মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- উলুধ্বনি! হরিধ্বনি! হরিবোল! হরিবোল! হরিবোল! কালকে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা হবে এই জন্য আমরা পূজারী আমরা 1:42 করব। কিন্তু আপনারা প্রাণ দিয়া, হৃদয় দিয়া প্রার্থনা করুন যাতে ভগবান আসেন। উনি আসছেন আপনারা সেবা করার সুযোগ দেওয়া। কারা সেবা করতে চান হাত তুলুন দেখি! খুব ভালো! এখন বিগ্রহ আসছে যাতে আপনারা সেবা করেন। আপনারা কয়জন শান্তি চাই? হাত তুলুন দেখি! এই গীতাতে একটা শান্তি প্রণব আছে:
ভোক্তারং যজ্ঞতপসাং সর্বলোকমহেশ্বরম্।
সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি।।
[গীতা ৫:২৯]
জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি — এই যদি জানা হয়, যার ধর্ম আছে, যত তপস্যা, যজ্ঞ, উপবাস ইত্যাদি সবকিছু একই ভগবান জন্য করা হয়। এবং তিনি হচ্ছেন সমস্ত অনন্ত কোটি ব্রহ্মাণ্ডের মালিক “সর্বলোকমহেশ্বরম্”। যত যজ্ঞ, ব্রহ্মাণ্ড, যত বিশ্ব তিনি মালিক। এবং তিনি সবার সুহৃদ। তিনি ওনার কাছে কেউ শত্রু নাই, কেউ মন্দ নাই, সবার তিনি সুহৃদ। কিন্তু যারা ওনার ভক্ত এটা উনি বিশেষভাবে সহায়তা করেন। এখানে কে ভক্ত হতে চায় দেখি! ভক্ত ছাড়া ভগবানকে ভালবাসতে পারে না। ভক্ত যে ভগবানকে ভালবাসবে প্রেম করবে, অনন্ত কোটি আনন্দ পাবে প্রেমানন্দ। এখন ভগবান বলছে, “সর্বধর্মান্ পরিত্যজ্য মামেকং শরণং ব্রজ” আমাকে একা শরণ নাও। “সর্বপাপেভ্যো মোক্ষয়িষ্যামি।।” (গীতা ১৮.৬৬) আমি সমস্ত পাপ থেকে মুক্ত করবো। আমার কাছে আসবে আমি সুখী করে দেবো। এখন এই ভগবান এত বলা সত্বেও এমন লোক আছে যারা ভগবানের কাছে যেতে চাইছে না। ভগবান বলছেন আমার স্মরণ নাও আমি তোমায় সুখি করে দিব। কিন্তু সে চেষ্টা করছে যে আমি ১ লাখ টাকা হলে সুখী হব। লটারি থেকে কিনে এক কোটি টাকা পাবে। চমৎকার! কিন্তু পায়নি। তারপরে কেউ অসুস্থ হয়, বৃদ্ধ হয় মরে যায়। এই জড় জগতে জগতে কোটি বছর থাকুক না কেন সুখী হতে পারেনা। সন্তুষ্ট হতে পারবে না। অনেক টাকা আছে এবং অনেক আশা আকাঙ্ক্ষা কিন্তু ভগবান, ভগবানের পূজা করা হচ্ছে একমাত্র উপায়।
অকামঃ সর্বকামো বা মোক্ষকম উদারধীঃ
তীব্রেণ ভক্তিযোগেন যজেত পুরুষং পরম্।।
(শ্রীমদ্ভগবতম ২.৩.১০)
যাদের কোন কামনা নাই শুদ্ধ ভক্ত, যাদের সমস্ত কামনা আছে, আর যারা মোক্ষ কামি সকলে পরমেশ্বর ভগবানকে আরাধনা করা উচিত। এখন আপনারা এসেছেন ভগবানের সম্বন্ধ করার জন্য। এখানে ভগবান কালকে আসবে আমরা ভগবানকে সেবা করার জন্য। ভগবানের সামনে নৃত্য করবেন, প্রার্থনা করবেন, শুদ্ধ প্রেম ভক্তির জন্য প্রার্থনা করবেন। এবং এখন কেউ ভগবানকে কেউ অন্ন দেবে, কেউ ডাল দেবে ইত্যাদি উপহার দেবে ভগবানকে। এইভাবে ভগবান কে সেবা করার সুযোগ আপনারা সকলকে দিচ্ছেন।
এখন, আমাদের এই জড়জগৎ, যতক্ষণ আমরা এটা বুঝবো ভৌতিক বাসনা থাকে। এবং এরপর এই দেহ শেষ হলে আবার জন্ম নিতে হয়। কিন্তু আমরা যদি ভগবানকে সেবা করতে চাই, ভগবান যদি আমরা শুদ্ধ ভক্তি চাই, আমরা ভগবানের কাছে ফিরে যাবো। কালকে যেখানে ছিলাম, সেখানে একজন ভক্ত বৃদ্ধ হইল, এই রাধা গোপালের সম্বন্ধে বলতে বলতে কাঁনছে আর এই রাধা গোবিন্দের কথা বলে চলে গেলেন। ‘নারায়ণ অন্তঃস্মৃতি’ , আমরা যদি ভগবানকে চিন্তা করি, মৃত্যুকালে আমরা ভগবানের কাছে যাব। সে যদি আমার অভ্যাস থাকে, সব সময় আমরা ভগবানকে চিন্তা করব, আমরা ভগবানকে ভুলবো না, আমাদের সেই ভাবে অভ্যাস থাকলে, মৃত্যুকালে আমি ভগবানকে ডাকবো। এখন আমরা তো ভগবান সাধারণত দেখতে পারিনা, তাই জন্য তিনি মূর্তিরূপে অবতীর্ণ করছেন। যাতে ওনাকে ভোগ নিবেদন করতে পারি, সেবা করতে পারি, কীর্তন নৃত্য করতে পারি।
এখন ভগবান আমাদের একটা সুযোগ দিচ্ছেন এই জড়জগত, চৈতন্যদেব বলছেন যে— ভগবানের নাম করো, ভগবানের কীর্তন কর, ভগবানের জন্য আনন্দে নৃত্য করবেন। হরিবোল! এইভাবে ভগবান প্রেম ভক্তি হৃদয় মধ্যে উদয় হবে। এখন এখানে চৈতন্যদেব এসেছেন সকলকে সুযোগ দেওয়ার প্রেম ভক্তি করার। সাধারণত কৃষ্ণের কাছ থেকে পেতে গেলে তিনি বলছেন আত্মসমর্পণ কর। কিন্তু চৈতন্যদেব এভাবে বিচার না করে কে ভালো কে মন্দ সবাইকে তিনি যারা হরে কৃষ্ণ নাম করছে তাদের বিতরণ করছে।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
গৌর হরি! গৌর হরি! গৌরাঙ্গ! গৌরাঙ্গ! গৌর হরি!
শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌর ভক্তবৃন্দ
হরি বোল!
আপনাদের কতজন মোবাইল ফোন আছে? এখন জয়পতাকা স্বামী অ্যাপ হয়ে গেছে। এই অ্যাপ আপনার কাছে বিনামূল্যে দেওয়া হবে! আপনারা গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপেল প্লে স্টোরে গেলে পেয়ে যাবেন। এইভাবে সিলেক্ট করতে হয় ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি বিভিন্ন ভাষা আছে। এখন কে বাংলা বোঝে? হরি বোল!
আমরা চাই আপনারা এই জন্মের পর আপনারা ভগবানের কাছে ফিরে যাবেন। কৃষ্ণ নাম করুন, কৃষ্ণ সেবা করুন। আমি একটা নাটক দেখলাম চেন্নাইতে, সেখানে তিনজন অভিনেতা ছিলেন, একজনকে বানিয়েছে, একটা মেয়ে মঞ্চে যমরাজ, একটা গোঁফ লাগিয়ে আছে আর দুজন ছিল যমদুত। যমদুত বলছে আমরা ইস্কনের গৃহস্থের বাড়ি গেলাম সেখানে স্ত্রী রান্না করে, জগন্নাথদেবের কাছে নিবেদন করছেন, তারা কৃষ্ণ প্রসাদ পায়। স্বামী ভগবদ্গীতা, চৈতন্যচরিতামৃত, শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ে, সমস্ত পরিবার শুনছে। সবাই একসাথে কৃষ্ণ নাম করে। এইভাবে যদি হয়ে যায় আমরা তো বেকার হয়ে যাব। আমরা তাদেরকে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করতে পারি না। তাহলে কেউ কি দয়া করতে চাও যমদূতের কাছে? আর কে যমদূত কে ছুটি দিতে চান? সেইভাবে কৃষ্ণ নাম করেন যমদূত ছুটি পাবে। আর যদি না করেন, যমদূত খুশি হবে, কাজ পাবে। হরি বোল!
কালকে জগন্নাথ দেব, তাঁর ভাই বোন, সুদর্শন চক্র চলে আসছেন, তারপরে রাধা কৃষ্ণ, গৌর হরি আসছেন। আপনারা প্রার্থনা করুন, ভগবান আসার জন্য, ওনার সেবা করার জন্য। এইভাবে, আমি এই সুন্দর মন্দির দেখে, হলদিয়া যে এত সুন্দর একটা... মন্দির হল আমি সমস্ত ভক্তবৃন্দ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন