Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ১৮ অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

18 Oct 2022|Bengali|Question and Answer Session|Juhu, Mumbai, India

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:-  আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর বৃন্দাবন যাত্রা সম্পর্কে বলব। এখানে কতজন শুধু হিন্দি বোঝেন? যেহেতু আমার স্ট্রোক হয়েছিল, তাই আমি বলবো, এবং উনি আমি যা বলছি তা ইংরেজিতে পুনরাবৃত্তি করবেন যখন চৈতন্যদেব ভগবান কৃষ্ণের সম্পর্কে কথা বলতেন, তখন তাঁর পরম আনন্দ শত গুণ বৃদ্ধি পেত। আসলে যখন তিনি মথুরায় যাত্রা করেন তখন তাঁর মহানন্দ ১০০০ গুন বৃদ্ধি পেত, যখন তিনি বৃন্দাবনে আসেন, তখন তাঁর পরম আনন্দ ১০০০০ গুণ বৃদ্ধি পেত। তাঁর কার্যনির্বাহক বলভদ্র ভট্টাচার্য, তিনি চিন্তিত ছিলেন কারণ ভাবাবেশে, চৈতন্য মহাপ্রভু কখনো কখনো যমুনায় ঝাঁপ দিতেন, এবং যদি তিনি সেখানে না থাকেন তাহলে চৈতন্য মহাপ্রভুকে কে জল থেকে তুলে আনবেন? তাই তিনি চৈতন্য মহাপ্রভুর যত্ন নেওয়ার বিষয়ে চিন্তিত ছিলেন। যতদিন চৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে ছিলেন, তিনি রাধাকুণ্ড শ্যামকুন্ড উদঘাটিত করেন। সেই দুই মাঠে শুধু অল্প জল ছিল, এবং অনেকে ভাবছিলেন কেন এই সন্ন্যাসী মাঠে স্নান করছেন। কিন্তু তিনি উদঘাটন করেন যে আসলে এটি ছিল রাধাকুণ্ড এবং ওটা ছিল শ্যাম কুণ্ড। তিনি ব্রজ মন্ডলের বিভিন্নস্থান উদঘাটিত করেছিলেন। এবং তারপর তিনি রূপ এবং সনাতন গোস্বামী ও ষড়গোস্বামীকে অনুসন্ধান করতে এবং সমস্ত অপ্রকাশিত পবিত্র স্থানসমূহ উদ্ধার করতে বলেন। তবে অনেক স্থানগুলি তিনি উদ্ধার করেছিলেন এবং তারপর বাকি স্থানগুলি ষড়গোস্বামী কর্তৃক উদঘাটিত হয়। এখন যখন আপনি বৃন্দাবন পরিক্রমা, ব্রজমন্ডল পরিক্রমায় যাবেন, তখন আপনি এই সমস্ত স্থানগুলি দেখতে পাবেন। তাই চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি সমস্ত লীলাগুলি স্মরণ করছিলেন কারণ তিনি হলেন ব্রজেন্দ্র নন্দন। তিনি একজন ভক্ত রূপে আবির্ভূত হন এবং শ্রীমতি রাধারাণীর ভাব গ্রহণ করেছিলেন। তবে বৃন্দাবনের সকল ধামবাসীগণ, হরিণ, বানর তারা সকলে আনন্দিত হয়েছিলেন কারণ তাদের ব্রজেন্দ্রনন্দন পদার্পণ করেছেন। 

এখন বহুলষ্টমীর দিনে অনেক মানুষেরা রাধা কুণ্ডে স্নান করেন। আমরা জানি যে কৃষ্ণ, অরিষ্টাসুর দ্বারা তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিল। এবং তারপর তিনি অরিষ্টাসুরকে মুক্তি প্রদান করেন। তিনি রাধারানীর কাছে গেলেন এবং বললেন, আমি সেই অসুরকে হত্যা করেছি বলে তুমি খুশি হয়েছো কি? তুমি একটি ষাঁড়কে হত্যা করেছ! তুমি হলে একজন গো নিহন্তাতুমি তোমার এই পাপ থেকে কিভাবে মুক্তি পাবে? তারপর তিনি খনন করেন [শব্দ বিছিন্ন] কিন্তু রাধারানী কৃষ্ণের থেকে সেবা নিতে চাননি, এর বদলে তিনি কৃষ্ণসেবা নিবেদন করতে চেয়েছিলেন। তিনি গোপীদের বলেছিলেন দয়া করে এখানে, শ্যাম কুণ্ডর পাশে একটি কুণ্ড খনন করতারপর গোপীরা রাধাকুণ্ড খনন করেন কিন্তু সেখানে কোন জল ছিল না। তিনি ভাবছিলেন আমার এবং গোপীদের মানসী গঙ্গা থেকে জল নিয়ে আসা উচিত। [শব্দ বিছিন্ন] ললিতা একটি উপদেশ দেন, ঠিক আছে তাদের করতে দাও। তারপর তারা শ্যাম কুণ্ড এবং রাধা কুণ্ডের মধ্যে একটি সংযোগস্থল খনন করেন। [শব্দ বিছিন্ন] যখন চৈতন্য মহাপ্রভু সেখানে যান তখন সেই ভূমি ছিল অগভীর জলপূর্ণ। এখন সেখানে কুণ্ডগুলি আছে যা হল রাধা কুণ্ড এবং শ্যাম কুণ্ড। তাই ৪৫০০ বছরে বৃন্দাবন [শব্দ বিছিন্ন] চৈতন্য মহাপ্রভু এবং তাঁর অনুসারীরা সেই সমস্ত স্থান উদ্ধার করেছিলেন। তাই, এটি হলো ব্রজধাম এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর মধ্যে সম্বন্ধ গৌরাঙ্গ! কোন প্রশ্ন আছে? তাহলে লিখুন। 

প্রশ্ন:- [শব্দ বিছিন্ন]  আমরা কি রাধা কুণ্ডে স্নান করতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে রাধা কুণ্ডে স্নান করা হলো ভক্তদের জন্য এক বিশেষ অধিকার। কিন্তু সেই স্নানটি পূজার মত করে করা হয়। আপনি ঝাঁপ দিতে এবং সাঁতার কাটতে পারবেন না। আপনি একটি ডুব দিন এবং উঠে আসুন। 

প্রশ্ন:- [শব্দ বিছিন্ন]

জয়পতাকা স্বামী:- তাঁর তাঁর সখীদের সঙ্গে অনেক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল এবং ললিতা হলেন তাঁর থেকে কিছুদিনের বড়। তিনি রাধাষ্টমীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং ললিতা ষষ্ঠীর দিন আবির্ভূত হয়েছিলেন। আমি জানি না এটাই কারণ নাকি, কিন্তু আমরা দেখি যে ললিতা তাঁর প্রিয় রাধারাণীকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকেন। কখনো কখনো রাধারানী কৃষ্ণের প্রতি ক্রোধান্বিত হন এবং ললিতা তাঁদেরকে এক করার চেষ্টা করেন। 

প্রশ্ন:- [শব্দ বিছিন্ন]

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভু বলছিলেন যে অদ্বৈত গোঁসাইয়ের প্রার্থনা তাঁকে নিন্মস্থ এই জগতে এনেছেন। তিনি চৈতন্য ভাগবতে বারংবার উল্লেখ করেছেন যে অদ্বৈতের প্রার্থনার কারণে আমি এখানে বিদ্যমান। এবং যতদূর নিত্যানন্দ প্রভুর সাথে চৈতন্য মহাপ্রভুর সম্পর্কের কথা, তা ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ। হয়তো যখন তিনি বৃন্দাবনে ছিলেন। 

শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে মায়াপুরে পাঠিয়েছিলেন এবং মায়াপুরে, স্বাভাবিকভাবে আমরা সব সময় চৈতন্য মহাপ্রভুকে স্মরণ করি। কারণ তিনি তাঁর লীলাগুলি সেখানে করেছিলেন। তাই আমরা আশা করি যে আপনারা সবাই মায়াপুর ধামে আসবেন এবং নবদ্দীপ মন্ডল পরিক্রমায় অংশগ্রহণ করবেন। লোকনাথ মহারাজ বলেছেন যে আপনি কার্তিক মাসে বৃন্দাবনে থেকে যা সুকৃতি পাবেন, তা শুধু আপনি নবদ্বীপে ৭ বা ৯দিন থাকলেই পান। 

সুপ্রিয়া সিংহ:-  চৈতন্য মহাপ্রভু একজন ভক্তরূপে এসেছেনআমাদের তাঁকে একজন ভক্তরূপে নাকি স্বয়ং ভগবানরূপে পূজার্চনা করা উচিত?

জয়পতাকা স্বামী:- চৈতন্য মহাপ্রভুর ছন্ন অবতাররূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এর মানে তিনি হলেন কৃষ্ণ কিন্তু তিনি ছদ্মবেশে এসেছিলেন। কিন্তু এখন আমরা জানি যে তিনি কে তিনি আমাদেরকে আর ফাঁকি দিতে পারবেন না! আমরা তাঁকে কৃষ্ণরূপে পূজা করি। গৌরাঙ্গ! গৌর হরি!

রতিমনি রেনুকা দেবী দাসী:- আমরা ধামের মধ্যে কিভাবে আমাদের চেতনাকে নিবন্ধ রাখতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:-  কখনও ধাম ছেড়ে যেও না! তিনি জিজ্ঞাসা করছেন কিভাবে আমরা ধামে থাকতে পারবো! কখনো তা ছেড়ে যেওনা! তাই, যখন আপনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে সর্বক্ষণ সেবা করছেন বা সর্বক্ষণ তাঁর সেবায় নিযুক্ত আছেন, তার মানে আপনি সব সময় তাঁর সাথে আছেন। 

প্রশ্ন:-  আমরা কিভাবে নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা প্রাপ্ত হতে পারি?

জয়পতাকা স্বামী:-  নিত্যানন্দ প্রভু সর্বাধিক করুণাময় রূপে বিবেচিত হন। তিনি আপনাকে আপনি যতটা চান তার থেকেও বেশি কৃপা দিতে চান। তাই আপনি শুধু নিত্যানন্দ প্রভুর কাছে প্রার্থনা করতে পারেন, তিনি এখানে মন্দিরে আছেন এবং কৃপার জন্য তাঁকে প্রার্থনা করুন। অনেক লোকেরা রাধারাসবিহারীর কাছে যান, তারা জানেন না যে নিতাই গৌরকে প্রার্থনা করার মাধ্যমে, তারা রাধারাসবিহারীর কৃপা প্রাপ্ত হবেন। 

রুমা:- একবার চৈতন্য মহাপ্রভু গঙ্গা পূজা করতে চাইছিলেন কিন্তু গৃহে কোন পূজা সামগ্রী ছিল না। তিনি তাঁর পুরো ঘর তছনছ করে দিয়েছিলেন, আমি এই লীলাটি বুঝতে পারছিনা। 

জয়পতাকা স্বামী:-  চৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি হলেন স্বতন্ত্র ভগবান। তিনি এমন কিছু করতেন এবং আপনি হয়তো বুঝতে পারবেন না তিনি কেন এটি করলেন বা কেন করলেন না। তবে একবার তিনি গঙ্গা পূজা করতে চাইছিলেন, সেখানে সেরকম কোনো সুবিধা ছিল না।  তাই স্বাভাবিকভাবে তিনি ক্রোধান্বিত হন। আমরা ক্রোধান্বিত হই যখন আমরা ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করতে পারিনা। যখন তিনি কৃষ্ণ বা গঙ্গার সেবা অথবা ভক্তিমূলক সেবা করতে পারতেন না তখন তিনি ক্রোধান্বিত হতেন। 

প্রশ্ন:- মহাপ্রভুর কৃপা পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় কি এবং কিভাবে তা প্রাপ্ত হওয়া যাবে?

জয়পতাকা স্বামী:- এটি কামনা করা হল একটি ভাল গুণ। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে কৃষ্ণের কৃপা পেতে আমাদের কান্না করা উচিত। যদি আমরা কান্না না করি, তাহলে আমাদের কান্না করা উচিত যে আমরা কাঁদছি না। এবং যদি তবুও আমরা কৃপা না পাই, তাহলে কান্না করা উচিত যে আপনি কাঁদছেন না যে আপনি কান্না করছেন না, এইরকম। 

হরি নারায়ন দাস:-  সর্বাপেক্ষা কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে স্মরণ করতে পারি যে এটি হলো চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা? আমরা আমাদের চেতনাকে কিভাবে উন্নত করতে পারব?

জয়পতাকা স্বামী:-  হরি নারায়ন দাস। আমি জানিনা আপনি কোনটিকে সর্বাপেক্ষা কঠিন পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করেন। যদি আমি জানতাম তাহলে আমি বিশেষভাবে এর উত্তর দিতে পারতাম। কিন্তু যেহেতু আমি জানিনা, তাই আমি সকলের কথা ভেবে উত্তর দেবো, এই জগতে কষ্ট ভোগ করি, যদি সবকিছু ভালো হয় তাহলে আমরা ভাববো যে আমাদের এইখানে থাকা উচিত। কিন্তু কখনো কখনো আমরা কষ্ট পাই এবং কৃষ্ণের কৃপা আমাদেরকে বোঝায় যে এই জগতের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। যেমন তিনি বলেছেন, দুঃখালয়মশাশ্বাতম্। এটি ক্লেশ ভোগ করার একটি অনিত্য স্থান। কখনো কখনো হয়তো আমরা দুঃখ পাই, তবে আসলে আমরা আরো বেশি কষ্ট পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু কৃষ্ণ আমাদেরকে কিঞ্চিত মাত্র ক্লেশ দেন। আমাদের জীবন হারানোর পরিবর্তে, অল্প একটু ব্যথা। আমি ভাবছিলাম কিভাবে কৃষ্ণকে সেবা করার মাধ্যমে আমরা এমন কৃপা পেতে পারি। হরে কৃষ্ণ! 

এখন বিশ্রাম নেওয়ার সময়!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions