Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ২৯ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

29 Oct 2022|Duration: 00:32:52|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:-  যেহেতু আজকে শ্রীল প্রভুপাদের তিরোভাব তিথি, তাই আপনাদের সাথে হরিদাস ঠাকুরের লীলার পরিবর্তে শ্রীল প্রভুপাদ সম্পর্কে প্রশ্ন এবং উত্তর আলোচনা হবে কী?

প্রশ্ন:-  শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে চাঁদে অনেক প্রচার করতে হবে। আপনি কি সেই লীলাটি আমাদের বলতে পারেন

জয়পতাকা স্বামী:-  আমি দামোদর মহারাজের থেকে শুনেছিলাম, শ্রীল প্রভুপাদের একজন গুরুভ্রাতা, একসময় শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর, তিনি বিকেলে হাঁটছিলেন, এবং হঠাৎ তিনি চাঁদের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন এবং সকলে তার দিকে তাকাচ্ছিলো ও তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ পরে, তিনি বললেন চাঁদের মানুষেরা জড়বাদী হয়ে পড়েছে, তারা বহির্মুখ হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য প্রচার দরকার। তাই পরবর্তী যাত্রা হল চাঁদে, কয়েকজন প্রচারককে পাঠাও!

সত্যমেধা গৌরাঙ্গ দাস:- শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন কৃষ্ণভাবনাময় এক মিনিটে হওয়া যেতে পারে। আপনি কি আমাদের এই সম্পর্কে আরো বলবেন?

জয়পতাকা স্বামী:- সত্যমেধা গৌরাঙ্গ দাস! হরিবোল! শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে যদি আমাদের দৃঢ় ইচ্ছা থাকে তাহলে কৃষ্ণচেতনা আকস্মিক প্রকাশিত হবে। ঠিক যেমন একজন শিশু কাঁদছে, যদি সেই শিশুটি একটু কান্না করে, তাহলে মা হয়তো অগ্রাহ্য করবে কিন্তু যদি শিশু সত্যিই কান্না করে, আআআআআহহহহ, তখন মা ছুটে আসবে, কি হয়েছে? যদি আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কৃষ্ণভাবনাময় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি, তাহলে কৃষ্ণ তোমাকে এক মিনিটে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করবেন। 

গোপতি কৃষ্ণ দাস:- আমরা দেখেছি যে অনেক পত্রে শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে সতর্ক করেছেন অন্যান্য গৌড়ীয় মঠের ভক্তদের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে মেলামেশা না করতে, কিন্তু একইসাথে তিনি বলেছেন আমাদের তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে। আমরা কিভাবে সমতা বজায় রাখবো এবং এটিকে বুঝবো?

জয়পতাকা স্বামী:-  শ্রীল ভক্তিবিনোদ ঠাকুর, শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের আবির্ভাব ও তিরোভাব তিথিতে আমরা কিছু যৌথ কার্যক্রম করার চেষ্টা করেছিলাম। এবং সেই সময় প্রত্যেকে ১০ মিনিটের জন্য বক্তব্য রেখেছিলেন এবং আমাদের অনেক বক্তারা ছিলেনএইভাবে আমরা সহযোগিতা করছি। কিন্তু আমরা সত্যিই সঙ্গ করি না, একে একে, ব্যক্তিগতভাবে, কারণ এটি হয়তো আমাদের কিছু সমালোচনার সম্মুখীন করবে। 

বর্ষা ভেঙ্কট:-  শ্রীল প্রভুপাদের মত একজন মহান আচার্যের তিরোভাব তিথি পালন করার মনোভাব কি হওয়া উচিত

জয়পতাকা স্বামী:- তোমার উচিত গুরুকে সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করা এবং অন্যান্য গুরুভ্রাতা এবং ভগিনীগণকে বিনম্র প্রণাম জানানো। তাহলে, কৃষ্ণভাবনামৃত বেশ সরল হবেকিন্তু তোমাকে অত্যন্ত আন্তরিক হয়ে এটি অনুশীলন করতে হবে। সেইভাবে, সামান্য পথভ্রষ্ট হলে তা হয়তো অত্যন্ত প্রভাববিশিষ্ট হবে। এই কারণে তিনি বলতেন যে এটি হলো ছুরির ধারের মত। 

শাশ্বতী সুধারানী দেবী দাসী:- শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি কি প্রসাদ পছন্দ করতেন এবং গুরু মহারাজ আপনি শ্রীল প্রভুপাদের জন্য কি প্রসাদ রন্ধন করেছিলেন?

 জয়পতাকা স্বামী:-  আমার মনে পড়ে যে শ্রীল প্রভুপাদ কচুরি ভালো বাসতেন। এই কারণে কখনো কখনো তিনি কচুরি খেতেন। আমি সেই ভক্ত নই যে শ্রীল প্রভুপাদের জন্য রন্ধন করতেন, তাই আমি সব জিনিস জানি না যেগুলি তিনি পছন্দ করতেন। একসময় আমি দেখেছিলাম যে তার আন্ত্রিক রোগ হয়েছিল এবং তার ভগ্নি লবণ দিয়ে গরম পুরি তৈরি করেছিলেন। তিনি পুরির ওপরে লবণ ছিটিয়ে দিয়েছিলেন এবং পুরিগুলো ছিল গরম। আমার মনে হয়না যে তা আমাশয় রোগ নিরাময় করে কিন্তু কোনভাবে এটি তাঁকে সুস্থ করে তোলে!

ইসকন কুর্ণুল:- শ্রীল প্রভুপাদের থেকে আমরা কোন গুণগুলি শিখব?

জয়পতাকা স্বামী:-  আমার মনে হয়না এর কোন সীমা আছে। একজন শুদ্ধভক্তের সমস্ত গুণাবলী আমরা শ্রীল প্রভুপাদের মধ্যে দেখতে পারি। 

কৃষ্ণ করুণামূর্তি দাস:- যখন আপনি শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকটের কথা শুনেছিলেন তখন আপনার মনোভাব কেমন ছিল?

জয়পতাকা স্বামী:- কাঁদছিলাম!

বাংলায় প্রশ্ন:-  শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকটের এত বছর পরেও আপনি কিভাবে তাঁর উপস্থিতি উপলব্ধি করেন?

জয়পতাকা স্বামী:- আমি ভাবি যে আমাকে শ্রীল প্রভুপাদ যে বিভিন্ন নির্দেশাবলী দিয়েছিলেন সেগুলি আমি এখনো করতে চাই, এবং আমি শ্রীল প্রভুপাদের কাছে প্রার্থনা করি তাঁর আশীর্বাদের জন্য যাতে আমি এই নির্দেশগুলি পালন করতে সক্ষম হতে পারব। এই তিরোভাব তিথিতে একটি জিনিস, যা হল আমাদের কাছে আধ্যাত্মিক গুরুদেবের ঐতিহ্যমণ্ডিত নির্দেশাবলী আছে পালন করার জন্য, এবং আমরা তাঁর নির্দেশাবলী পালনের মাধ্যমে তাঁকে জীবিত রাখতে চাই। 

বাংলায় প্রশ্ন:-  আমরা শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি আমাদের শরণাগতি কিভাবে বৃদ্ধি করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:-  তাঁর গ্রন্থ পড়ুন, তাঁর নির্দেশাবলী পালন করার চেষ্টা করুন। তিনি তাঁর গৃহস্থ অনুসারীদের পরমহংস হতে দেখতে চেয়েছিলেন। তাহলে অন্যদের সম্পর্কে আর কি বলার আছে?!

প্রশ্ন:-  শ্রীল প্রভুপাদের সাথে কোনটি আপনার সবথেকে প্রিয়, ব্যক্তিগত উপলব্ধি?

জয়পতাকা স্বামী:- আপনি যদি জিজ্ঞাসা করেন কোনটি আমার সবথেকে প্রিয় এটা নাকি ওটা তা আমি কিভাবে বলতে পারি? আপনার প্রিয় একটি ঘটনা বলুন, তাহলে আমি তা পারব, আমার মনে যা আসবে তাই বলবো। কেউ একজন আমাকে বলেছিলেন যখন আপনি আধ্যাত্মিক গুরুদেবকে দেখবেন তখন আপনার নিজেকে বিনম্রভাবে প্রকাশ করা উচিত, ও তাঁর প্রশংসা করে আশীর্বাদ প্রার্থনা করবেন। যখনই আমি যেতাম, আমি তা করতাম। একদিন আমি বলেছিলাম, শ্রীল প্রভুপাদ, আপনি অত্যন্ত দয়ালু, আমি প্রশংসা নিবেদন করেছিলাম এবং তারপর আমি বললাম আমি হলাম মূর্খ ও আমি নিজেকে নম্রভাবে প্রকাশ করেছিলাম। আমার কিছু বলার আগে, তিনি বললেন, হ্যাঁ! হ্যাঁ!

প্রশ্ন:-  কিভাবে প্রভুপাদ আপনাকে এবং তাঁর অন্যান্য শিষ্যদের কৃষ্ণভাবনামৃতে বিশ্বাসী করিয়েছিলেন?

জয়পতাকা স্বামী:-  তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক। সন্ধ্যেবেলায় তিনি যাই প্রবচন দিতেন, তাতে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাষী, সরল এবং সততাপরায়ন থাকতেন। তাই তা ছিল অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য। এবং তিনি খুব সহজভাবে ভগবদ্গীতার তত্ত্ব বিশ্লেষণ করতেন ও এটি অত্যন্ত সঠিক প্রতিত হতো। যখন আমি ভক্তিযোগ অনুশীলনের চেষ্টা করছিলাম, সেই সময় কোন গ্রন্থ ছিল না। তিনি বলেছিলেন আমরা প্রফেসর ও. বি. এল. কাপুর কর্তৃক বিরচিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা গ্রন্থটি পড়তে পারি। আমি পড়েছিলাম হরিদাস ঠাকুর বলেছেন যখনই তাঁর কোনো মায়া প্রভাবিত চিন্তা আসত তিনি স্বজোরে জপ করতেন। আমি ছিলাম একজন নতুন ভক্ত, আমার অনেক মায়া চিন্তা ছিল! আমি জোরে আরো জোরে আরো জোরে জপ করছিলাম এবং আমি চিৎকার করছিলাম হরে কৃষ্ণ! হরে কৃষ্ণ! এবং সমস্ত ভক্তরা শ্রীল প্রভুপাদের কাছে গিয়েছিলেন এবং অভিযোগ জানিয়েছিলেন – এই ভক্ত জয়, সে হরে কৃষ্ণ চিৎকার করে এবং আমরা আমাদের জপ করতে পারিনা। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ডাকেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন কেন সকল ভক্তরা আমার প্রতি বিরক্ত! তাই আমি বললাম যে আমি পড়েছি হরিদাস ঠাকুর জোরে জোরে জপ করতেন যখন তাঁর কোন মায়া চিন্তা আসত, আমার অনেক মায়া চিন্তা আছে তাই আমি জোরে জপ করি!  শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, “হমম, এটি খুব একটা মন্দ নয়!”  তাই তিনি আমাকে বললেন যে মন্দিরের পাশে মাউন্ট রয়্যাল, সার্বজনীন উদ্যানে গিয়ে জপ করতে, মন্ট্রিল শহরটি এই পাহাড়ের নামে নামঙ্কিত, মাউন্ট রয়্যাল, মানে রয়্যাল পাহাড়। আমাদের মন্দিরটি ছিল সেই উদ্যানের পাশে। তাই আমি সেই পাহাড়ের উপর অবধি যেতাম এবং জোরে জোরে জপ করতাম এবং কাঠবিড়ালি ও পাখিরা নর্তন করত এইভাবে আমি জপ করেছিলাম। 

মরিচি দাস:-  শ্রীল প্রভুপাদ আধ্যাত্মিক সাফারি কিভাবে শুরু করেছিলেন? 

জয়পতাকা স্বামী:-  সেই সময়, আমাদের মায়াপুর এবং বৃন্দাবন উৎসব হত। এবং তিনি ভক্তদের সেখানে নিয়ে যেতেন ও আমরা বিভিন্ন স্থানে যাত্রা করতাম। 

ব্রজসেবিনী বৃন্দা দেবী দাসী:- যখনই আপনি আপনার আধ্যাত্মিক পিতা, শ্রীল প্রভুপাদের বিরহে থাকতেন তখন আপনি সেটিকে কিভাবে গ্রহণ করতেন? এবং আপনি তাকে সেবা করার জন্য কি করতেন ও বিরহের মধ্যেও কিভাবে নিজেকে পরিতৃপ্ত রাখতেন?

জয়পতাকা স্বামী:- আমি পারতাম না, কিন্তু আমার কাছে কোনো উপায় ছিল না। আমি চাইনি শ্রীল প্রভুপাদ ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কৃষ্ণ আমাদেরকে নিয়ে নেন, এবং তাতে আমরা কিছুই করতে পারিনা। কিন্তু আমি অনেক সেবা করেছি, এবং আল্লাদিনী রাধা ও অন্যান্য সকলকে ধন্যবাদ যারা আমাদের সেবায় সাহায্য করছেন। 

প্রেমেশ্বরী শ্রী রাধা দেবী দাসী:- শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্যগণ অত্যন্ত উৎসাহের সাথে শরনাগত, আত্মোত্সর্গ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করছেন। তাঁর প্রশিষ্য হিসেবে আমরা কিভাবে এই স্তরের বিশ্বাসী এবং শরণাগত হতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:-  আমি আশা করি তারা শ্রীল প্রভুপাদের সেবা উৎসাহের সাথে করছেন এবং আমি এটিও আশা করি যে প্রশিষ্যগণও গুরু এবং গৌরাঙ্গকে উৎসাহের সাথে সেবা করবে। এবং এটি নির্ভর করে তাদের আন্তরিকতার ওপর। যদি তারা আন্তরিক হয় তাহলে তারা তা করতে পারবে। 

বাংলায় প্রশ্ন:-  গুরুমহারাজ আপনার কোন গুণটি শ্রীল প্রভুপাদ সবথেকে বেশি পছন্দ করতেন?

জয়পতাকা স্বামী:-  আমি জানিনা। জেএসএসএস প্রোগ্রামগুলিতে অংশগ্রহণ করুন!

হেমাঙ্গি গোপী দেবী দাসী:-  দয়া করে শ্রীল প্রভুপাদের পদ্ম ভবনের ছাদে করা কিছু লীলা বলুন। 

জয়পতাকা স্বামী:- অনেক লীলা, একটি লীলা হল, তিনি ছাদে ঘুরছিলেন এবং দরজার কাছে এসে থামলেন ও আমাকে বললেন যে যখন একজন আধ্যাত্মিক গুরু অপ্রকট হন তখন কখনো কখনো শিষ্যরা তাঁর সম্পত্তি বিক্রি করে এবং তা থেকে উপার্জন করে বেঁচে থাকে। তাই যদি  তুমি এটাকে বৃদ্ধি করতে পারো তাহলে খুব, নয়তো কমপক্ষে আমি যা দিয়েছি তা বজায় রেখো। 

একসময় এখানে আমরা ছাদে হাঁটছিলাম এবং একদল পিঁপড়ে এক দিক থেকে আরেক দিকে যাচ্ছিল। এবং আমরা বলতে পারি রানী পিঁপড়ে ছিল বড় আকারের। পুরুষ পিঁপড়েরা বীজ বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল আর স্ত্রী পিঁপড়েরা শুধু এমনি যাচ্ছিল। আমরা নিচে তাদের দিকে তাকিয়েছিলাম। শ্রীল প্রভুপাদ বললেন যে ঠিক যেমন আমরা পিঁপড়েগুলোর দিকে তাকিয়েছি এবং ভাবছি যে তারা হল তুচ্ছ, ঠিক তেমনি ঊর্ধ্বলোকে দেবতারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে এবং ভাবছেন যে আমরা হলাম অত্যন্ত তুচ্ছ। আমরা তাদের গণনায় কেবল কিছুদিন বেঁচে থাকি। এই ছিল দুটি লীলা। 

একলেশ্বরী মাধবী দেবী দাসী:- শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর এক শিষ্যকে লেখা একটি চিঠিতে বলেছেন, কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলন হল মানুষদের জ্ঞান ও কর্মের সব বিভাগগুলিতে স্বাধীনভাবে চিন্তাশীল এবং দক্ষ হতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। কিন্তু একই সাথে সংস্কৃতি এবং শিক্ষায় উৎসাহিত করার জন্য, এবং এর অনুশীলনকারীদের শরণাগত এবং বরিষ্ঠ ভক্ত, গুরু এবং গৌরাঙ্গের প্রতি অনুগত হতে আশা করা হয়। আমি কিভাবে স্বাধীনভাবে চিন্তাশীল হতে পারব এবং একইসাথে অনুগত হতে পারি বিশেষ করে বরিষ্ঠ ভক্তদের সাথে আচরণ করার ক্ষেত্রে?

জয়পতাকা স্বামী:- মনে হচ্ছে আপনি কিছু দ্বন্দের মুখোমুখি হচ্ছেন। আপনি অনুগত হতে চান, তবে একই সাথে স্বাধীন চিন্তাশীল। তাই, স্বাধীনভাবে চিন্তাশীল হওয়ার ক্ষেত্রে, আমরা বুঝি যে আমরা কি করতে যাচ্ছি। এমন নয় যে আমরা কোন কিছু অন্ধভাবে করলাম, কিন্তু যদি আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে আমরা আরো অভিজ্ঞ কয়েকজন ভক্তদের অনুসরণ করছি, তাহলে সেটি উপকারী হবে তাই একজন অভিজ্ঞ ভক্তকে অনুসরণ করে যদি আপনি ভালো কিছু করতে পারেন, ও একই সময় স্বাধীনভাবে চিন্তাশীল। এর মানে এই নয় যে আপনি অন্ধভাবে কোন ভক্তকে অনুসরণ করবেন, কিন্তু আপনি কিছু বিশেষ কার্যভার গ্রহণ করলে তখন, কারণ এটা হল এমন কিছু যা আপনার সাথে ঠিকভাবে খাপ খাবে এবং এটি শাস্ত্রে আছে। 

আমাদের কাছে আছেন মরিচি দাস – তার কাছে ১০৮টি লাড্ডু আছে যা তিনি কোর্কে জর্জের নামে বিতরণ করবেন, এবং দয়া করে তার জন্য প্রার্থনা করুন। তিনি কৃষ্ণভাবনামৃতের প্রতি অত্যন্ত অনুকূল ছিলেন, তবে তিনি আমার থেকে দীক্ষা লাভ করার মত ভাগ্যবান ছিলেন না। তোমার কাছে মিষ্টিগুলি আছে? হরে কৃষ্ণ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions