মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- জয় কবি চন্দ্র স্বামী! হরিবোল! আমি শুনলাম যে আপনারা এখানে আছেন এবং আমি আপনাদের দেখতে চাইছিলাম!
রাধাগোবিন্দ প্রভুপাদের অনেক প্রিয়। এমনকি আমরা একটি চিঠিতে শুনেছি যে তিনি নিউইয়র্কে তাঁর সমাধি রাখতে চেয়েছিলেন। তাই রাধাগোবিন্দ তার কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন, আমরা শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী, শেষ প্রভু, হংসস্বরূপ প্রভু এবং অন্যান্য ভক্তরা যারা এই মন্দিরের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি জানিনা আমি শুনলাম যে আপনারা ভক্তিবেদান্ত স্বামীমার্গের জন্য আবেদন করেছেন, নাকি এটি ইতিমধ্যেই হয়েছে? এটি কি অনুমোদিত হয়েছে নাকি আমরা এখনও এর প্রচেষ্টায় আছি?
আমি এইবার এসে রাধাগোবিন্দ এবং চৈতন্য মহাপ্রভুর এই ছোট উৎসব মূর্তি দর্শন করে আনন্দিত হয়েছি। আসলে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন অবতারেরা এসেছেন এবং প্রত্যেক অবতারের নিজস্ব মনোভাব আছে, কিন্তু এর পরবর্তীতে কলিযুগে চৈতন্য মহাপ্রভু এসেছেন এবং তাঁর নিজের মনোভাব আছে, তাঁর ভাব হচ্ছে কৃপার। আমরা জানি যে কলিযুগ আধ্যাত্মিক অগ্রগতির জন্য ভালো সময় নয়, কিন্তু অন্যান্য যুগে বিভিন্ন অবতারেরা এসেছিলেন এবং তারা তাদের লীলা করেছিলেন কিন্তু আগের প্রত্যেক যুগে ধ্যান করা, হোম যজ্ঞ করা, মন্দিরে অর্চন করার পদ্ধতি ছিল। তবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে আমরা গৃহস্থ বা সন্ন্যাসী যাই হই না কেন, কেবল হরে কৃষ্ণ জপ করার মাধ্যমে আমরা এই সব সফলতা অর্জন করতে পারব। এবং একটি ভজনে লোচনদাস ঠাকুর বলেছেন — “সব অবতার সার শিরোমণি কেবল আনন্দ কন্দ” —চৈতন্য মহাপ্রভু একটি পন্থা প্রদান করেছেন, যা কেবলই আনন্দময়, হরে কৃষ্ণ জপ কীর্তন করা, নৃত্য করা এবং প্রসাদ মহাভোজ সেবন।
১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে আমি সান ফ্রান্সিসকো থেকে নিউইয়র্কে গিয়েছিলাম এবং তারপর মন্ট্রিল গিয়েছিলাম। আমি ইস্কনের সব মন্দিরগুলি দেখেছি, সেখানে কেবল তিনটি মন্দির ছিল। এখন তা এত সহজ নয়, এখন হয়ত ৮০০ বা তারও অধিক মন্দির রয়েছে। তা কবি চন্দ্র মহারাজ জানেন, আমি ঠিক জানিনা। আসলে হেনরি স্ট্রিটে একটি জায়গা ছিল, এবং আমি সেখানে দ্বিতীয় দীক্ষা গ্রহণ করেছিলাম, আমার প্রথম দীক্ষা হয়েছিল মন্ট্রিলে এবং দ্বিতীয় দীক্ষা হয়েছিল নিউইয়র্কে, আমি অনেকবার রথযাত্রায় এসেছিলাম এবং আমি বিন্দু মাধবকে রথযাত্রা করতে দেখেছিলাম। তা ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং জুন মাসের শেষের দিকের প্রথম সপ্তাহে তারা পানিহাটি উৎসব করেছিলেন এবং দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে নিউইয়র্কে রথযাত্রা হয়েছিল। এখন দেখা যাক আমি এই দুটিতে অংশগ্রহণ করতে পারি কিনা, আমি আজকে বুধবার বলে এত ভক্তদের যে দেখতে পাব তা ভাবি নি। আপনারা সকলে এখানে এসেছেন এবং রাধাগোবিন্দের আরাধনা করছেন দেখে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। দুর্ভাগ্যক্রমে আজকে রাতে আমার দুবাই ফিরে যাওয়ার বিমান আছে এবং তারপর আমি মায়াপুর যাব। হংসস্বরূপ প্রভু একটি চিঠির মাধ্যমে আমাকে এই মন্দিরে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন, আমি অনেক লিখিত আমন্ত্রণ পাই না, তাই তিনি যখন এই বিষয়ে লিখেছেন, তাই আমাকে তো আসতেই হত!
চৈতন্য মহাপ্রভু তিনি তাঁর দিব্য লীলা সম্পাদন করেছিলেন। চাঁদ কাজি মৃদঙ্গ ভেঙে দিয়েছিলেন, তিনি সকল ভক্তদের বলেছিলেন যে, “কেউই সংকীর্তন আন্দোলন বন্ধ করতে পারবে না” এবং এরপর তিনি চারটি দল করেছিলেন— একটি শ্রীবাস ঠাকুর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আরেকটিতে অদ্বৈত গোঁসাই, আরেকটিতে হরিদাস ঠাকুর এবং মহাপ্রভু স্বয়ং নিত্যানন্দ প্রভু ও গদাধর প্রভুর সাথে চতুর্থ দলে ছিলেন, কারণ শচীমাতা গদাধর প্রভুকে দেখতে বলেছিলেন যে চৈতন্য মহাপ্রভু যাতে মাটিতে পড়ে না যান, তাই চৈতন্য মহাপ্রভুর নৃত্য করছিলেন এবং তারা দুজনে চৈতন্য মহাপ্রভুর দুই দিকে ছিলেন। এই কীর্তনের আওয়াজে সমগ্র বিশ্বে পৌঁছে যায়। আসলে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সেখানে যোগদান করেছিলেন এবং ইন্দ্র দেব, বায়ু দেব তারা নিন্মে নেমে এসেছিলেন, যখন তারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে নৃত্য কীর্তন এবং ক্রন্দন করতে দেখেছিলেন, তখন তারা পরমেশ্বর ভগবানকে এইরকম ভাবে বিভোর হয়ে ক্রন্দন করতে দেখে মূর্ছিত হয়ে পড়েছিলেন। তারপর তারা যখন তাদের চেতনা ফিরে পান, তখন তারাও মনুষ্য শরীর ধারণ করে সেই কীর্তনে যোগদান করেছিলেন। কিছু কিছু নাস্তিকরা এই কীর্তন দেখছিল, আর যখন তারা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে এইভাবে কীর্তন করতে, নৃত্য করতে দেখেছিল, তখন তারা নিজেরাও আনন্দে বিভোর হয়ে উঠেছিল ও মাটিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল এবং কীর্তন করছিল। এটি ছিল এক অপূর্ব কীর্তন, ঠিক যেমন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কত অক্ষয়িনী সৈন্যসহ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ করেছিলেন, ঠিক তেমনই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর দ্বারা আয়োজিত এই কীর্তনও অবর্ণনীয়। স্বর্গ থেকে অপ্সরাগণ পুষ্প ফেলছিলেন এবং শঙ্খ ধ্বনি হচ্ছিল। এই কীর্তন ব্রহ্মার একদিন, এক কল্প পর্যন্ত চলেছিল, কিন্তু বাহ্যিক গণনা অনুসারে তা ছিল দিনের মধ্যে একরাত্রি। তারপর যখন চাঁদকাজি কীর্তনের আওয়াজ শুনতে পায়, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “এটি কি হচ্ছে? হিন্দুদের বিবাহ হচ্ছে নাকি? তাদেরকে চুপ করতে বলো।” তখন সৈনিকরা যখন বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে যে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষেরা কীর্তন করছেন, তখন তারা ভীত হয় ও তাদের পাগড়ি পড়ে নেয় এবং নিজেদের দাড়ি লুকিয়ে ফেলে হরিনাম করতে শুরু করে। আর বাকি লীলা আপনারা চৈতন্য চরিতামৃত থেকে জানেন ।
শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে কিভাবে নিউইয়র্কে একটি অসাধারণ কীর্তন অনুষ্ঠান হয়েছিল, নারদ মুনি এসেছিলেন এবং তিনি হাসছিলেন যে কিভাবে এই ম্লেচ্ছ, যবনরা সবাই কীর্তন করছে। এই নিউইয়র্ক শহর এই জগতে অত্যন্ত বিখ্যাত কিন্তু ভক্তদের জন্য এর এক ভিন্ন খ্যাতি ছড়িয়েছে।
এবং তাই আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে কিভাবে রাধা গোবিন্দের খুব ভালোভাবে পূজা অর্চন করা হচ্ছে, আমি আশা করিনি যে কেক নিবেদন করা হবে। যদি আমি জানতাম যে অন্নপ্রাশন হচ্ছে, তাহলে আমি আমার সচিবকে শ্লোক বলতে বলতাম, আমরা ৫ মাস বা ৭ মাসের কন্যাশিশুর জন্য তা করি এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ৬ মাস বা ৮ মাসে হয়। আমরা পাঁচবার মন্ত্র বলে তা তাদের মুখে দেই, তা যঠরাগ্নিকে নিবেদন করা হয়। ওঁ প্রাণায়াম্ বলে অগ্নিতে দেওয়া হয়। এবং এটি খুব স্বতঃস্ফূর্তভাবে হয়ে চলেছে।
যাই হোক আমি এই মন্দিরে আসতে পেরে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, আমি দেখেছি কিভাবে ভক্তিচারু স্বামী এখানে এসেছিলেন এবং শেষ ও প্রগৌস প্রভুর দ্বারা আয়োজিত টাউন হলের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছিলেন। আমি আনন্দিত যে আমাদের কাছে এই মন্দির আছে, আমার মনে হয় আমরা এখানে কিছু অর্থ অনুদান দিতে পারি এবং লিফটের মেরামত করতে পারি! যাইহোক এখানে কাছেই আমাদের একটি হোটেল আছে, আমি সেখানে থাকছি। আমি এই সকল ভালো ভক্তদের দেখতে পেরে খুব আনন্দিত হয়েছি। এটি হচ্ছে পুরীধামের জগন্নাথের মহাপ্রসাদী দন্ত মাজন। এবং এটিকে ঠিক রাখার জন্য আমরা তা রুপো দিয়ে মুড়িয়ে নিয়েছি। সে দুবাই থেকে এসেছে আমাকে দুবাইয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। (চিরঞ্জীবী শ্যাম দাসের দিকে দেখিয়ে) কবি চন্দ্র স্বামী আপনি কি কিছু বলতে চান?
কবিচন্দ্র স্বামী:- জয়পতাকা স্বামীর জয়! আমি জয়পতাকা স্বামীকে অনেক বছর ধরে জানি, এমন কিছু বছর ছিল যখন নবদ্বীপ মণ্ডল পরিক্রমার ক্ষেত্রে কেবল আমরা দুজন সন্ন্যাসীই ছিলাম। তা ছিল অত্যন্ত সুন্দর! এখন আমাদের অনেক সন্ন্যাসী আছে। আমার মনে পড়ে যখন আমি প্রথম মায়াপুরে গেছিলাম, আমি ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে মায়াপুরে গিয়েছিলাম, তখন তিনি ছিলেন পরিক্রমার দায়িত্বভার প্রাপ্ত ব্যক্তি। আমি মায়াপুরের সব কিছু জানি, তিনি বাসে করে গিয়েছিলেন, তিনি কেবলমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু তিনি প্রতি সময় উনি আমার ক্ষেত্রে পিতার মত বা বড় দাদার মতো ছিলেন। আমার জীবনে কোন বড় ভাই ছিল না। উনি অত্যন্ত সহনশীল এবং আমাকে সব কিছু পালনের ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেন।
আমি সব সময় প্রশংসা করি যে কিভাবে কৃষ্ণ অবশ্যই ওঁনাকে এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও আমাদের সাথে থাকার জন্য শক্তি প্রদান করছেন, আমাদেরকে এটি দেখানোর জন্য যে আমাদের একটু মাথায় ব্যথা বা হাটুতে ব্যথা হলে, আমরা সেবা ছাড়তে চাই, কিন্তু তিনি আমাদেরকে প্রদর্শন করছেন যে আমাদের আসলে এই শরীরের কি স্থিতি তা নিয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত নয়, আমাদের পবিত্র নামের মহিমা প্রচার করা উচিত। তিনি জিবিসির সাথে থেকে এই বিষয়টিতে আরো আরো জোর দিচ্ছেন। তিনি একদিন বলেছিলেন যে যতক্ষণ না এই জগতের প্রত্যেকে মহামন্ত্র জপ করবে, ততক্ষণ কোভিড মহামারী যাবে না। আমাদের প্রত্যেককে জপ করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা উচিত, তা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র হোক বা ভগবানের অন্য কোন নামই হোক। তাদের সম্প্রদায়, তাদের ধর্ম ও তাদের ভাষা যাই হোক না কেন , সবাইকে ভগবানের নাম জপ করতে হবে। এটি প্রত্যেককে করতেই হবে। শ্রীল প্রভুপাদ সবসময় বলতেন যে, “হরে কৃষ্ণ সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে যাবে এবং তা সমগ্র বিশ্বে প্রভাবশালী হবে।” রামেশ্বর প্রভু তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, “তা কিভাবে সম্ভব হবে?” তিনি বলেছিলেন, “এটি একটি বিপ্লব হবে বা অনেক ভক্তরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবে।” এবং এইভাবে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা দিয়েছিলেন যে কিভাবে তা সম্ভব হবে? শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, “না এটি এমনভাবে হবে না।” তিনি বলেছিলেন যে, “অধিক থেকে অধিক সংকীর্তনের মাধ্যমে মানুষেরা জপ কীর্তন করবে এবং গ্রন্থ বিতরণের মাধ্যমে এই সমগ্র বিশ্বের পরিবেশ পরিবর্তন হবে।” তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষেরা এটির চাহিদা করবে যে তারা জিউ বা হিব্রু বা খ্রিস্টান বা মুসলিম যাই হোক না কেন তারা সঠিক সরকার, সঠিক নেত্রী চাইবে এবং এখন এটি হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর স্বর্ণযুগ। পুরান অনুসারে এটি শুরু হয়েছে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে যা চৈতন্য মহাপ্রভুর ৫০০তম আবির্ভাব তিথি ছিল এবং সেই সময় থেকেই এর প্রারম্ভ হয়েছে। অনেক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, আর কলি অত্যন্ত চিন্তিত কিন্তু অনেক মানুষেরা হরে কৃষ্ণ জপ করছে, কলি তার বিভিন্ন নিকৃষ্ট কার্যকলাপের দ্বারা তা বন্ধ করতে পারছে না। তাই আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে অনেক শক্তিশালী আচার্যরা এসেছেন — যেমন শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে সহনুভূতিশীল হওয়ার শক্তি প্রদান করেছেন অন্যদেরকে সাহায্য করার জন্য যাতে এই পবিত্র নাম ছড়িয়ে যায় ও জগতের প্রত্যেকে ভগবানের নাম জপ করতে পারে। এমন নয় যে প্রত্যেকে কিছু না কিছু জপ করছে, তারা জানে না কিছুই, আমাদেরকে এটি তাদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। আমাদেরকে তাদের কাছে যেতে হবে, তাদের সাথে এই বিষয়ে কথা বলতে হবে, অবশ্য আমাদের নিজেদেরকেও জপ করতে হবে। ঘরে জপ করুন, রাস্তায় জপ করুন, আপনি যেখানে পারবেন সেখানেই জপ করুন। মন্দিরে কোন বিশেষ অতিথি আসার অপেক্ষা করবেন না, বাইরে বের হন এবং কীর্তন করুন। আমি জয়পতাকা স্বামীকে দেখে আনন্দিত হয়েছি, আমি এই বছর মায়াপুর যেতে চাইছিলাম কিন্তু কোন কারণবশত তা হয়নি। এখন আমরা এরপর সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করব, ভারতে যাওয়ার জন্য ভিসা এবং সবকিছুই উপলভ্য আছে! এখন আপনি এখানে নিউইয়র্কে আছেন, কৃপা করে আপনার আশীর্বাদ প্রদান করুন যাতে আমরা এই বিষয়ে জোর দিতে পারি। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে এই স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এখান থেকেই সবকিছু শুরু হয়েছে, তিনি এখানে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি নিউইয়র্কে আসতেন এবং তিনি এখানে কিছু বছর ছিলেন। কোন অর্থ, কোন বন্ধু-বান্ধব, কোন অনুসারী ছাড়াই তিনি এখান থেকে সবকিছু শুরু করেছিলেন। এখানে কেউই বিশেষত কৃষ্ণের নাম শুনেছিল না, তার কাছে কেবল শ্রীমদ্ভাগবতম ছিল, কিছু ব্যক্তিরা ভগবদ্গীতার কথা শুনেছিল, কিন্তু তখনও শ্রীমদ্ভাগবতমের কথা কেউ শোনেনি। তিনি জীবন দিয়ে এই জ্ঞান ও পবিত্র নাম কীর্তন প্রচার করেছিলেন। কোনভাবে তিনি টোয়েন্টি সেকেন্ড এভিনিউ স্থানটি পান, আমরা এখনো সেখানে যাই। ঠিক যেমন তিনি (জয়পতাকা স্বামী মহারাজ) বলেছেন যে সেখানে কেবল তিনটি মন্দির ছিল, তারপর তিনি ভারতে গিয়েছিলেন এবং মায়াপুরে বিভিন্ন কিছু শুরু করেছিলেন। আমরা এখন নিজেদের গণনায় রাখতে পারিনা, ঠিক যেমন ব্রহ্মা বলেছিলেন যে, “মানুষেরা মনে করে তারা কৃষ্ণকে জানেন কিন্তু আমার মনে হয় না যে এমনকি আপনি নিজেকেই নিজে জানেন, কারণ এমনকি যদিও কৃষ্ণ নিজেকে জানলে, তার সাথে সাথে ততক্ষণে তিনি আরো বিরাট ও আরো অধিক কিছু হয়ে যান এবং তাই সেই সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে জানতে পারেন না। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে, আমরা সর্বদা বড় এবং নতুন মন্দির শুরু হওয়ার বিষয়ে শুনে এসেছি, কিন্তু এখন এত ছোট ছোট মন্দির হয়েছে, আপনাদের মধ্যে কতজনের বাড়ির কাছে মন্দির রয়েছে? দুবাইতে অনেক ভক্তদের গৃহে সিংহাসন আছে, যা মন্দিরের থেকেও আরো ভালো এবং এরকম আরো অন্যান্য স্থান আছে, জগন্নাথ প্রত্যেক স্থানেই আছেন এবং নিতাই গৌরও প্রত্যেক স্থানে আছেন, হাজার হাজার মন্দির আছে এবং যেখানেই ভক্তরা কৃষ্ণের জন্য একত্রিত হয়ে কীর্তন করেন, নৃত্য করেন, সেটিই মন্দির। শ্রীল প্রভুপাদ প্রত্যেকের হৃদয়ে মন্দির গড়তে চেয়েছিলেন, কেবল প্রত্যেক গৃহে নয়, সর্বত্র মন্দির গড়তে চেয়েছিলেন। আমাদের এই বড় মন্দির প্রয়োজন যাতে মানুষেরা এসে এখান থেকে শিক্ষা পেতে পারে, আমরা সব সময় প্রস্তুত থাকতে চাই ও মানুষদেরকে শিক্ষা দিতে চাই হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে জপ করতে এবং দয়া করে চৈতন্য-চরিতামৃত পাঠ করুন। যদি আপনার কাছে এখনো তা না থাকে, আমাদের কাছে বিভিন্ন ভাষায় আছে, দয়া করে নিজের জন্য এক সেট নিন। আমি গৌর পূর্ণিমাতে এইপসোতে ছিলাম, আমি বলেছিলাম আপনাদের কতজনের কাছে চৈতন্য-চরিতামৃতের সেট আছে? আমার মনে হয় সেই ঘরে থাকা প্রত্যেকেই তাদের হাত তুলেছিলেন। তারপর আমি বললাম আপনাদের মধ্যে কতজন তা পড়েছেন ১০ জনের বেশি হাত ওঠেনি এবং বাকি ঘরে সবাই চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল। গ্রন্থ হচ্ছে অধ্যয়ন করার জন্য, তা অধ্যয়ন করুন। ইন্দ্রদুম্ন মহারাজ একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন যে, “গ্রন্থ অধ্যয়ন করুন, যদি আপনার কাছে তা না থাকে, তাহলে তা কিনুন। যদি আপনার কাছে তা থাকে, তাহলে অধ্যয়ন করুন।” এইভাবে এই ইস্কন হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলার সম্প্রসারণ। আমরা সেই একই জিনিস করছি — নৃত্য করা, কীর্তন করা, রথযাত্রা করা, শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যায়ন করা, বিশেষত প্রসাদ সেবন করা। তাই আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ! জয়পতাকা স্বামীর এখানে আসার জন্য ওনাকে ধন্যবাদ! আমাকে ক্ষমা করবেন আমি প্রস্তুত ছিলাম না ১২টার সময় আমার কিছু সেবা এসে গিয়েছিল। হরে কৃষ্ণ! আপনার শিষ্য গৌরাঙ্গ দাস এই স্থানটি একত্রে করে রেখেছে এবং রাম রায় তাকে অনেক কৃতিত্ব দিয়েছেন, কৃপা করে রাম রায়কে বিশেষ আশীর্বাদ প্রদান করুন যাতে তিনি এটি করতে পারেন কারণ তিনি হচ্ছেন একজন, যিনি এই মন্দিরকে রাখার জন্য অনেক সাহায্য করেছেন।
জয়পতাকা স্বামী:- কবিচন্দ্র মহারাজ আমাকে চেন্নাই এর একটি নাটকের কথা মনে করিয়ে দিলেন। একটি ছোট নাটক হয়েছিল। একটি মেয়ে যমরাজের অভিনয় করছিল, সে মোচ লাগিয়েছিল এবং দুজন যমদূতের অভিনয় করছিল। যমদূতরা অভিযোগ করছিল, “এই ভক্তরা তাদের গৃহে জগন্নাথ কে রেখেছে, তারা শ্রীমদ্ভাগবতম, ভগবদ্গীতা পড়ে, তারা হরে কৃষ্ণ জপ করে, আমরা তাদেরকে স্পর্শ করতে পারি না। আমরা তাদেরকে নরকে নিয়ে আসতে পারি না। আমাদের অন্য কোন চাকরির পেতে হবে! আমরা এই ভক্তদের সঙ্গে কিছুই করতে পারছি না। আমরা কি করতে পারি?” আমি দেখছি ভারতে আমাদের প্রায় একদিনে ১৫০০ মামলা হয়, আমেরিকাতে প্রায় ৩৩০০০ মামলা হয়, তারা মারধর করে! কোন না কোনভাবে প্রত্যেকের গৃহে তাদের যদি শ্রীবিগ্রহ থাকে, শ্রীমদ্ভাগবতম্ থাকে, তাহলে সেই গৃহস্থরা যমদূতদের থেকে বেঁচে যাবে। তাই মহারাজ এটি বলছিলেন শুনে আমার এটি মনে পড়ল এবং আমাদের কি এখন কেক কাটা উচিত? আমি এই বিষয়ে আমার সকল শিষ্যদের এবং সকল ভক্তদের অনুরোধ করতে চাই যে দয়া করে রাধা গোবিন্দের সেবা করো এবং দেখ যাতে তাঁদের সুযত্ন গ্রহণ করা হয়।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২