Text Size

প্রশ্নোত্তর পর্ব — ১৫ই জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

15 Jul 2022|Duration: 00:13:55|Bengali|Question and Answer Session|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী কর্তৃক প্রদত্ত প্রশ্ন উত্তর পর্ব (১৫ই জুলাই, শ্রী মায়াপুর, ভারত)

 

হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস:- যেমনটি আপনি বললেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর শুদ্ধ ভক্তদের হৃদয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রচার করার জন্য তাকে অনুপ্রাণিত করেন। যদি একজন শুদ্ধভক্ত না হন, তাহলে কি তিনি প্রচার করতে পারবেন? প্রিয় গুরুমহারাজ দয়া করে আলোকপাত করুন।

 

জয়পতাকা স্বামী:- আপনি দেখুন একজন ভক্তের হৃদয়ে প্রবেশ করা এবং আবেশ রূপে ব্যক্তিগতভাবে সেখানে উপস্থিত থাকা হল প্রচারের থেকে ভিন্ন বিষয়। অবশ্যই আপনি প্রচার করতে পারবেন। চৈতন্য মহাপ্রভুর ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতি হল সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। শাস্ত্রে বলছে যে তিনি শুদ্ধ ভক্তের হৃদয়ে আবির্ভূত হন, যদি তিনি তা চান। এটার মানে এই নয় যে প্রত্যেক ভক্তের সঙ্গে তা হবে, কিন্তু এটি ঘটে যদি ভগবান কোন শুদ্ধ ভক্তের হৃদয়ে তা চান। আপনি যে কোন ভাবেই প্রচার করতে পারবেন।

 

প্রশ্ন:-  কিভাবে বুঝব যে আমরা আমাদের নিজেদের কর্ম ভোগ করছি নাকি আমার জীবনে এটি হলো কৃষ্ণের পরিকল্পনা। এটাই সত্যি যে যখন আমরা ভক্তি করা শুরু করি আমাদের কর্ম বিনষ্ট হয় এবং আমরা কৃষ্ণের ইচ্ছা বা পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্য করি কিন্তু তার জন্য আমাদের শুদ্ধ ভক্ত হতে হবে এমনকি একজন সাধকের কর্ম সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয় যখন তারা ভক্তি করা শুরু করে। তাহলে আবার কেন আমরা সমস্যা ভোগ করি?

 

জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন আপনি যদি ২৫% শরণাগত তাহলে কৃষ্ণ আপনাকে ২৫% রক্ষা করবেন, যদি আপনি ৫০% হন তাহলে ৫০% যদি আপনি ১০০% তাহলে তিনি আপনাকে সম্পূর্ণ রক্ষা করবেন। যেমন প্রহ্লাদ মহারাজ তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ ভগবানের দ্বারা সুরক্ষিত। কিন্তু হয়তো আমরা কিছু জাগতিক ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করতে চাই, এবং আমরা কিছু সেবাও করতে চাই। তাই কৃষ্ণ আমাদেরকে কিছুটা রক্ষা করবেন এবং আর কিছুটা মায়া নিয়ন্ত্রণ করবেন।  আমাদের ভাবা উচিত যে কৃষ্ণের কৃপাতে আমাদের যতটা কষ্ট ভোগ করা উচিত তার থেকে অনেক কম কষ্ট পাচ্ছি।

 

সত্যমেধা গৌরাঙ্গ দাস:- যেমন চৈতন্য মহাপ্রভু নকুল ব্রহ্মচারীর শরীরে প্রবেশ করেছিলেন, আমরা কি সেই একই বিষয় শ্রীল প্রভুপাদের লীলায় দেখতে পারি যেহেতু শ্রীল প্রভুপাদ কৃষ্ণকে হৃদয়ে ধারণ করে চলতেন?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  অনেক মানুষেরা ভাবে যে প্রভুপাদ তার হৃদয়ে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তা বলেননি যেমন নকুল ব্রহ্মচারী বলেছিলেন। কিন্তু এমন যে রথযাত্রায় এবং অন্যান্য উৎসবে তাঁর অংশগ্রহণে লোকেরা অনেক অনুপ্রাণিত হতেন এবং রথযাত্রা শেষে তিনি গাড়িতে যান এবং গাড়ি চালকের দিকে তাকান এবং বলেন, “আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন কত সুন্দরভাবে নিতাই গৌর এই ভিড়ের মধ্যে নৃত্য করছিলেন?” গাড়ী চালক, অবশ্যই তিনি নিতাই গৌরকে দেখেননি, কিন্তু তিনি বললেন জয় শ্রীল প্রভুপাদ! শ্রীল প্রভুপাদ কি জয়!

 

আকাশ শুক্লা [উজ্জয়িনী, ভারত]:-  শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তার প্রতিনিধিদের দ্বারা সকল অধঃপতিত জীবেদের মুক্তি প্রদান করতে চান। আমরা আমাদের তরফ থেকে কি কার্য করতে পারি যাতে আমরা মুক্তি পেতে পারবো?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থাবলী, ভগবদ্‌গীতা যথাযথ, শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করার মাধ্যমে, ডিগ্রি অর্জন করার মাধ্যমে, এগুলি শ্রীল প্রভুপাদকে অত্যন্ত প্রশ্ন করবে এবং আপনার কৃষ্ণভাবনামৃত তত্ত্বে আপনি অত্যন্ত দৃঢ় হন।

 

আনন্দবিহারী কৃষ্ণ দাস:- হরে কৃষ্ণ!  দণ্ডবৎ প্রণাম!  আমার কি দ্বিতীয় দীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া উচিত? আমরা কি প্রথম দীক্ষা পেলে বিধি-নিষেধ পালন করার মাধ্যমে এবং জপ করার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক জগতের ফিরে যেতে পারবো নাকি আপনার কৃপা বা দ্বিতীয় দীক্ষা প্রয়োজনীয়? হরিবোল!

 

জয়পতাকা স্বামী:-  শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে একজনের দ্বিতীয় থাকতেই হবে এমন নয়। কিন্তু তা থাকলে কোন ক্ষতি  নেই। তাহলে তারপর আপনি গুরু এবং শ্রী বিগ্রহের প্রতি কিছু বিশেষ সেবা করতে পারবেন। কিন্তু আপনি এমনকি প্রথম দীক্ষা পাওয়ার পর আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে যেতে পারবেন।

 

কৃষ্ণসেবিনী রাধা দেবী দাসী:- আমি কিভাবে আপনার এবং কৃষ্ণের প্রতি আমার হৃদয়ে অটুট বিশ্বাস এবং ভালোবাসা বিকশিত করতে পারব?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  ভক্তি যোগের অনুশীলনটি হল গুরু এবং কৃষ্ণের প্রতি আমাদের ভালোবাসা বিকশিত করা। এটা  অন্য কোন ভিন্ন পন্থা নয়। একই পদ্ধতি আমাদের উদ্ধার করে এবং আমাদের উচিত ভক্তিমূলক সেবা করা ও তাতে স্বাভাবিকভাবে আপনি যদি আধ্যাত্মিক গুরুকে সাহায্য করেন তাহলে কৃষ্ণ অত্যন্ত খুশি হবেন।

 

প্রশ্ন:-  যদি পরিবারের কোন নিকট জন মারা যান বা জন্মগ্রহণ করেন তাহলে সেই সময় কি আমরা সেবা করতে পারি?

 

জয়পতাকা স্বামী:-  দেখুন গুরুভায়ুরে প্রধান পূজারী বা নাম্বুথিরি যদি তার নিকট আত্মীয় মারা যান তাহলে তাকে বলা হয় না। তাই তিনি প্রভাবিত হন না। প্রশ্ন হল: যদি আপনি প্রভাবিত হন, যদি আপনি বিলাপ করেন, তাহলে শ্রী বিগ্রহের সামনে যাওয়া ঠিক নয়। যদি আপনি প্রভাবিত না হন, তাহলে অশুচ সময়টি গৌণ রূপে বিবেচিত হয়। আমি বলতে চাইছি যেমন ব্রাহ্মণদের জন্য হয়তো ১১ দিন এবং শূদ্রদের জন্য ৩০ দিন বা এমন কিছু। বৈষ্ণবদের নিরাসক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ব্রাহ্মণদের স্তরে বিবেচনা করা হয়। এটি আপনি আপনার চিন্তাধারার মাধ্যমে দেখতে পারেন, যে আপনি কেমন অনুভব করেন। হরে কৃষ্ণ! আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions