Text Size

20221120 Addressing Mayapur Sankirtan Devotees

20 Nov 2022|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- প্রথমে এখন আমি মায়াপুর সংকীর্তন ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলব এরপর রাত্রি ৮:২৫তে আমাদের বৈশ্বাসিকা প্রভুর সাথে ম্যারাথনের জন্য একটি প্রোগ্রাম আছে, তারপর আমাদের চৈতন্য ক্লাস হবেতো আমি এখন বাংলায় বলবো।

আমাদের মায়াপুরের সংকীর্তন ভক্তবৃন্দ এখন যাত্রা করবেন এবং এই এক-দুমাস যাবত সংকীর্তন ম্যারাথন করবেন। তাই জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ যে এইভাবে প্রভুপাদের গ্রন্থ বিতরণ করার যজ্ঞ করছে।এটা হচ্ছে ‘বৃহৎ মৃদঙ্গ’এবং এইভাবে আমরা দেখছি যে মায়াপুরে প্রচুর ভক্তবৃন্দ বসে ঠাকুরকে দেখছে। এখন আমাদের অদ্ভুত নতুন মন্দির, সংকীর্তন ভক্ত দূরে যাচ্ছে এবং মায়াপুরের গুনগান করছে। এইভাবে লোক চলে আসছে মায়াপুরে। এখন প্রভুপাদের গ্রন্থ যদি পড়ে তাদের জীবন সার্থক করতে পারে। এবং সেইভাবে একসঙ্গে ভক্তিযোগ প্রয়োগ করতে পারে। কেউ সংকীর্তন ভক্তের সাথে যুক্ত হয়, বই বিতরণ করে, এবং কেউ নামহট্ট সাথে যুক্ত হয়, বিভিন্নভাবে মন্দিরের সেবা করে। এবং সে হচ্ছে আমাদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ, যে এইভাবে গীতা, ভাগবত অধ্যয়ন করার জন্য, চৈতন্য চরিতামৃত কীর্তন করার জন্য প্রচার করছে। এইভাবে মায়াপুর চায় যে সকলে বই বিতরণ সেবা করবে। সেইভাবে যারা সংকীর্তন ভক্ত বেরিয়ে যাচ্ছেন, আর যারা মায়াপুরে থাকে, তারা যাত্রী কাছে বই বিতরণ করে। তারা নবদ্বীপ, কৃষ্ণনগর বিভিন্ন স্থানে বই বিতরণ করতে হয়। এইভাবে প্রভুপাদের মনোভিষ্ট পূরণ করার জন্য, গ্রন্থ বিতরণের সেবা করতে যায়। এখন আমি, আগে যেতাম, এখন আমি আর যেতে পারছি না, কেউ গ্রন্থ কেনে, এইভাবে আমরা গ্রন্থ বিতরণ করতে পারি। এখন আমি ভাবি যে, আমাদের যারা বিধানসভা সদস্য গীতা পায়, যাতে সেটা লোকসভা, রাজ্যসভা সদস্য যাতে গীতা পায়। আমাদের অনুষ্ঠান পূর্ব মেদিনীপুরে গেছিলাম সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা গীতা দিয়েছে, এইভাবে আমরা চাই সকলে গীতা উপলব্ধি করেন। এবং সেইভাবে গীতা জানে তাদের মনুষ্য জন্ম সার্থক হয়ে যায়। আমরা এই দেহ নই, আমরা এই দেহ মধ্যে আছি। একদিন প্রভুপাদের একটা হরিদাসপুরে একটা ভাষণ দিচ্ছিল। এখন তিনি বলছিলেন যদি তোমার ঠাকুরদা দেহ রাখেন, “ঠাকুরদা চলে গেছে! চলে গেছে! আহহ এ চলে গেছে!কিন্তু তার শরীরতো রয়েছে, একই হাত, একই চোখ, একই মুখ ইত্যাদি আছে। তাহলে কে চলে গেছে? আসলে আমরা হচ্ছি আত্মা। এবং আত্মা চলে গেল, দেহ অচল, দেহ মৃত। আসল লোক আমরা চিনতে পারিনি। আসল লোক হচ্ছে আত্মাজীবের স্বরূপ হয় — নিত্য ‘কৃষ্ণ দাস’, এইভাবে আমরা বাহির শরীর দেখেছি কিন্তু আত্মা দেখতে পারিনা। এবং কেউ ভগবান দেখতে চায়, আত্মাও দেখতে পারে না কি ভগবান দেখা? আত্মা দেখতে পারে না কি করে ভগবান দেখব? এখন শরীরের মধ্যে যে আত্মা আছে এই জন্য শরীর জীবিত। এখন আত্মা যদি চলে যায় শরীর মৃত। এইভাবে, সাধারণ মনুষ্য তারা হচ্ছে, প্রভুপাদ বলছেন যে পশুর মত। তারা কেবল শরীরে উপলব্ধি করে। এই কুকুর তারা বুঝতে পারেনা যে তারা কুকুর নয়, তুমি আত্মা, বুঝতে পারবে না। মনুষ্য এটা জ্ঞান আছে জানতে পারে। আমি এই আত্মা আছি, আমি শরীর নই। এটা হচ্ছে গীতার প্রাথমিক কথা। সাধারণ লোক এটাও বুঝতে পারে না। এইভাবে গীতা, ভাগবত পড়ার দরকার। এবং এইভাবে পড়লে, আস্তে আস্তে বুঝতে পারবে। এইভাবে আমরা দেখছি বাইরে বিতরণ করা গ্রন্থ এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। হরে কৃষ্ণ!

কারো কোন প্রশ্ন আছে

এটা মারথনের কথা হচ্ছে, “জীবন হচ্ছে দেওয়ার্ জন্যআমরা কৃষ্ণের শিক্ষা দিব। প্রাণ আছে যার সেই হেতু প্রচার।  এখন আমাদের যদি জীবন থাকে আমরা ভগবানের উপদেশ দিতে চাই।  এখন এই ভগবানের উপদেশ দিলে, তার জীবনে সার্থক হবে।

ভারত-ভূমিতে হৈল মনুষ্য-জন্ম যার।
জন্ম সার্থক করি
কর পর-উপকার
(চৈ চ আদি ৯:৪১)

 

হরিবোল! কারো কোন প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- গুরু মহারাজ আমার প্রশ্ন হচ্ছে যখন আমরা প্রচারে যাই, কেউ যদি আমাদের সাথে তর্ক করে, তখন আমাদের তর্ক করা উচিত না তর্ক না করে সেই স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়া উচিত?

জয়পতাকা স্বামী:- এখন ভগবানের যদি সমালোচনা করে, তাহলে চলে যাওয়া উচিত। কিন্তু এমনি যদি তর্ক করে তার সাথে বন্ধুর মতো কথা বলা যায়। প্রভুপাদ বলছিলেন ঠিক আছে আপনারা যদি পরীক্ষা করতে চান, আপনি এক সপ্তাহ হরিনাম করুন দেখো তোমার কিরম লাগে। এইভাবে প্রভুপাদ সবাইকে কৃষ্ণ নাম করতে আমন্ত্রণ করলেন। আমি, লুইসনা ব্যাটন রগে, একটা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এবং তাতে ছিল ফ্রি স্পিচ লেন (যেমন খুশি বলো)। যা ইচ্ছা বলতে পারো। ফ্রি স্পিচ লেন। আমি বক্তৃতা দিচ্ছিলাম। আর কিছু খ্রিস্টান এসে বলল, “এই আমরা বিশ্বাস করি না” “কি কথা বলছেন?” আমাকে দিয়েছে, এমন একটা প্রশ্ন দেবে উত্তর দিতে পারবে না। যেকেন লোক পঙ্গু হয়ে জন্ম হয়?” যদি ভগবান কাউকে সুযোগ দেয়, একজন অন্ধ, বা একজন পঙ্গু কেন? “রহস্য! রহস্য! এটা অদ্ভুত রহস্য।এইভাবে কয়েকটা প্রশ্ন দিয়া — রহস্য! রহস্য! সবকিছুই রহস্য! রহস্য! এইভাবে গীতার উপদেশ আছে যে আমরা নিজেদের কর্মফল ভুগতে হয়। আমরা নিত্য এবং আমাদের পুনর্জন্ম নিতে হয়। তো যেইভাবে আমি আমার কর্ম করছি তার ফলে আমি পঙ্গু হয়ে বা অন্ধ হয়ে জন্ম নিয়েছি। এই যুক্তি করে, খ্রিস্টানরা পালিয়ে গেছে। সব হাততালি দিয়েছে সাধারণ লোক। এইভাবে উনি ফালতু যদি কথা বলে এমন ভাবে তাদের উল্টে প্রশ্ন দেওয়া যায়। সেই প্রশ্ন তারা উত্তর দিতে পারেনা। এখন পরিস্থিতি দেখতে হয়। সাধারণত যদি ভগবান কিছু অপরাধ করে ফেলে। সেখানে কথা বলার কোনো উপযুক্ত নয়। 

প্রশ্ন:- যারা কসাইখানা আছে, মাংস দোকানে তাদেরকে যদি গীতা দেয়, তাদের গীতা দিতে পারবে? যদি নিতে চায় গীতা দিতে পারবে না কি পারবে না?

জয়পতাকা স্বামী:-  তারা যদি কেনে, কিনতে পারে। বিনামূল্যে দেওয়া উচিত নয়। 

প্রশ্ন:- আমরা কি উদ্দেশ্য নিয়ে গ্রন্থ প্রচার সেবা করবো? উদ্দেশ্য আমাদের কি থাকা উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- অষ্টাদশ অধ্যায় কৃষ্ণ বলছে যারা এই শিক্ষা প্রচার করবে তারা সবথেকে বেশি প্রিয়। এক উদ্দেশ্য ভগবানের কাছে সেবা করা। আরেকটা উদ্দেশ্য বদ্ধ জীব তাদের বারবার জন্ম নিতে হয় তার এই পুনর্জন্ম থেকে উদ্ধার করতে, এবং সে ভগবানের ধাম ফিরে যায়, সেই উদ্দেশ্যে একটা আছে। 

আজকে হচ্ছে একাদশী। একাদশী দিন মহাশক্তি ভগবানের শক্তি মায়া অসুরকে বধ করেছে। এখন ভগবান অত্যন্ত খুশি জিজ্ঞেস করছিলেন যে আমি কি বর দেব? বলছে, এই দিন যাতে মানুষ উপবাস করে, তারা বিভিন্ন ব্রত করে যাতে তারা বিশেষ উদ্ধার পায়। আজকের দিন ছিল একাদশী, তাই ভগবান একাদশী বিশেষ আশীর্বাদ দিয়েছে। 

গীতা যদি পুজো করা হয় বাড়ির মধ্যে সেই বাড়িতে সবসময় সব ভাল থাকবে। গীতা যদি পুজো করা হয়, কিন্তু পড়ে যদি তারা পূজা করে, সেই বাড়িতে কোনদিন অমঙ্গল জিনিস হয় না। শ্রী বৈষ্ণব তন্ত্র সার এটা বলে। নিত্য যদি গীতা শোনে, পাঠ করে, পড়ে, সে তার অমঙ্গল হয় না। বিশেষ করে গীতা যদি একাদশীর দিনে পড়া হয়। এইভাবে মানুষ যাতে সুযোগ নেয়, গীতা অধ্যায়ন করা, গীতা পড়া যায়। একজন যদি গীতা নিত্য সেবা করে, পড়ে, সবাই বলে অসমেধ যজ্ঞ ইত্যাদি হয়ে যায়। ভগবদ্‌গীতা হচ্ছে গাভীর মতো এবং এ উপনিষদের সারাংশ কৃষ্ণ হচ্ছেন গো রক্ষক তিনি গাভী থেকে দুধ বার করেনদুধ দোহন করেন এবং অর্জুন হচ্ছে গাভীর বাছুরের মতো। এইভাবে গাভিও দুধ দিচ্ছে এবং কৃষ্ণ দুধ বার করছে। হরি বোল!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions