Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ৪ঠা জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

4 Jul 2022|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:-  আমি কোন ব্যক্তিগত প্রশ্ন নেব না। আমি এরকম ধরনের প্রশ্ন থেকে কোন বল পাইনা। তাই কেবল আধ্যাত্মিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন। উৎসবের দিনগুলিতে কেউ বলেন আমি এত সেবা করি যে আমি আমার সাধনার যত্ন নিতে পারিনা।  আমি জানিনা সাধনার কোন অংশের। এবং যদি এটা মানে তিনি তার জপ করছেন না, তাহলে যে কোন প্রকারে আপনাকে আপনার জপ সম্পূর্ণ করতে হবে। এবং আপনি অনেক সেবা করেছেন, তাই মায়ার জন্য কোন সময় নেই। এটির আপনাকে অত্যন্ত আনন্দিত অনুভব করানো উচিত।

 

ভাগ্যশ্রী:- আমরা দেখতে পাই  শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর পার্ষদরা প্রায় সকলেই কৃষ্ণ লীলায় আছেন। এটা কিভাবে সম্ভব যে আধ্যাত্মিক জগতে, একই সময়ে একজন জীবাত্মা গোলকে কৃষ্ণলীলায় এবং শ্বেত দ্বীপে গৌর লীলায় উপস্থিত থাকেন?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  যখন তুমি আধ্যাত্মিক জগতে যাবে তখন এটি তোমার কাছে প্রকাশিত হবে! এই জগতে যোগীরা তাদেরকে ৮টি স্বরুপে প্রকাশ করতে পারে। তাই একইসময়ে কৃষ্ণ লীলায় থাকা, গৌর লীলায় থাকা আধ্যাত্মিক জগতে সম্ভব।

 

প্রশ্ন:- আমরা কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনের ক্ষেত্রে শেষ জীবন পর্যন্ত কিভাবে সর্বদা একই মানসিক অবস্থায় স্থির থাকতে পারব?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  একটি প্রবাদ আছে অভ্যাস আপনাকে নিখুঁত বানায় তাই, পরিপূর্ণতা প্রাপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটিতে হয়তো তোমার কিছু বছর সময় লাগবে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন তিনি কুড়ি বছর পর সিদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ভদবদ্‌গীতা তে, ভগবান কৃষ্ণ বলেছেন:

বহুনাং জন্মনামন্তে জ্ঞানবান্মং প্রপদ্যতে।
বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্মা সুদুর্লভঃ।।
(গীতা ৭.১৯)

বহু বহু জন্ম পর, তারা উপলব্ধি করে যে বাসুদেব হলেন সর্ব করনের পরম কারন। চৈতন্য মহাপ্রভু তোমাকে এই সুযোগটি এই জীবনে প্রদান করেছেন। কারা এটি চায়? তুমি কি এটির জন্য চেষ্টা করতে যাচ্ছ? [শব্দ বিচ্ছেদ]

 

প্রশ্ন:-  আমি কিভাবে ভক্তি জীবনে অগ্রসর হতে পারি? দয়া করে বলুন।

 

জয়পতাকা স্বামী:-  আমরা নববিধা ভক্তি যোগ অনুশীলন করতে চাই। এবং [শব্দ বিচ্ছেদ] আমরা এই জীবনেই আমাদের কর্তব্য সমাপ্ত করতে চাই। এই কারণেই আমাদের অত্যন্ত দৃঢ় থাকতে হবে। [কথা বিচ্ছেদ] আধ্যাত্মিক গুরুদেবের নির্দেশাবলী ধীরে ধীরে অনুসরণ করার মাধ্যমে আমরা অনর্থ নিবৃত্তির স্তর অতিক্রম করব তারপর আমরা নিবদ্ধ হই, যেটি হল নিষ্ঠার স্তর। এবং তারপর সেটি তোমাকে ভক্তিমূলক সেবা করার জন্য রুচি প্রদান করবে। এটিকে বলা হয় রুচির স্তর। এবং তারপর আমরা [ কথা বিচ্ছেদ] আসক্তির স্তর। যখন আমরা ভক্তিমূলক সেবার প্রতি আসক্ত হই তখন আমরা পরম আনন্দে বিভোর হই। এটি হলো ভাবের স্তর। এটি ঠিক রুপোর মুদ্রার মত। তারপর প্রেম [ কথা বিচ্ছেদ]

 

জয়পতাকা স্বামী:- [ কথা বিচ্ছেদ]  উপবাসের দিনে জলের তলায় জল পান করা।

 

জয়পতাকা স্বামী:- [ কথা বিচ্ছেদ ] যেমন জগন্নাথপুরীর সকল পূজারীরা দ্বিতীয় শিক্ষাপ্রাপ্ত। এবং আমরা এটি কে বলি ব্রাহ্মণ দীক্ষা কিন্তু এটি আসলে পঞ্চরাত্রিক দীক্ষা। যখন কেউ শ্রী বিগ্রহের জন্য রান্না করতে চান তখনই পারবেন যদি তারা দ্বিতীয় দীক্ষাপ্রাপ্ত হন আমার প্রধান রাঁধুনিদের আমি অনুরোধ করি দ্বিতীয় দীক্ষিত হতে। যারা শিক্ষাগুরু, তারাও দ্বিতীয় দীক্ষা প্রাপ্ত।  কিন্তু যদি তুমি না চাও তাহলে তোমাকে দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণ করতে হবে না, তারপর তাহলে তোমাকে কি কি করতে হবে তার একটি তালিকা থাকবে।

 

প্রশ্ন:-  শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকটের পর আপনি কিভাবে তাঁর সাথে সংযুক্ত অনুভব করেন? কোন একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে আপনি কিভাবে বুঝতে পারেন যে কোনটি শ্রীল প্রভুপাদকে প্রসন্ন করবে? ভক্তিমূলক সেবার কোন দিকটি আপনাকে সর্বাধিক প্রসন্ন করে?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  প্রথম দিকে আমি কাঁদছিলাম। [কথা বিচ্ছেদ] এবং ধীরে ধীরে আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পালন করতে হবে। আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে যেহেতু আমি কলকাতা এবং মায়াপুরে থাকছিলাম, তাই আমি শ্রীল প্রভুপাদের থেকে অনেক নির্দেশ পেয়েছিলাম। আমি একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি এবং সেখানে প্রায় ৩২টি প্রধান নির্দেশাবলী আছে। তারপর আমি উপলব্ধি করেছি যে আসলে এছাড়াও আরো অনেক নির্দেশ আছে। তাই যাই হোক, সেই সমস্ত নির্দেশাবলী পূর্ণ করার চেষ্টা করছি, যা আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের সাথে সংযুক্ত অনুভব করায়। ঠিক যেমন তিনি বলেছিলেন কলকাতার রথযাত্রা বড় করতে, আমি সেই বিনীত সেবাটি করছি, কিন্তু এটি হলো কলকাতার ভক্তগণ যারা এটিকে বিশাল করেছে! এক কথায়, শ্রীল প্রভুপাদ তাঁর আবির্ভাবের স্থানটি উন্নত করতে বলেছিলেন এবং সেটিও কলকাতার ভক্তদের দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে। এইভাবে, শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে তার সংকল্পের নির্বাহক হতে বলেছিলেন। এবং তাই এখন আমাকে একটি তদারকি কমিটিতে রাখা হয়েছে যাতে আমি দেখি যে ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল প্রপার্টি অফিস শ্রীল প্রভুপাদের ইচ্ছা পূর্ণ করছে। যাই হোক, আমার অ্যাপটির নাম জয়পতাকা স্বামী অ্যাপ, এটি অ্যান্ড্রয়েড ও এছাড়া আইওএস অ্যাপেলেও আছে, এবং সেখানে শ্রীল প্রভুপাদের আমাকে দেওয়া নির্দেশাবলীর একটি তালিকা আছে। আপনি যদি এই অ্যাপটির জন্য কিছু অর্থ প্রদান করেন তাহলে তা আমি আপনাকে ফিরিয়ে দেব! কারণ এটি একটি ফ্রী অ্যাপ! আমার সচিবদের মধ্যে একজন অচিন্ত্য চৈতন্য দাস আমাকে শ্রীল প্রভুপাদের দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশাবলীর ক্ষেত্রে সাহায্য করছে। যারা দীক্ষা গ্রহণ করেছে, একটা প্রতিজ্ঞা যা তারা করে সেটি হল শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পূর্ণ করতে আমাকে সাহায্য করবে। অন্যরা, শিক্ষা শিষ্যরা, শুভাকাঙ্খীরা, তারাও সেচ্ছায়  সাহায্য করতে পারে।

 

প্রশ্ন:- [ কথা বিচ্ছেদ]  ভদবদ্‌গীতা ২.৪১এ তাৎপর্যে শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর বলেছেন, একজনের তার আধ্যাত্মিক গুরু দেবের নির্দেশাবলী পূর্ণ করার ক্ষেত্রে দৃঢ়চিত্ত হওয়া উচিত। অন্য এক জায়গায় শ্রীল প্রভুপাদ জনপ্রিয় এক ভারতীয় রাজনীতিবিদকে তার লেখা একটি চিঠিতে বলেছেন যে তিনি তার জীবন শেষে আধ্যাত্মিক জগতে যাচ্ছেন, এবং তা সম্পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে ঠিক যেমন একজন খাবার গ্রহণ করার পরে পরিপুষ্ট অনুভব করে। তিনি যে আধ্যাত্মিক জগতের ফিরে যাচ্ছেন তা নিশ্চিত হওয়ার লক্ষণ গুলি কি কি?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  প্রথম অংশটি হলো একটি প্রশ্ন যে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর বলেছেন আপনার আধ্যাত্মিক জগতের ফিরে যাওয়া নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়, আপনার উচিত চিন্তা করা কিভাবে আপনার আধ্যাত্মিক গুরু দেবের আদেশ পালন করবেন। আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল আমি কিভাবে জানতে পারি যে আমি আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাব? মনে হচ্ছে অসংগতি আছে। প্রথম প্রশ্ন হল গুরুর নির্দেশ পূর্ণ করা সম্পর্কে এবং সর্বশেষ প্রশ্ন হলো আমি কিভাবে জানবো আমি আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাচ্ছি?

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions