হেমাঙ্গ হলধর দাস :- গুরুদেব! আমি সেই লীলাটি শ্রবণ করেছি যেখানে শ্রীল প্রভুপাদ আপনাকে হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করে যেতে বলেছিলেন। তারপর আপনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন কিছু সমস্যা ছিল সেই কারণে নারায়ণ কবচ মন্ত্র জপ করতে পারবেন নাকি। আমি ভক্তিমূলক সেবার ক্ষেত্রে অনেক বাধার সম্মুখীন হচ্ছি, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, অনেক বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে রাতে ঘুমাতে পারছিনা, অন্যান্য কিছু। এবং সকালে আমার জপ করার মানকেও তা প্রভাবিত করছে। আমার কি নরসিংহ কবচ মন্ত্র পাঠ করা উচিত এবং নরসিংহ দেবের কাছে প্রার্থনা করা উচিত? এটা কি কৃষ্ণের প্রতি বিশ্বাসের একটি নিন্ম অবস্থা? আমাদের কি শুধু হরেকৃষ্ণ জপ করা উচিত এবং তাহলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে? আপনি কি পরামর্শ দেবেন গুরুমহারাজ?
জ্য়পতাকা স্বামী:- শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন হরেকৃষ্ণ জপ করতে। এবং কখনো কখনো তুমি ভগবান প্রহ্লাদ নরসিংহকে প্রার্থনা করতে পারো, কিন্তু প্রত্যেক দিনের অভ্যাস হিসেবে হরেকৃষ্ণ জপ করো।
প্রশ্ন:- সাধারণত, বিবেচিত হয় যে, যদি স্বামী সবসময় তার স্ত্রী, তার সন্তানদের সম্পর্কে চিন্তা করে, তাহলে এটা খুব একটা কৃষ্ণ ভাবনময় নয়। কিন্তু একজন ভক্ত স্বামী তার ভক্ত স্ত্রীর সম্পর্কে চিন্তা করলে, এটি কি পথভ্রষ্টতা বলে বিবেচিত হবে?
জয়পতাকা স্বামী:- এটি নির্ভরশীল, সেই ভাবনাটা কি তার ওপর। আমরা বিভিন্ন গৃহে দেখি স্ত্রী শ্রীবিগ্রহের অর্চনা করেন, ভোগ প্রস্তুত করেন এবং শ্রী বিগ্রহকে তা নিবেদন করেন। এইভাবে স্ত্রী কৃষ্ণ সেবার একটি ভালো উদাহরণ প্রদর্শন করছেন এবং যদি সেটি আপনাকে অনুপ্রাণিত করে এবং সাহায্য করে আপনার সেবা বৃদ্ধি করতে, তাহলে সেই ভাবনাটি ভালো। কিন্তু যদি আপনি শুধু চিন্তা করেন যে কিভাবে আপনি তাকে উপভোগ করবেন, তাহলে সে এমনকি ভক্ত হলেও সেটি গুরুত্বহীন।
লক্ষ্মী রাধা দেবী দাসী:- আমাদের ভক্তিমূলক সেবার ক্ষেত্রে অভিধেয় রূপে সম্পাদিত অপরাধগুলি কিভাবে উপলব্ধি করব? সেগুলিকে ঠিক করার জন্য আমরা কিভাবে প্রায়শ্চিত্ত করতে পারি?
জয়পতাকা স্বামী:- অভিধেয় হল ভক্তিমূলক অনুশীলন বা ভক্তিমূলক সেবা করা। আর ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলনের চিন্তা করা হলো অন্য বিষয়। কিন্তু যদি তুমি এমন কিছু চিন্তা করো যা ভক্তিমূলক সেবার প্রতিকূল, তাহলে সেটি অপরাধ। একটি অপরাধের প্রায়শ্চিত্তের ক্ষেত্রে ভক্তিমূলক সেবা অনুশীলন অপেক্ষা অন্য কোনো বড় প্রায়শ্চিত্ত নেই।
শিবপ্রসাদ (আশ্রিত শিষ্য) [হায়দ্রাবাদ]:- কিভাবে প্রতিমুহূর্তে গুরু এবং কৃষ্ণের সাথে একজনের সম্বন্ধ বোঝা যাবে। আপনি কী দয়া করে এই সম্পর্কে আমাকে জ্ঞান প্রদান করবেন?
জয়পতাকা স্বামী:- সম্বন্ধ ও অভিধেয় এবং প্রয়োজন এই তিনটি বিষয় মনে রাখতে হবে। যদি আমরা অভিধেয়রূপে ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত থাকি, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই গুরু এবং কৃষ্ণের সাথে আমাদের সম্পর্ক দৃঢ় আছে। যদি আমরা ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত না থাকি, তাহলে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তাই এটার সমাধান হল ভক্তিমূলক সেবায় নিযুক্ত হওয়া।
পূর্বী দাস:- আমি কিভাবে কৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ প্রেম বিকশিত করতে পারব কারণ একটি প্রগাঢ় জাগতিক আসক্তি আমার মনকে এটি থেকে পথভ্রষ্ট করছে এবং আমি জপ ও সেবায় আমার মনোনিবেশ করতে পারছিনা, ইত্যাদি হচ্ছে ..?
জয়পতাকা স্বামী: আমাদের ক্ষণস্থায়ী বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হওয়া উচিত নয়। ক্ষণস্থায়ী বস্তুগুলি কেবল কিছু সময়ের জন্য থাকে, তাই আমাদের সেগুলির দ্বারা পথভ্রষ্ট হওয়া উচিত নয়। যদি আমরা ক্ষণস্থায়ী কোন বিষয়ের প্রতি আকৃষ্ট হই, তাহলে আমাদের চিন্তা করা উচিত সেটি কৃষ্ণের সেবায় কিভাবে নিয়োজিত করা যায়। এইভাবে, আমরা স্বাভাবিকভাবেই কৃষ্ণের প্রতি প্রেম বিকশিত করতে পারব। তাই, কৃষ্ণের প্রতি প্রেম বিকশিত করা হল একটি ধারাবাহিক পন্থা। এবং ধাপে ধাপে আমরা কৃষ্ণের প্রতি আমাদের প্রেম বিকশিত করি। ঠিক যেমন যদি আমরা সন্তান লাভ করতে চাই, তাহলে আমরা প্রার্থনা করি কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান লাভের জন্য। আমরা সবকিছু এমনভাবে সম্পাদন করি যাতে কৃষ্ণ খুশি হবেন। এবং স্বাভাবিকভাবে যেমন আমরা পড়ছিলাম যে কিভাবে রাজা এবং রাণী কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং তারা কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান লাভ করেছিলেন, তারা আসলে একজন অবতার, রিষভ দেবকে তাদের সন্তান রূপে লাভ করেছিলেন যিনি ছিলেন পরম পুরুষোত্তম ভগবান।
সুকমল নিত্যানন্দ দাস [বাংলাদেশ] :- কাম ভাবনা আমার মনকে সব সময় বিব্রত এবং প্রভাবিত করছে, এবং আমার একজন ভালো ভক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি বাধা স্বরূপ। কিন্তু আমি এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে চাই? আমি কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারব এবং আমি কিভাবে, যেকোনো পরিস্থিতিতে, ভগবান কৃষ্ণের শ্রীপাদপদ্মে নিজের মনকে স্থির রাখতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী: আমি এক্ষুনি বললাম যে আমাদের কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করা উচিত যে আমরা যাই করি না কেন, তা কৃষ্ণভাবনাময় হয়ে সেবা হিসেবে সম্পাদন করি। প্রথমত, তোমাকে বিবাহ করতে হবে, এবং তারপর তোমরা দুজন প্রার্থনা রতে পারো যে তোমাদের যাতে কৃষ্ণভাবনাময় সন্তান হয়। হরে কৃষ্ণ!
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ