Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ৩০শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

30 Jun 2022|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

কেয়া রানী:- কিভাবে একজন রাধারানীর কৃপা দৃষ্টি পাওয়ার যোগ্য হতে পারে? একজনের কি করা উচিত

আধ্যাত্মিক জীবনে তাঁর কৃপা পাওয়ার জন্য? দয়া করে আমাদের জ্ঞান প্রদান করুন।

 

জয়পতাকা স্বামী:- এটাই যা শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, এটা হলো আসল প্রশ্ন। আমরা ভগবান কে দেখতে চাই না, কিন্তু ভগবান যেন আমাদেরকে দেখতে চান। আমাদের এমন ভাবে সেবা করতে হবে যাতে কৃষ্ণ অথবা রাধারানী আমাদেরকে দেখতে চান। কৃষ্ণ চান অনেক ভক্তরা জড় জগতে ক্লেশে থাকার পরিবর্তে ফিরে আসুক। যদি তুমি অনেক ভক্তকে কৃষ্ণের কাছে ফিরিয়ে আনতে পারো, তাহলে রাধারানী অত্যন্ত প্রশ্ন প্রসন্ন হবেন।

 

প্রশ্ন:- রথযাত্রা কোন কোন জায়গায় ৭দিন ধরে এবং কোন কোন জায়গায় ৯দিন ধরে পালিত হয় কেন?

 

জয়পতাকা স্বামী:- জগন্নাথ পুরীতে তারা ৯ দিন ধরে উদযাপন করে এবং বাংলা, বাংলাদেশ, উড়িষ্যা, তারা এই ভাবে পালন করে। এবং কতদিন প্রভু জগন্নাথ গুণ্ডিচায় থাকেন, প্রায় এক সপ্তাহ। ও একদিন যাবেন আর একদিন ফিরে আসবেন। এবং কখনো কখনো তিনি তা একই দিনে করে না। আর কখনো কখনো নীলাচল মন্দিরের বাইরে থাকেন এবং তারা তাকে প্রবেশ করতে দেন না। লক্ষ্মী তাঁর ওপর অত্যন্ত ক্রোধান্বিত! যাইহোক, বিধি অনুসারে নির্দিষ্ট সময় হল নয় দিন।

 

শান্ত গোপি দেবী দাসী:-  নববিধা ভক্তি অনুশীলনের ক্ষেত্রে সখ্যম এবং আত্মনিবেদনের ক্ষেত্রে কার্যক্রম কী?

 

জয়পতাকা স্বামী:- সখ্যম, বন্ধুত্বে, অর্জুন ছিলেন বন্ধু, উদ্ধব ছিলেন বন্ধু এবং বৃন্দাবনের বিভিন্ন বালকেরা ছিলেন বন্ধু। আত্মনিবেদন, সবকিছু নিবেদনের এই পন্থাটি অম্বরিশ মহারাজ কর্তৃক অনুশীলন করা হয়েছিল। তিনি মন্দিরে যাওয়ার জন্য তার পদযুগল ব্যবহার করেছিলেন, পরিষ্কার করার জন্য তার হস্ত ব্যবহার করেছিলেন, ভদবদ্‌গীতা এবং শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ার জন্য তার মুখ ব্যবহার করেছিলেন। তিনি শাস্ত্র শ্রবণ করার জন্য তার কর্ণ ব্যবহার করেছিলেন। শ্রীবিগ্রহে নিবেদিত পুষ্পের সুগন্ধ নেওয়ার জন্য তার নাসিকা ব্যবহার করেছিলেন। তিনি ভগবানের মহিমা প্রচারে এবং এছাড়াও কৃষ্ণপ্রসাদ আস্বাদনে তার জিহ্বা ব্যবহার করেছিলেন। এইভাবে তার প্রত্যেকটি ইন্দ্রিয় কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত ছিল।

 

সাধু মদনমোহন দাস:-  কৃষ্ণ কিভাবে শ্রীমতি রাধারাণীর ভাব বুঝতে পারেন। তাঁদের লীলাবিলসের ভাব কিভাবে বুঝতে পারব?

 

জয়পতাকা স্বামী:- রাধারানী হলেন এতই গুঢ় যে তাঁকে সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারা কৃষ্ণের পক্ষেও কঠিন। এইভাবে কৃষ্ণকে তিনি তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন রাখেন। যখন আমরা কৃষ্ণভাবনামৃতে অগ্রসর হবো তখন একমাত্র আমরা এটি বুঝতে পারব। অবশ্য, যদি কৃষ্ণ না বুঝতে পারেন, তাহলে আমরা কেবল সামান্য একটুই বুঝতে পারব।

 

যমুনা প্রিয়া গোপিকা দেবী দাসী:- রথ যাত্রায় জগন্নাথ দেবের দর্শন করার মাধ্যমে একজন প্রচুর সুকৃতি পায় তাই কি ভাব নিয়ে অথবা জগন্নাথদেবের থেকে আমরা সর্বাধিক কি আকাঙ্ক্ষা করতে পারি?

 

জয়পতাকা স্বামী:- আমরা কৃষ্ণ প্রেম চাই। এটা হল প্রয়োজন, আমাদের জীবনের চরম লক্ষ্য। এই কারণে আমরা কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করি আমাদেরকে শুদ্ধ ভক্তি লাভের আশির্বাদ প্রদান করতে।

 

প্রশ্ন:- আমরা চৈতন্যলীলা ক্লাসে দেখলাম, যখন মাধবেন্দ্র পুরী সারা ভারত ভ্রমণ করছিলেন তখন কেউ কৃষ্ণ কথা বলছিলেন না। আমরা যা কিছু শ্রবণ করি বা কৃষ্ণ পূজা দেখি সেই সব কি কেবল চৈতন্য মহাপ্রভু দ্বারা প্রচারিত হয়েছে?

 

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু এছাড়াও, তিনি সাক্ষাত করেছিলেন যেমন তুকারাম, তিনি চৈতন্য মহাপ্রভু দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং তিনি কৃষ্ণ নাম জপের প্রসার করেছিলেন এইভাবে অনেকে চৈতন্য মহাপ্রভুর আশীর্বাদ লাভ করেছিলেন এবং নাম জপের প্রসার করেছিলেন।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions