Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ২২শে আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

22 Aug 2022|Duration: 01:07:07|Bengali|Question and Answer Session|Hyderabad, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- এই অনুষ্ঠানের মূল বিষয় হল প্রশ্ন এবং উত্তর। আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই যে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করেছেন, এবং আমরা সত্যিই দেখতে পারছি যে ভক্তরা এটিকে বৃদ্ধি করেছে। আমি বিভিন্ন টিএমসি নেতাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম এবং তারা এই মন্দিরের প্রসার বিস্তারিত করতে চান। আমাকে বলা হয়েছিল যে সন্ধ্যা আরতিতে অনেক ভক্তরা এসেছেন। এবং আমি দেখলাম, এটি সত্য!! এবং আধ্যাত্মিক অগ্রগতির গুহ্য বিষয়টি হলো সর্বদা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ, কৃষ্ণ সেবা এবং কৃষ্ণ স্মরণে নিযুক্ত থাকা। এখন আমরা দেখছি যে কিভাবে হায়দ্রাবাদ এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রমগুলি বিস্তৃত হচ্ছে। সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে এবং আমি আত্তাপুরে গিয়েছিলাম, সেখানে একটি নতুন মন্দির হয়েছে। আমি মেচ্চালে গিয়েছিলাম, তারা মন্দিরটির উন্নয়ন করছে রামপালি আমাকে আসার নিমন্ত্রণ দিয়েছিলেন। ব্যাস পূজার দিন আমি সেকেন্দ্রাবাদ গিয়েছিলাম কিন্তু আমি এখানে সর্বশেষ নিবেদনগুলি দেখতে পাইনি কিন্তু তাদের এক বিশাল এলাকা ছিল। কত পদ? ,২৬০ গুলি পদ। শ্রীল প্রভুপাদের ব্যাস পূজার জন্য এই পদগুলি কে রান্না করেছিলেন? কয়েকজন মাত্র! এটি শ্রীবিগ্রহের সেবা করার জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। আমি মধ্যাহ্নকালীন নিবেদন দেখিনি কিন্তু সেকেন্দ্রাবাদে সন্ধ্যাকালীন নিবেদিত পদ ছিল ১০৮। আমি কখনো এতো ধরনের মুরুক্কু দেখিনি! গতরাতে আমি কুকাতপল্লীর মন্দিরে গিয়েছিলাম। সেখানে জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রার শ্রী বিগ্রহকে দর্শন করা অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। আমি ব্যস্ত ছিলাম, কিন্তু তারা বললেন আমাকে হায়দ্রাবাদের ভক্তদের এক রাত্রি সময় দিতে হবে! তাই আমি আপনাদের সেবার জন্য আরেকটি অতিরিক্ত দিন থাকলাম! তাই যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে, আপনারা এখন জিজ্ঞাসা করতে পারেন। সবথেকে উত্তম উপায় হল পেন দিয়ে একটি কাগজের টুকরোতে লিখে দিন এবং সেটি পাস করে দিন। যেহেতু আপনারা হয়তো এখনও প্রস্তুত নেই, তাই কেউ কেউ প্রশ্নটি মাইকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং সেই সময় অন্যরা প্রশ্নগুলি লিখে নিতে পারেন।

প্রশ্ন:- সমাজের মধ্যে থেকে নিজের খারাপ অভ্যাসগুলি কিভাবে দূর করা যাবে এবং কিভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক চেতনা বৃদ্ধি করা যাবে, যা শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে?

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন, ভক্তিযোগ হল একটি শক্তিশালী পন্থা। এবং যদি আপনি শুধু কোন কিছু বন্ধ করতে বলেন, আপনি কি করবেন? আপনার মন, আপনার ইন্দ্রিয় থামবে না। তাই আমরা যুক্ত বৈরাগ অনুশীলন করি। সবকিছু যা আমরা করি, তা কৃষ্ণের প্রসন্নতা বিধানের জন্য করি। ঠিক যেমন আমাদেরকে খেতে হবে, তাই আজেবাজে কিছু না খেয়ে, আমরা কৃষ্ণ প্রসাদ গ্রহণ করি। আমরা করছি এমন জড় জাগতিক খারাপ অভ্যাসগুলি আমরা কৃষ্ণ সেবায় পরিবর্তন করি। মানুষদের অবৈধ যৌনসঙ্গ করার বাজে অভ্যাস থাকতে পারে, কিন্তু যারা যৌনসহবাস চায় তাদেরকে বিবাহিত হতে হবে। এবং আমরা আমাদের সন্তানদেরও ভক্তিমূলক সেবায় নিয়ে আসি। আমি আমাদের একজন টিএমসি সদস্যের চার জন ছেলের সাথে দেখা করেছিলেন, সীতারাম এবং তারা সকলে গুরুকুলে যায়।

প্রশ্ন:-  শ্রীল প্রভুপাদ আপনাকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন যা আপনি আমাদেরকে দিতে চান?

জয়পতাকা স্বামী:- তিনি আমাকে অনেক উপদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু মূল বিষয়টি ছিল যে আমার সর্বদা কৃষ্ণ সেবায় নিযুক্ত থাকা এবং অন্যদেরকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সাহায্য করা উচিত। তিনি আমাকে বলেছিলেন নামহট্ট এবং এলাকাভিত্তিক প্রচারে প্রসার ঘটাতে। তিনি আমাকে বিতরণ করতে বলেছিলেন, আমাকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ১০০০০ বড় গ্রন্থ এবং ১০০০০০ ছোট গ্রন্থ বিতরণ করতে হবে, প্রতি মাসে। আমরা আজকে সকালে কম মূল্যে গ্রন্থ বিতরণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। তিনি আমাকে ভ্রমণ এবং প্রচার করতে বলেছিলেন। তাই আমি বছরে পুরো বিশ্বে ৫ বা ৬ বার ভ্রমণ করতাম। এখন আমি তা করতে সক্ষম নই, আপনি দেখুন আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। আমি বছরে মাত্র দুইবার বিশ্ব ভ্রমণ করি। আমার সাহায্য দরকার! ভ্রমণ এবং প্রচারের ক্ষেত্রে আমি বরিষ্ঠ ভক্তদের সাহায্য চাই। যাই হোক, এখানে আরো অনেক প্রশ্ন আছে।

আপনি জয়পতাকা স্বামী অ্যাপটি দেখতে পারেন, যেটি আপনি অ্যান্ড্রয়েড অথবা অ্যাপেল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারেন যেখানে আমাকে শ্রীল প্রভুপাদ যা সব নির্দেশ দিয়েছিলেন তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সব মূল্য আমি দি, তাই আপনাকে কোনো অর্থ প্রদান করতে হবে না!

মাধবী শ্যামসুন্দরী দেবী দাসী:- আপনি কি আমাকে জানাবেন যে কোন সেবাগুলি আমি প্রত্যেকদিন করতে পারি যা আপনাকে খুশি করবে?

জয়পতাকা স্বামী:- এই মন্দিরে অথবা অন্য কোন ইস্‌কন মন্দিরের শ্রী বিগ্রহের প্রতি নিবেদিত সব সেবাগুলি আমাকে অত্যন্ত প্রসন্ন করবে। আপনি মন্দিরের নেতৃস্থানীয় ভক্তদের জিজ্ঞাসা করতে পারেন যে আপনি কোন সেবাটি করতে পারবেন চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন, যারে দেখো, তারে কহ কৃষ্ণ’-উপদেশ। আপনি যাকেই দেখবেন, তাদেরকে কৃষ্ণের মহিমা সম্পর্কে বলুন। তা আমাকে অত্যন্ত খুশি করবে।

প্রশ্ন:- যখন আমি কর্ম ব্যস্ততার জন্য মালাতে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে পারিনা, সেই রকম পরিস্থিতিতে আমি কিভাবে সেই গ্যাপটি পূর্ণ করব?

জয়পতাকা স্বামী:- আমি জানিনা আপনার গুরু কে কিন্তু আমার শিষ্যদের জন্য, যদি তাদেরকে কাজ করতেই হয়, তাহলে তারা কাউন্টিং মেশিন ব্যবহার করতে পারে। ২০০৮ সালে আমার স্ট্রোক হওয়ার পর, আমার ডান পাশ সম্পূর্ণ কাজ করে না। তাই আমাকে আমার বাঁ হাত দিয়ে জপ করতে হয়। এবং রাধানাথ স্বামী আমাকে কিছু জপ মেশিন দিয়েছিলেন। এখন আমি ১৬ মালার অধিক করি। সকালে আমাকে ব্যায়াম করতে হয় এবং যখন আমি ব্যায়াম করি, তখনও আমি জপ করি এবং তাতে গণনা করে রাখি। যখন আমি পুলে হাঁটি, আমি জপ করি, প্রতি এক পদক্ষেপে অর্ধেক মন্ত্র। আমি শ্রীল প্রভুপাদকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে আমি প্রতি ১০৮ মন্ত্রের ১৬ রাউন্ড জপ করব। যা হল ১,৭২৮।

অপূর্ব মাধুর্য রাধা দেবী দাসী:- সাধারণত, ভক্তদের মধ্যে একটি ভাবনা থাকে যে শিশুরা যারা জন্ম থেকেই ভক্ত তারা কখনো কৃষ্ণভাবনামৃতকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে না। অভিভাবক হিসেবে আমাদের সন্তানদের শুদ্ধ ভক্ত বানাতে আমাদের কি করা উচিত?

জয়পতাকা স্বামী:-  আমি জানি না এটা সত্যি নাকি। যদি অভিভাবক দৃঢ় হন, তাহলে সাধারণত সন্তানেরাও দৃঢ়নিষ্ঠ। আমেরিকাতে তারা একটি পর্যবেক্ষণ করেছেন, এবং দেখেছেন যে পিতা-মাতা যারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তাদের সন্তানেরাও গুরুগম্ভীর। যদি একজন অভিভাবক দৃঢ় এবং অন্য অভিভাবক অদৃঢ়, তাহলে ৫০/৫০। যখন দুজন অভিভাবকই অদৃঢ়, তাদের সন্তানেরা কখনো কখনো ভক্ত হয়। আপনি কি ভাবেন? আপনি অভিভাবক, আপনার সন্তান আছে এবং যদি পিতা মাতা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন, তাহলে সন্তান ভক্ত হবে না? অবশ্যই, ভক্তিমূলক সেবা হলো অযাচিত। আমার অনেক গৃহস্থ শিষ্য আছে এবং তাদের সন্তানেরা সাধারণত কৃষ্ণভাবনাময়। কিন্তু আপনি আপনার সন্তানকে অবজ্ঞা করতে পারবেন না।

প্রশ্ন:- আমি কিভাবে শ্রী শ্রী গৌর নিতাইকে খুশি করতে পারব এবং আমি কিভাবে তাঁদের প্রিয় সেবক হতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:-  আমি জানিনা আপনি কেন আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন?  যাই হোক, চৈতন্য চরিতামৃত পড়ুন এবং দেখুন কি তাঁদের প্রসন্ন করে!  যদি আপনি তা করেন, তাহলে অবশ্যই আপনি গৌর নিতাইকে খুশি করতে পারবেন! এবং একসময় চৈতন্য মহাপ্রভুর সন্ন্যাস গ্রহণের পর তিনি বাংলায় ফিরে এসেছিলেন। এবং তিনি শ্রীবাস  ঠাকুরের গৃহে গিয়েছিলেন। তিনি  বললেন, “আপনি বাইরে কোথাও যান না, তাহলে কিভাবে আপনি আপনার পরিবারকে বহাল রাখেন?” শ্রীবাস তিনবার হাতে তালি দিলেন এবং বললেন, “আমি এই পন্থাটি ব্যবহার করি।চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “সেটা কি?” “যদি কোনদিন আমাদের ভোজনের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ প্রসাদ না থাকে, তাহলে আমি তিনবার হাতে তালি দেব। তারপর গঙ্গা যাব এবং নিজে ডুবে যাবো।চৈতন্য মহাপ্রভু বললেন, “এমনকি যদি লক্ষীকেও দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভিক্ষা করতে হয়, তাহলেও আপনার গৃহে কোনদিন প্রসাদের ঘাটতি হবে না!শ্রীবাসের বিশ্বাস ছিল যে একজন কৃষ্ণ ভক্ত হওয়ায়, কৃষ্ণ সব যোগান দেবেন। কিন্তু তিনি নিরন্তর কৃষ্ণ সেবা করতেন। আমরা শ্রীবাসকে অনুকরণ করতে পারি না, তিনি ছিলেন একজন মহান ভক্ত।

প্রশ্ন:- এই জগতে থেকেও কিভাবে আধ্যাত্মিক স্তরের ভক্তিতে স্থিত হওয়া যায় এবং কিভাবে পারমার্থিক লোভ বৃদ্ধি করা যায়?

জয়পতাকা স্বামী:-  দেখুন এই কারণে আমরা হরে কৃষ্ণ জপ করি! এটি আমাদের চেতনাকে পরিবর্তন করে। এবং তারপর আমরা বুঝতে পারি যে কিভাবে এই জড়জগত হলো ক্লেশ ভোগের অস্থায়ী স্থান। ভগবান কৃষ্ণ ভগবদ্‌গীতায় জড়জগত সম্পর্কে বলেছেন, এটা হল - দুঃখালয়মশাশ্বাতম্। তাই আমাদের উচিত নিজেদেরকে কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত রাখা। কোন ব্যাপার নয় আমরা কোথায় আছি, জড়জগত অথবা আধ্যাত্মিক জগত, আমরা একই কার্যকলাপ করি, কৃষ্ণের সেবায় নিযুক্ত থাকি। এবং আমি বলেছি যমদূতদের সেই কাহানিটি, আমরা তাদেরকে ছুটি দিতে চাই। কিন্তু যদি আমরা তাদেরকে সেবা প্রদান করতে চাই, তারা সেটি করার জন্য প্রস্তুত। এছাড়াও, চৈতন্য মহাপ্রভু প্রকাশ করেছেন যে কিভাবে ভক্তিমূলক সেবা করার মাধ্যমে আমরা পারমার্থিক সুখ পাই। পশুদের আহার, নিদ্রা, ভয়, মৈথুন এগুলি আছে। মানুষদের সেই একই জিনিসগুলির সাথে আছে ভক্তিমূলক সেবা। তাই, গুহ্য বিষয় হল ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হওয়া। পশু হওয়া নয়। এই আধুনিক জগত হলো পাশবিক জীবনকে আরও আরামপ্রদ বানানোর জন্য। কেন মানুষদের পশুদের থেকে উন্নততর, সহজ জীবন আছে? কারণ তাদের অতিরিক্ত সময় হচ্ছে ভক্তিমূলক সেবা সম্পাদনের জন্য।

লোকনাথ:- যখন আপনি শ্রীল প্রভুপাদকে প্রথমবার দর্শন করেছিলেন তখন আপনার চিন্তাভাবনা কেমন ছিল?

জয়পতাকা স্বামী:- অবশ্যই, আমি প্রথমে শ্রীল প্রভুপাদের সম্পর্কে শুনেছিলাম। এবং আমি অনেক বিশেষ মহিমা শুনেছিলাম। আমি শ্রীল প্রভুপাদকে দর্শন করতে মন্ট্রিলে গিয়েছিলাম। সেই সময়, আমি মানুষের মধ্যে জ্যোতি দেখতে পেতাম। যখন আমি শ্রীল প্রভুপাদকে দর্শন করি তাঁর জ্যোতি সম্পূর্ণ ঘরটিতে ভরে গিয়েছিল, পিতাভ! তাই যখন আমি  শ্রীল প্রভুপাদকে প্রথম দর্শন করি তখন প্রথম জিনিস যা আমি ভেবেছিলাম - কী অপূর্ব! এবং আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বলেছিলেন, “এটা কে?”  আমি মুণ্ডিত ছিলাম এবং সেখানে খুব বেশি ভক্তরা ছিলেন না। সানফ্রান্সিসকো থেকে গর্গ মুনি যিনি সেখানে ছিলেন, তিনি বললেন, সে একজন ভক্ত। শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, “কালকে তাকে মধ্যাহ্নভোজে নিয়ে এসো!

প্রশ্ন:- রজোগুণ অথবা তমোগুণে না থেকে, আমরা কিভাবে সঠিক ভাবনাস্তরে থেকে সেবা করতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:-  শ্রীল প্রভুপাদের কাছে প্রার্থনা করুন, আপনার গুরুর কাছে প্রার্থনা করুন এবং নিজের সেবা ঠিকভাবে করুন। রজভাব মানে হল কাম। কিছু জাগতিক সুবিধা লাভের জন্য কোন কিছু করা। তমোভাব মানে উন্মাদ, অলস। ক্রোধ- আমি আপনাকে দেখিয়ে দেব আমি হলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত! আমি আপনাকে আমার ভক্তির দ্বারা শেষ করে দেব! এবং এমন কিছু উন্মাদ জিনিস! তাই রজোভাব এবং তমোভাবকে এড়িয়ে চলুন, এবং তাহলে যা পড়ে থাকবে তা হল সত্ত্বভাব। আমরা ভক্তিমূলক সেবা করি – হৃষীকেণ হৃষীকেশ-সেবনং ভক্তিরুচ্যতে – কৃষ্ণের ইন্দ্রিয়ের প্রীতিবিধানের জন্য, আমাদের জন্য নয়।

প্রশ্ন:-  আধ্যাত্মিক গুরু আমাদের জন্য এত কিছু করেন, তিনি অত্যন্ত কৃপাময়, কিন্তু আমার হৃদয় অত্যন্ত কলুষিত। আমি হলাম পাষাণহৃদয়ী, আমি তাঁর জন্য কোন কিছু অনুভব করিনা। প্রিয় গুরু মহারাজ, তার প্রতি আমার ভালোবাসা এবং শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য আমার কি করা উচিত। দয়া করে আমাকে জ্ঞান প্রদান করুন।

জয়পতাকা স্বামী:-  মজাদার প্রশ্ন। আমরা কৃপণ – কিপটে হতে চাই না। আপনি বলছেন যে আপনি বোঝেন গুরু আপনার জন্য কত কিছু করছেন! কিন্তু আপনি কৃতজ্ঞ অনুভব করেন না! এটি কেমন অনুভব করার পন্থা! যদি কেউ একজন আপনাকে গাড়ি দুর্ঘটনা থেকে বাঁচান, আপনার কি কৃতজ্ঞ অনুভব করা উচিত নয়? যদি একজন আপনাকে জন্ম-মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি থেকে বাঁচান, তাহলে আপনার কি কৃতজ্ঞ অনুভব করা উচিত নয়? যদি আপনি কৃতজ্ঞ অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই আপনার কান্না করা উচিত। যদি আপনি না কাঁদেন, তাহলে শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে, আপনার এই জন্য কান্না করা উচিত যে আপনি কাঁদছেন না! এবং যদি আপনি এই জন্য কান্না না করেন যে আপনি কাঁদছেন না, তাহলে আপনার কান্না করা উচিত, যে আপনি কাঁদার জন্য কান্না করছেন না! এটা এই ভাবে চলতে থাকে!

প্রশ্ন:- কিভাবে ভক্তি এবং পারিবারিক সম্পর্ককে একই সাথে পরিচালনা করা যায়, যখন তারা ভক্ত নয়?

জয়পতাকা স্বামী:-  অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু আপনাকে ভাবতে হবে কিভাবে আমি তাদেরকে ভক্ত বানাবো। আমি একজন ভক্তের সাথে সাক্ষাত করেছিলাম তিনি ছিলেন একজন অভিনেত্রী। তিনি ভগবদ্‌গীতার পুঙ্খানুপুঙ্খ জানেন! কিন্তু তিনি তার স্বামীর কাছে যেতেন এবং বলতেন, “আপনি অনেক মহৎ, আপনি অনেক বুদ্ধিমান, দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন! আমি এই শ্লোকটি বুঝতে পারছিনা। আপনি কি আমাকে সাহায্য করতে পারবেন?” তিনি তা পড়েছিলেন এবং এইভাবে তিনি শুদ্ধ হয়েছিলেন! এটা বলা হয়েছে যে পরিবারে একজন পুত্রবধূ বা একজন ভক্ত সম্পূর্ণ পরিবারকে উদ্ধার করতে পারে।

অমিয়লীলা গৌর দাস:-  আপনার থেকে দীক্ষা গ্রহণের পর, আমরা কাকে আমাদের শিক্ষা গুরু হিসেবে বিবেচনা করতে পারি? একজন ভক্ত যার থেকে আমরা প্রতিনিয়ত নির্দেশ পাচ্ছি এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হচ্ছি তাকে কি আমরা আমাদের শিক্ষাগুরু হিসেবে বিবেচনা করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- এখন শিক্ষাগুরুর ক্ষেত্রে দুটি স্তর আছে, একটি হল যে কেউ যারা তোমাকে কিছু সঠিক নির্দেশ দিয়েছেন। আরেকটি হলো একজন যাকে আপনি দীক্ষাগুরুর মতো দেখেন এবং শিক্ষাগুরু কর্তৃক যা বলা হয়েছে তাই আপনি গ্রহণ করেন যেটা এমন কিছু যা আপনাকে মান্য করতেই হবে। আমার শিষ্যদের ক্ষেত্রে কাউকে দ্বিতীয় স্তরের হিসেবে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে, আমার অনুমতি প্রয়োজন। বাংলাদেশের মানুষেরা দাবি করছিল— আমি শিক্ষাগুরু! একজন মহিলা আসেন এবং বলেন, “আমার স্বামী আমাকে আঘাত করেন। আমার কি করা উচিত?” সেই ব্যক্তি বলেছেন, “আপনার আত্মহত্যা করা উচিতআমি তা কখনো বলবো না। তাই, বাংলাদেশে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর শিক্ষাগুরু নয়, তারা সবাই পরামর্শদাতা হিসেবে থাকবেন, যতক্ষণ না গুরু তাদের অনুমোদিত করছেন। সেখানে মানুষেরা শিক্ষাগুরুর উপাধিটির অপব্যবহার করছিলেন।

প্রশ্ন:-  যখন আমরা বুঝতে পারছি যে আমরা ভক্তিতে অধঃপতিত হচ্ছি কিন্তু নিজেদেরকে বাঁচাতে পারছিনা তখন কি করা উচিত ?

জয়পতাকা স্বামী:-  দীক্ষা গ্রহণ করুন! আমরা এটিতে বিশ্বাস করি না যে আমরা নিজেদেরকে উদ্ধার করতে পারব। আমরা বিশ্বাস করি যে আমাদের গুরু এবং কৃষ্ণ উদ্ধার করেন! এবং আমরা শুধু তাদের নির্দেশাবলী পালন করার চেষ্টা করি। যদি আপনি মনে করেন যে আপনি নিজেকে উদ্ধার করতে পারছেন না, এটি স্বাভাবিক, আমাদের ভাবা ঠিক নয় যে আমরা নিজেদের উদ্ধার করতে পারবো। আপনি যা বলছেন এটি বলা ঠিক – আমি নিজেকে উদ্ধার করতে পারব, আমার কাউকে দরকার নেই! এটি ভাবা কী ঠিক?

প্রশ্ন:- আমি আমার আধ্যাত্মিক এবং ভক্তিমূলক সেবার উন্নতি করতে চাই। কখনো কখনো আমি মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করতে পারিনা — এটি কী একটি অপরাধ?

জয়পতাকা স্বামী:- এটি নির্ভর করে কোন কারনে আপনি অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হননি। আপনি দেরি করে উঠেছেন, প্রচার করছেন, আপনি অসুস্থ নাকি অলস? যদি আপনি কেবল অলসতার কারণে এটি করছেন, তাহলে তা ঠিক নয়।

প্রশ্ন:-  আপনি আপনার শিষ্যদের কি থেকে বিরত থাকতে দেখতে চান?

জয়পতাকা স্বামী:- দীক্ষার সময় আমরা তাদের চারটি নিয়ম ভাঙার থেকে বিরত থাকার প্রতিজ্ঞা করাই। তাদের ১৬ মালা না করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তাদের উচিত পবিত্র নামের প্রতি দশবিধ অপরাধ থেকে দূরে থাকা। ঠিক আছে!

আপনাদের সবাইকে দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions