Text Size

20221224 শ্রীমদ্ভাগবতম ২.৩.২-৭

24 Dec 2022|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ২.৩.২-৭

ব্রহ্মবর্চসকামস্তু যজেত ব্রহ্মণঃ পতিম্‌।
ইন্দ্রমিন্দ্রিয়কামস্তু প্রজাকামঃ প্রজাপতীন্‌ ।।
দেবীং মায়ান্তু শ্রীকামস্তেজস্কামো বিভাবসুম্‌।
বসুকামো বসূন্‌ রুদ্রান্‌ বীর্যকামোঽথ বীর্যবান্।।

অন্নাদ্যকামস্ত্বদিতিং স্বর্গকামোঽদিতেঃ সুতান্‌।
বিশ্বান্দেবান্ রাজ্যকামঃ সাধ্যান্‌ সংসাধকো বিশাম্‌।।
আয়ুষ্কামোঽশ্বিনৌ দেবৌ পুষ্টিকাম ইলাং যজেৎ।
প্রতিষ্ঠাকামঃ পুরুষো রোদসী লোকমাতরৌ।।

রূপাভিকামো গন্ধর্বান্‌ স্ত্রীকামোহপ্সর উর্বশীম্‌।
আধিপত্যকামঃ সর্বেষাং যজতে পরমেষ্ঠিনম্।।
যজ্ঞং যজেদ্ যশস্কামঃ কোষকামঃ প্রচেতসম্।
বিদ্যাকামস্তু গিরিশং দাম্পত্যার্থ উমাং সতীম্।।

অনুবাদ:- যে বাক্তি ব্রহ্মতেজ কামনা করেন, তাঁর বেদপতি (ব্রহ্মা অথবা বৃহস্পতির) আরাধনা করা উচিত। যিনি ইন্দ্রিয়-তর্পণের পটুতা কামনা করেন, তাঁর দেবরাজ ইন্দ্রের আরাধনা করা উচিত, এবং যিনি পুত্রাদি কামনা করেন, তাঁর প্রজাপতিদের আরাধনা করা উচিত। যিনি শ্রী কামনা করেন, তাঁর প্রকৃতির অধিষ্ঠাত্রী দুর্গাদেবীর আরাধনা করা উচিত। যিনি তেজ কামনা করেন তাঁর অগ্নিকে আরাধনা করা উচিত, এবং যিনি ধন কামনা করেন, তাঁর অষ্টবসুর আরাধনা করা উচিত। যিনি বল এবং বীর্য কামনা করেন, তাঁর শিবের অংশ রুদ্রের আরাধনা করা উচিত। যিনি প্রচুর পরিমানে শস্য কামনা করেন, তাঁর অদিতির আরাধনা করা উচিত। যিনি স্বর্গ কামনা করেন, তাঁর আদিত্যদের উপাসনা করা উচিত। যিনি রাজ্য কামনা করেন, তাঁর বিশ্বদেবের উপাসনা করা উচিত, এবং যিনি জনসাধারণের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করতে চান, তাঁর সাধ্যদেবের পূজা করা উচিত। যিনি দীর্ঘায়ু কামনা করেন, তাঁর অশ্বিনী কুমারদ্বয়ের আরাধনা করা উচিত, এবং যিনি দেহের পুষ্টি কামনা করেন, তাঁর পৃথিবীকে পূজা করা উচিত। যিনি প্রতিষ্ঠা অর্থাৎ স্বপদে স্থিত থাকার কামনা করেন, তাঁর অন্তরীক্ষ ও পৃথিবীর আরাধনা করা উচিত। যিনি রূপ কামনা করেন, তাঁর গন্ধর্বরূপ আরাধনা করা উচিত। যিনি স্ত্রী কামনা করেন, তাঁর উর্বশী-অপ্সরার আরাধনা করা উচিত। যিনি সকলের উপর আধিপত্য কামনা করেন, তীর ব্রহ্মাকে আরাধনা করা উচিত। যিনি যশ আকাঙ্খা করেন, তাঁর পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করা উচিত এবং যিনি ধন সঞ্চয়ের অভিলাষী, তাঁর কুবেরের আরাধনা করা উচিত। যিনি বিদ্যালাভের অভিলাষ করেন, তাঁর শিবের আরাধনা করা উচিত, এবং যিনি দাম্পত্য-প্রেম কামনা করেন, তাঁর সতী উমাদেবীর আরাধনা করা উচিত।

তাৎপর্য :- বিভিন্ন বিষয়ে সাফল্য লাভ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন রকম পূজার বিধি রয়েছে। জড় জগতের সীমার মধ্যে আবদ্ধ জীবেরা সব রকম ভোগের বিষয়ে দক্ষ না হতে পারে, কিন্তু উপরোক্ত বিশেষ বিশেষ দেবতাদের আরাধনা করার মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ বিষয়ে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করতে পারে। শিবের আরাধনা করার ফলে রাবণ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছিল এবং সে শিবের সন্তাষ্টি বিধানের জন্য মাথাগুলি কেটে তাঁকে তা নিবেদন করত। শিবের কৃপায় সে এত শক্তিশালী হয়েছিল যে, স্বর্গের সমস্ত দেবতারা পর্যন্ত তার ভয়ে ভীত ছিল। অবশেষে সে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের সঙ্গে পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল এবং তার ফলে বিনাশ প্রাপ্ত হয়েছিল। অর্থাৎ, এই সমস্ত ব্যক্তিরা যারা সামগ্রিকভাবে অথবা আংশিকভাবে জড় সুখভোগ করতে চায়, অর্থাৎ স্থুল জড়বাদীরা প্রকৃতপক্ষে স্বল্প বুদ্ধিসম্পন্ন একথা শ্রীমভগবদ্‌গীতায় (৭/২০) প্রতিপন্ন হয়েছে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কামনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, অর্থাৎ মায়ার প্রভাবে যাদের বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়েছে, তারাই বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করার মাধ্যমে জড়জাগতিক সুখভোগ করতে চায় অথবা বৈজ্ঞানিক প্রগতির মাধ্যমে জাগতিক উন্নতি সাধন করতে চায়। জড়জাগতিক জীবনের প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে জন্ম, মৃত্যু, জরা এবং ব্যাধি, এবং সেই সমস্যাগুলির সমাধান করাই হচ্ছে মানব জীবনের প্রকৃত কর্তব্য। কেউই চায় না তার জন্মগত অধিকার ত্যাগ করতে, কেউই চায় না মরতে, কেউই চায় না জরাগ্রস্ত হতে বা ব্যাধিগ্রস্ত হতে। কিন্তু কোন দেবতার কৃপায় অথবা জড় বিজ্ঞানের তথাকথিত উন্নতি সাধনের মাধ্যমে এই সমস্ত সমস্যাগুলির সমাধান করা সম্ভব হয় না। শ্রীমভগবদ্‌গীতায় এবং শ্রীমদ্ভাগবতে এই সমস্ত অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিদের সব রকম সদ্‌গুণ বর্জিত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। শুকদেব গোস্বামী বলেছেন যে ৮৪,০০,০০০ বিভিন্ন প্রকার জীবের মধ্যে মানব জীবন হচ্ছে অত্যন্ত দুর্লভ এবং মুল্যবান, এবং এই সমস্ত মানুষদের মধ্যে জড় জগতের সমস্যাগুলির সমাধানে সচেষ্ট ব্যক্তির সংখ্যা আরও দুর্লভ; তার থেকেও দুর্লভ হচ্ছে সেই প্রকার মানুষেরা যারা শ্রীমদ্ভাগবতের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন, কেননা শ্রীমদ্ভাগবতে ভগবান এবং তাঁর শুদ্ধভক্তদের বাণী রয়েছে। বুদ্ধিমান এবং মূর্খ নির্বিশেষে সকলের জন্যই মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু শ্রীল শুকদেব গোস্বামী মহারাজ পরীক্ষিতকে মনীষী বলে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ তাঁর অনুভব অত্যন্ত উন্নত, কেননা মৃত্যুর ঠিক পূর্বে তিনি সমস্ত জড়ভোগ ত্যাগ করে শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর মতো উপযুক্ত ব্যক্তির শ্রীমুখ থেকে ভগবানের কথা শ্রবণ করে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে সম্পূর্ণরূপে শরণাগত হয়েছেন। জড় সুখভোগের প্রচেষ্টার সব সময়ই নিন্দা করা হয়েছে। সেই সমস্ত আকাঙ্খা পতিত মানব সমাজের নেশার মতো। বুদ্ধিমান মানুষদের কর্তব্য হচ্ছে সেই সমস্ত প্রচেষ্টা সর্বতোভাবে ত্যাগ করে তাদের প্রকৃত আলয় ভগবদ্ধামে ফিরে গিয়ে নিত্য জীবন লাভের চেষ্টা করা।

* * *

জয়পতাকা স্বামী:- আপনারা আজকে শুনেছেন এখানে অনেকগুলি তাৎপর্য বিহীন শ্লোক বর্ণিত আছে। শেষে প্রভুপাদের তাৎপর্য শুনছিলাম। শ্রীমদ্ভাগবতমে আমরা বর্ণনা পাই যাদের জাগতিক কামনা-বাসনা আছে তারা তা লাভ করার জন্য কি করতে পারে। যারা ভারোত্তলনে শ্রেষ্ঠ হতে চায়, তাদের ধরিত্রীর পূজা করা উচিত। এখন আমরা আসলে কে? আমরা কী এই শরীর নাকি আত্মা? আমার মনে হয় যে সমস্ত ভক্তরা মায়াপুরে বসবাস করতে এসেছেন তারা নিশ্চিত যে তারা এই শরীর নয়। কিন্তু দেবতাদের পূজা করার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন সুবিধা লাভ করেন, তবে এই জন্য আপনাকে বারংবার জন্ম গ্রহণ করতে হবে। আমরা চাই যে ভক্তরা শুদ্ধ কৃষ্ণ চেতনা লাভ করুক। এখন একটা শ্লোক আছে কয়েকটা পরে যে, আমরা যদি কিছু কামনা না থাকে, যদি কামনা থাকে, আমরা যদি লীন হতে চাই ব্রহ্মজ্যোতি মধ্যে, ভগবান পূজা করা উচিত।

অকামঃ সর্বকামো বা মোক্ষকাম উদারধীঃ।
তীব্রেণ ভক্তিযোগেন যজেত পুরুষং পরম্‌।।

এই শ্লোকটি হল দ্বিতীয় স্কন্দতে। যদিও কেউ জড়জাগতিক বাসনা থাকে, কিন্তু ভগবানের কাছে যেতে চায় ভবিষ্যতে, ভগবানের আরাধনা করা উচিত। এটি দশম শ্লোকে আছে যা পরবর্তীতে বলা আছে। আমাদের যদি প্রশস্ত বুদ্ধি থাকে, তাহলে আমাদের পরমেশ্বর ভগবানের আরাধনা করা উচিত। জীবনের প্রকৃত সমস্যা হল জন্ম, মৃত্যু, বার্ধক্য, জরা-ব্যাধি। এখন দেবতার পূজা করায় এটার সমাধান হয় না। চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা দিয়েছে কৃষ্ণভক্তি করার জন্য।

যাই হোক, আমি সবে মাত্র আমার ভক্তি বৈভব কোর্সে ষষ্ঠ স্কন্দের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি। আমি পরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা করছি! একজন ভক্ত যিনি দু'বছর যাবত ভক্তি অনুশীলন করছেন তিনি ভক্তিবেদান্ত ডিগ্রীটি অর্জন করতে চলেছেন, সেই কারণে তিনি আমার কাছে আশীর্বাদ নিতে এসেছিলেন। এর মানে হলো ভক্তরা তাদের এই ডিগ্রী অত্যন্ত শীঘ্রই লাভ করতে সক্ষম যদি তারা এটির ওপর জোর দেয়। প্রভুপাদ চেয়েছেন আমরা বিতরণ করি এবং আমরা পড়ি। উনি চাননি যদি কেউ বলে আপনার এই বইয়ে কি আছে?আমি জানিনা আমি গ্রন্থ পড়িনা।আমরা পেশাদারী বিক্রেতা নই। আমরা এই গ্রন্থগুলিতে বিশ্বাস করি এবং তাই আমরা তা বিতরণ করছি। আমরা চাই যে মানুষদের এই গ্রন্থগুলি অধ্যয়ন করা উচিত এবং ভগবান কৃষ্ণ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করা উচিত। এবং এই কোর্সের মাধ্যমে, আমি গ্রন্থটি অনেকবার পড়েছি, তবে এই কোর্স আপনাকে বিষয়বস্তুটি গভীরভাবে বুঝতে বাধ্য করে। ষষ্ঠম স্কন্দে, আমি জানিনা কয়জন পড়েছে, সেখানে একটি কাহানি আছে যে কিভাবে নারদ মুনি, তিনি দক্ষের পুত্রদের কাছে প্রচার করেছিলেন। আপনারা এই কাহিনীটা বোঝেন নাকি তিনি পৃথিবীতে তা প্রচার করেছিলেন, পৃথিবীর দূরবর্তী প্রান্তে সেখানে একটি রাজ্য ছিল। একজন রাজা, একজন পুরুষ, যিনি সেখানে বসবাস করতেন। সেখানে একটি ছিদ্র আছে, যদি আপনি সেখানে প্রবেশ করেন, তাহলে আপনি আর কোনদিন বেরিয়ে আসতে পারবেন না। সেখানে একজন অসতী নারী আছে, সে বিভিন্ন সুন্দর বসন, শাড়ি ও রত্নমনি পরিধান করে থাকে। এবং সেখান একটি নদী আছে যা দুই দিকে প্রবাহিত হয়। সেখানে ২৫টি উপাদান দিয়ে একটি গৃহ নির্মিত আছে। সেই গৃহে হংস আছে যারা বিভিন্নরকম আওয়াজ করে। এবং সেখান ধারালো ক্ষুর এবং বজ্র বিশিষ্ট একটি যন্ত্র রয়েছে। তিনি সেই পুত্রদের বললেন, তোমরা হলে অপরিপক্ক বালক, তোমরা কি করে বুঝবে যে তোমাদের পিতা কি চান? আপনারা কতজন এই কাহিনীটি বোঝেন? এই শুনে দক্ষর ছেলে, পুত্রগণ সব বৈরাগী, সন্ন্যাসী হয়ে গিয়েছে। এর ফলে, অবশেষে দক্ষ কন্যা সন্তান লাভের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ কন্যারা সন্ন্যাস গ্রহণ করেনা। আমি আপনাদের বলব না কাহিনী কি, আমি চাই আপনারা ষষ্ঠ স্কন্দটি অধ্যায়ন করুন। আমি আপনাদের কাহিনীটি বলেছি তবে এর মর্মার্থ কি, সেটা আপনাদের পড়তে হবে! দক্ষর ছেলেগণ তারা বুঝতে পেরেছে। অতএব তাদের সেই বুদ্ধি ছিল। ভাগবতমে অনেক চমৎকার বিষয়সমূহ রয়েছে। আমাদের বিতরণ করতে হবে যেমন ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী চাইছেন এবং আমাদের সেগুলি অধ্যয়ন করা উচিত

এইভাবে, এই ভাগবত শ্লোক এই লীলা, এই পূজা করলে এই হয়, এ ওর পূজা করলে এই হয়, অনেক কিছু আমাদের কাছে বলা হয়েছে। তাই আপনি যদি বারংবার জন্মগ্রহণ করতে চান, তাহলে কোন নির্দিষ্ট বস্তু লাভের জন্য আপনি এই কোনো বিশেষ দেবতার পূজা করতে পারেন। শিবার করলে এই হয়, যত দেবা, ইষ্ট দেব পূজো করলে এই হয়। যখন পার্বতী শিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এত ধরনের পূজা আছে — কার আরাধনা করা সর্বশ্রেষ্ঠ? ভগবান শিব, মহাদেব তিনি বললেন:

আরাধনানাং সর্বেষাং বিষ্ণোরারাধনং পরম্ ।
তস্মাৎ পরতরং দেবি তদীয়ানাং সমর্চনম্।।

সর্বপ্রকার আরাধনার মধ্যে, ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা শ্রেষ্ঠ। কেবল একটি ব্যতিক্রম আছে, হে দেবি, যে সমস্ত বিষয়গুলি বিষ্ণুর সাথে সম্পর্কিত তাদের আরাধনা করা হলো শ্রেষ্ঠতম।

সে কারণে, আমরা সকল বৈষ্ণবদের শ্রদ্ধা করি এবং যেকোনো ধরনের বৈষ্ণব অপরাধ বা অবমাননা থেকে বিরত থাকি। যদি এই ভক্তগণ, বিষ্ণুর সাথে সম্পর্কিত এই সমস্ত বিষয়গুলি আরাধনার যোগ্য, তাহলে আমরা তাদের প্রতি অপরাধ কেন করব? অতএব, এই জগতে থাকাকালীন, আমাদের কিছু জাগতিক কামনা বাসনা থাকবে। তবে আমাদের উচিত নিজেদের অধিকাংশ সময় কৃষ্ণের আরাধনায় ব্যতীত করা। ভগবানের নাম কীর্তন, সংকীর্তন করা, প্রচার করা। এইভাবে, আমাদের অধিকাংশ সময় ভগবানের বিশেষ পূজা করা উচিত। ভাগবতমে এটি বলা হয়েছে বা চৈতন্য চরিতামৃততে যে গৃহস্থ প্রাতঃকাল, মধ্যাহ্ন এবং রাত্রে, তিনি হরে কৃষ্ণ জপ করে। তাদের উচিত ভগবত গীতা, শ্রীমদ্ভাগবত অধ্যয়ন করা, তাদের উচিত শ্রী বিগ্রহের সেবা করা অথবা মন্দিরে আসা এবং সেখানে শ্রী বিগ্রহগণের পূজা করা, কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করা। তাহলে এইভাবে, তাদের সমস্ত কার্যকলাপ কৃষ্ণ কেন্দ্রিক হবে।

আমরা কোন অবৈধিক কামক্রিয়া করি না। এখন স্বামী-স্ত্রী, বৈদিক বিবাহ দ্বারা যুক্ত আছেন, তাদের কোন পাপ নাই। কিন্তু ভক্তি সেবা করতে গেলে যদি তারা গর্ভধাণ সংস্কার করে, ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করে, গুরুর আদেশ নেয়, তারা সন্তান হওয়ার জন্য চেষ্টা করবে ভক্তি, ভক্ত সন্তান। অবশ্য, আমাদের সন্তানদের যত্ন করা হল একটি বৃহৎ গুরুদায়িত্ব। আমরা শুনছিলাম যে শ্রীল প্রভুপাদ যখন তিনি শুনেছিলেন যে কোন একজন শিক্ষক একটি শিশুকে আঘাত করেছে, তখন কেউ একজন বলেছিলেন, এটা বন্ধ হওয়া উচিত। প্রভুপাদ বললেন, “না, তাকে ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত। তাকে গলায় বেঁধে ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত!” শ্রীল প্রভুপাদ এই সমস্ত বিষয়গুলো অত্যন্ত গম্ভীরতার সাথে গ্রহণ করতেন। নিঃসন্দেহে, আমাদের কাউকে ফাঁসি দেওয়ার অধিকার নেই! যাই হোক, এটা হল এমন কিছু যা শ্রীল প্রভুপাদ অত্যন্ত গম্ভীরভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

আমি আজকে স্মরণ করছিলাম, কিভাবে শ্রীল রূপ গোস্বামী বলেছিলেন, তিনি কামনা করতেন যদি ভগবানের দিব্য নাম উচ্চারণের জন্য তাঁর হাজার হাজার কর্ণ এবং মুখ থাকতো। কেউ বলেছেন যে ব্রহ্মদেব তাঁর চতুর্মুখ আছে, কেউ বলছে যে মহাদেব তাঁর পঞ্চমূখ আছে। রাবণের ১০ মুখ ছিল, তিনি যদি হরিনাম করতেন খুব ভালো হতো। হাহাহা! দুর্ভাগ্যবশত, তিনি রাম নাম উচ্চারণ করেছিলেন কিন্তু বিরুদ্ধ মনোভাব নিয়ে! সেই রকমই, কংস তিনি সর্বদা কৃষ্ণ এবং বলরামের নাম উচ্চারণ করতেন, কিন্তু তা বিরুদ্ধ মানসিকতা নিয়ে, তার দুটো স্ত্রী এসছে, একটা সাদা শাড়ি পড়ে, একটা নীল রঙের শাড়ি পড়ে। কংস কাছে গেছে। তিনি বললেন, “আহ! কৃষ্ণ এবং বলরাম আমার দিকে আসছে। এসছে আমাকে মারার জন্য।” “মহারাজ, তারা আপনার স্ত্রী।

অতএব, এই শ্লোক অনুসারে মানুষদের অনেক জড় জাগতিক কামনা-বাসনা আছে এবং তারা সেগুলি পূর্ণ করার জন্য বিভিন্ন দেবতাদের পূজা করে। কিন্তু যারা মনে করছে তারা দেহ, এটা তাদের জন্য। যারা বুঝতে পারছে তারা আত্মা এবং তাদের দেহ আছে, তারা ভগবানকে পূজো করে। হরি বোল! কোন প্রশ্ন আছে?

ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- এটি আপনার দ্বারা প্রদত্ত সুন্দর এক অমৃতময়ী প্রবচন। শাস্ত্রতে বলছে যে শিষ্যদের উচিত গুরুদেবের থেকে ভাগবত শেখা। তাই, আমি মনে করি এ আমার পরম সৌভাগ্য যে আমি আপনার থেকে ভাগবত শ্রবণ করছি। এই বিশেষ বিষয়ের যখন আমি এই শ্লোকগুলি পড়ছিলাম, আমার কিছু প্রশ্ন ছিল এবং অন্য অনেক ব্যক্তিরাও এই শ্লোকটি উদ্ধৃতি করে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছেন। শ্রীমদ্ভাগবতমে প্রথমে বলা হয়েছে — ধর্মঃ প্রোজ্‌ঝিতকৈতবোঽত্র — জড়বাসনা যুক্ত সব রকম ধর্ম সম্পূর্ণভাবে বর্জন করে। ভাগবত আমাদের শুদ্ধ ভক্তি প্রদান করে অহেইতুকি এবং অপ্রতিহত — উদ্দেশ্যবিহীন ও অপ্রতিরোধ্য – তাহলে কেন শুকদেব গোস্বামী এই বিষয়টি তুলে ধরে দেবতাদের আরাধনা করার মাধ্যমে আমাদের বাসনাকে পূর্ণ করার বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন? এর পিছনে তাঁর উদ্দেশ্য কি?

জয়পতাকা স্বামী:- আসলে, যদি আপনি সম্পূর্ণটা পড়েন, তাহলে দেখবেন যে তিনি আমাদের বিশেষভাবে দেবতা পূজার এই বিষয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন না। তিনি বলছেন কিভাবে বিভিন্ন দেবতাদের পূজা করলে বিভিন্ন ফল লাভ করা যেতে পারে। কিন্তু সব শেষে, তিনি বলছেন কৃষ্ণের আরাধনা কর। এমনকি যদি আপনার কোন ইচ্ছা না থাকে, সকল প্রকার কামনা-বাসনা থাকে, লীন হওয়ার বাসনা থাকে তবুও। তাই প্রকৃতপক্ষে, আমি মনে করি, তিনি উদাহরণ দিয়েছেন, এটি বোঝানোর জন্য যে যদি আপনি এগুলি করেন, তাহলে আপনাকে বারংবার জন্মগ্রহণ করতে হবে। কিন্তু যদি আপনি কৃষ্ণের আরাধনা করেন, তাহলে আপনার যাই ইচ্ছা থাকুক না কেন, তা আপনার জীবনের প্রকৃত সমস্যা সমাধান করবে। মৃত্যু, জন্ম, জরা-ব্যাধি এ হচ্ছে আসলে জীবনের অসুবিধা। যদি আপনি একটি বড় রাজ্য প্রার্থনা করেন তাহলে আপনাকে আবার জন্ম নিতে হবে। যদি আপনি একজন ভালো স্ত্রী, ভালো প্রতি কামনা করেন, তাহলে আপনি দেবতার পূজা করুন এবং আবার জন্ম নিন। কিন্তু যদি আপনি কৃষ্ণ পূজা করতে চান, তাহলে আপনি কৃষ্ণভাবনাময় সংসার করুন, তারপর ভগবত ধামে ফিরে যান। পরবর্তী প্রশ্ন।

প্রশ্ন:- আমার ঘরে বিগ্রহ আছে কিন্তু আমি মন্দিরে সকালে যে মঙ্গল আরতি থেকে দর্শন আরতি, ভাগবত ক্লাস এগুলিতে অংশগ্রহণ করতে আমার বেশি ইচ্ছা, এখন তাতে আমি যদি এগুলো ঘরে না করি তাতে আমার কোন বিগ্রহ সেবা অপরাধ হবে কিনা?

জয়পতাকা স্বামী:- গৃহে আপনি শ্রী বিগ্রহের পূজার্চনা কখন করেন?

ভক্ত:- আমি যদি মঙ্গল আরতিতে আসি তাহলে আমি দর্শনার্থীতে আসি না, মানে দর্শন আরতি ঘরেই করি।

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন, মন্দিরে আমাদের ঠিক সময় মতো শ্রী বিগ্রহের পূজার্চনা করতে হয়। কিন্তু গৃহে গৃহস্থ পূজারীরা পূজা সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত যদি উপবাস থাকেন, তাহলেই ঠিক আছে। এটাই হল পার্থক্য।

প্রশ্ন:- সবক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত স্বরূপ হওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ আপনি আমাদের গ্রন্থ বিতরণে উৎসাহিত করছেন। প্রিয় গুরুমহারাজ এখন অবশ্য ম্যারাথন সময় চলছে এবং আমরা সবসময় একটি প্রচারণা পাই যে আমরা শ্রীল প্রভুপাদের সেই সমস্ত গ্রন্থাবলি ছাপাচ্ছি, পড়ছি এবং বিতরণ করছি যা বিবিটি কর্তৃক সম্পাদিত হয়নি। আমি জানতে চাই এই সম্পর্কে আপনার নির্দেশ কি?

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর গ্রন্থাবলী সম্পাদনের ক্ষেত্রে কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাই, বর্তমানে কিছু কমিটি আছে যারা বাকি থাকা সম্পাদনা কার্যাবলী সম্পন্ন করছেন। এবং অন্য সমস্ত সম্পাদনার ক্ষেত্রে, তারা তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করে, শুধু যদি এটি করা জরুরি হয় এবং সকলেই বলেন, তাহলে তারা সম্পাদনা করেন। শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী তাঁর প্রকট থাকাকালীন সম্পাদিত হয়েছিল। কিন্তু এখন যদি ছাপানোয় বা কোন অক্ষর ভুল থাকে তাহলেই শুধু সম্পাদনা কার্য অনুমোদিত হয়।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 10/JAN/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions