মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্।
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী: দীক্ষার অর্থ আমরা গুরুপরম্পরার সাথে যুক্ত হই এবং আমরা বিশেষ শপথ গ্রহণ করি যা আমরা আমাদের সমগ্র জীবন ধরে অনুসরণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকি এবং যদি আমরা তা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের পুনরায় প্রয়াস করা উচিত! কারণ এর থেকে উচ্চতর কোন প্রায়শ্চিত্ত নেই।
প্রকৃতপক্ষে কৃষ্ণভাবনামৃতের উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষ্ণের প্রতি আমাদের প্রেম জাগরিত করা। যীশুখ্রীষ্টও তার দশ নির্দেশাবলীতে বলেছেন যে আমাদের ভগবানকে ভালোবাসা উচিত, এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি মুক্ত হস্তে কৃষ্ণপ্রেম বিতরণ করেছেন। আর তিনি যেভাবে প্রেম বিতরণ করেছেন তা অভূতপূর্ব। অতএব, আমরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং শ্রীনিত্যনন্দ প্রভুকে অনুসরণ করতে উৎসর্গীকৃত।
দেখুন, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বৃন্দাবনে গমন করেছিলেন। তিনি প্রথম মথুরায় যান, তারপর পর তিনি বৃন্দাবনে যান। পূর্বে, যখন তিনি বৃন্দাবন পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর মহাভাব শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। যখন তিনি মথুরা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর মহাভাব সহস্রগুণ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছিল। এবং যখন তিনি বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর মহাভাব একশত সহস্র গুণ বর্ধিত হয়েছিল। সেই অবস্থা তাঁর সচিবের পক্ষে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। কখনও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যমুনায় ঝাঁপ দিলে, তাঁর সচিব তাঁকে জল থেকে তুলে আনতেন। কিন্তু তিনি ভাবছেন যে, “আমি যদি উপস্থিত না থাকি, তবে তাঁকে কে ওঠাবে?” তাই তিনি চিন্তাগ্রস্থ ছিলেন যে এইরূপে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণের অতীত, তিনি মহাভাবে পূর্ণ, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। অবশ্য শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ আর তাঁর সচিব ভাবছেন তাঁকে রক্ষা করা তার কর্তব্য। মহাপ্রভু বৃন্দাবনের বিভিন্ন বন সকল দর্শন করলে, সেই সচিব শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে বললেন যে তিনি বৃন্দাবনে যথেষ্ট সময় অবস্থান করেছেন। তাই এরপর তিনি তাঁর সচিবের সাথে প্রয়াগে প্রত্যাবর্তন করলেন ও প্রয়াগ থেকে বারাণসী গিয়েছিলেন। আমরা বারাণসীতে তাঁর লীলাবিলাস অধ্যয়ন করি, যেখানে তিনি কৃষ্ণভক্তির প্রতি মায়াবাদী সন্ন্যাসীদেরও প্রত্যয় উৎপন্ন করেছিলেন।
আমাদের আজকের দীক্ষাপ্রদান অনুষ্ঠানটির উদ্দেশ্য হচ্ছে — আপনারা যাতে সকলে কৃষ্ণপ্রেমের বিকাশ ঘটাতে পারেন। এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু দেখিয়েছেন যে কিভাবে অনেক ভক্তই তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করা অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করে। কিন্তু আমাদের এই শপথগুলি পালনে অত্যন্ত যত্নশীল হওয়া উচিত। এবং এটি ততো কঠিন নয়। কিন্তু পালন না করার প্রবণতার ফলস্বরূপ আমরা আসলে কৃষ্ণপ্রেম লাভ করতে পারব না। সুতরাং আমরা চাই সবাই যেন কৃষ্ণপ্রেম লাভ করে। অর্থাৎ এই শপথ পালন করে কৃষ্ণসেবায় নিয়োজিত হলে, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যে আনন্দ প্রদর্শন করেছেন, আপনারা সবাই তা লাভ করতে পারবেন এবং সেটিই মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, তিনি বিশুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেম প্রদর্শন করেছিলেন এবং তাঁর ভক্তগণ তাঁর প্রতি শরণাগত ছিলেন। তাঁর সকল ভক্তবৃন্দ বাংলা থেকে জগন্নাথপুরীতে গিয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞাস করলেন, “মুরারী গুপ্ত কোথায়?” তারপর তারা মুরারী গুপ্তকে খুঁজে পেলেন। তিনি সষ্টাঙ্গে দণ্ডবত প্রণাম নিবেদন করছিলেন। তার ভাব ছিল — “আমি এত পতিত, আমার কোন যোগ্যতা নেই। আমি মনে করি আপনার সম্মুখে উপস্থিত হবার আমার যোগ্যতা নেই” এবং এইভাবে তিনি প্রার্থনা নিবেদন করেছিলেন।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরিদাস ঠাকুরের কথা জিজ্ঞাস করলেন। হরিদাস ঠাকুর, তিনি অহিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ঠিকই তবে তিনিও ক্রন্দন করছিলেন, তিনি এমন একজন শুদ্ধ ভক্ত ছিলেন। বাকিরও সকলে ক্রন্দন করছিলেন। কিন্তু তারা সকলে মহাপ্রভুর সম্মুখে নিজেদের অযোগ্য বলে মনে করছিলেন। সুতরাং আমাদের বিষয়ে আর কি বলার আছে? শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এতো দয়ালু। অতএব, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যে কৃপা বর্ষণ করছেন, আমাদের সেই কৃপা গ্রহণে প্রয়াসী হওয়া উচিত। আমরা হয়তো কখনো এই শুদ্ধ ভক্তদের মতো বিনম্র হতে পারব না, কিন্তু আমরা তাদের দৃষ্টান্তের দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে পারি। যখন এই ভক্তগণ এলেন, গজপতি রাজা জিজ্ঞাসা করলেন, “এনারা কারা?” রামানন্দ রায় বিবৃত করছিলেন, “ইনি হচ্ছেন এই ব্যক্তি, ঐ ব্যক্তি” এবং রাজা বললেন যে, “এনারা এতো দীপ্তিমাণ!” অদ্বৈত আচার্য, তিনি এতো উজ্জ্বল ছিলেন যে রাজা আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলেন, “আমি এই সকল ভক্তদের সেবা করতে চাই!” এটি হচ্ছে আরেকটি গুপ্ত রহস্য। আমাদের ভক্তসেবায় প্রয়াসী হওয়া উচিত। এবং যেভাবে গজপতি মহারাজ, তিনি ভক্তবৃন্দের সেবায় নিয়োজিত হতে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন, আমাদেরও ভক্তগণের সেবায় নিযুক্ত হতে অনুপ্রাণিত হওয়া উচিত।
শ্রীল প্রভুপাদ এখানে নিউ পাণিহাটি ধামে এসেছিলেন এবং তিনি গৌর-নিতাই শ্রীবিগ্রহের আরাধনা করেছিলেন, গৌর-নিতাই এখানে ভক্তদের প্রতি তাঁদের কৃপা বর্ষণ করছেন। এই জড় জগতে অবশ্যই বিভিন্ন প্রকার ইন্দ্রিয়তৃপ্তি আছে এবং অধিকাংশ মানুষের জন্য ইন্দ্রিয়তৃপ্তি করা জীবনের লক্ষ্য। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শিক্ষা প্রদান করেছেন যে প্রকৃতপক্ষে ইন্দ্রিয়তৃপ্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত, আমাদের শ্রীকৃষ্ণের ভক্তিমূলক সেবাতে অধিকরূপে নিমগ্ন হওয়া উচিত।
ডাক্তার আমাকে জিজ্ঞাসা করছেন, আমি কি ভ্রমণ করতে পছন্দ করি? কিভাবে আমি কৃষ্ণভাবণায় অধিক ভ্রমণ করব?” আমি ভাবছিলাম, আমি বর্তমানে ভ্রমণ করি না, আমি ভ্রমণ করতাম, এখন আমি বেশী ভ্রমণ করি না। এবং আমি বিভিন্ন মন্দিরে যেতাম। আমি নব গোকুলে গেছি, তাঁদের নিতাই গৌর, রাধা গোকুলানন্দ, সীতারাম, লক্ষণ, হনুমান আছে, তাদের শ্রীল প্রভুপাদের পুষ্প সমাধিও আছে। এবং সেখানে কিছু ভক্তের রেস্তোরাও আছে কিছু ভক্ত আচার তৈরী করে। তারা সকলে নৃত্য কীর্তন করতে পছন্দ করে। তাদের ব্রাজিলীয় সুর আছে। এক ভক্ত আমার নাম নিয়ে জয়পতাকা স্বামী হু-হু-হু করল তারপর কিছু অন্য নাম বলল এবং হু-হু-হু, আপাতদৃষ্টিতে সেটি ব্রাজিলীয় কোন সুর। হু-হু-হু! অতএব আমি ভাবছিলাম যে আমার ভ্রমণ মানে শুধু বিমানবন্দর, মন্দির এবং কখনও কখনও আমি ভক্তদের রেস্তোরা দেখি। সাও পাওলোতে একজন ভক্তের একটি অত্যন্ত সুন্দর রেস্তোরা আছে। অবশ্যই আরো অনেকের আছে, কিন্তু আমি কখনও পর্যটক স্থানগুলিতে যাইনি। পেরুতে মাচুপিচু আছে, তবে আমি সেখানে কখনো যাইনি। আমি শুধু মন্দিরে যাই, যা পূর্ণ কৃষ্ণভাবনাময়! অবশ্য এই মন্দিরে তাদের সুন্দর কীর্তন ও সুন্দর অনুষ্ঠান আছে।
আমি হরে কৃষ্ণ মন্ত্র জপ করব এবং এটি শুধুমাত্র হরিনাম দীক্ষা গ্রহণকারী ভক্তদের জন্য। কেবল ডান কান খোলা রাখুন এবং পুনরুচ্চারণ করুন।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/ হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে!
Lecture Suggetions
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ