মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
[প্রবচনটি আকস্মিকভাবে শুরু হয়]
জয়পতাকা স্বামী:- আপনি কখনো মারা যাননি, আপনি কখনো জন্মগ্রহণ করেন নি। একমাত্র বস্তু যা মারা যায় তা হল শরীর। আমরা দেহ নই, তাই আমরা জন্মগ্রহণ করি না। কিন্তু শরীর জন্ম নেয়, মারা যায়, প্রত্যেক মিনিট যা চলে যাচ্ছে, তাতে শরীরের মৃত্যু হচ্ছে। তাই যদি আপনি ২৭ বছর বয়সী হন, আপনি ২৭ বছরের মৃত্যু প্রাপ্ত হয়েছেন। যদি আপনি ৩০ বছর বয়সী হন, তাহলে আপনি ৩০ বছরের মৃত্যু প্রাপ্ত হয়েছেন। যাই হোক, আমাকে সংক্ষেপে উত্তর দিতে করতে হবে।
প্রশ্ন:- আমি ভয়েসে থাকি। আমরা প্রথম বার্ষিকীর ছেলেদের প্রচার করি। কখনও কখনও আমরা ইতিবাচক ফল পাই, এবং কখনও কখনও আমরা খারাপ ফল পাই। যখন আমি বাজে ফল পাই তখন আমি উৎসাহ হারিয়ে ফেলি। মহারাজ, আপনি এবং শ্রীল প্রভুপাদের অন্যান্য শিষ্যরা সেই সমস্ত স্থানে প্রচার করেছেন যেখানে বাস্তবিক কিছুই ছিল না এবং সেই স্থান গুলিকে উত্তিষ্ঠ মান প্রচার কেন্দ্র পরিণত করেছেন। যখন বাজে পরিণাম আসে তখন আপনারা সবাই এই প্রতিকূলতাগুলিকে কিভাবে গ্রহণ করেন? এই রকম পরিস্থিতিতে একজনের মন কি রকম হওয়া উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- একজন ভক্ত ছিল যিনি শ্রীল প্রভুপাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন নিউইয়ার্কে ২৬, সেকেন্ড এভিনিউ। তিনি দেখলেন শ্রীল প্রভুপাদ প্রবচন দিচ্ছেন, তিনি জানলা দিয়ে দেখলেন যে শ্রীল প্রভুপাদ তার হাত নাড়াচ্ছিলেন এবং তিনি ভাবলেন, বাহ, তিনি প্রবচন দিচ্ছেন। যখন তিনি দরজা খুললেন এবং ভেতরের তাকালেন, সেখানে কেউ ছিলনা! কেউ ছিল না সেখানে! শ্রীল প্রভুপাদ একাই বসে কথা বলছিলেন! তিনি তাকালেন এবং আশ্চর্য হলেন, কেউ ছিল না সেখানে। তারপর তিনি প্রভুপাদকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন ভাবে তিনি শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করলেন, এখানে কেউ নেই! শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, তুমি কি বলতে চাও? নারদ মুনি এখানে আছেন, পরম্পরা এখানে আছেন, সবাই এখানে আছেন! তাই, আমাদেরকে বলা হয় আমাদের ফলের পিছনে লালায়িত না হতে। এবং আমি শ্রীল প্রভুপাদের এই লীলাটি মনে করলাম যে, তিনি আমেরিকায় প্রচার করেছিলেন যখন ঘরের ভেতর সেখানে কেউ ছিলনা।
প্রশ্ন:- আমি হরিপ্রাণ প্রহ্লাদ দাস। আমি নাম হট্ট ভিতর থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেছি। এবং বর্তমানে আমি কলকাতার গ্রন্থ বিভাগে সেবা করছি। সেখান থেকে আমি ভক্তি বৃক্ষে প্রচার করছি। এখানে কি কোন অপরাধ হচ্ছে?
জয়পতাকা স্বামী:- আমি বুঝলাম না কি অপরাধ? তুমি নামহট্ট-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে দীক্ষা গ্রহণ করেছ। কিন্তু এখন তুমি কলকাতা শহরে প্রচার করছ এবং শহরের মধ্যে ভক্তি বৃক্ষে প্রচার করছো, যা কোনো অপরাধ নয়। হরে কৃষ্ণ!
প্রশ্ন:- আমি শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ থেকে শুনেছি যে আমাদের এক জীবনে আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত। কিন্তু অনেক সময়, যখন আমি ভদবদ্গীতা পড়ি আমি বুঝতে পারি যে এক জীবনে আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। আমি সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত এবং চিন্তিত।
জয়াপাতাকা স্বামী:- আমাদের দুটি দেহ আছে — স্থূল জড় দেহ এবং সূক্ষ্ম দেহ। এই জড় জগতে আমরা উপভোগ করি এবং ক্লেশ পাই। কিন্তু এই সবই অত্যন্ত বাহ্যিক বিষয়বস্তু। যখন আমরা যা চাই তা এই দেহ আর করবে না, তখন আত্মা আরেকটি শরীর গ্রহণ করে। তাই, সূক্ষ্ম মন যা চিন্তা করছে সেটি তোমাকে পরবর্তী শরীরে নিয়ে যাবে। যদি স্ত্রী তার স্বামীর সম্পর্কে চিন্তা করে, তাহলে সে একটি ছেলে রূপে জন্ম গ্রহণ করে। যদি স্বামী তার স্ত্রীর সম্পর্কে চিন্তা করে, তাহলে সে একটি নারী রূপে জন্ম গ্রহণ করে। যেই হোক, স্বামী বা স্ত্রী, তারা যদি মৃত্যুর সময় কৃষ্ণের সম্পর্কে চিন্তা করে, তাহলে তারা আধ্যাত্মিক জগতের ফিরে যাবে। এটা কঠিন নয় যদি তুমি তোমার পুরো জীবন ধরে হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/ হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে জব করো। যদি তুমি বলিউডের গান গাও তাহলে (উপকারিতা নেই)।
প্রশ্ন:- আমরা শুনি যে এই জড় জগতে কৃষ্ণ আসেন এবং তাঁর ভক্ত, গোপী এবং রাধারানীর সাথে
বিরহে ভাববিনিময় করেন, কিন্তু আমরা এটাও শুনিনি যে আধ্যাত্মিক জগতে কৃষ্ণ সবসময় তাঁর ভক্তদের সাথে অবস্থান করেন।
জয়পতাকা স্বামী:- বৃহদ-ভাগবতামৃতে বলা হয়েছে যে কৃষ্ণ মথুরা যাওয়ার জন্য বৃন্দাবন পরিত্যাগ করেছিলেন। তাই গোপীরা, ব্রজবাসীরা কৃষ্ণের প্রতি গভীর বিরহ অনুভব করেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যে তিনি আবার বৃন্দাবনে ফিরে আসবেন। কিন্তু রাধারানী অভিশাপ প্রাপ্ত হওয়ায়, তিনি বৃন্দাবনের থেকে শত বৎসর দূরে ছিলেন। এটা এই জগতে। তাই এটি হলো কৃষ্ণের লীলা বৈচিত্র। এটি হলো তাঁর বৈচিত্রময় লীলা।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন