Text Size

20221105 Srimad Bhagavatam 2.1.26

5 Nov 2022|Duration: 01:00:04|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়

শ্রীমদ্ভাগবতম ২.১.২৬

পাতালমেতস্য হি পাদমূলং
পঠন্তি পার্ষ্ণি প্রপদে রসাতলম্‌।
মহাতলং বিশ্বসৃজোঽথ গুল্ফৌ
তলাতলং বৈ পুরুষস্য জঙ্ঘে।।

অনুবাদ:- তত্ত্বজ্ঞ ব্যক্তিরা অধ্যয়ন করেছেন যে পাতাললোক সেই বিরাট পুরুষের পাদমূল, রসাতল তাঁর পদের অগ্র ও পশ্চাৎভাগ, মহাতল তাঁর পদদ্বয়ের গুল্ফ প্রদেশ এবং তল ও অতল লোক তাঁর জঙ্ঘাদ্বয়।

তাৎপর্য:- পরমেশ্বর ভগবানের শরীরের অতীত এই দৃশ্যমান জগতের কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। ব্যক্ত জগতের সব কিছুই তাঁকে আশ্রয় করে বিরাজ করে, যে কথা শ্রীমদ্ভবদ্গীতায় (৯/৪) প্রতিপন্ন হয়েছে, কিন্ত তার অর্থ এই নয় যে জড় জগতের বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের যা কিছু গোচরীভূত হয় তা সবই পরমেশ্বর ভগবান। ভগবানের বিশ্বরূপের ধারণা জড়বাদীদের ভগবান সম্বন্ধে চিন্তা করবার সুযোগ দেয়, তবে জড়বাদীদের নিশ্চিতভাবে এটি জেনে রাখা উচিত যে ভোগের দৃষ্টিতে এই জগতের দর্শন কখনই ভগবদুপলব্ধি নয়। ভগবানের বহিরঙ্গা-শক্তির প্রভাবে মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার ফলে জড় জগতের সম্পদ ভোগ করার প্রবৃত্তির উদয় হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কেউ যদি ভগবানের বিশ্বরূপের ধারণার মাধ্যমে পরম সত্যকে জানতে চান, তাহলে অবশ্যই সেবা-প্রবৃত্তির অনুশীলন করতে হবে। সেবা-প্রবৃত্তি বা ভক্তিভাবের উদয় না হলে বিরাট রূপের উপলব্ধিতে কোন কাজ হবে না। চিন্ময় ভগবান, তাঁর কোনও রূপেই জড় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি সর্ব অবস্থাতেই সচ্চিদানন্দময় এবং তিনি কখনই জড় জগতের ত্রিগুণের দ্বারা প্রভাবিত হন না। কেননা জড় জগতে সবকিছুই কলুষিত। ভগবান সর্বদাই তার অন্তরঙ্গা-শক্তিতে বিরাজ করেন।

ব্রহ্মাণ্ড চতুর্দশ ভুবনাত্বক। তার সাতটি উর্ধ্বলোক, যথা— ভূঃ, ভুবঃ,স্বঃ,মহঃ, জনঃ, তপঃ এবং সত্য। আর সাতটি অধঃলোক হচ্ছে তল, অতল, বিতল, রসাতল, তলাতল, মহাতল এবং পাতাল। এই শ্লোকে সর্বনিন্ম স্তর থেকে লোকগুলির বর্ণনা শুরু হয়েছে, কেননা ভক্তিমার্গে ভগবানের শ্রীঅঙ্গের বর্ণনা পা থেকে শুরু করা হয়। শুকদেব গোস্বামী সর্বজনবিদিত ভগবদ্ভক্ত এবং তাঁর বর্ণনা অবশ্যই নির্ভুল।

***

জয়পতাকা স্বামী:- অতএব এই শ্লোকটি ভগবানের বিরাট রূপের বর্ণনা করছে। এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এর দ্বারা ভগবানকে উপলব্ধি করা যায় না। পরমেশ্বর ভগবান সবসময় পারমার্থিক দিব্যরূপ থাকেন। এবং ইনি বহিরশক্তি থেকে প্রকাশিত নয় তিনি তাঁর অন্তরঙ্গ শক্তি দ্বারা প্রকাশিত। কিন্তু অধঃপতিত জীবদের সুবিধার জন্য এখানে পরমেশ্বর ভগবানের এমন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। তবে, আমাদের বোঝা উচিত যে সাধারণত এই জড়জগতে জরবাদীদের উপভোগ করার মনভাব রয়েছে। কিন্তু ভক্তিপথে এখন সেবা ভাব উদয় দরকার। এখন সেবাভাব থাকলে, আমাদের ভক্তিপথে কাজ হয়। আমাদের জড়শক্তিকে উপভোগ করার এবং নিয়ন্ত্রণ করার মনোভাব রয়েছে। এইভাবে আমরা জড়িত, বদ্ধ হয়ে থাকি। জড়জাগতিকভাবে আমরা যা কর্ম করি তা আমাদেরকে এই জড় জগতে বদ্ধ করে রাখার জন্য ভালো বা মন্দ ফল দেয়। পূর্ণ কর্ম করলে উপরে যাওয়া হয়, পাপ কাজ করলে নিচে যাওয়া হয়। চৈতন্যচরিতামৃত একটা কথা আছে, “এই ভালো, এই মন্দ সব মনের ভ্রমতাই আমাদের দেখা উচিত যে জড়জাগতিক সবকিছু কলুষিত। চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রদর্শিত পথটি হল ভক্তি, সেবার মনোভাব। আমরা পরম পুরুষোত্তম ভগবানের সেবা করতে চাই। সেই সেবা না হলে এখন আমাদের ভগবানের কাছে আসতে পারি না।

সেই জন্য, এখন নবদ্বীপ ধাম হচ্ছে নয়দীপ, ৯টা প্রকার ভক্তি সেবা আছে। শুরু হয় শ্রবণ এবং কীর্তন দিয়ে। আমরা পবিত্র নাম কীর্তন শ্রবণ করতে চাই এবং আমরা পবিত্র নাম কীর্তন করতে চাই। অনেক মানুষ মনে করে একটা মানসিক জপ হলে সেটা ভাল হয়, সেটা সুক্ষ। কিন্তু, বিভিন্ন শাস্ত্রে আছে উচ্চস্বরে কীর্তন করলে শতগুণ বেশি ফল হয়। তাই, আমরা চাই ভক্তরা যতটা সম্ভব উচ্চস্বরে জপ করুন। এখন হরিদাস ঠাকুর তিনি প্রত্যেকদিন ৩ লক্ষ নাম করতেন। তা হল আমরা যা জপ করি এর থেকে ১২ গুণ অধিক। যদি আমরা ১৬ মালা করি, তিনি করেন ৬৪ মালা তিনবার। কিন্তু অবশ্যই, আমরা অধিক মালা জপ করতে পারি, এতে কোন সমস্যা নেই। এখন হরিদাস ঠাকুর যে জপ করলেন, তিনি উচ্চস্বরে এক লক্ষ করতেন, এক লক্ষ অল্প শব্দ করে, এক লক্ষ করতেন মানসিক। তাই এই তিন ধরনের জপ অনুমোদিত। কিন্তু যদি আপনি উচ্চস্বরে নাম করেন, তাহলে যে সমস্ত জীবদের জিহ্বা আছে কিন্তু জপ করতে পারে না, কীটপতঙ্গ, পশু, গাছপালা আছে এবং যদি আমরা উচ্চস্বরে নাম করি, তাহলে এই সকল জীবেরা উদ্ধার পায় তো এই কারণে এটি শতগুণ বেশি শক্তিশালী।

নবদ্বীপ ধামে যা সেবা করো, এক হাজার গুণ বেশি। যদি আমরা গঙ্গার তিন মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকি,  তাহলে আমরা আরো এক হাজার গুণ বেশি ফল পাই। এই কারণে মায়াপুর ধামে জপ কীর্তন করা এবং সেবা করার বিষয়টি অতুলনীয়। আমাদের ছুটি চাই, আমাদের বৈষ্ণবের ছুটি হল ধাম গিয়ে আরো বেশি সেবা করব। যখন মানুষেরা এই মায়াপুর ধামে গৌর পূর্ণিমা মহোৎসব উপলক্ষে আসেন, তাদের উচিত অনেক বেশি শ্রবণ ও কীর্তন এবং সেবা করা। কারণ যদি আমরা কিছুই না করি তাহলে কিছুই এত ফল কিছুই লাভ করব না। তা হয়ে যায় শূন্য। তাই, আমরা সেবার মনোবৃত্তি লাভ করতে চাই। এবং পবিত্র নবদ্বীপ ধামে আগমনের মাধ্যমে আশা করি আমাদের সেবা মনোবৃত্তি বৃদ্ধি পাবে।

এখন দীক্ষা নেওয়ার অর্থ হচ্ছে যে আমাদের সেবা ভাব নিয়ে সেবা করবো ভগবানের। আমাদের সন্ন্যাসীরা, তাদের ত্রিদন্ড সন্ন্যাস আছে, যার অর্থ হলো মন-কায়-বাক্য দ্বারা সেবা করা। ব্রহ্মচারীরা তাদের পূর্ণ সময় সেবায় ব্যবহার করেন। এইভাবে, ব্রহ্মচারীরা সবসময় সেবা করতে সুযোগ পায়। কিন্তু প্রভুপাদ তিনি লন্ডনে বলছিলেন যে, তিনি চান তার গৃহস্থ ভক্তরা যাতে পরমহংস হয়। পরমহংস হতে গেলে সেবা ভাব দরকার ভগবানের কাছে। প্রভুপাদ চাকদহ তিনি একটা ভাষণ দিচ্ছিলেন, চাকদহ হচ্ছে নদীয়া জেলায়। প্রভুপাদ তিনি দিনের সম্পূর্ণ সময় অতিবাহিত করার একটি পূর্ণ বিবরণী দিয়েছিলেন। এবং এর শেষে তিনি বললেন এটি কি মনুষ্য জীবন? এবং তিনি বললেন কৃষ্ণকে তোমার জীবনে যুক্ত করো, তা তোমার জীবনকে পূর্ণ করবে। তিনি তাদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন যে কলকাতায় ট্রেনে করে যাওয়ার সময় তারা জপ কীর্তন করতে পারে। এখন পর্যন্ত এখানে একটা চাকদহ থেকে ট্রেন যাচ্ছে, একটা বগিতে কীর্তন করে।

আমি তিরুপতি, তিরুমালাতে গিয়েছিলাম, সেখানে তারা বিনামূল্য খাবারে পিঁয়াজ এবং রসুন দিচ্ছিল। এখন আমি বলছিলাম যে এটায় আস্তে আস্তে বালাজি প্রসাদ দেওয়ার জন্য। আপনারা তাদেরকে কেন পিঁয়াজ রসুন যুক্ত খাবার দিচ্ছেন? তারা বললেন, “তারা তা পছন্দ করে!এখন তারা খুশি করছে বালাজিকে প্রসাদ দিতে চাও। তো সেই সময়ের পর থেকে তারা মানুষদের পিঁয়াজ রসুন দেয় না। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল আপনারা এটি বন্ধ করেছেন কেন? তারা বলেছিলেন কোন এক সন্ন্যাসী আমাদের বলেছে! তাই আমরা একটা ভিন্নতা সৃষ্টি করতে পারি।

তাই আমরা দেখি যে গৃহস্থরা, তারা দেখতে পায় যে ব্রহ্মচারীরা সেবাব্যস্ত, তাই তারাও সেরকম ভক্তিমূলক সেবায় সক্রিয় হতে পারে। গৃহস্ত, তাদের পরিবার, সন্তান, আরো কত কি দেখভাল করার আছে। কিন্তু কোন কোন সময়, ঠিক যেমন আমরা খাবার খাই, কিন্তু আমরা প্রসাদ পাই। আমরা কিছু সময় শ্রীবিগ্রহের সেবায় সময় অতিবাহিত করি। মন্দিরে গিয়ে বা নিজের বাড়িতে মধ্যে ঠাকুরের পূজা করা হয়। এবং আমরা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করি —  ভগবদ্‌গীতা, শ্রীমদ্ভাগবতম, চৈতন্য-চরিতামৃত, ইত্যদি। তো এইভাবে, আমরা কৃষ্ণের প্রতি আমাদের সেবা মনোভাব বজায় রাখি।

কলকাতায় একটি পরিবার ছিল। স্ত্রী, সন্তানেরা সকলে আমার শিষ্য ছিল কিন্তু স্বামী তিনি আগ্রহী ছিলেন না। তারপর স্বামীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। তিনি তার বিছানায় ছিলেন এবং ক্যান্সার রোগটি বারাবারি পর্যায়ে ছিল। তারপরে কিছু ভয়ংকর মানুষ দেওয়ালের মধ্যে এসে গেছে। হাতে দড়ি ছিল। এটা মনে হচ্ছিল তারা হচ্ছে যমদূত। এখন উনি যখন দেখছেন, “না না না না! না না! আমি যাব না! না না না!তারপর তারা দেওয়ালে অদৃশ্য হয়ে যায়। তিনি তার স্ত্রীকে ডাকলেন, “আমি জপমালা চাই, আমি কন্ঠিমালা চাই। ভগবদ্‌গীতা পড়ো আমার জন্য।এবং এক সেকেন্ডের মধ্যে যমদূতগণ তাকে ভক্ত বানিয়ে দিয়েছেন। যমদূত তাকে সুযোগ দিয়েছে ভক্ত হতে সবাই সেই সুযোগ পাবে কিনা, সেই জ্ঞান হবে কিনা, কারণ তার পরিবারে সকলে ভক্ত ছিলেন। তাই তিনি সেই সুযোগ লাভ করেছিলেন। তাই গৃহস্থরা তাদের প্রতিবেশী, কর্মক্ষেত্রে সহকারি, শিক্ষার্থীকর্মীদের ও প্রচার করতে পারে।

এ বিষয়ে ভক্তি বিজয় ভাগবত স্বামী আপনাকে কিছু পরামর্শ দিতে পারেন! যাই হোক, ভগবান কৃষ্ণের ইচ্ছা ব্যতীত এই সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের কোনো অস্তিত্ব থাকেনা। তাই কৃষ্ণ ব্যথিত সবকিছুই মোহ। কিন্তু তিনি উপভোগ করতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি অনেক শক্তি প্রকাশ করেছেন। আমরা হলাম জীব শক্তি। এখন এই জড় জগতে এক সিকি পরিমাণ শক্তি দ্বারা প্রকাশিত। পারমার্থিক জগত, বৈকুন্ঠ ধাম সে তৃতীংশ শক্তি। এখন অমরা ভগবানের সেবা ভাব যদি থাকে তো আমরা ওখানে যেতে পারি। কিন্তু আমাদের যদি উপভোগ করার মনোবৃত্তি থাকে, আমরা এখানে থাকবো। তাই ভগবানের প্রীতিবিধানার্থে আমরা সেবা মনোভাব অর্জন করতে চাই। এখন যদি গৃহস্থদের কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান থাকে, তাহলে সেটি হল তাদের কৃষ্ণের প্রতি সেবা। ভক্তিবিনোদ ঠাকুরের ভক্তি সিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের মতো একজন পুত্র ছিল, তাই প্রভুপাদ বলেছেন আমাদের এমন অনেক পুত্র প্রয়োজন। তাই, একজন গৃহস্থ হন বা ব্রহ্মচারী, তাদের উচিত কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত হওয়া। কোন প্রশ্ন আছে কি?

প্রশ্ন:- আপনি আপনার ক্লাসে বললেন কি যে যদি নবদ্বীপ ধামে কেউ সেবা করে এক হাজার গুণ ফল লাভ হয়, আপনার শ্রীমুখ থেকে আমি আগে শুনেছি যে কলকাতায় যদি কেউ সেবা করে ১০০০০ গুণ ফল পায়, তো এটা কেন?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন মায়াপুরে দামোদর মাসে আপনি ১০০ গুণ ফল পান, একাদশীর দিনে আপনি আরো এক হাজার গুণ ফল পান এবং যদি গঙ্গার নিকটবর্তী স্থানে অবস্থান করেন তাহলে আপনি আরো এক হাজার বা ১ লাখ গুণ বেশি ফল পান, তো এইভাবে বলা আছে। তবে কলকাতা হল গৌর মন্ডল ভূমির অংশ। আমার মনে হয়, প্রভুপাদ এমন কিছু একটা বলেছিলেন, তিনি বলেছিলেন যে তিনি কলকাতায় থাকতে পারেননি। কিন্তু যারা তাঁর জন্মভূমির সেই শহরের থাকবে, তারা বিশেষ কৃপা প্রাপ্ত হবে। তাই আমার মনে পড়ছে না কত গুন ফল কিন্তু প্রভুপাদ এইরকম কিছু বলেছিলেন। আমি এটা দেখব।

প্রশ্ন:- গুরুমহারাজ নবদ্বীপ ধামে সেবার যে কথাটি আপনি বলেছিলেন তা আমরা যারা বাইরে আছি বিশেষ করে বাংলাদেশে আমরা প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মধ্যে মুসলিমদের সঙ্গে রীতিমতো ফাইটিং করে আমাদের টিকে থাকতে হচ্ছে তা আমাদেরও ইচ্ছা হয় আমরা নবদ্বীপ ধাম এসে সেবা করি এখন সেই বাংলাদেশ থেকে এসে আমাদের যদি নবদ্বীপ ধামে আমরা কিভাবে আসতে পারি? এই মহৎ এই পুণ্য সেবার অধিকার আমরা কিভাবে লাভ করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- চমৎকার প্রশ্ন! অবশ্য, যদি আমরা বিভিন্ন অসুবিধা সম্মুখীন করে কৃষ্ণের জন্য, তিনি তার জন্য বিনিময়ে ভীষণ কৃতজ্ঞ। আমরা বিরহে নবদ্বীপ ধামে সেবা করতে পারি। ঠিক যেমন, আপনি নবদ্বীপ ধামে থেকে বেশি সুকৃতি অর্জন করতে পারবেন নাকি সংকীর্তন প্রচারে গিয়ে এখন মায়াপুরের জন্য প্রচার করা হয়, তার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য এবং পূর্ব আচার্যগণ বেশি খুশি হয়। তাই, শাস্ত্রে বর্ণনা করা হচ্ছে নবদ্বীপ ধাম, বৃন্দাবন ধাম সম্পর্কে, যে আমরা কত ফল লাভ করি। কিন্তু সেই বাইরে গিয়ে প্রচার করা বা প্রিচিং করা, যে ফল হয় সেটা হিসাব নাই। আমি মায়াপুর থেকে প্রচারে যেতাম এবং গ্রন্থ বিতরণ করতাম। প্রভুপাদ আমাকে বলেননি, মায়াপুরে থাকো, আর অনেক সুকৃতি অর্জন করবে তিনি আমাকে বলেছিলেন ১০,০০০ বড় গ্রন্থ এবং এক লক্ষ ছোট গ্রন্থ বিতরণ করতে, প্রতি মাসে। এবং তারপর যখন আমি অসুস্থ ছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন, হয়তো তুমি অতিরিক্ত কার্য করছো, তাই মায়াপুরে থাকো এবং তোমার সচিবদের দ্বারা সেবা চালিয়ে যাও। অতএব, এই শ্লোকটিতে সেবা ভাবের উল্লেখ রয়েছে। এবং আমরা সেই সেবা করতে চাই যা আমাদের প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের কাছে সর্বাপেক্ষা প্রিয়।

হেমাঙ্গি গোপি দেবী দাসী:- গুরুমহারাজ আপনি বলেছেন যে সন্তান প্রতিপালন করা হলো কৃষ্ণের প্রতি সেবা।  আমরা কিভাবে শিশুদের উপযুক্ত পদ্ধতিতে তাদের বয়স অনুযায়ী কৃষ্ণ ভাবনামৃত দিতে পারি?  কখনো কখনো আমি দেখি অভিভাবকরা সন্তানদের এক প্রোগ্রাম থেকে অন্য প্রোগ্রামে জোর করে নিয়ে যান এবং সময়ের সাথে সাথে সেই সন্তানেরা তা অতিরিক্ত মনে করে এবং ছেড়ে চলে যায় এখানে অনেক গৃহস্তরা আছেন। দয়া করে পথ দেখান।

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন, সফল গৃহস্থরা হয়তো অন্যদের পথনির্দেশ করতে পারেন। আমি হলাম একজন সন্ন্যাসী, তাই আমি বলতে পারি না যে আমি জানি কিভাবে সন্তানদের বড় করা যায়! কিন্তু আমি জানি যে এটি হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা। এটা এমনভাবে করা উচিত যাতে শিশুরা উৎসাহী হয়। আমি একজন স্ত্রীর সাথে কথা বলছিলাম, “আপনার স্বামী কোথায়?” তিনি বললেন, “উনি আমার ছেলের সাথে বৃন্দাবনে আছেন।” পুত্র সে ভাগবতম ক্লাস শুনতে পছন্দ করে, শাস্ত্র অধ্যয়ন করতে এত পছন্দ করে যে সে তার থাকার সময় এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে। তাই অবশ্যই, আমাদের উচিত আমাদের সন্তানরা যাতে ভক্তিমূলক সেবা করতে চায় তাতে উৎসাহিত করা। এখন এর রহস্য কি? আমার মনে হয় না এটি কোন একচেটিয়া বিষয় এবং এমন কোন নিশ্চয়তা নেই যে প্রত্যেক সন্তান শুদ্ধ ভক্ত হবে। কিন্তু যদি আপনি গর্ভধান সংস্কার, অন্যান্য সব সংস্কারগুলি করেন, আমরা যদি ভালো সঙ্গ প্রদান করি, আপনি যদি একটি ভালো দৃষ্টান্ত হন, তাহলে আশা আছে। অদ্বৈত গোসাইয়ের ৬জন পুত্র ছিল, ৩জন পুত্র ছিলেন শুদ্ধ ভক্ত, বাকি ৩জন পুত্র শুদ্ধ ভক্ত ছিলেন না। ভক্তি বিনোদ ঠাকুরের অনেক সন্তান ছিল। একজন আচার্য, আরেকজন ছিলেন নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী। সবার, আমি জানি না সবার কি, সব কি। যাই হোক, এখন আমাদের ক্লাস সমাপ্ত করা উচিত এবং আপনারা সকলে সকালের প্রসাদ গ্রহণ করতে যেতে পারেন। যদি আপনি চেষ্টা করেন যে আপনার সন্তান কৃষ্ণভাবনাময় হোক তাহলে কৃষ্ণ তার প্রশংসা করবেন। নবতালবনে আমি দেখেছি, ছোট শিশু, ছয় বছর বয়স বা তার নিচে, তারা তাদের এক মালা জপ করছিল। একটা থালা ছিল সন্দেশের, যখন তাদের জপ শেষ হবে, তারা সকলে সন্দেশ পাবে এখন কিছু কিছু শিশুরা সেই সন্দেশের দিকে তাকিয়ে ছিল এবং জব করছিল। যাই হোক কোন না কোনভাবে তারা উৎসাহীভাবে জপ করছিল। তাই আমাদের তাদেরকে উৎসাহিত করার কিছু পন্থা ভাবা উচিত। হরে কৃষ্ণ! আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions