প্রিয়াঙ্গদা গৌরাঙ্গী দেবী দাসী, [বাংলা পেজ]:- শাস্ত্র অধ্যয়ন করার জন্য যথাযথভাবে কী দরকার? অনেক সময়, আমি কর্তব্য ভেবে শাস্ত্র অধ্যয়ন করি। শাস্ত্রের আসল অমৃত কিভাবে আস্বাদন করা যাবে?
জয়পতাকা স্বামী:- অধ্যয়ন করার পূর্বে তোমার ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা উচিত, যাতে তুমি এই অমৃতের গভীরে প্রবেশ করতে পারো।
অনুষ্কা [আকাঙ্ক্ষা শিষ্যা]:- বৈষ্ণব নিন্দা এত সূক্ষ্ম যে যখন কখনো কখনো মানুষেরা আমাদের নিন্দা করে, আমরা আমাদের মনকে তাদের সম্পর্কে একইভাবে চিন্তা করা থেকে আটকাতে পারি না, এমনকি যদিও আমরা তা করতে চাইনা। তাহলে এটা কি একজন বৈষ্ণবের প্রতি অপরাধ?
জয়পতাকা স্বামী:- দেখুন, যদি কেউ আপনাকে একজন বৈষ্ণব হিসেবে নিন্দা করে, তাহলে আপনি এটিকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন না কারণ আপনি নিজেকে বৈষ্ণব মনে করেন না। আমরা নিজেদেরকে বৈষ্ণব মনে করিনা, আমরা শুধু এরকম একজন হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করি। যদি তাদের সমালোচনামূলক কিছু বলার আছে, তাহলে আমরা এটি শুনতে চাই এবং সেই মতো করে আমাদের কার্যকলাপ পরিবর্তন করার চেষ্টা করি।
আনন্দিনী সীতা দেবী দাসী:- জপ করার সময় আমার মন অন্য দিকে যায়, দিনের পর দিন এবং বিভিন্ন পাপময় কার্যকলাপের দিকে মন নিমগ্ন হচ্ছে, গুরুমহারাজ দয়া করে পরামর্শ দিন কিভাবে এই সমস্ত পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসবো?
জয়পতাকা স্বামী:- জপের সময় মন পাপময় কার্যকলাপ সম্পর্কে চিন্তা করছে? মানে, আমাদের উচিত আমাদের মনকে সমস্ত পাপপূর্ণ কার্যকলাপ থেকে টেনে নিয়ে আসা এবং ভগবান কৃষ্ণ অথবা তার ভক্তদের শ্রীপাদপদ্মের কথা চিন্তা করা। এবং যেমন শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর বলেছেন, আমাদের উচিত আমাদের মনকে সকালে জুতো দিয়ে প্রহার করা এবং বিকেলে ঝাঁটা দিয়ে প্রহার করা। আমাদের মনকে জানানো উচিত যে নিয়ন্ত্রক কে? আত্মা হলেন নিয়ন্ত্রক। আমরা হলাম কৃষ্ণ সেবা করার জন্য এবং আমাদের মন হল আমাদেরকে তাতে সাহায্য করার জন্য।
কাব্য পাটেল:- অনেক ভক্তরা আছেন যাদের জায়গাতে ইস্কন মন্দির নেই। তাদের কি করা উচিত? ভক্ত সঙ্গ ছাড়া ভক্তি অনুশীলন করা অত্যন্ত কঠিন। দয়া করে আমাকে ভালো সঙ্গ লাভ করার আশীর্বাদ প্রদান করুন এবং দয়া করে আমাকে আপনাকে সেবা করার আশীর্বাদ প্রদান করুন। শুভ গুরু পূর্ণিমা!
জয়পতাকা স্বামী:- এই জন্য আমরা সিডিএম (কংগ্রেগেশনাল ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রি) প্রতিষ্ঠা করেছি, প্রতি নগর ও গ্রামে আমাদের নামহট্ট এবং ভক্তিবৃক্ষ গ্রুপ, ইত্যাদি আছে।
কেয়া রানী:- একবার একটি লীলাতে আপনি বলেছিলেন যে শচী মাতার মাতৃস্নেহ ছিল আধ্যাত্মিক কারণ তিনি ভগবানের সঙ্গে সংযুক্ত ছিলেন। তাহলে চৈতন্য মহাপ্রভু তবুও কেন বলেছিলেন যে তিনি মায়াতে আছেন? তিনি কী বাতশল্য-ভাবে ছিলেন না?
জয়পতাকা স্বামী:- আমার মনে পড়ছে না এটা কোথায় বলা হয়েছে। তাই, যদি তোমার আজকের ক্লাসের বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে সেটি বর্তমানকালীন। আপনার যদি খুব পুরনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে আপনাকে সেখানে উদ্ধৃতিটি বলা উচিত।
জগতপ্রাণ বাসুদেব দাস, বাংলাদেশ:- আজকের অধ্যায়ে এটি বলা হয়েছে যে শ্রীল রূপ গোস্বামী বাংলার কাছে অবস্থিত বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন। কিন্তু নীলাচল বৃন্দাবনের পাশে অবস্থিত। তাহলে কেন শ্রীল রূপ গোস্বামী নীলাচল থেকে বাংলা হয়ে বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন? বাংলা নীলাচল থেকে বৃন্দাবনের বিপরীত দিকে অবস্থিত।
জয়পতাকা স্বামী:- আমি জানি না আপনি ভূগোল ভালো জানেন নাকি। বাংলা থেকে বৃন্দাবনে আপনাকে তো যেতেই হবে, যদি আপনি গঙ্গা দিয়ে যান, এটি প্রবাহিত হয় এবং বঙ্গোপসাগরে মেলে। যাই হোক, উড়িষ্যা বাংলার দক্ষিণে এবং বৃন্দাবন হলো বাংলার উত্তর পশ্চিমে। তাই আপনাকে হয় বাংলা দিয়ে অথবা ঝাড়খন্ড হয়ে যেতে হবে।
প্রশ্ন:- যখন আমরা অপ্রয়োজনীয় চারা গাছগুলি বাগানে থেকে উঠিয়ে ফেলি, সেটি একটি পাপময় কার্য?
জয়পতাকা স্বামী:- এটা কি আপনার ভক্তি লতা সম্পর্কে বলছেন নাকি এটি আপনার জাগতিক বাগান সম্পর্কে? যাইহোক, একটি চমৎকার প্রশ্ন। আপনার জাগতিক বাগান হলে, আগাছাগুলি উঠিয়ে ফেলা বাগান করার একটি অংশ। ও কাটুন এবং সমস্ত সবজি, শস্য, ইত্যাদি কৃষ্ণকে নিবেদন করুন। তাহলে, কৃষ্ণের কৃপায় আপনি কোন কর্মফল পাবেন না। যদি আপনি তা কৃষ্ণকে নিবেদন না করেন, যদি আপনি জৈন হন, তাহলে আপনি যখন বীজটি মাটিতে রোপণ করেন, তখন আপনি হয়তো কোনো পোকাকে মেরে ফেলবেন। সেখানে, তারা শিকড় খায় না। আমি জানিনা আপনি কিভাবে পারবেন, কিন্তু যে কোনো গাছকে আপনাকে কোনোভাবে মাটিতেই রাখতে হবে! এটি হয়তো অজ্ঞাত পাপের একটি অংশ হয়ে উঠে আসবে, এর থেকে বেরোনোর উপায় হলো যে আপনার শস্যজাত দ্রব্য কৃষ্ণকে নিবেদন করুন।
আজকে শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামীর তিরোভাব তিথি এবং এছাড়াও সনাতন গোস্বামী তিরোভাব তিথি ও ব্যাসদেবের আবির্ভাব তিথি, এছাড়াও পবিত্র গুরু পূর্ণিমা। আমি আপনাদের সবাইকে আমার শুভেচ্ছা জানাই। কৃষ্ণে মতি রস্তু!
আজকে আমি তামিল ভাষায় অনূদিত শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামীর্ লেখা ‘করুণা সিন্ধু’ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছি। নামহট্টতে দীক্ষা অনুষ্ঠান থাকায় আমার বিলম্ব হয়েছিল এবং ভক্তিচারু স্বামীর মহিমা বর্ণনায় উপস্থিত হতে পারিনি। আজকে বিকেলে আমাদের জিবিসি মিটিং ছিল।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ