মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ২.৩.২০
বিলে বতোরুক্রমবিক্রমান্ যে
ন শৃণ্বতঃ কর্ণপুটে নরস্য।
জিহ্বাসতী দার্দুরিকেব সূত
ন চোপগায়ত্যুরুগায়গাথাঃ।।
অনুবাদ:- যে ব্যক্তি ভগবানের শৌর্য এবং অদ্ভুত কার্যকলাপের কথা শ্রবণ করেনি এবং ভগবানের গুণগাথা কীর্তন করেনি, তার কর্ণরন্ধ্র সর্পের গর্তের মতো এবং তার জিহ্বা ভেকের জিহ্বার মতো।
শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক তাৎপর্য:- ভগবানের প্রেমময়ী সেবা সম্পাদিত হয় দেহের প্রতিটি অঙ্গের দ্বারা। এটি হচ্ছে আত্মার চিন্ময় শক্তি; তাই ভগবদ্ভক্ত সর্বতোভাবে এবং সম্পূর্ণরূপে ভগবানের সেবায় যুক্ত থাকেন। ভগবানের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার ফলে দেহের ইন্দিয়গুলি যখন পবিত্র হয়, তখন ভগবানের সেবায় যুক্ত হওয়া যায় এবং সবকটি ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে ভগবানের সেবা সম্পাদন করা যায়। প্রকৃতপক্ষে ইন্দিয়গুলি যতক্ষণ ইন্দ্রিয়ের তৃপ্তি সাধনে ব্যবহার করা হয়, ততক্ষণ ইন্দ্রিয়মূহ এবং তাদের কার্যকলাপ অপবিত্র বা জড় বলে বিবেচনা করা হয়। বিশুদ্ধ ইন্দ্রিয়সমূহ ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের ব্যাপারে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে সম্পূর্ণরূপে ভগবানের সেবায় যুক্ত হয়। ভগবান সমস্ত ইন্দ্রিয় সমেত পরম ঈশ্বর, আর তাঁর সেবক যারা তাঁরা বিভিন্ন অংশ তারাও সেই সমস্ত ইন্দ্রিয় সমন্বিত। ভগবৎ-সেবা ইন্দ্রিয়সূহের সর্বতোভাবে শুদ্ধ উপযোগ, যে কথা শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত হয়েছে। ভগবান পূর্ণ ইন্দিয়ের দ্বারা উপদেশ দান করেছিলেন এবং অর্জন পূর্ণ ইন্দ্রয়ের দ্বারা সেগুলি গ্রহণ করেছিলেন, এবং তার ফলে গুরু এবং শিষ্যের মধ্যে পূর্ণ অর্থ সমন্বিত এবং যুক্তিসঙ্গত জ্ঞানের আদর্শ বিনিময় হয়েছিল। গুরুদেব পারমার্থিক জ্ঞান শিষ্যকে বৈদ্যুতিক আবেশের মতো দেন না, যা মূর্খ প্রচারকেরা অনেক সময় অজ্ঞতাবশত দাবী করে। সবকিছু অর্থবহ এবং যুক্তিসঙ্গত, এবং গুরু ও শিষ্যের মধ্যে বিচারের আদান-প্রদান তখনই সম্ভব হয় যখন শিষ্য বিনীতভাবে সেই যথার্থ জ্ঞান গ্রহণে আগ্রহী হয়। শ্রী চৈতন্য চরিতামৃতে বলা হয়েছে যে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা বুদ্ধিমত্তা এবং পূর্ণ বিচার সহকারে গ্রহণ করা উচিত, যাতে তাঁর মহান উদ্দেশ্য যুক্তিসঙ্গতভাবে হৃদয়ঙ্গম করা যায়।
কলুষিত অবস্থায় জীবের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গুলি সর্বদা জড়জাগতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকে। কর্ণ যদি শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা অথবা শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণ করার মাধ্যমে ভগবানের সেবায় যুক্ত না হয়, তা হলে তা অবশ্যই আবর্জনার দ্বারা পূর্ণ হবে। তাই শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতের বাণী উদাত্ত কঠে পৃথিবীর সর্বত্র প্রচার করা উচিত। যে শুদ্ধ ভক্ত যথার্থ সূত্রে তা শ্রবণ করেছেন, তার একমাত্র কর্তব্য হচ্ছে সারা পৃথিবী জুড়ে সেই বাণী প্রচার করা। সকলেই প্রায় অন্যদের কিছু বলতে চায়, কিন্ত যেহেতু তারা বৈদিক জ্ঞান সম্বন্ধে কথা বলার শিক্ষা লাভ করেনি, তাই তারা নানা প্রকার অর্থহীন বিষয় নিয়ে কথা বলছে এবং অন্য মানুষেরাও তা গ্রহণ করছে। জাগতিক খবর বিতরণ করার হাজার উপায় উদ্ভাবন করা হয়েছে এবং সারা পৃথিবীর মানুষ তা গ্রহণও করেছে। তেমনই, পৃথিবীর মানুষকে শিক্ষা দেওয়া উচিত কিভাবে ভগবান সম্বন্ধীয় দিব্য জ্ঞান শ্রবণ করতে হয়, এবং ভগবভক্তদের কর্তব্য হচ্ছে উদাত্ত কণ্ঠে সেই বাণী প্রচার করা যাতে তারা তা শুনতে পায়। ভেক বা ব্যাঙ উচ্চৈঃস্বরে কলরব করে এবং তার ফলে গ্রাসকারী সর্পকে সে আমন্ত্রণ জানায়। মানুষকে তার জিহ্বা দেওয়া হয়েছে বিশেষভাবে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্য, ব্যাঙের মতো কোলাহল করার জন্য নয়। এই শ্লোকে অসতী শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অসতী মানে হচ্ছে যে স্ত্রী বেশ্যাবৃত্তি অবলম্বন করেছে। বেশ্যার মধ্যে সৎস্ত্রীসুলভ গুণাবলী থাকে না। তেমনই, যে জিহ্বা বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করার জন্য মানুষকে দেওয়া হয়েছিল তা যদি অর্থহীন জাগতিক বিষয়ের গুণগানে মুখর হয়, তা হলে তাকে বেশ্যা বলেই বিবেচনা করা হয়।
* * *
জয়পতাকা স্বামী:- আজকে অতি সুন্দর এই শ্লোকটি ভগবান কৃষ্ণের লীলা শ্রবন এবং সেই মহিমা কীর্তন সম্পর্কে বর্ণিত। এবং এখানে যারা কৃষ্ণের মহিমা কীর্তন করে না তাদেরকে সর্প এবং ব্যাঙের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সাপের কানের ফুটো এবং ব্যাঙের জীভ। আমাদের এই মায়াপুরে এখন অনেকটা উন্নত হয়ে গেছে কিন্তু যখন এসেছি তখন ব্যাঙের ডাক শুনতাম। এবং যখন ব্যাঙেরা ডাকে তখন তারা সাপকে আকর্ষিত করে। এবং আমরা শুনতাম এইভাবে ব্যাঙ সাপটা খেয়ে ফেলছে, তখন ব্যাঙ একটা এমন চিৎকার করত অন্যরকম শব্দ। আপনারা শুনেছেন? নয়তো দুর্ভাগ্য! যাইহোক, আমি আপনাদেরকে এইরকম উদাহরণ দিচ্ছি যাতে শাস্ত্র বোধগম্য হয়। শ্রীল প্রভুপাদ লস এঞ্জেলেসে এই শ্লোকটির ওপর প্রবচন দিয়েছিলেন, যদি আপনার কর্ণ চৈতন মহাপ্রভু অথবা ভগবান কৃষ্ণের মহিমায় পরিপূর্ণ না থাকে, তাহলে আপনার কর্ণ অর্থহীন বাক্য দ্বারা পরিপূর্ণ হবে। এবং এই ভাবে, প্রভুপাদ বলছেন হাজার হাজার লোক এইভাবে কাল্পনিক গ্রন্থ বিতরণ করে এবং লোক সেটা গ্রহণ করছে উৎসাহভরে, যখন আমরা উড়োজাহাজে করে যাই তখন আমরা দেখি যে লোকেরা অর্থহীন সাহিত্য পড়ছে, কদাচিৎ আমরা কাউকে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পড়তে দেখি। আমি শ্রীমদ্ভাগবতমে পড়ছিলাম যে জঙ্গল বা বন হল সত্ত্বগুণের, শহর, গ্রামে তারা রজোগুণের এবং পতিতালয়, মদ্য পানের স্থান ও সূরার দোকান এগুলি তমোগুণের। তবে ভগবানের মন্দির, পবিত্র তীর্থস্থানসমূহ, পবিত্র নদনদীসমূহ, এগুলি আধ্যাত্মিক। তাই পবিত্র তীর্থে বসবাস করলে, আমরা আধ্যাত্মিক জগতে বাস করি।
আমি পূর্ববর্তী প্রবচনে বলছিলাম যে আমরা যদি ১০০০গুণ ফল লাভ করি, তাহলে ১০০০বার শূন্য কত? অবশ্য, কেউ বলতে পারেন যে পবিত্র ধামে শুয়ে থাকাও হল শ্রীবিগ্রহকে প্রণাম নিবেদন করা। তাই, যদি কেউ সারাদিন শুধু শুয়ে থাকে, তাহলেও তারা কিছু ফল পাবে! কিন্তু যদি তারা প্রকৃত ভক্তিমূলক সেবা নিবেদন করে এবং ভগবানের মহিমা শ্রবণ করে তাহলে তারা আসল সুকৃতি অর্জন করবে। যারা বসে আছেন, যারা সবাই পাঠ শুনছেন, তারা নিশ্চয়ই হাজার গুণ বেশি ফল পাচ্ছেন। আবার যারা এই মায়াপুরটিভি শুনছেন অনলাইনে, তারাও উপকার পাচ্ছেন। হরিবোল!
আমরা পড়ছিলাম চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রত্যেকটি লীলার পরে একটি উপ অধ্যায় থাকে যাকে বলা হয় ফলশ্রুতি বা পরিনাম। একটা ইতিহাস যে রঘুনাথ দাস কিভাবে চিড়াদধি মহোৎসব পানিহাটিতে করলেন, কিভাবে তিনি নিতাই গৌর প্রসাদ পরিবেশন করছে, কিভাবে তিনি নিত্যানন্দ প্রভুর আশীর্বাদ প্রাপ্ত হইলেন, কিভাবে তিনি জগন্নাথ পুরীতে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন, কিভাবে তিনি স্বরূপ দামোদরের তত্ত্বাবধানে চৈতন্য মহাপ্রভুর সেবা করছিলেন, কিভাবে মহাপ্রভুর থেকে এই আকৃতির একটা নেকলেস তাকে দেওয়া হয়েছে এবং একটা গোবর্ধন শিলা দেওয়া হলো। কত লীলা বর্ণিত আছে এবং সর্বশেষে এটি বলা হয়েছে যে যারা এই লীলাটি শ্রবণ করবে তারা বিশেষ ফল কৃষ্ণপ্রেম লাভ করবে। আমাদের উচিত নিজেদের কর্ণকে সর্বদা কৃষ্ণের পবিত্র বাণী দ্বারা পরিপূর্ণ রাখা। আমাদের নিজেদের জিহ্বা হরে কৃষ্ণ কীর্তনে ব্যবহার করা উচিত! ব্যাঙের মতো হওয়া উচিত নয়, যা সর্পকে নিমন্ত্রণ করব।
সাম্প্রতিক সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে একদল গৃহস্থ ভক্ত এখানে এসেছিলেন। ১১০ জন ভক্ত। সেই সকল গৃহস্থদের মধ্যে কেউ কেউ সক্রিয়ভাবে প্রচার করছে। যদিও তারা হচ্ছে গৃহস্থ তবুও তারা ভাবছেন যে কিভাবে মানুষদের কৃষ্ণের কাছে আনা যাবে। তো এইভাবে কৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতে বলেছেন যে যারা প্রচার করেন তাদের থেকে বেশী প্রিয় তাঁর কাছে আর কেউ নেই। এখন শুনছি বড়দিনে, পয়লা জানুয়ারি, ৩৪০০০, ৩৮০০০ লোক প্রসাদ পেয়েছে। অন্য দিনগুলিতে, ২৮০০০ বা ২৬০০০। এবং কোন কোন দিন হয়তো ১ লক্ষ বা দেড় লক্ষ বা ২ লক্ষ মানুষেরা এখানে আসেন। তাই এখানে অনেক মানুষেরা আছেন যাদের প্রচার করতে হবে। আমাদের হরিনাম কীর্তন হয়। এমনিতে অনেক লোক তাদের দেখার জন্য সমাগম হচ্ছে, তারা গ্রন্থ বিতরণ করছে। আজকে হচ্ছে ম্যারাথনের শেষ দিন, কিন্তু আমরা সারা বছর গ্রন্থ বিতরণ করতে পারি, এখন আমাদের সংকীর্তনের বাস ফিরে আসেনি তারা গ্রন্থ বিতরণ করছেন। এবং ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামীর সাথে প্রায় ৩০ জন গৃহস্থ ভক্ত গ্রন্থ বিতরণে সাহায্য করছেন। এবং আপনারা শুনছেন প্রত্যেকদিন কত সেট, কত বই বিতরণ করা হয়েছে। এটা একটি বিষয়।
অবশ্য, গৃহস্থদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে তারা তাদের সন্তানদের যথেষ্ট সময় দেন। একটা পূজারী লিখত প্রভুপাদকে, আমি বাচ্চাকে দেখার জন্য আমার পূজাটা ব্যাঘাত হচ্ছে। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ তাকে লিখছিলেন যে তোমার বেশি গুরুত্ব দায়িত্ব হচ্ছে যে সন্তান দেখা। আমরা শুনি কিছু গৃহস্থরা তারা ছুটিতে যান এবং তাদের সন্তানদের অবহেলায় ফেলে রেখে যান। এবং সেই অবহেলা ভবিষ্যতের অবমাননার কারণ হতে পারে। আমরা চাই না যে বাচ্চা চিন্তা করে যে কৃষ্ণের জন্য আমাদের দেখেনা, আমাদের ভালবাসেনা। প্রভুপাদ বলেছেন যে, আসলে সন্তানেরা কৃষ্ণ কর্তৃক প্রেরিত হয়েছে, তারা কোনো সাধারণ শিশু নয়। তারা হলো বৈকুণ্ঠ শিশু। তারা হলো আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের খুব ভালোভাবে তাদের যত্ন নিতে হবে। আমরা চাই যে সকল গৃহস্থরা, সকল ব্রহ্মচারীরা পূর্ণরূপ কৃষ্ণ সেবায় নিযুক্ত হন।
মানুষেরা যারা মায়াপুরে আসেন, তারা হয়তো কৌতূহলবশত আসেন অথবা অন্য বিভিন্ন কারণে আসেন। এখন, এখানে এসে ভক্তসঙ্গে আলোচনা করা, একটা গ্রন্থ নেওয়া, এটা অনেক দিন তারা ফল পাবে।
প্রত্যেকে যারা এখানে আসেন, আমাদের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে তাদেরকে কৃষ্ণ দেওয়ার। আসলে, মানুষেরা এই জড়জগতে কষ্ট ভোগ করছে। আমরা প্রত্যেকদিন প্রাতঃকালে কীর্তন করি কিভাবে এই জড়জগত হলো দাবানল, দাবাগ্নির মত। মায়াপুরে থাকা, যা হলো আমাদের আধ্যাত্মিক জগতের প্রধান কেন্দ্র, সেখানে থেকে আমরা সমগ্র বিশ্বের অনেক ভক্তদের সঙ্গ লাভ করি। কালকে আপনারা শুনলেন শিবরাম দাস রেকর্ড করলেন, আমি শুনলাম যে আপনারা তার প্রবচনের প্রশংসা করেছেন। কীভাবে তিনি তার উচ্চ রক্তচাপের বিষয়ে বলছিলেন যে ইস্কনের একজন নেতা হওয়া মানে উচ্চ রক্তচাপ! যাইহোক, অনেক নেতৃবৃন্দ মায়াপুরে আসছেন, এবং আমাদের দেখা উচিত যাতে তারা প্রত্যেকে প্রবচন দেন ও তাদের সৎসঙ্গ প্রদান করেন।
আমি আমার ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রির জন্য পড়াশোনা করছি। এবং তার মধ্যে পাঠ্যবিষয় হলো সপ্তম স্কন্দ, যা আমি অনেক আগে পড়েছিলাম, তবে আমি এখন আবার পড়ছি। এখানে শেষে আদর্শনীয় গৃহস্থ জীবন কী। এবং অবশ্যই, এখানে আমরা জানি যে এটি হলো কৃষ্ণ সম্পর্কে চিন্তন, কৃষ্ণ কথা বলা, প্রচার করা। আমরা আশা করি যে আমাদের ব্রহ্মচারীরা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অধ্যয়ন করছেন। ব্রহ্মচর্যের চারটি স্তর আছে। প্রত্যেকটি আশ্রমে চারটি স্তর আছে। যেমন সন্ন্যাস আশ্রমের ক্ষেত্রে কুটিচক, বহুদক, পরিব্রাজকাচার্য এবং পরমহংস। চারটি স্তরের ব্রহ্মচারী আছেন — সেগুলি কি? আমার মনে নাই যে চারটা নাম কি, কিন্তু চারটি স্তর — একদিনের জন্য ব্রহ্মচারী, এক বছরের জন্য, যতদিন না সমস্ত বেদ অধ্যায়ন সম্পূর্ণ করছে অথবা শিক্ষা সম্পূর্ণ করছে ততদিন পর্যন্ত ব্রহ্মচারী, এবং অন্যটি হলো নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী, পুরো জীবনের জন্য ব্রহ্মচারী। অতএব, এই হচ্ছে ব্রহ্মচর্যের চারটি স্তর। কিন্তু তিনটি স্তরের ক্ষেত্রে সর্বশেষে তারা গৃহস্থ হয়। একমাত্র একটি স্তরে, নৈষ্ঠিক, তারা তাদের সম্পূর্ণ জীবন ব্রহ্মচারী থাকে। কিন্তু এটা এমন নয় — আসলে আমরা চাই যে প্রত্যেকে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করুক।
গতকাল আমি নাম-নিষ্ঠ প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। ম্যাঙ্গালোর, কর্ণাটক থেকে এসছেন। তাদের কাছে ৭.৫ লক্ষ মানুষেরা, যারা অনলাইন এডুকেশনাল প্রোগ্রামের মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করছেন। এবং তাদের কাছে ৫৫০ জন ভক্তিশাস্ত্রী শিক্ষার্থী আছে, অনলাইনে, বিনামূল্যে! তারা কোন মূল্য ধার্য করেনা, সর্বশেষে যদি আপনি কোন অনুদান দিতে চান, তাহলে তারা তা গ্রহণ করেন। এইভাবে, তারা মন্দির নির্মাণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অনুদান পাচ্ছেন। তাদের ব্রহ্মচারী ৬জন ছিল এখন ২৬জন আছে। কিন্তু তাদের সমস্ত কোর্স গুলিতে, কোর্স শেষ হলে তারা বলে মাতাজিরা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষিকা। অবশ্যই, তারা এই পর্যন্ত হয়েছে যেহেতু প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ছে। তাই, যারা ভালোভাবে গ্রন্থ অধ্যয়ন করছেন, তারা অবশ্যই ভালো পড়াতে পারবে। আমরা একটি প্রতিযোগিতা করতে চাই কারা বেশি ভালোভাবে গ্রন্থ অধ্যয়ন করতে পারে! আমরা পূর্বে এই ধারনাটি অবহেলা করেছি। এখন আমার কিছু পুরনো শিষ্য, তাদের কোন ডিগ্রী নেই। এখন এখানে সমষ্টিগত পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে — একটি পরীক্ষা। আটটি প্রশ্ন। কিন্তু বিদ্বান গৌরাঙ্গ উনি পণ্ডিত, উনি বললেন কঠিন প্রশ্ন। তাই ভাল হবে যদি আপনারা আধ্যাত্মিক জীবনের প্রথমেই, আপনারা এই কোর্সগুলি করে নেন। যতদিন যাবে, তত দায়িত্ব বাড়বে। আমার আরো অনেক কিছু বলার আছে কিন্তু আমার কাছে সময় নেই। সময় সমাপ্ত হয়ে গেছে!
আমি আপনাদের সকলকে আমার শুভেচ্ছা জানাই। কৃষ্ণে মতি রস্তু!
কোনো প্রশ্ন আছে?
প্রশ্ন:- গুরুমহারাজ আমি অনেকবার আপনার ক্লাসে শুনছি যে কিভাবে আপনি বর্ণনা দেন ঠিক যেমন একটি স্কুল ছাত্রের মতো আপনি বর্ণনা দিচ্ছেন কিভাবে আপনি ভক্তিশাস্ত্রী পড়ছেন, ভক্তিবৈভব পড়ছেন, ভক্তিবেদান্ত পড়ছেন শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ইত্যাদি বিভিন্ন শাস্ত্র পড়ছেন, কিন্তু আমরা এতবার শুনছি আমরা শুনে শুনে আমাদের মনে হচ্ছে যেন আমরা আপনার কথাগুলো শুনছি কিন্তু আমরা সকলেই যেন এক বছর, দেড় বছর, দুই বছর বাচ্চার মত আচরণ করছি। আপনার কথাগুলো যেন অরণ্যে রোদন হচ্ছে এবং আমরা তাতে কোন ভ্রুক্ষেপ করছি না। তাই এমন কি কোন উপায় হতে পারে যাতে যেমন ছোট শিশুদেরকে মা খাইয়ে দেয়, বাবা খাইয়ে দেয় ঠিক তেমন আমরাও যাতে এই শাস্ত্রগুলি শেখার জন্য, সব আমরা যাতে সুযোগ পাই তার জন্য আমাদের জন্য কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন বা কিছু একটা ব্যবস্থা যদি করা যেত।
জয়পতাকা স্বামী:- প্রথমত, আসলে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়নকারী ভক্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে শুধু মায়াপুর ইনস্টিটিউট ছিল, আর এখন আমার তত্ত্বাবধানে থাকা এলাকাগুলিতে আরো ইনস্টিটিউট, অনেক শিক্ষা প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আমি ১৭৫ ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রী দিয়েছি কোইম্বাটরে। ম্যাঙ্গালোরে তারা চাইছিলেন যাতে আমি ৫৫০ জনকে ভক্তিশাস্ত্রী ডিগ্রী দেই। আমি শুনছি, আমি কনফার্ম হইনি, আমি শুনছি যে মায়াপুর ইনস্টিটিউট এক বছরে ১৬০০ ভক্তিশাস্ত্রী দেয়। যাইহোক, আমি জানি না মায়াপুরে কয়জন মানুষেরা এই সুবিধা গ্রহন করছে। প্রভুপাদ বলেছেন দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণ করা মানে হল আপনি ১২ বছর বয়সী। তুমি দেড় বছর বয়সী হওয়ার কথা বলছ। তোমার দ্বিতীয় দীক্ষা হয়নি? তাহলে তুমি কমপক্ষে ১২ বছর বয়সী। যাইহোক, এটি একটি ভালো সুযোগ। আমরা সর্পের মতো কর্ণ এবং ব্যাঙের মতো জিহ্বা চাইনা! আমরা আমাদের কর্ণ এবং জিহ্বাকে চৈতন্য মহাপ্রভুর মহিমা দ্বারা পরিপূর্ণ করতে চাই। হরিবোল!
প্রশ্ন:- খুব সুন্দর ক্লাস এবং খুব সুন্দর শিক্ষণীয়। গুরুমহারাজ চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলা একএকটা পাঠ করার পর যে শ্রুতি ফল পাওয়া যায়, ওটা কি একবার পড়লে হবে নাকি বার বার পড়তে হবে?
জয়পতাকা স্বামী:- এমনকি একবার পাঠ করে, যদি আপনি মনোযোগ এবং বিশ্বাস সহকারে শ্রবণ করেন। যদি আপনি অন্য কিছুর চিন্তা করছেন তাহলে আপনি সম্পূর্ণ ফল পাবেন না।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ