Text Size

20221111 Sri Ksetra Puri Parikrama Address

11 Nov 2022|Bengali|Public Address|Sri Jagannath Puri, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:-  তো ভক্ত দর্শন হলো আনন্দ পেলাম। খুব আনন্দ পেলাম। আমরা এখানে শ্রীক্ষেত্র ধাম এসেছি, আমরা চৈতন্যদেবের লীলা স্থান দেখবো। তিনি ২৪ বৎসর ছিলেন নবদ্বীপে। তারপর সন্ন্যাস নেওয়ার পর এইখানে ২৪ বছরের মধ্যে ৬ বছর ঘুরেছে আর বাকি ১৮ বছর এইখানে ছিল  তিনি আবার গিয়ে পুরো দক্ষিণ ভারত ঘুরেছেন, ঝাড়খন্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশ, বৃন্দাবন দেখেছেন। মায়াপুর না গিয়ে বাংলাতে গিয়েছিলেন। তিনি এইভাবে এখানে বিভিন্ন লীলা করেন।

এইখানে চৈতন্য মঙ্গলে একটা ইতিহাস আছে, দক্ষিণ ভারত থেকে একজন ব্রাহ্মণ আসেন উনি জগন্নাথ দেবের কাছে অনেক প্রার্থনা করলেন —  আমি খুব গরীব জগন্নাথ আমায়, যাতে ধনী হয়। তারপর তিনি ভাবছেন জগন্নাথ শুনছেন না। তিনি উপবাস করছেন, তারপরে উনি এই সমুদ্রে কাছে গিয়া, একটা বিরাট পাহাড়ের মত বড় একটা লোক ছিল। বেরিয়ে এসছেন এই সমুদ্র থেকে এবং তারপর মনুষ্য মাপ হয়ে গেছে। সেই ব্রাহ্মণ জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কে?” আর সেই লোক বলল, “তোমার কি আছে? তুমি কে?” হা হা হা। তারপরে বলল, তিনি এসে বলল, “আমি ব্রাহ্মণ। আমি এসছি ধামে, আপনাকে দেখি, সামনে একটা বিরাট লোক দেখা হয় না, সমুদ্র থেকে বেরিয়ে গেছে, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম।” “আমার নাম বিভীষণ।এইভাবে বেরিয়ে এসছে।  তিনি এসে, এখন তিনি চৈতন্যদেব দর্শন করতে গেছে। সেই ব্রাহ্মণ সে পিছে পিছে যাচ্ছিল। তারপরে গিয়া সেই গম্ভীরা গেছেন। মহাপ্রভু দেখেন, “ ওহ! তুমি এসেছো, চলে এসো।তাঁর সামনে বসিয়ে দিল। কেননা চৈতন্য মহাপ্রভু তো ছিল রামচন্দ্ররূপে, তারপর তাকে চিনে নাই। তারপরে,... সে, অনেকদিন হয়ে গেল সে কথোপকথন করছে। তারপরে মহাপ্রভু সেই ব্রাহ্মণ কাছে বলছে, “এ আমাদের লোক মরছেন উপবাস করার জন্য।জগন্নাথ এবং মহাপ্রভু কোন তফাৎ নাই।  জগন্নাথ হচ্ছেন সেই বিগ্রহ এবং শ্রীচৈতন্যদেব হচ্ছেন চলা বিগ্রহ। এখন বিভীষণ বলছে, “এই ব্রাহ্মণ...মারছে, সে খুব গরীব, ধন চাই। তুমি ধনী করে দাও, টাকা দাও, ধন দাও, ধনী করে দাও।বিভীষণ রাজা উনি বলতে পারেন। তো এইবার অনেক ইতিহাস আছে। সেই ব্রাহ্মণ বিভীষণকে পিছনে ঘুরছেন এবং বিভীষণও জগন্নাথ দর্শন করার জন্য গেছে। তারপর বেরিয়ে এসছে, তখন এই ব্রাহ্মণ ছিল, পিছে যাচ্ছে, তারপর জিজ্ঞেস করল, “যার সঙ্গে কথা বলছো সে কে?” “তুমি বোকা! বোকা ব্রাহ্মণ।সে জানে না তিনি চৈতন্যদেব, অবতার। তখন সেই ব্রাহ্মণ এসে চৈতন্যদেব ষষ্ঠাঙ্গ প্রণাম করল। এবং আমি ভুল বলেছি, আমায় ক্ষমা করো।  চৈতন্যদেব বলছে, “ঠিক আছে! তুমি ফিরে যাও, তোমার অসুবিধা আমি মিটাবে যাও তুমি ভক্তি করো।হরিবোল! জগন্নাথ দেবের কৃপা আছে!

এখন, এইভাবে, কাম এবং প্রেম তফাৎ কি? আমরা যদি ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করার ইচ্ছা করি এ হচ্ছে কাম। আর আমরা জগন্নাথের, শ্রীকৃষ্ণের সন্তুষ্ট করার জন্য চাই এ হচ্ছে প্রেম। এখন যাতে সকলে ভক্তি করে এটা আমাদের ইচ্ছা। আমরা নিত্য শাশ্বত জীব কিন্তু আমাদের মৃত্যু হয় না, এই দেহ মৃত হয়, আমাদের আত্মা চিরকাল থাকে। কিন্তু আপনারা এই শরীর পেয়েছেন, এই শরীর পেয়েছেন বিভিন্ন কামনা বাসনা করার জন্য। আমার যদি ইচ্ছা থাকে যে জগন্নাথের, কৃষ্ণের সন্তুষ্ট হয়, আমাদের এখানে আবার পুনর্জন্ম নিতে হয় না। এটা আমি দেখলাম যে অধিকাংশ লোক বিভিন্ন পার্টি, বিভিন্ন কাজে আনন্দ-ফূর্তি করার জন্য, আপনারা এসেছেন আশা করি, এসেছেন ধাম পরিক্রমা করা, পবিত্র স্থান দেখা, দর্শন করা এবং ভগবান যাতে সন্তুষ্ট হয়। আমরা এই দেহ নই, আমরা হচ্ছি দেহ মধ্যে যে চেতনা, আমরা সেই চেতনা আছি। সেই চেতনা নিত্য কাল থাকবে, তার এই দেহ থাকবে না। আবার আবার বিভিন্ন দেহ। কেউ যদি দেশ ভালবাসে, দেশে জন্ম করতে পারে। কিন্তু মনুষ্য হবে সেটা নিশ্চিত নাই। অনেক কুকুর আছে, অনেক বাঘ, সিংহ আছে তারা মানুষ নয়। এইভাবে, গাছ হয়, মশা হয়। এখন, সেটা আমরা সাধারণত যারা হরে কৃষ্ণ নাম করে তারা কমপক্ষে মনুষ্য হবে। এবং যদি একটু ভগবদ্‌গীতা জানে, কৃষ্ণ বলছেন গীতাতে —- “জন্ম কর্ম চ মে দিব্যমেবং যে বেত্তি তত্ত্বতঃ” যে জানে তার পুনর্জন্ম নৈতি মামেতি সোঽর্জুনআমার কাছে চলে আসবে। এই সহজ পদ্ধতি এটা কঠিন কিছু নয়। কৃষ্ণের জন্ম কর্ম দিব্য এই পর্যন্ত জানা। আমরা কে মা হবে, কে বাবা তা বিচার করতে পারি না, এটা আমরা পেয়ে যাই। কৃষ্ণ ইচ্ছা করলে দেবকি, বসুদেব আমার মা-বাবা হবে এটা বিচার হয়। তারপরে আমি বৃন্দাবন যাব, আমি শিশুরূপে যশোদা এবং নন্দ মহারাজের কাছে থাকবো। তিনি ছোট শিশুরূপে, একটা বাচ্চারূপে, পূতনা এসেছে তাকে মারতে। কিন্তু তখনও তিনি ভগবান, তিনি তাকে শিখাচ্ছেন, আমি এসছি হত্যা করার জন্য, তোমাকে হত্যা করব যেহেতু তাঁকে দুধ দিয়েছেন মায়ের মতন, সে মার স্থান দিয়েছে, বৈকুন্ঠ ধামে। তো এইভাবে কৃষ্ণ সবসময় ভগবান। পুতনার সময় ভগবান, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ভগবান, গোবর্ধন পর্বত ধারণ করল, সবসময় ভগবান। তিনি রাসলীলায় রাস করেন, তিনি ভগবান। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভগবান। এখন এই ভগবদ্‌গীতা তিনি পাঠ করেন, আমরা ধন্য হয়ে গিয়েছে। এবং শ্রীমদ্ভাগবত, ভাগবত পুরান এটা হচ্ছে কৃষ্ণের সম্বন্ধে কথা। চৈতন্যদেব বললেন কৃষ্ণ কথা শুনতে এবং কৃষ্ণ কথা বলতে। এখন আমি চাই সবাই ভগবদ্‌গীতা, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু ইত্যাদি গ্রন্থ পড়ে ভক্তিশাস্ত্রী হয়ে যাক। এমনকি অসুবিধা দিয়েছে যে কিছু লোক যে অশিক্ষিত, কিছু লোক পড়তে জানে না,  আমি সেই ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামীকে বলছিলাম এইটা অশিক্ষিত লোক যাতে গ্রন্থ জ্ঞান বুঝতে পারে, এইটা ভেবে দেখা হোক। এখন আমাদের আধুনিক যুগ, ঠিক আছে,...করলেন বা মোবাইল ফোন দিয়ে শুনবে, শুনে মৌখিক উত্তর দেবে। যারা কিছু পড়তে জানে না তারা শুনবে, আমার কাছে একটা ডাক্তার বলছে, “আমি অজ্ঞান, অশিক্ষিত।ডাক্তার কি করে অশিক্ষিত হয়? “আমি তো ধর্ম শিখতে পারিনি। ভক্তিএবং সবাই যাতে কৃষ্ণের কথা গীতা ভাগবত অধ্যয়ন করে এটা আমার ইচ্ছা।  সবাই যাতে এই স্বামী-স্ত্রী, সমস্ত শাস্ত্র জানা দরকার। যারা গৃহস্ত, তাদের সন্তান যাতে পুনর্জন্ম না পায়, সেই ভাবে শিখতে হবে। এইভাবে সবাই চেষ্টা করলে শাস্ত্র অধ্যায়ন, শাস্ত্র জানা। নয়টা ভক্তি সেবা আছে, এটা করতে আমাদের সুযোগ আছে —-  শ্রবণং, কীর্তনং, স্মরণং, পাদ সেবনাম, অর্চনা, দস্যম, সখ্যম, আত্মনিবেদনম। যাই হোক, এইটা হচ্ছে এই পরিক্রমার সময় ভক্তি পুরুষোত্তম মহারাজ যেমন... আমরা শুনবো চৈতন্যদেব, জগন্নাথদেব বিভিন্ন লীলা। এটা হচ্ছে শ্রবণং, তারপর আমরা হরিনাম কীর্তন করব, কীর্তনং, তারপর সব কিছু মনে রাখব এই যে শুনছিলাম, সেটা স্মরণং, বিভিন্ন পবিত্রস্থান গেলাম প্রার্থনা করলাম, প্রণাম করলাম, সেটা হচ্ছে বন্ধনা, এবং সেই ভাবে বিগ্রহ পূজা করা সেটা হচ্ছে অর্চনা এবং কেউ সেবা করছে, প্রসাদ দিতে পারে ইত্যাদি এবং প্রত্যেকের সেবা করা এ হচ্ছে পাদসেবনম। এইভাবে বিভিন্ন সেবার মধ্যে থেকে আমাদের জীবন সার্থক হয়ে যায়। হরি বোল!

অনেক এখানে ভক্ত আছে। আমি দুবছর আমি এর মধ্যে ছিলাম না এখন অধিক বলছিলাম। হা! হা! হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions