Text Size

২০২৩০৫০৯ প্রশ্ন-উত্তর পর্ব

9 May 2023|Bengali|Question and Answer Session|Dallas, USA

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 
হরি ওঁ তৎ সৎ

কোন প্রশ্ন আছে? আমাদের দেরী হয়েছে বলে দুঃখিত। 

প্রশ্ন:- কৃষ্ণের কাছে যাওয়ার জন্য দীক্ষিত হওয়া কি গুরুত্বপূর্ণ?

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণ যদি আপনার কাছে আধ্যাত্মিক গুরুদেব পাঠান এবং আপনি যদি তা গ্রহণ করেন, তাহলে তা অত্যন্ত ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু যদি মিথ্যা অহংকারের কারনে আপনি তা গ্রহণ না করেন, তাহলে এটি একটি বাঁধা হতে পারে। কিন্তু আপনার সাথে যদি কোন পরম্পরাভিত্তিক গুরুর দেখা না হয়, তাহলে আপনি হরে কৃষ্ণ জপ করতে পারেন, সেটা ঠিক আছে। তোমার কত বছর বয়স? (প্রায় ১০) ভক্তরা যাদের ৮ বছরের উর্দ্ধে বয়স, তারা আকাঙ্খী হতে পারে। যখন তাদের ১১ বছরের উর্দ্ধে বয়স হবে, তখন তারা আশ্রিত হতে পারে এবং যাদের ১২ বছরের উর্দ্ধে বয়স, তারা আশ্রিত হওয়ার পরে দীক্ষা গ্রহন করতে পারে। কারণ আমরা মনে করি যে কেউ অন্তত ১২ বছর বয়সী হলে, তাহলে দীক্ষা গ্রহণের গাম্ভীর্য বুঝতে পারবে।

প্রশ্ন:- যখনই আমি কোন পাঠ শুনি বা প্রত্যেকদিন অধ্যয়ন করি, সেই সময় আমি কৃষ্ণভাবনাময় অনুভব করি। কিন্তু মন এত চঞ্চল যে যখন আমি অন্য কারো সাথে কথা বলছি বা ব্যক্তিগত কোন সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখি আমরা সেই ভাবনায় ভাবিত হই। তাই আমরা অহংকার কেন্দ্রীভূত অবস্থা সরিয়ে কৃষ্ণকেন্দ্রীক দৃঢ় চেতনা কিভাবে রাখতে পারবো?

জয়পতাকা স্বামী:- কৃষ্ণের সাথে বিভিন্ন সম্পর্ক হয় — শান্ত, দাস্য, সক্ষম, সম্মানের দ্বারা তারা নারায়ণের সাথে বৈকুণ্ঠে তা উপলব্ধি করে। কৃষ্ণের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অভিভাবকের মতো সম্পর্ক বা প্রেম সঙ্গিনীর সম্পর্ক থাকে, আমাদের বর্তমান শরীরের নয়, আমাদের হয়তো পুরুষের শরীর থাকতে পারে কিন্তু আমাদের হয়তো কৃষ্ণের সাথে গোপী বা মায়ের সম্পর্ক থাকতে পারে। আপনার হয়তো মহিলার শরীর থাকতে পারে কিন্তু আপনি পিতা বা বন্ধুর সম্পর্কে থাকতে পারেন। আমাদের বর্তমান শরীর প্রকাশ করে না যে কৃষ্ণের সাথে আমাদের কি সম্পর্ক আছে, কিন্তু শ্রীমদ্ভাগবতম, চৈতন্য চরিতামৃতের থেকে আমরা বুঝতে পারি যে কৃষ্ণের সাথে বিভিন্ন সম্পর্ক থাকে এবং আমরা হয়তো এরই কোন একরকম সম্পর্কের প্রতি আসক্ত, তাতে হয়তো সময় লাগবে। কিন্তু ধীরে ধীরে শ্রবণের মাধ্যমে, ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা কৃষ্ণভাবনায় অগ্রগতি লাভ করি এবং আমরা বিধি মার্গ থেকে রাগ মার্গের দিকে যাই। এইগুলি ধীরে ধীরে এবং স্বাভাবিকভাবে ঘটে। আপনাকে এই নিয়ে চিন্তা করতে হবে না যে আমি কিভাবে এইগুলি অর্জন করব। এটি স্বাভাবিকভাবেই ঘটে, কিন্তু তাতে সময় লাগে। যদি আমাদের কোন মিথ্যা অহংকার, আসক্তি থাকে তাহলে আমাদের এই সবকিছু ভুলে যাওয়া উচিত। “সর্বোপাধিবিনির্মুক্তং তৎপরত্বেন নির্মলম্। হৃষীকেন হৃষীকেশ-সেবনং ভক্তিরুচ্যতে।।” [চৈ চ মধ্য ১৯.১৭০] সেই সমস্ত ধরনের উপাধি, যার দ্বারা আমরা আমাদের দেহকে চিহ্নিত করি, আপনি অহংকার সম্পর্কে বললেন, আমরা সেগুলি পরিশুদ্ধ করি। এইভাবে আমাদের চেতনা পরিশুদ্ধ হয় এবং যতক্ষণ না আমরা সেই শুদ্ধ চেতনায় আসছি, ততক্ষণ আমরা বাস্তবিকভাবে কৃষ্ণের সম্পূর্ণ প্রশংসা করতে সক্ষম হবো না। আমরা আমাদের সকল ইন্দ্রিয় ইন্দ্রিয়ের অধীশ্বর ঋষিকেশের সেবায় নিযুক্ত করি এবং তা ধীরে ধীরে আমাদের চেতনাকে পরিশুদ্ধ করে।

প্রশ্ন:- আমি আমার কিছু অভক্ত বন্ধুদের প্রচার করছি এবং আমি ভাবছিলাম কোন স্তরে আমার তাদেরকে মন্দিরে নিয়ে আসা উচিত, কারণ আমি চাইনা তারা কোন অপরাধ করুক বা এরকম কোন কার্য করুক।

জয়পতাকা স্বামী:- আপনি আপনার বন্ধুদের সম্পর্কে ভালো জানবেন যে কখন তারা তৈরি। হয়ত প্রথমে তাদেরকে সেখানে যখন কেউ থাকবে না, সেই সময় নিয়ে যান। কেবল শ্রীবিগ্রহ দর্শন করাতে এবং বিভিন্ন জিনিস বর্ণনা করতে। তারপর কেউ যদি পাঠ দেয়, আপনি জানেন যে তারা হয়তো এমন কিছু বলবেনা যা তাদের মনে অত্যন্ত আঘাত আনবে। যেমন আটলান্টাতে আপনাদের তিনটে বাড়ি আছে, সেই শেষের বাড়িতে, নিচেতে আমার মনে হয় সেখানে তাদের পাঠ দেওয়া যেতে পারে এবং আরো অনেক কিছু করা যেতে পারে। আর কি বলা যায়, যেখানে পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত। আপনার নাম কি? (রঙ্গ দেবী) এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ! এবং আপনার বন্ধুরা? (আমার মা, নেদারল্যান্ড থেকে পল্লবী দেবী দাসী) সে কি পল্লবী? (হ্যাঁ!) হরে কৃষ্ণ আর কোন প্রশ্ন আছে?

প্রশ্ন:-  কিভাবে হরে কৃষ্ণ জপে অগ্রগতি লাভ করা যায়?

জয়পতাকা স্বামী:- যদি আপনি জপ করেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি উন্নতি লাভ করতে পারবেন। আমরা জপ করি এবং অপরাধ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি। আপনি কি দশবিধ অপরাধ সম্পর্কে শুনেছেন? আমরা সেই অপরাধগুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি তাতে অগ্রসর হবেন। এছাড়াও যেহেতু আমাদের দিনে ২৪ ঘন্টা জপ করার সেই রুচি নেই, তাই যতটা সম্ভব আমরা অন্যান্য সেবা অনুশীলনও করি। নয় ধরনের ভক্তিমূলক সেবা আছে। আপনি যদি পারেন তাহলে শ্রবণ এবং জপ-কীর্তন করুন, তারপর অন্যান্য কিছু করুন। ঠিক আছে? শেষ প্রশ্ন।

প্রশ্ন:- আপনি আজকে পাঠে উল্লেখ করেছেন যে কিছু কিছু ব্যক্তিরা কৃষ্ণের কাছে জড়জাগতিক সুযোগ-সুবিধার জন্য যায় এবং আসল আশীর্বাদ হল কৃষ্ণপ্রেম। আমরা কিভাবে কৃষ্ণের কাছে জড়জাগতিক ইচ্ছা এবং কৃষ্ণপ্রেম চাওয়ার বিষয়ে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন কৃষ্ণের কাছে জড়জাগতিক সুবিধা চাওয়া মানে হল যেমন কৃষ্ণের সাথে ব্যবসা করা — “আমি তোমার জন্য এত সেবা করেছি, তাই তুমি আমাকে কিছু দাও।” আমরা কৃষ্ণের সাথে ব্যবসা করতে চাই না, আমরা কৃষ্ণের সেবা করতে চাই। ভক্তিযোগ মানে কৃষ্ণের সেবা করা। কৃষ্ণ প্রহ্লাদ মহারাজকে বলেছিলেন, “তুমি আমার কাছে যা খুশি চাইতে পারো।” তিনি বললেন, “আমি এখানে আপনার সাথে ব্যবসা করছি না, তাহলে আপনি কেন আমাকে প্রলোভন দিচ্ছেন? কিন্তু যদি আমাকে কিছু চাইতেই হয়, তাহলে দয়া করে আমার পিতাকে কৃপা করুন।” এইভাবে আমরা কৃষ্ণের কাছে কোন জড়জাগতিক কিছু চাই না। তিনি আমাদেরকে কোনোভাবে তা প্রদান করেন। আমাদের কাছে যা কিছু আছে তা তাঁরই দেওয়া, এখন আমরা তাঁকে পরিশোধ করতে চাই। আমরা তাঁর জন্য কিছু করতে চাই এবং এইভাবে ঠিক যেমন আপনার সন্তান আছে, তারা যদি আপনার কাছে আসে এবং বলে যে, “বাবা আমি কি তোমার জন্য কিছু করতে পারি?” আপনি ভাববেন তারা কি চায়? হ্যাঁ! তেমনি আসলে আপনি কিছু চান না, আপনি কৃষ্ণকে ভালবাসতে চান এবং কৃষ্ণ হয়তো আপনার পরীক্ষা নেবেন। কৃষ্ণ আপনার পরীক্ষা নেবেন! হয়তো সরাসরিভাবে নয়তো মায়ার দ্বারা। কিন্তু আমরা যদি বুঝতে পারি যে কৃষ্ণ আমার হৃদয়ে আছেন, তিনি আমার সমস্ত ভাবনা জানেন, তাহলে আমরা বুঝতে পারব যে আমরা কৃষ্ণকে প্রতারিত করতে পারব না। এবং কৃষ্ণের সেবা করার মাধ্যমে আমরা আধ্যাত্মিক জগতে তার সাথে নিত্য থাকতে পারবো। আমরা যদি এই জড় জগতে থাকতে চাই, আমরা ভালো সুযোগ-সুবিধা চাই, তাহলে কৃষ্ণ তা আমাদেরকে এমনিতেই প্রদান করেন। আসলে আমাদের কৃষ্ণের প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত, এই সমস্ত জড়জাগতিক বিষয়ের প্রতি নয়।

ঠিক আছে?

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions