জিজ্ঞাসা করে না যে আপনি কার শিষ্য, আপনাকে লিখতে হবে যে আপনি আমার শিক্ষা বা দীক্ষা শিষ্য এবং তার মাকে বলুন তাহলে এইভাবে তা হবে। আমরা গল্লাঘের এণ্ড অ্যাসোশিয়েট থেকে কিছু নির্দেশ পেয়েছি যে প্রদর্শনী কিভাবে এমনভাবে প্রস্তুত করা যাবে যাতে দর্শকরা সবথেকে বেশি প্রভাবিত হবে। আমরা ইংরেজি, বাংলা ও বিভিন্ন ভাষায় তা প্রদর্শন করব। নিউ অরিলেন্সে গল্লাঘের এণ্ড অ্যাসোশিয়েটের একটি প্রদর্শনী আছে। তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের উপর করা। তারা যেকোন বিষয়ে পরামর্শ দেয়। তার জন্য তারা অনেক মূল্য চায়! তাই আমি দেখতে চাইছিলাম যে তারা কিভাবে সবকিছু করে। আমি এখানে দুই ঘন্টা থাকবো, এর মধ্যেই আমাকে মিউজিয়ামটি দেখতে যেতে হবে। তাই কৃপা করে আমাকে ক্ষমা করবেন। হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (12/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions