Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

19 Jun 2022|Duration: 01:49:12|Bengali|Question and Answer Session|Bangalore, India

প্রশ্ন:- এটি বোঝা কি ভালো অভ্যাস যে সবকিছু ভাল যা আমাদের জীবনে ঘটছে তা কৃষ্ণের কৃপা এবং সবকিছু বাজে হচ্ছে আমাদের খারাপ কর্মের কারণে। এটিকে কিভাবে সঠিকভাবে বুঝবো?

 

জয়পতাকা স্বামী:- আপনি দেখুন এটা নির্ভর করে যে আপনি একজন ভক্ত নাকি না। যদি আপনি ভক্ত না হন, তাহলে এটি হয়তো কর্মের কারণে হচ্ছে। যদি আপনি একজন ভক্ত, তাহলে আপনি ভাববেন আমার এর থেকে অনেক বেশি কষ্ট পাওয়া উচিত ছিল কিন্তু কৃষ্ণ আমাকে কেবল কিঞ্চিৎ কিছু দিয়েছেন। তাই এইভাবে আমরা যে এখানে থাকতে চাই না তা দেখানোর জন্য তিনি হয়তো এটি কমাতে পারেন। এখানে বিভিন্ন কারণ আছে যে কেন তিনি আমাদেরকে একটু কষ্ট পেতে দেন। আমি সংক্ষেপে উত্তর দেবো যাতে আমি বেশি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি।

 

প্রশ্ন:- কেন আমাদের কৃষ্ণভাবনামৃতকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অনুশীলন করতে হবে যাতে আমরা কেবল এই জীবনেই আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যাই? আমরা এটি একটু একটু করে অনুশীলন করতে পারি এবং পরবর্তী জীবনে আমরা ভক্ত পিতা মাতা পেতে পারি? কেন এইভাবে নয়?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  আজকে সকালে আমি ভরত মহারাজের কাহিনী বলেছি। তিনি একজন হরিণ রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তোমার পরবর্তী জীবন কি হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে তুমি যদি এরকম চিন্তা করো, ওহ আমি এটাকে সহজভাবে নেবো, আর পরবর্তী জীবনে আমি আরো অনুশীলন করতে পারবো আমার পিতা মাতা ভক্ত হলে পবিত্র নামের প্রতি এটা হলো সপ্তম অপরাধ, পবিত্র নামের বলে পাপাচরণ করা। আমি একটু অপরাধ করি এবং একটু ভক্তি করি আর পরবর্তী জীবনে আমি একটি ভাল জন্মলাভ করব। কৃষ্ণকে প্রতারণা করার চেষ্টা করো না, তুমি তাকে প্রতারিত করতে পারবে না! এমনকি যদি তুমি মন দিয়ে কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করার চেষ্টা করো, তাহলে বর্তমান জীবনে তা যেখানে শেষ করেছ পরবর্তী জীবনে তুমি সেখান থেকে শুরু করবে।

 

প্রশ্ন:-  আমি যথাসম্ভব ভক্তি করার চেষ্টা করছি কিন্তু তবুও আমার অনর্থ নিবৃত্তি হচ্ছে না। দয়া করে আমাকে উপদেশ দিন।

 

জয়পতাকা স্বামী:-  সাধারণত তুমি যদি পিছনে ফিরে তাকাও তাহলে আমরা দেখি যে তুমি অনেক অনর্থ অতিক্রম করে এসেছো। যখন আমরা দীক্ষা গ্রহণ করি তারপর অনর্থ নিবৃত্তি স্বজোরে পদাঘাত করা শুরু করে। যদি তুমি দীক্ষিত হও অথবা একজন শিক্ষাগুরু থাকে, তাহলে তুমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারো যে কিভাবে তুমি কোন অনর্থকে অতিক্রম করবে যা তুমি লক্ষ্য করছ মন্ট্রিল, কানাডায় আমি আমাদের মন্দিরের আশ্রমে ছিলাম, এবং সেখানে একজন ভক্ত ছিলেন যিনি ঘুমের মধ্যে কথা বলতেন। তাই, আমি মনে করছিলাম সে আমার ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। সে কি বলছে আমি তা শুনতে গেলাম। তিনি বলছিলেন হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে/ হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে! এবং তারপর আমি ভাবলাম ঠিক আছে, আমি তাকে বিরক্ত করব না। তিনি ঘুমের মধ্যে জপ করছিলেন।

 

প্রশ্ন:- বাহ্যিকভাবে আমরা দেখতে পারি আপনি কত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং অপ্রতিরোধ্য। এটি কী আপনার শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি ভালোবাসার কারণে? কেন আমরা গুরু সেবার জন্য এমনকি ০.০০১% ও এইরকম গুন বিকশিত করতে পারি না ?

 

জয়পতাকা স্বামী:- কেন নয়? শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে রক্ষা করার জন্য কত অসুবিধার মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন। আমার মনে হয় তাকে বিনিময়ে শোধ করার জন্য আমি যথেষ্ট কিছু করছি না! এই জাগতিক নরকে ক্লেশপ্রাপ্ত সকলকে তিনি রক্ষা করতে চান। তাই আমি এইভাবে চিন্তা করি।

১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে, মাদ্রিদে, একজন আমার গলা কেটে দিয়েছিল। যে ডাক্তার আমার চিকিৎসা করেছিলেন বলেছিলেন যে এটি আপনার ক্যারোটিড ধমনীটি শুধু ১ মিলিমি. ছেড়ে গেছে, তা না হলে হাসপাতালে আমরা আপনাকে বাঁচাতে পারতাম না, কেবল ভগবান আপনাকে বাঁচিয়েছেন। তারপর ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে অক্টোবর মাসে আমার স্ট্রোক হয়, ডাক্তারেরা বলেছিলেন তার বেঁচে ওঠার ০% সম্ভাবনা আছে। যদি কোন অলৌকিকভাবে তিনি বেঁচে ওঠেন, তবে তার একটি উদ্ভিদের মত অবস্থা হবে তিনি নড়াচড়া করতে বা কথা বলতে পারবেন না। আমি আরো কত অন্যান্য উদাহরণ দিতে পারি। কৃষ্ণ থাকতে অনুমতি দিয়েছেন এটাই যা আমি বলতে পারি।

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions