Text Size

20221231 শ্রীমদ্-ভাগবতম্ 2.3.14

31 Dec 2022|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ২.৩.১৪

এতচ্ছুশ্রূষতাং বিদ্বন্‌ সূত নোঽর্হসি ভাষিতুম্‌।
কথা হরিকথোদর্কাঃ সতাং স্যুঃ সদসি ধ্রুবম্‌।।

অনুবাদ:- হে বিদ্বান সূত গোস্বামী! দয়া করে আপনি আমাদের বলুন তারপর কি হয়েছিল, কেননা আমরা তা শুনতে ঐকান্তিকভাবে আগ্রহী। ভগবদ্ভক্তের সভায় যে কথা হয় তা নিশ্চয়ই হরিকথা ব্যতীত আর কিছু হতে পারে না।

তাৎপর্য:- আমরা পূর্বে শ্রীল রূপ গোস্বামীর ভক্তিরসামৃত-সিন্ধু গ্রন্থ থেকে উল্লেখ করেছি যে, জড় বস্তুও যদি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবায় নিয়োগ করা হয়, তা হলে তা অপ্রাকৃত বস্তুতে পর্যবসিত হয়। যেমন, মহাকাব্য বা রামায়ণ এবং মহাভারতের ইতিহাস, যা অল্পজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য (স্ত্রী, শূদ্র এবং দ্বিজবন্ধুদের) জন্য রচিত হয়েছিল, তাও বৈদিক শাস্ত্র বলে স্বীকার করা হয়, কেননা তাতে ভগবানের কার্যকলাপ বর্ণিত হয়েছে। মহাভারতকে বলা হয় পঞ্চম বেদ। অন্য চারটি বেদ হচ্ছে সাম, যজুঃ, ঋক্‌ এবং অথর্ব। অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা মহাভারতকে বেদের অংশ বলে স্বীকার করে না, কিন্তু মহর্ষিরা এবং মহাজনেরা তাকে পঞ্চম বেদ বলে স্বীকার করেছেন। শ্রীমভগবদ্‌গীতা মহাভারতের অংশ এবং তাতে অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের জন্য ভগবানের পূর্ণ নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষেরা বলতে পারে যে শ্রীমভগবদ্‌গীতা গৃহস্থদের জন্য নয়, কিন্তু সেই সমস্ত মূর্খ মানুষেরা ভেবে দেখে না যে, এই গ্রন্থটি গৃহস্থ লীলাবিলাসকারী ভগবান গৃহস্থ অর্জুনকে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাই শ্রীমভগবদ্‌গীতা, যদিও বৈদিক জ্ঞানের সর্বোচ্চ দর্শন বিশ্লেষণ করেছে, তা হচ্ছে অপ্রাকৃত বিজ্ঞানের নবীন অধ্যয়নকারীদের জন্য। আর শ্রীমদ্ভাগবত হচ্ছে সেই বিজ্ঞানের স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণীর অধ্যয়নকারীদের জন্য। তাই মহাভারত, পুরাণ এবং অন্যান্য যে সমস্ত গ্রন্থে ভগবানের লীলা পূর্ণরূপে বর্ণিত হয়েছে, তা সবই অপ্রাকৃত শাস্ত্র, এবং পূর্ণ শ্রদ্ধা সহকারে মহান ভক্তদের সভায় তা আলোচনা করা উচিত।

এই বিষয়ে সবচাইতে অসুবিধা হল এই যে, এই সমস্ত শাস্ত্র যখন পেশাদারী পাঠকেরা পাঠ করে, তখন তা জাগতিক ইতিহাস বলে মনে হয়, কেননা তাতে বহু ঐতিহাসিক তত্ত্ব রয়েছে। তাই এখানে বলা হয়েছে যে, এই সমস্ত শাস্ত্র ভক্তদের সভায় আলোচনা করা উচিত। ভক্তদের সভায় যদি তা আলোচনা না করা হয়, তা হলে উচ্চস্তরের মানুষেরা তার স্বাদ আস্বাদন করতে পারেন না। অতএব চরম সিদ্ধান্ত হচ্ছে এই যে, পরমেশ্বর ভগবান নির্বিশেষ বা নিরাকার নন। তিনি হচ্ছেন পরম পুরুষ, এবং তাঁর বিভিন্ন লীলা রয়েছে। তিনি হচ্ছেন সমস্ত জীবের পরম গুরু এবং তিনি স্বেচ্ছায় তাঁর আত্মমায়ার প্রভাবে এই জগতে অবতরণ করেন বদ্ধ জীবদের উদ্ধার করার জন্য। তার ফলে তিনি ঠিক একজন সামাজিক, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় নেতার মতো আচরণ করেন। যেহেতু এই সমস্ত বিষয়ের আলোচনা চরমে ভগবানের কথায় পর্যবসিত হয়, তাই সেই সমস্ত বিষয়ের প্রাথমিক আলোচনাগুলিও অপ্রাকৃত। মানব সমাজের সামাজিক কার্যকলাপকে পারমার্থিক স্তরে পর্যবসিত করার এইটিই হচ্ছে পন্থা। ইতিহাস, গল্প, উপন্যাস, নাটক, পত্র-পত্রিকা ইত্যাদি পাঠ করার স্বাভাবিক প্রবণতা মানুষের রয়েছে। তাই যদি এই প্রবণতাকে ভগবানের সেবায় রূপান্তরিত করা হয়, তা হলে সেগুলি ভগবানের ভক্তদের আস্বাদ্য বিষয়ে পর্যবসিত হবে। নির্বিশেষবাদের অপপ্রচারের ফলে মানুষ নাস্তিক এবং শ্রদ্ধাহীন অসুরে পরিণত হচ্ছে; সকলকে শেখানো হচ্ছে যে, ভগবান নিরাকার, তাঁর কোন কার্যকলাপ নেই এবং তিনি নাম-রূপ বিহীন একটি জড় পাথর মাত্র। মানুষ যতই ভগবানের লীলার বিমুখ হয়, ততই তারা বৈষয়িক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়। তার ফলে ভগবদ্ধামে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে তাদের নরকে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। শ্রীমদ্ভাগবতের শুরু হচ্ছে (প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক এবং সামাজিক কার্যকলাপ সমন্বিত) পাণ্ডবদের ইতিহাস থেকে, কিন্ত তা সত্তেও শ্রীমদ্ভাগবতকে বলা হয় পরমহংস-সংহিতা, বা সর্বোচ্চ স্তরের মহাত্মাদের জন্য বৈদিক শাস্ত্র, এবং তাতে পরম জ্ঞান বা সর্বোচ্চ স্তরের পারমার্থিক জ্ঞান বর্ণিত হয়েছে। ভগবানের শুদ্ধ ভক্তেরা সকলেই পরমহংস, এবং হংসেরা যেমন জল থেকে দুধ আলাদা করে পান করতে পারে, তাঁরাও সেই রকম সদস্যদের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণে সক্ষম।

* * *

জয়পতাকা স্বামী:- এখন যে সমস্ত ঋষিগণ উপস্থিত ছিল তাদের খুব উৎসাহ ছিল কিছু সূত গোস্বামীর থেকে হরি কথা শোনার জন্য। চারটি বেদ আছে এবং পুরান, মহাভারত, রামায়ণ এইগুলি পঞ্চম বেদ হিসেবে বিবেচিত হয়। শ্রীল প্রভুপাদ আমেরিকাতে এই শ্লোকটির ওপর যে প্রবচন দিয়েছিলেন আমি তা শুনছিলাম। উনি বলছিলেন যখন বাল্যকাল মামাবাড়ি গেছে এবং সেখানে রাত্রিবেলায় মহাভারত রামায়ণ শুনছিলেন। এইভাবে প্রত্যেকদিন রাতে তারা কৃষ্ণ, রাম বা বিষ্ণুর লীলা শ্রবণ করতেন। এবং তারপরে তারা হরি কথা আলোচনা করতেন। রাত্রিবেলা ঘুমানোর সময় স্বপ্ন হত মহাভারত, রামায়ণ ইত্যাদি। এখন প্রভুপাদ বলছিলেন যে মার্কিনবাসী তোমার দেশ, ভালো রাস্তা, ভালো দোকান, সব ভালো। আমি পৃথিবীর সর্বত্র গিয়েছি এবং এটি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান। কিন্তু এখানে কৃষ্ণ নেই! এবং তাই লোকেরা হতাশাগ্রস্থ। সারা পৃথিবী মনে করছে আপনারা খুব ভালো, রাস্তা ভালো, আমেরিকান মত হলে আমরা সুখী থাকবো। কিন্তু কেন তরুণরা হতাশাগ্রস্থ? যদি মৃত্যু দেহ তার সৌন্দর্য তো থাকে না, আত্মা চলে গেছে। যদি আপনি একটি মৃত দেহকে সুসজ্জিত করেন, তাতে লাভ কি? তিনি বলছিলেন যে আমাদের এই মন্দির আর পাশের বাড়ির তফাৎ কি? দুটোই ইট দিয়ে তৈরি, সিমেন্ট দিয়ে তৈরি। কিন্তু আমাদের কাছে কৃষ্ণ আছে এবং তাদের কাছে কৃষ্ণ নেই। তাই আমাদের কৃষ্ণকে বিদ্যমান রাখতে হবে। যদি কৃষ্ণ গুরুত্ব দেওয়া হয় তাহলে মার্কিন সন্তুষ্ট হবে। তো এইভাবে প্রভুপাদ অপরোক্ষভাবে বলেছেন যে কৃষ্ণ বিহীন সমাজ হল আবর্জনাস্বরূপ। যদি আপনি সুখী হতে চান তাহলে কৃষ্ণকে ছাড়া তা সম্ভব নয়। ঠিক যেমন, শ্রীল প্রভুপাদ উদাহরণ দিতেন, মানুষেরা বিবাহ করেন, এবং যখন তারা অল্পবয়সি তখন বৈবাহিক জীবন সুখের মনে হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেখানে মতবিরোধ, অনেক বিচ্ছেদের পরিস্থিতি, বিবাহবিচ্ছেদ দেখা যায়। কিন্তু যদি কৃষ্ণ সঙ্গে থাকে সেখানে আনন্দ হয়। কৃষ্ণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল সব সময় আনন্দময় থাকা। আনন্দময়োঽভ্যাসাৎ – আমরা হলাম কৃষ্ণের অংশ, তাই আমাদের স্বভাব হলো সব সময় আনন্দময় থাকা। আমি দেখছিলাম যে গৃহস্থ এলাকাতে প্রতি দুই সপ্তাহে তাদের একটি বাজার বসে। এবং একজন ভক্তের কাছে কৃষ্ণ, জগন্নাথের পুতুল ছিল।

এখন এই শ্লোকটিতে, প্রভুপাদ বলছেন যে, কিভাবে পরীক্ষিৎ মহারাজ তার বাল্যকালে, বাল্য ক্রিয়ায়, তিনি কৃষ্ণের পুত্তলি নিয়ে খেলা করতেন। ভগবদ্‌গীতাতে [৭.৩] একটি শ্লোক আছে, সংস্কৃত শ্লোক, মনুষ্যাণাং সহস্রেষু — হাজার হাজার মানুষের মধ্যে কদাচিৎ কোন একজন আমাকে জানতে আগ্রহী হয়। কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপায় যখন আমরা হরেকৃষ্ণ জপ করি তখন অতি শীঘ্রই আমরা কৃষ্ণকে জানতে পারি। তাই এই নিয়মটি চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা দ্বারা অগ্রাহ্য করা হয়েছে। তাই ভক্তরা যারা মায়াপুরে বসবাস করছেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর ধামে, মূলভাবনা টি হল কৃষ্ণ চেতনা লাভ করা। রাত্রে ক্লাসে আমরা পানিহাটি চিড়াদধি মহোৎসব সম্পর্কে পড়ছি। সেই রাতে নিতাই গৌর তারা রাঘব পণ্ডিতের গৃহে বসেছিলেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করেছিলেন। তার এই বর্ণনা কত মধুর ছিল যে এইভাবে রাঘব পন্ডিত তাঁদের পরিবেশন করছেন তাঁরা খাচ্ছে। সে যদি দীপক বোস, অমুক ঘোষ ইত্যাদি যদি বর্ণনা হতো তাহলে কোন কিছু লাগতো না। কিন্তু যে নিতাই গৌর প্রসাদ পাচ্ছেন সেটা কত আনন্দ ছিল। একজন অভক্ত বুঝতে পারে না যে ভক্তিমূলক সেবায় কত আনন্দ আছে। এখানে সকল শুদ্ধ ভক্তরা হলেন পরমহংস। হংস কী? হংস হল দুধ এবং জলের মিশ্রণ থেকে শুধু দুধ গ্রহণ করতে পারে। পরমহংস মানে কি? তারা জড়জাগতিক বস্তু থেকে পারমার্থিক অমৃত গ্রহণ করতে পারে। তাই আমরা চাই, শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন, তিনি চান তাঁর সকল ভক্তরা, তাঁর সকল গৃহস্থরা যাতে পরমহংস হন।

আজকাল, যে এমন প্রচার হচ্ছে যে ভগবান নিরাকার। এই ভাবে মানুষ হইল নাস্তিক। কিন্তু ভগবান তাঁর দিব্য চরিত্র, দিব্য লীলা থাকে। ভাগবতমকে বলা হয় পরমহংস সংহিতা। কেন? কারণ এতে বিষ্ণুর মহিমা বর্ণিত হয়েছে, তাঁর ভক্তদের সম্পর্কে, তাঁর লীলা সম্পর্কে বর্ণনা আছে। আমরা মায়াপুরে অনেক পরিবার এবং অনেক ব্রহ্মচারীদের দেখি এবং অনেক শিশুরা আছে। তাই গুহ্যতম বিষয়টি হলো কিভাবে সকলে কৃষ্ণভাবনাময় হতে পারবে। আমাদেরকে হরে কৃষ্ণ জপ করতে হবে, আজ হল বছরের শেষ দিন তাই না? সারা বিশ্বে তারা নববর্ষ পূর্বরাত্রি উদযাপন করে। হয়তো তারা নেশাগ্রস্ত হবে। আমি নববর্ষ পূর্বরাত্রিতে বাইরন বে অস্ট্রেলিয়ার রথযাত্রায় ছিলাম। রথযাত্রা শেষে একজন মহিলা, তিনি আমাকে বললেন যে, যদি আপনি বা আপনার রথযাত্রা না থাকতো, তাহলে আমি শুধু রাস্তায় একজন নেশাগ্রস্ত হয়ে থাকতাম। তাই আমরা, আমাদের হরিনাম কীর্তন হত, জগন্নাথের লাইটিং হত। তারা জগন্নাথের ওপর বিভিন্ন রঙের আলো ফেলতো। জ্বলজ্বলে আলো! সেখানে অনেক বড় চৈতন্য মহাপ্রভু ছিলেন প্রায় কুড়ি ফুট লম্বা! প্রথমে তারা চাইছিলেন না কিন্তু তারপরে তারা অনুরোধ করেছিলেন, দয়া করে রথযাত্রা করুন, এটি খুব ভালো। কিভাবে আনন্দ পায় এটা সহজে বোঝা যায় না কিন্তু আন্তরিক আনন্দ লাগে।

পরীক্ষিত মহারাজ, তিনি ছিলেন অর্জুনের পৌত্র। ভগবান কৃষ্ণের ভগিনী, সুভদ্রা দেবীর দৌহিত্র। তাঁর জীবনের শেষ ৭দিন তিনি শ্রীমদ্ভাগবতম শ্রবণ করেছিলেন, দিন রাত। এখন আমাদের কাছে ভাগবতম্ আছে, আমাদেরকে ভাগবতম দেওয়ার জন্য তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর এই বলিদান সার্থক হবে যখন আপনি ভাগবতম্ অধ্যয়ন করবেন। আপনার কাছে শ্রীমদ্ভাগবত আছে, আপনি তা পড়ুন, আপনি তা অধ্যয়ন করুন। (নিশ্চিত!) হরিনামে কত আনন্দ আছে, শ্রীমদ্ভাগবত এবং চৈতন্য চৈতন্য চরিতামৃতে কত আনন্দ আছে তা আমাদের বিবেচনার বাইরে। কিন্তু আমরা যদি কৃষ্ণ চেতনায় যুক্ত না হই মায়া সবসময় চেষ্টা করবে আমাদের মায়ার কাজ করার জন্য। আমরা এমনভাবে জীবন তৈরি করা উচিত যাতে মায়ার প্রবেশ করার কোন উপায় নেই। আর যা কিছু করি রাধাকৃষ্ণ সাক্ষী হয়, তারপর রাধামাধব প্রার্থনা করে করা উচিত। আমরা পড়ছিলাম যে কিভাবে চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি সেই সমস্ত জিনিস করতে পছন্দ করতেন, কি ভাবে বিশ্লেষণ করি, বর্ণাশ্রমের বিরুদ্ধাচরণ করতে তার বিশেষ আনন্দ হত। আমি বিষয়টিকে এইভাবে বলি – তিনি প্রমাণ করতে চাইতেন যে ভক্তি হলো বর্ণাশ্রমের থেকে শ্রেষ্ঠতর। বর্ণাশ্রম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক সৃষ্ট হয়েছে, তাই এটি ভালো। তবে বর্ণাশ্রমের থেকেও শ্রেষ্ঠ হলো ভক্তি। চৈতন্য মহাপ্রভু — তিনি ছিলেন একজন সন্ন্যাসী, তিনি ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ। রামানন্দ রায় ছিলেন একজন শূদ্র। কিন্তু তিনি রামানন্দ রায়ের থেকে উপদেশাবলী পেয়েছিলেন। এটি ছিল তাঁর বিশেষ আনন্দ। এবং পুরীতে সেখানে একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন, প্রদ্যুম্ন মিশ্র, তিনি তাঁকে বলেছিলেন, আপনি যদি ভাগবত শিখতে চান তাহলে রামানন্দ রায়ের কাছে যান। তাই, প্রদ্যুম্ন মিশ্র রামানন্দ রায়ের কাছে গিয়েছিলেন এবং প্রশংসা করেছিলেন যে তিনি হলেন শ্রেষ্ঠ ভক্ত। পুষ্টি মার্গের বল্লভাচার্য, বল্লভ ভট্ট, তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে দর্শন করতে গিয়েছিলেন। এবং চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন যে আমি মায়াবাদী সন্ন্যাসী। আমি কিছু জানতাম নাই। যা কিছু শিখেছি, আমি শিখেছি, তারপর তিনি ওঁনার সমস্ত ভক্তর পরিচয় দিয়েছেন, তিনি গুণগান করলেন অদ্বৈত আচার্য, নিত্যানন্দ, রামানন্দ রায়। তিনি বললেন যে হরিদাস ঠাকুর, তিনি হলেন নামাচার্য এবং তিনি প্রত্যেক দিন ৩০০০,০০০ বার কৃষ্ণ নাম জপ করেন। এই ভাবে, প্রত্যেক ভক্তকে গুণগান করলেন। তারপরে প্রসাদ নিমন্ত্রণ করছিলেন, চৈতন্য মহাপ্রভু এসছেন, সমস্ত সন্ন্যাসী, বাংলা ভক্ত, ওড়িয়া ভক্ত, প্রায় ১০০ জন ভক্ত ছিল। চারজন ভক্ত স্বরূপ দামোদর, জগদানন্দ এবং অন্যদেরকে প্রসাদ বিতরণে সাহায্য করছিলেন। বল্লভ ভট্ট প্রচুর পরিমাণে জগন্নাথ মহাপ্রসাদ এনেছিলেন, তিনি প্রত্যেক ভক্তকে প্রণতি নিবেদন করেছিলেন। এবং বলা হয়েছে যে তিনি পরম তৃপ্তি অনুভব করেছিলেন। আসলে, বাস্তবিক আনন্দ, প্রকৃত তৃপ্তি বৈষ্ণবদের সেবা করার মাধ্যমে লাভ করা যায়। আমি অত্যন্ত খুশি, যে ধামবাসী, মায়াপুর নিবাসী হওয়ায় আমাদের অনেক বড় সুযোগ আছে যে, আমরা সকল বৈষ্ণবদের সেবা করতে পারি। আমি হেল্প ডেস্কে সাহায্যকারী ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত প্রসন্ন। আমরা গৌর পূর্ণিমা এবং এই সময় শীতেকালে অনেক অতিথিদের আপ্যয়ন করার সুযোগ পাই। অন্যান্য সময় আমাদের এমআই (মায়াপুর ইনস্টিটিউট) বা অন্যান্য যারা আমাদের ভগবদ্‌গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম্ পড়ার এবং অধ্যয়ন করার সুযোগ প্রদান করে সেই সব সুবিধা গ্রহণ করা উচিত।

তো এইভাবে নতুন ইংরেজি বছর হরে কৃষ্ণ নাম দিয়ে আনবো। কিন্তু এটা আমরা প্রত্যেকদিন করি। তাহলে নতুন বছরের প্রথম দিনে কেন নয়? আপনাদের সকলের সঙ্গ লাভ করে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। হরে কৃষ্ণ! কোন প্রশ্ন আছে কি? কী বলতে চায়?

প্রশ্ন:- আমরা প্রবচনে শুনেছি ভগবান কৃষ্ণচন্দ্র সহজে ভক্তি দেন না কারণ তিনি ভক্তের বশ্যতা স্বীকার করে নেন ভক্তি দিলে, তো সেই ভক্তি অর্জনের যোগ্যতা কি? এবং আমরা কৃষ্ণের থেকে বিচ্ছেদ হয়ে এই জগতে অধঃপতিত হয়েছি তবুও আমরা কেন কৃষ্ণের সঙ্গে যে সেই বিচ্ছেদ হয়েছে, সেই বিরহ কেন আমরা অনুভব করতে পারি না? হরে কৃষ্ণ!

জয়পতাকা স্বামী:- এটা সত্য। কৃষ্ণের থেকে ভক্তি পেতে আপনাকে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এই কারণে পূর্ববর্তী যুগগুলিতে ভক্তি লাভ করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। কিন্তু চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি সহজে প্রেমভক্তি বিতরণ করছেন। কে যোগ্য, কে অযোগ্য, তিনি বিবেচনা করেন না। কৃষ্ণের ক্ষেত্রে, প্রেম লাভ করতে আপনাকে কৃষ্ণের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। কিন্তু রাধারানী তিনি অধিক করুণাময়। তিনি প্রেম বিতরণ করছেন সবার কাছে। কৃষ্ণ চৈতন্যরূপে এসেছেন রাধারানীর হৃদয় নিয়ে। তাই এই সুযোগটি হাতছাড়া করবেন না! চৈতন্যদেবের ধামে আছেন, চৈতন্যদেবের আন্দোলনে তাঁর কৃপা নিয়া আপনি ভক্তির সাথে থাকুন।

যদি আপনার ভক্তি থাকে তাহলে আপনি বিরহ অনুভব করবেন। আমরা জন্ম-মৃত্যু, বার্ধক্য, জরা-ব্যাধি এই কষ্টগুলি ভোগ করছি, এইগুলি হল জীবনের প্রকৃত সমস্যা যা আমরা অনুভব করছি। মানুষেরা কৃষ্ণের প্রতি বিরহ অনুভব করে না কারণ তারা কৃষ্ণকে জানে না। যখন কৃষ্ণকে ভালবাসবে, প্রেম করবে, তখন স্বাভাবিকভাবে বিরহ চিন্তা করবে।

হরে কৃষ্ণ! ধন্যবাদ।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (8 JAN 2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions