২০২২০৪০৪ মায়াবাদী সন্ন্যাসীগণ শ্রীচৈতন্যকে বেদান্ত-সূত্রের প্রত্যক্ষ ব্যাখ্যা বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
নিম্নলিখিতটি হল একটি শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য গ্রন্থের সংকলন যা পরম পবিত্র জয়পতাকা স্বামী মহারাজ কর্তৃক ০৪ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে নিউ পাণিহাতি ধামা, আটলান্টা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রদত্ত।
মুখম করোতি ভ্যাচালম পংগুম লংঘায়তে গিরিম
ইয়াত-কৃপা তম অহম বন্দে শ্রী-গুরুম দীনা-তারমণম
পরমানন্দম মাধবংশশ্রীত্য চৈতন্য
Hariḥ oṁ tat sat!
জয়পতাকা স্বামী: এত সুন্দরভাবে গান গাওয়ার জন্য আমি ঠাকুরাণীকে ধন্যবাদ জানাই! এবং যাঁরা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়েছেন, তাঁদেরও। তো, আমরা প্রথমে একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ করব এবং তারপর আমি কিছু বলব।
আজকের অধ্যায়ের শিরোনাম হলো:
মায়াবাদী সন্ন্যাসীগণ শ্রীচৈতন্যকে বেদান্ত-সূত্রের প্রত্যক্ষ ব্যাখ্যা বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
চৈতন্য-চরিতামৃত, আদি-লীলা ৭.১৩৪
প্রভুরা প্রতিসূত্রের শংকরভ্যাষ্য-খণ্ডন ও সন্ন্যাসীগনের চামাত্কার :-
ei সাথী প্রতিসূত্রে কারেন দুষণা
শুনি' চামাত্কার হাইলা সন্ন্যাসীর গণ
অনুবাদ: যখন শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু এইভাবে প্রত্যেকটি সূত্রের ক্ষেত্রে শঙ্করাচার্যের ব্যাখ্যার ত্রুটিগুলি দেখালেন, তখন সমবেত সমস্ত মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বিস্ময়ে অভিভূত হলেন।
জয়পতাকা স্বামী: তো, যখন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু অত্যন্ত বিনীতভাবে প্রবেশ করে বললেন যে, তাঁর আধ্যাত্মিক গুরু তাঁকে হরে কৃষ্ণ জপ করতে বলায় তিনি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আসলে, তাঁকে বেদান্ত-সূত্র ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। তখন তিনি শঙ্করাচার্যের পরোক্ষ অর্থ এবং কীভাবে তিনি বিভ্রান্ত করছিলেন তা দেখিয়ে দিলেন। এতে সমস্ত মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বিস্ময়ে অভিভূত হলেন।
চৈতন্য-চরিতামৃত, আদি-লীলা ৭.১৩৫
সন্ন্যাসীগনের স্বীকারোক্তি ও সাম্প্রাদায়িক ভব :-
সকল সন্ন্যাসী কহে,— 'শুনাহ শ্রীপদ
তুমি ইয়ে খণ্ডিলে অর্থ, ই নাহে বিবাদ
অনুবাদ: সকল মায়াবাদী সন্ন্যাসী বললেন, “হে মহামান্য, আমাদের পক্ষ থেকে অনুগ্রহ করে জানুন যে, এই অর্থগুলির আপনার খণ্ডনের সাথে আমাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো বিরোধ নেই, কেননা আপনি সূত্রগুলির একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন ।”
জয়পতাকা স্বামী: সুতরাং, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সূত্রগুলির সরাসরি অর্থ হুবহু প্রদান করছিলেন । এবং মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বলেছিলেন যে তাঁরা তা গ্রহণ করেছেন। তাই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মায়াবাদী সন্ন্যাসীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
চৈতন্য-চরিতামৃত, আদি-লীলা ৭.১৩৬
আচার্য-কল্পিত অর্থ,—ইহা সবে জনি
সম্প্রদায়-অনুরোধে ট্যাবু তাহা মানি
আমরা জানি যে এই সমস্ত কথার মারপ্যাঁচ শঙ্করাচার্যের কল্পনাপ্রসূত, তবুও যেহেতু আমরা তাঁর সম্প্রদায়ের, তাই তা আমাদের সন্তুষ্ট না করলেও আমরা তা মেনে নিই ।
জয়পতাকা স্বামী: তো মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বলছিলেন যে, তাঁরা জানেন শঙ্করাচার্য অনেক কিছু অনুমান করেছেন। এবং আমরা সন্তুষ্ট বোধ করিনি, কিন্তু যেহেতু আমরা সেই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম, তাই আমরা তা মেনে নিয়েছিলাম। সমস্যাটা হলো এই যে, কিছু লোক কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হলে, তারা সেই সম্প্রদায়ের সমস্ত দোষত্রুটি মেনে নেয়। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদ্গীতা এবং অন্যান্য শাস্ত্রকে যেমন আছে ঠিক তেমনভাবেই উপস্থাপন করেছেন । ফলে এর সরাসরি অর্থই সঠিক উপলব্ধি প্রদান করে।
চৈতন্য-চরিতামৃত, আদি-লীলা ৭.১৩৭
প্রভুকে অভিধা-বৃত্তিতে ব্যখ্যা করিতে অনুরোধ :-
মুখ্যার্থ ব্যখ্যা করা, দেখি তোমারা বালা'
মুখ্যার্থে লগাল প্রভু সূত্র-সকাল
অনুবাদ: “এখন দেখা যাক,” মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বলতে থাকলেন, “আপনি সূত্রগুলিকে তাদের সরাসরি অর্থসহ কত ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন ।” এই কথা শুনে ভগবান চৈতন্য মহাপ্রভু বেদান্ত-সূত্রের সরাসরি ব্যাখ্যা শুরু করলেন।
মায়াবাদী সন্ন্যাসীগণ শ্রীচৈতন্যকে বেদান্ত-সূত্রের প্রত্যক্ষ ব্যাখ্যা বর্ণনা করার জন্য অনুরোধ করেন।
হরি বোল! গৌরাঙ্গ!
জয়পতাকা স্বামী: শ্রীচৈতন্য, মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা তাঁকে বেদান্ত-সূত্রের সরাসরি অর্থ প্রদান করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এইভাবে শ্রীচৈতন্য সমস্ত মায়াবাদী সন্ন্যাসীদের বৈষ্ণবে রূপান্তরিত করেন! সুতরাং, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। শ্রীচৈতন্য সরাসরি অর্থ প্রদান করে স্বাভাবিকভাবেই ভগবানের পুরুষোত্তমকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর মায়াবাদী সন্ন্যাসীরা বলেন যে মুক্তি লাভের জন্য সন্ন্যাসী হতে হয় । কিন্তু শ্রীচৈতন্য শিক্ষা দিয়েছিলেন, ‘ গৃহে থাকো বনে থাকো সদা হরি বলে ডাকো ।’ আপনি গৃহস্থ হোন বা বৈরাগী, হরে কৃষ্ণ জপ করুন এবং আপনি সর্বসিদ্ধি লাভ করবেন।
তাই, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মানুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে হরে কৃষ্ণ জপ করতে হয়, কীভাবে শাস্ত্রকে তার স্বরূপে বুঝতে হয়। স্বয়ম্ভুব মনু, প্রথম মনু, তিনি একজন গৃহস্থ ছিলেন। তাঁর সন্তান ছিল , কিন্তু তিনি ও তাঁর স্ত্রী সর্বদা কৃষ্ণকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতেন। এটাই কৃষ্ণভাবনার রহস্য। যে গৃহস্থরা কৃষ্ণের সেবার জন্য একসঙ্গে কাজ করেন। আমি দেখছিলাম চেন্নাইতে আমাদের ১২০টি ভক্তি-বৃক্ষ গোষ্ঠী আছে। কিছু শিশু একটি নাটক পরিবেশন করেছিল। দুজন শিশু যমদূতের চরিত্রে এবং একজন যমরাজের চরিত্রে অভিনয় করছিল। একটি মেয়ে গোঁফ লাগিয়ে যমরাজের ভূমিকায় অভিনয় করেছিল। তখন যমদূতেরা বলল, আমরা এই ভক্তদের নরকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু তাদের কাছে তো শ্রীমদ্ভাগবত আছে, তারা জগন্নাথ বলদেব সুভদ্রা ও নিতাই গৌরের পূজা করেন, তারা হরে কৃষ্ণ নাম জপ করেন এবং কৃষ্ণ-প্রসাদ গ্রহণ করেন! আমরা তাদের স্পর্শ করতে পারি না! আমাদের অন্য চাকরি খুঁজে নেওয়া উচিত! তো, এইরকম একটা খুব মজার নাটিকা ছিল। আর আমরা দেখি যে গৃহস্থরা কীভাবে তাদের বাড়িতে কৃষ্ণ বিগ্রহ রাখছেন, ভোগ নিবেদন করছেন, প্রসাদ খাচ্ছেন এবং হরে কৃষ্ণ নাম জপ করছেন। স্বাভাবিকভাবেই তারা যমদূতদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। আর তাই যমদূতরা অভিযোগ করছিল যে আমরা তাদের স্পর্শ করতে পারি না। আমাদের কী করার আছে? তারা যমরাজের কাছে অভিযোগ করছিল। এইভাবে আমরা চাই যে আমাদের ভক্তরাও একসঙ্গে কৃষ্ণের আরাধনা করুক এবং চিন্ময় হয়ে উঠুক। যাতে যমদূতরা তাঁদের স্পর্শ করতে না পারে। তাই এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা কৃষ্ণকে কেন্দ্রে রাখি। আমরা হরে কৃষ্ণ জপ করি, আমরা কীর্তন শুনি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছেন যে গৃহস্থরাও ভগবানের কাছে ফিরে যেতে পারেন। কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য আমাদের কি বিশুদ্ধ প্রেম থাকতে হবে? শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় একটি শ্লোক আছে যেখানে কৃষ্ণ বলেছেন
জন্ম কর্ম চ মে দিব্যম ইভম য়ো ভেত্তি তত্ত্বতাঃ
ত্যক্তা দেহং পুনর্জন্ম নৈতি মাম ইতি তাই রজুন
( ভৃ. ৪.৯)
সুতরাং, যদি কেউ জানে যে কৃষ্ণ কীভাবে চিন্ময়, তাঁর আবির্ভাব ও কার্যকলাপ দিব্য, এবং তা ভগবানের দিকেই ধাবিত হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই কৃষ্ণের প্রতি এক ধরনের অনুরাগ জন্মায়। আর আমি দেখছি যে এখানে অনেক শিশু আছে, তাই শিশুদের ভালো ভক্ত হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। এই কৃষ্ণভাবনাময় শিশুরা কৃষ্ণভাবনাময়, দীর্ঘজীবী ও সুস্থ সুপাত্র হতে পারে।
Lecture Suggetions
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ