মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ২.২.১৩
একৈকশোঽঙ্গানি ধিয়ানুভাবয়েৎ
পাদাদি যাবদ্ধসিতং গদাভৃতঃ।
জিতং জিতং স্থানমপোহ্য ধারয়েৎ
পরং পরং শুদ্ধ্যতি ধীর্যথা যথা।।
অনুবাদ:- ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম থেকে শুরু করে তাঁর হাস্যজ্জ্বল মুখমণ্ডলের ধ্যান করা উচিত। প্রথমে তাঁর শ্রীপাদপদ্মে মনকে স্থির করা উচিত, তারপর গুল্ফ, তারপর জঙ্ঘা এবং এইভাবে উচ্চ থেকে উচ্চতর অঙ্গের ধ্যান করা উচিত। চিত্ত যত শুদ্ধ হবে, ধ্যান ততই গভীরতা লাভ করবে।
তাৎপর্য:- শ্রীমদ্ভাগবতে যে ধ্যানের পন্থা বর্ণিত হয়েছে তা নিরাকার বা শূন্যে মনকে স্থির করার পন্থা নয়। প্রকৃতপক্ষে, শাস্ত্রের বর্ণনা অনুসারে ধ্যান করতে হয় পরমেশ্বর ভগবানের বিরাট রূপের অথবা তাঁর সচ্চিদানন্দ বিগ্রহের চিন্তায় মনকে একাগ্র করার মাধ্যমে। বিষ্ণুরূপের প্রামাণিক বর্ণনা রয়েছে, এবং মন্দিরে তাঁর অর্চাবিগ্রহের প্রামাণিক স্বরূপ রয়েছে। এইভাবে মনকে ভগবানের পাদপদ্মের চিন্তায় একাগ্র করে, এবং ধীরে ধীরে উচ্চ থেকে উচ্চতর অঙ্গে উন্নীত করে অবশেষে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলে চিত্তকে একাগ্র করা কর্তব্য।
ভাগবত সম্প্রদায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ভগবানের রাস-নৃত্য হচ্ছে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল। যেহেতু এই শ্লোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ভগবানের শ্রীপাদপদ্ম থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডলের ধ্যান করা উচিত, তাই এক লাফে ভগবানের রাসলীলা বুঝতে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। ভগবানের শ্রীপাদপদ্মে ফুল ও তুলসী নিবেদন করার মাধ্যমে চিত্তকে একাগ্র করার চেষ্টা করাই শ্রেয়। এইভাবে অর্চনের দ্বারা আমরা ধীরে ধীরে পবিত্র হতে পারব। ভগবানকে স্নান করানো, সাজানো ইত্যাদি অপ্রাকৃত কার্যকলাপ আমাদের জীবনকে পবিত্র করতে সাহায্য করে। আমরা যখন চিত্ত-শুদ্ধির উচ্চতর স্তরে উন্নীত হই এবং ভগবানের হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল দর্শন করতে পারি বা ভগবানের রাসলীলা শ্রবণ করতে পারি, তখন আমরা যথাযথভাবে তাঁর অপ্রাকৃত কার্যকলাপের রস আস্বাদন করতে পারি। তাই শ্রীমদ্ভাগবতে তাঁর রাসলীলার বর্ণনা দশম স্কন্ধে (২৯-৩৪ অধ্যায়) বর্ণনা করা হয়েছে।
ভগবানের দিব্যরূপে চিত্তকে যতই একাগ্র করা যায়, তা শ্রীপাদপদ্মেই হোক, গুল্ফতে হোক, জঙ্ঘাতে হোক অথবা বক্ষে হোক, ততই পবিত্র হওয়া বায়। এই শ্লোক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, “বুদ্ধি যত পবিত্র হয়,” অর্থাৎ ইন্দিয়সুখ ভোগের বাসনা থেকে যত অনাসক্ত হওয়া যায়। বর্তমানে বদ্ধ অবস্থায় ইন্দ্রিয়-তৃপ্তির প্রতি আসক্ত হওয়ার ফলে আমাদের বুদ্ধি অশুদ্ধ। ভগবানের অপ্রাকৃত রূপের ধ্যানের ফল প্রকাশ পায় ইন্দিয়-তৃপ্তির প্রতি আমাদের অনাসক্তির মাধ্যমে। তাই ধ্যানের চরম উদ্দেশ্য হচ্ছে বুদ্ধির বিশুদ্ধিকরণ।
যারা ইন্দিয়-তৃপ্তিতে অত্যন্ত মগ্ন, তাদের অর্চনা করতে দেওয়া উচিত নয় অথবা শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণের বা শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহগণকে স্পর্শ করতে দেওয়া উচিত নয়। তাদের পক্ষে ভগবানের বিরাট রূপের ধ্যান করাই শ্রেয়, যা পরবর্তী শ্লোকে বলা হয়েছে। নির্বিশেষবাদী এবং শূন্যবাদীদের তাই ভগবানের বিরাটরূপের ধ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ভক্তদের শ্রীমন্দিরে ভগবানের শ্রীবিগ্রহের ধ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু নির্বিশেষবাদী এবং শূন্যবাদীরা তাদের পারমার্থিক কার্যকলাপে পর্যাপ্তরূপে শুদ্ধ হননি, তাই অর্চনার পন্থা তাদের জন্য অনুমোদিত হয়নি।
* * *
জয়পতাকা স্বামী:- এই শ্লোকে দ্বিতীয় স্কন্ধে উপদেশ দিচ্ছে, আমাদের ভগবানকে কিভাবে দর্শন করা উচিত, চরণ থেকে শুরু করে তারপর আস্তে আস্তে উপরে গিয়া শেষে তার পদ্মমুখে। এটি প্রকাশ করে যে কিভাবে একজন ভক্ত খুবই বিনীতভাবে ভগবানের কাছে যান। এর থেকে প্রভুপাদ বলছেন যে আমরা কিভাবে ভগবানকে বুঝবো সেটা শিক্ষা দিয়েছেন, যে ভালো বুঝতে হলে নিজের চেতনা শুদ্ধ হতে হবে। যারা শূন্যবাদী, অদ্বৈতবাদী তারা সরাসরি ভগবানকে বুঝতে পারবে না। তাদের ধীরে ধীরে বিরাট রূপ বা এইরকম রূপের মাধ্যমে ভগবানকে দর্শন করতে হবে। এই অর্চনা কিভাবে আমাদের জন্য ভালো এটা ব্যাখ্যা করছে। এখন প্রভুপাদ বিভিন্ন জায়গায় বলছিলেন গৃহস্থ জন্য ঠাকুর সেবা করা, অর্চনা করা প্রয়োজন। ঠিক যেমন, গতকাল আমরা দেখলাম যে সংকীর্তন দল মায়াপুর থেকে বেরিয়ে গেলেন, ব্রহ্মচারীরা অনেক মাস ধরে ভ্রমণ করেন, দূরবর্তী স্থানে। যখন তারা ভ্রমন করেন, তখন তারা মন্দিরে শ্রীবিগ্রহের পূজার্চনা দর্শন করতে পারে না। অবশ্য, প্রতিটি গাড়িতে শ্রীবিগ্রহ আছেন। এইভাবে, প্রভুপাদ বলছেন যারা গৃহস্থ ভক্ত এটা অর্চনা পদ্ধতি বিশেষ প্রয়োজন আছে। নিঃসন্দেহে, মায়াপুরে আমাদের শ্রীবিগ্রহ আছেন, প্রত্যেকদিন প্রত্যেকে অংশ নিতে পারেন, সকাল ও রাত্রের প্রোগ্রামে। অবশ্য, গৃহস্থদের তাদের নিজেদের বাড়িতেও শ্রীবিগ্রহ থাকতে পারে। এখানে, শ্রীল প্রভুপাদ বর্ণনা করছেন যে কিভাবে শ্রীবিগ্রহের অর্চনা করা হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্বাভাবিকভাবে, আমাদের মন্দিরে, ব্রহ্মচারীরা এবং গৃহস্থরা দুজনেই শ্রীবিগ্রহের পূজা করেন। পাশ্চাত্য দেশগুলিতে মহিলারাও শ্রীবিগ্রহের পূজার্চনা করেন। এখানে, শ্রীল প্রভুপাদ উল্লেখ করেছেন যে এই পন্থা, নির্বিশেষবাদী এবং অদ্বৈতবাদীদের জন্য অনুমোদিত নয়।
আমি অনেক সময় এই কাহিনীটি বলেছি যে যখন আমি চেন্নাইতে ছিলাম, সেখানে বাচ্চারা একটি নাটক করেছিল। যমরাজ এবং যমদূত নাটক ছিল। যমদুতরা অভিযোগ করছিল যে ইস্কনের গৃহস্থ তারা ঠাকুর পূজা করে, কৃষ্ণ প্রসাদ খায়, তারা ভগবদ্গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করে, তারা হরে কৃষ্ণ হরে রাম জপ করে, যদি সকলে এরকম করতে থাকে, তাহলে আমাদের কোন কাজ বেচে থাকবে না, শীঘ্রই আমাদের চাকরি চলে যাবে! কি করব? কি করব? এইটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে।
কালকে রেবতি রমন আমাকে তিরুপতির একটা সত্য ঘটনা বলেছে। একজন মন্দির গেছে, এবং জিজ্ঞাস করছে, “ভগবদ্গীতা যথাযথ আছে?” এবং তারা বললেন, “হ্যাঁ আছে!” “আমি কিনতে পারি?” “হ্যাঁ! হ্যাঁ!” তিনি এসছে একটা দিয়েছে কিনেছেন। এবং এই লোক কাঁদছিল, কাঁদছিল। ভক্ত জিজ্ঞেস করছে, “কেন কাঁনছো?” এবং তার ইতিহাস বলেছে, “আমি মারা গিয়েছিলাম। যমদুতদের দ্বারা আমাকে যমরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যমরাজ বললেন, “ইনি ভুল ব্যক্তি। ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও।” তখন আমার দেহ প্রসেশন ছিল শ্মশানে যাওয়ার জন্য। হরি বোল! বলো হরি! হরিবোল! বলো হরি! হরি বোল! বলো হরি! রাম নাম সত্য হ্যায়! রাম নাম সত্য হ্যায়! তখন যমদূত আমাকে শরীরের মধ্যে দিয়েছে। এবং এক যমদুত আমাকে বলছে যে, “ইস্কনের মন্দির এর কাছে একটা ভগবদ্গীতা যথাযথ সংগ্রহ করি, আমাদের আর দেখা হবে না।” এবং তিনি উঠে বসলেন। এবং তাকে খাটিয়ায় করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তিনি উঠে বসলেন। সব লোকেরা ভয় পেয়ে গেছে যে মৃতদেহ বেঁচে উঠেছে। তারা ভেবেছেন ভূত। আআআহহ! তখন তিনি বললেন, “ না না ঠিক আছে! ঠিক আছি, আমি ভূত নই।” তারপর তিনি নিচে নামলেন এবং দৌড়ে ইস্কন মন্দিরে এলেন! তিনি ভগবদ্গীতা যথাযথ কিনলেন। ভগবদ্গীতা তার হাতে ছিল এবং তিনি যমদূতদের ও নরকের কথা মনে করছিলেন তারপর কাঁদতে লাগলেন। ভক্তিবিজয় ভাগবত স্বামী আমাদের এই ম্যারাথনে উৎসাহ প্রদান করছেন। এখন যমদূত তো বই বিতরণ করছে। এই বিষয়ে কি বলার আছে? কি বলতে চান? মহারাজ আপনি কি বলতে চান?
ভক্তি বিজয় ভগবত স্বামী:- হরে কৃষ্ণ গুরুমহারাজ। আমাদেরকে আরো বেশি গ্রন্থ বিতরণে উৎসাহিত করার জন্য এটি হল একটি সুন্দর কাহিনী! আমার মনে হয় প্রত্যেক প্রচারক এই মন্ত্রটি, এই কাহিনীটি বলতে পারবেন, তাহলে প্রতিবছর মানুষেরা সেই ভয়ে ভীত হয়ে ভগবদ্গীতা ক্রয় করবেন। হরে কৃষ্ণ!
জয়পতাকা স্বামী:- আমি গতকাল এই ঘটনাটির শুনেছিলাম এবং আমি না বলে থাকতে পারিনি, আমি ইতিমধ্যেই দুইবার এই ঘটনাটির উল্লেখ করেছি! রেবতী রমন বলেছে এটি একটি সত্য ঘটনা যা তার মন্দিরে ঘটেছে। যাইহোক, সবাই এখন আমাদের কাছে সংকীর্তন ভক্ত বাইরে গেছে, যারা এখানে আছেন তারা যাতে বই বিতরণ করেন ম্যারাথনে। ব্রজবিলাস কি বলতে চায়?
ব্রজ বিলাস দাস:- ধন্যবাদ মহারাজ! যদি একজন মৃত ব্যক্তি আসছেন এবং দৌড়ে এসে ইস্কন মন্দির থেকে ভগবদ্গীতা সংগ্রহ করছে, তাহলে সে সমস্ত ব্যক্তিরা যারা জীবিত আছেন কিন্তু গ্রন্থ বিতরণ করেন না, তিনি হলেন সচল মৃত! দুটি জিনিস আছে যা শ্রীল প্রভুপাদকে প্রসন্ন করতো — একটি হলো বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দির, TOVP নির্মাণ এবং দ্বিতীয়টি হল গ্রন্থ বিতরণ! তাই শ্রীল প্রভুপাদের প্রিতিবিধানের জন্য এই দুই সেবা করা হলো আমাদের জন্মগত অধিকার! ধন্যবাদ মহারাজ!
জয়পতাকা স্বামী:- আমরা ভগবানের দর্শন পেতে চাই। তবে এর জন্য শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, আমাদের এমনভাবে কার্য করতে হবে যাতে ভগবান আমাদের দেখেন। প্রভুপাদ বলছিলেন, গ্রন্থ বিতরণ করার জন্য এবং গ্রন্থ পড়ার জন্য। এখন আমাদের মায়াপুর ইনস্টিটিউট আছে, তা গ্রন্থাবলি অধ্যয়ন করা ও উপাধি অর্জন করার সুযোগ প্রদান করে। আমি একটি প্রস্তাব দিয়েছি যে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের মাধ্যমে এমনকি যারা পঠনাক্ষম ভক্তবৃন্দ, তারাও ভগবদ্গীতা শ্রবণ করতে পারবে। এবং সে শ্রবণ করে মৌখিকভাবে উত্তর দিলে পরীক্ষায় পাশ হবে। কোনো অজুহাত নাই! সকলেই জ্ঞান প্রাপ্ত হতে পারে।
এখন লেখা আছে মায়াপুর টিভি দ্বারা অনেক ভক্ত শ্রবণ করছে। আমার মনে হয় না এটি শ্লোকের কোন অংশ। হা! হা! যাই হোক, সকালে ক্লাসের ক্ষেত্রে, আমি শনিবার দিনটি বেছে নিয়েছি কারণ পাশ্চাত্য দেশগুলিতে এটি হল ছুটির দিন। তাই অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, হংকং, চীন এই সমস্ত জায়গাগুলিতে, মালয়েশিয়াতে। তাদের জন্য রাতের ক্লাসের সময়টি খুবই দেরিতে হয়, তাই তারা তা শ্রবণ করতে পারে না। এছাড়া, যেহেতু এই ক্লাসটি ইংরেজি এবং বাংলা দুটিতেই সম্পন্ন হচ্ছে, তাই বাংলাদেশীরাও শ্রবণ করছে। এবং তাই ছাড়া এইখানে ক্লাস তো মায়াপুরে হচ্ছে। আমরা মহামারীর সময় বুঝতে পেরেছি যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেকে শ্রবণ করতে পারে। আমি শিখেছি যে রবিবারে তাদের একটি টকশো হয় এবং হাজার হাজার মানুষেরা তা দেখে। এবং সে নতুন করে একটা স্টুডিও হয়েছে মায়াপুর টিভি। আমি সেটা কালকে উদ্বোধন করেছিলেন। তাই, এখানে মায়াপুরে প্রচার করার অনেক সুযোগ রয়েছে, এমনকি যদি আমরা এখান থেকে কোথাও নাও যাই তাহলে আমরা প্রচার করতে পারব। এবং যারা পূজা করছে, অর্চনা করছে তারাও তো অনেক প্রচার করছে। অনেক কেবল টিভির গ্রুপ তারা মায়াপুরের আরতি দর্শন করতে চায়, তারা মায়াপুর টিভিতে আরতি দর্শন করার জন্য কিছু মূল্য দিচ্ছেন। এটা জানতে পেরেছি, হাতি যাত্রা হচ্ছে আরতির সময়, হাতি যাত্রা সম্পূর্ণ দেখায় না এই মন্দিরের আরতি দেখার জন্য। তাই আমি পরামর্শ দিয়েছি হস্তি যাত্রা পরে দেখানোর জন্য। আমি এখানে এই সমস্ত কিছু বলছি কারণ এখানে সকলেই নিজেদেরকে প্রচারকার্যে নিযুক্ত করতে পারে। তাই আমাদের আরতী, প্রবচন সবকিছু সম্প্রচারিত হচ্ছে। কখনো কখনো আমাদের সহ পরিচালকদের শোনা উচিত সন্ধ্যায় তারা কি পাঠ দিচ্ছেন। এছাড়াও কখনো কখনো সকালে পঞ্চতত্ত্ব এক্সটেনশনে আমাদের ইংরেজিতে প্রবচন হয়। শুক্রবার আমার মনে হয় সাধারণত একজন বৈষ্ণবী প্রবচন দেন। এছাড়া সন্ধেবেলায় আমাদের ইংরেজিতে প্রবচন হতে পারে। এটি ভালো হবে। বেশিরভাগ মহিলা ক্লাস দিতে পারেন আর অনেক ক্লাস দিতে পারে পুরুষ। আমরা সর্বত্র কৃষ্ণের বাণী প্রচার করতে চাই। এখন, এইভাবে, কৃষ্ণের নিয়ম হচ্ছে, কৃষ্ণ সব সময় মনে রাখতে হয় আর কৃষ্ণ ভুলে যাবে না। তাই, আমরা জানি যে যমরাজ, তরুণ বালকের রূপ গ্রহণ করতেন, কারণ মানুষেরা শিশুদের থেকে তত্ত্বকথা শুনতে আনন্দ পায়, ঠিক তেমনি মানুষেরা মহিলাদের থেকে প্রবচন শুনতে পছন্দ করে। তাই সাধারণত মহিলারা বেশি তত্ত্বকথা জানেনা, কিন্তু আমাদের ভক্তরা তত্ত্ব জানে, আমি আশা করছি! আমরা দেখছি যে কমলাপতি তিনি প্রত্যেকদিন প্রবচন দিচ্ছেন এবং তিনি গ্রন্থ বিতরণ করছেন। এছাড়াও, মহারাজ, তিনি প্রবচন দেন এবং গ্রন্থ বিতরণ করেন। তাই দিনের বেলা আপনারা মায়াপুর টিভিতে কথা বলতে পারেন ও আপনারা নিজেদের প্রবচন রেকর্ড করতে পারেন এবং ওনারা তা যে কোনো সময় সম্প্রচারিত করতে পারে। এবং এছাড়াও আপনি গ্রন্থ বিতরণ করতে পারেন।
এইভাবে আমরা সমগ্র বিশ্বকে কৃষ্ণভাবনামৃতের বন্যায় প্লাবিত করতে চাই। মানুষেরা ভাবছে যে তারা হলো এই শরীর, তারা ইন্দ্রিয়া তৃপ্তি করতে উন্মত্ত, কিন্তু তারা সুখী নয়, তারা পরিতৃপ্ত নয়। যদি তারা কৃষ্ণের ইন্দ্রিয় পরিতুষ্ট করতে পারে, তাহলে তারা সুখী হতে পারবে। হৃষীকেণ হৃষীকেশ-সেবনং ভক্তিরুচ্যতে [চৈচ. মধ্য ১৯.১৭০] তাই প্রকৃত ভক্তি হল আমাদের ইন্দ্রিয় দিয়ে ভগবানের ইন্দ্রিয়ের সেবা করা। যাইহোক, কোন প্রশ্ন বা মন্তব্য আছে?
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- হরে কৃষ্ণ!
জয়পতাকা স্বামী:- হরে কৃষ্ণ!!
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- ধন্যবাদ, গুরু মহারাজ। আমরা আপনার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, এটি খুব সুন্দর এক প্রবচন, শুধু সুন্দর নয় অমৃতময় প্রবচন! আমি আপনার থেকে অনেকবার জমদূতদের কাহানিটি শুনছি এবং গ্রন্থ বিতরণ করতে ও শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করার জন্য আপনার থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পাচ্ছি। আজকে আমরা আরেকটি কাহিনী শুনলাম। তাই আমি মনে করি আমি আমাদের সংকীর্তনের সকল ভক্তবৃন্দের কাছে এই প্রবচনটি বলব। তারাও অনুপ্রাণিত হবে।
জয়পতাকা স্বামী:- এটা কোনো কাহিনী নয়। এটা সত্য ঘটনা!
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- আমাদের অনলাইন যে গ্রুপ গুলি আছে, তাদেরকেও আমি বলবো। একটি বিষয় হল এই বছর ম্যারাথন আমাদের কাছে অত্যন্ত কঠিনতা পূর্ণ, যেহেতু গ্রন্থ গুলির মূল্য প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রায় দ্বিগুণ! কমলাপতি প্রভু আমাকে মনে করাচ্ছিলেন এই পরিস্থিতিতে গ্রন্থ বিতরণ এবং শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় জন্য গুরু মহারাজ যদি কিছু উপায় বলে দেন এবং আশীর্বাদ প্রদান করেন। গুরুমহারাজ দয়া করে বলুন।
জয়পতাকা স্বামী:- ধীরে ধীরে কাগজের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেহেতু সকলের কাছে মোবাইল ফোন আছে, কোনভাবে গ্রন্থ গুলি তাদের ফোনে ডাউনলোড করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অবশ্য, মানুষেরা আজকাল বেশি অর্থ উপার্জন করছে। আমার মনে হয় মানুষেরা গ্রন্থ ক্রয় করেন গ্রন্থ বিতরণকারীর উৎসাহের প্রভাবে। এইভাবে, আমরা মানুষদের গ্রন্থ ক্রয় করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে চাই। হয়তো আমাদের কিছু ধনী ব্যক্তিদের সাহায্য নিতে হবে গ্রন্থে ভর্তুকির জন্য। আমি শুনেছি যে দিল্লিতে, কিছু অন্তর্দেশীয় কোম্পানি তারা তাদের কর্মীদের জন্য ভগবদ্গীতা ক্রয় করে। এমনকি, কোন কোম্পানি অর্ধেক দাম, অর্ধেক দাম কর্মীরা দিতে পারে, এইভাবে তারা মজুরি থেকে কেটে নিতে পারে। যাই হোক, এইভাবে বুদ্ধি খাটিয়ে বিতরণ করা যেতে পারে। এখন গ্রন্থ বেশি দাম ছিল বাংলাদেশে কিন্তু তারা বিতরণ করছিল। আমি জানিনা, তবে এখনতো গ্রন্থগুলি খুবই মূল্যবান হবে! যাই হোক, যেমন ইংরেজিতে তারা বলে — ইচ্ছা থাকলে, উপায় হয়।
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- ধন্যবাদ গুরুমহারাজ। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং আমরা আপনার আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি, যাতে আমরা আরো অনেক গ্রন্থ বিতরণ এবং শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করতে পারি। এবং আমি বলতে চাই যে আমাদের সংকীর্তন বিভাগে, শ্রীপাদ গৌরধাম প্রভুর তত্ত্বাবধানে একটি সুযোগ প্রদান করা হয়েছে যে আমাদের স্থানীয় ভক্তরা ম্যারাথনে অংশ নিতে পারবে, তারা সংকীর্তন বিভাগ থেকে গ্রন্থাবলী সংগ্রহ করতে পারে। তারা বিতরণ করতে পারে এবং তারপর সংকীর্তন বিভাগে সেই সমস্ত প্রণামি প্রদান করতে পারে।
জয়পতাকা স্বামী:- একটি বিষয় হল গতকাল যেভাবে ব্রজবিলাস সংকীর্তন বাসগুলিকে বিদায় জানাচ্ছিলেন এবং হৃদয় চৈতন্য ও অন্যান্যরা যোগদান করেছিলেন, তাই, শ্রী বল্লভ এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ একটি বাস অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত করেছেন! সেই সমস্ত বাসগুলির জন্য আমাদের ভক্ত দরকার!
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- দুবাই থেকে শ্রীবল্লভ প্রভু এবং ভীম প্রভু, তারা একটি সুন্দর বাস অনুদান দিতে চান, এইরকম বাস নয়!
জয়পতাকা স্বামী:- একটি সুন্দর বাস!
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- এবং ব্রজবিলাস প্রভুরও সুন্দর একটি পরিকল্পনা আছে যে কেন ভক্তরা এত তপস্যা করবে, তারা বসতে পারে না, ঘুমানোর কোন জায়গা নেই, এইভাবে তারা যায়, তাই আমি একটি বাস করতে চাই যার ভিতর ভক্তরা বিশ্রাম নিতে পারবে এবং তারা সুন্দরভাবে গ্রন্থ প্রচার করতে পারবে।
জয়পতাকা স্বামী:- যদি আমাদের প্রচারে যাওয়ার জন্য ঢের ব্রহ্মচারীরা না থাকে তাহলে হয়তো আমাদের গৃহস্থ বাস দরকার! শেষ প্রশ্ন।
ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- আপনার জ্ঞাতার্থে বলি আমাদের প্রতি বছর বড়দিনের দিন গীতা বিতরণের জন্য গীতা মেলা হয়। এই বছরও আমাদের ২৩শে ডিসেম্বর থেকে ১লা জানুয়ারি, আমাদের প্রচুর জনসমাগম হবে, তাই আমরা প্রত্যেক ভক্তকে অনুরোধ জানাচ্ছি আসার জন্য এবং তাতে অংশগ্রহণ করতে — আমাদের সেই জনসমাগমে সকলের মাঝে গীতা উপস্থাপন করার জন্য ভগবতগীতার ডায়োরামা, স্লাইড শোস হবে। আমার আরেকটি প্রশ্ন আছে, আমি কি জিজ্ঞাসা করতে পারি?
অনেক অনলাইন ভক্তরা বিশেষত মাতাজিরা অর্চনের বিষয়ে একটি প্রশ্ন আছে। মাতাজিরা কি তাদের গৃহে শালিগ্রাম শিলার পূজা করতে পারেন? এটি কি শাস্ত্রে অনুমোদিত ?
জয়পতাকা স্বামী:- যদি তারা দ্বিতীয় দীক্ষা প্রাপ্ত হয়। (ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী:- আমি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করিনি তারা দীক্ষিত নাকি না) আমি বলতে চাইছি আমি জানি যে পাশ্চাত্যে কিছু দ্বিতীয় দীক্ষা প্রাপ্ত মহিলা তারা শালিগ্রাম শিলার পূজা করেন। আমি জানি না শাস্ত্রে এই বিষয়ে কি বলা আছে। চৈতন্য মহাপ্রভু কি বলেছেন? কিছু শ্লোকে বলা হয়েছে, শূদ্র এবং মহিলা তারা এটি করতে পারেনা, তারা ওটি করতে পারে না। কিন্তু ভগবদ্গীতা নবম অধ্যায় ৩২ নং শ্লোকে ভগবান কৃষ্ণ বলেছেন মহিলা, বৈশ্য, শূদ্র যদি তারা আমার আশ্রয় থাকেন, তাহলে তারা সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে পারবেন। মায়াপুর একাডেমি শেখাচ্ছে, শ্রীবিগ্রহ পূজার্চনা। ঠিক আছে। আপনারা এখন প্রসাদ পেতে যেতে পারেন।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ