শ্রী শ্রীমদ্ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ কর্তৃক প্রদত্ত গঙ্গাসাগর মেলা বার্তা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে, শ্রী মায়াপুর ধাম, ভারত
সমস্ত গৌরব গঙ্গাসাগরের! কপিল মুনির জয়! অতএব এই গঙ্গাসাগর হল একটি পবিত্র ভূমি। এখানে গঙ্গা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে। এবং রাজা ভাগীরথ, তার পূর্বপুরুষদের রক্ষার্থে গঙ্গাকে নিন্মে আনেন। তার পূর্বপুরুষগণ কপিল মুনির কাছে অপরাধ করেছিল। ফলস্বরূপ, তারা পুঁড়ে ছাই হয়ে যায়। এবং তাদেরকে রক্ষা করার উপায় ছিল গঙ্গাকে নিন্মে নিয়ে আসা এবং তারপর গঙ্গার জল তাদের ভস্ম স্পর্শ করলে, তারা মুক্তিপ্রাপ্ত হবে। কপিল মুনি হলেন নারায়ণের এক অবতার। এবং বৈকুন্ঠ লোকে তার নিজস্ব জগৎ আছে। তার মাতা দেবহুতি, তার শরীর পরিত্যাগের সময়, আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে গেছেন। এবং শ্রীমদ্ভাগবতমে মাতা দেবহতি ও কপিল মুনির প্রশ্ন উত্তর লিপিবদ্ধ আছে। যা পারমার্থিক শঙ্খ তত্ত্বের সার বিশ্লেষণ করে। তাই, লোকেরা মকর সংক্রান্তির এই পবিত্র দিন উদযাপন করার জন্য গঙ্গাসাগরে আসেন। এবং সেই পবিত্র স্থানে ইস্কন একটি মন্দির নির্মাণ করছে। মকর সংক্রান্তি উৎসবের দিনে, তারা প্রসাদ বিতরণ করেছে। এবং তারা চায় এই স্থানটি সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে পরিচিত এবং মহিমান্বিত হোক। এখানে কপিলমুনি নিত্য বিরাজমান। এবং তাই এই পবিত্র স্থানে, আপনি কপিল মুনির দর্শন লাভ করতে পারেন, যিনি হলেন... দেবহুতি এবং কর্দম মুনি হলেন কপিল মুনির মাতা পিতা। এবং কপিল মুনি সেই শঙ্খ তত্ত্ব প্রদান করেছেন, যা আমাদেরকে ব্যাখ্যা করে, কি ভাবে এই জড় শরীর সৃষ্টি হয়েছে এবং ইত্যাদি। এবং তিনি সবিশেষবাদী ধারণা বর্ণনা করেছেন যে, কিভাবে সর্ব কারণের উৎস হলেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান। আমরা অত্যন্ত খুশি যে ইস্কন গঙ্গাসাগরের সেই স্থানে একটি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমরা আশা করি যে সকল মানুষেরা গঙ্গাসাগরে যাত্রা করে, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে বিশেষ ফল লাভ করবে। এই পবিত্র ভূমি কয়েক হাজার বছর আগে গঠিত হয়েছিল। আমরা আশা করি যে এই কলিযুগে মানুষেরা হরে কৃষ্ণ মন্ত্র: হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জপ কীর্তন করবেন। এই কলি যুগের জন্য মহামন্ত্র হল বিশেষ যজ্ঞ। তাই, যখন আপনি গঙ্গাসাগরে স্নান করছেন, অথবা কোনো কার্যকলাপ করছেন, তখন দয়া করে কৃষ্ণের পবিত্র নাম জপ করুন। পবিত্র নাম জপ করার মাধ্যমে সমস্ত কিছু পবিত্র, পরিশুদ্ধ হয়ে যায়। আমি অত্যন্ত খুশি যে মানুষেরা তীর্থ ভ্রমণে যাচ্ছেন এবং এই পবিত্র স্থানে যাত্রা করছেন। আমাদের মনুষ্য জীবন সফল হয় পবিত্র ভূমিতে যাত্রা করার মাধ্যমে এবং আমরা হরে কৃষ্ণ জপ করি। যখন আমরা পবিত্র তীর্থে ভ্রমণ করি, তখন আমরা ভক্তদের কথা শ্রবণ করার চেষ্টা করি। আমরা বুঝতে পারি যে এই মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য কি? মনুষ্য জীবন হল জন্ম, মৃত্যু, জরা ব্যাধি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য। হয়তো মানুষেরা মনুষ্য জীবনের এই প্রাথমিক অসুবিধাগুলির সমাধান করার প্রচেষ্টা করে না। তাই তারা এখনো পর্যন্ত বারংবার জন্মগ্রহণ করছে। আমাদের উচিত কপিল মুনি, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শ্রীপাদপদ্মে আত্মসমর্পণ করা। এইভাবে, প্রনতি নিবেদন করার মাধ্যমে, পবিত্র নাম জপ কীর্তন করার মাধ্যমে আমরা সমস্ত সফলতা অর্জন করতে পারি। হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/ হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে। কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ, সমগ্র বিশ্বে গঙ্গাকে প্রসিদ্ধ করেছেন। তিনি সনাতন ধর্মের প্রচার করেছেন এবং সমগ্র বিশ্বে তা ছড়িয়ে দিয়েছেন ও এর সাথে ভক্তিযোগের পন্থাটি প্রসিদ্ধ হয়েছে। ভগবদ্গীতা যথাযথ — একটি গ্রন্থ যা যুবকদের বিশ্বাসি করিয়েছে। আমার মনে হয়, আপনারা এখান থেকে (গঙ্গাসাগরে) একটি বই সংগ্রহ করতে পারেন। এছাড়াও আমরা রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ ওনারা পবিত্র তীর্থের উন্নয়নে অনুদান দিয়েছেন এবং তারা তীর্থযাত্রীদের জন্য বিভিন্ন উন্নতিবিধান করেছেন। আমি রাজ্য সরকারকে তাদের পরিকল্পনা এবং সেবা ভাবের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে চাই।
হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants