নিন্মোক্ত বার্তাটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ প্রদান করেছেন, ৩ মার্চ, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
জয়পতাকা স্বামী:- আমি কানাডায় ছিলাম এবং আমি মন্ট্রিল মন্দিরের অধ্যক্ষ ছিলাম। আমার একদিন রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখি, আমি দেখলাম যে রাধামাধব শ্রীবিগ্রহ এবং সেই বিগ্রহগণ এখানে আছেন, কৃষ্ণ আমাকে একটি আশীর্বাদ দিয়েছেন যে আমি তাদেরকে শ্রীবিগ্রহরূপে দর্শন করতে পারব। প্রথমে আমরা ঘাসের কুটিরে থাকছিলাম, যেখানে আমরা গতকাল ছিলাম। এবং তারপর আমরা চুনাপাথর ও সুরকি চূর্ণ দিয়ে একটি সিমেন্টের গোডাউন বানিয়েছিলাম, যাতে আমরা তা পরে করতে পারি, এখন সেখানে নেই। সেখানে তা ছিল এই সিমেন্টের গোডাউন, যেখানে তারা লোটাস বিল্ডিং তৈরি করেছে। একবার আমি শ্রীল প্রভুপাদকে পাথরকুচি, ইট এবং স্টিলের ছবি পাঠিয়েছিলাম, তিনি বললেন, “খুব ভালো কিন্তু আমি পুরোপুরি নির্মিত ভবন দেখতে চাই।”
আজকে তমাল কৃষ্ণ গোস্বামীর তিরোভাব তিথি হওয়ায়, সেই সম্পর্কে শুনলাম। তিনি এখানকার বর্তমান জমিটি কিনেছিলেন, পদ্মভবনের জমিটি, এই জমিটি। এবং তিনি মায়াপুরে অনেক সেবা করেছিলেন। তিনি মায়াপুরের জন্য স্টিলের রড নিয়ে এসেছিলেন এবং আমি তার সাথে ছিলাম। রাস্তায় লরির চালক আমাদের বললেন, এটি এক ভালো স্থান, এখানে আমরা এক কাপ গরম দুধ পেতে পারি।” তাই আমরা দুধ পান করছিলাম এবং তখন একজন আসে ও বলে, “কেউ একজন আপনাদের স্টিল চুরি করছে ও তা খাদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।” আমরা যখন সেখানে যাই, তখন নিশ্চিতভাবে দেখি যে তারা স্টিল নিচ্ছে আর খাদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, কারণ সেখানে মাপার কোন স্থান ছিল না। তিনি লরিতে ছিলেন এবং এইভাবে মায়াপুরের জন্য অনেক সেবা করেছিলেন। আমি ভেবেছিলাম এটা উল্লেখ করব, তিনি হয়তো অন্যান্য কিছু করেছেন বৃন্দাবন বা বোম্বের জন্য, কিন্তু তিনি মায়াপুরের জন্যও অনেক কিছু করেছেন।
আপনারা যেমন শুনলেন মূল শ্রী বিগ্রহের কথা, আমাদের শুধু ধানখেত ছিল। আমি দুই ধানখেতের মাঝ দিয়ে যেতাম, আমি নিচের দিকে তাকিয়েছিলাম এবং দেখলাম আমার পায়ের মাঝখানে একটি কোবরা, আমি হাঁটতে থাকি। এইভাবে আমরা এমন এক দেশে বাস করছিলাম। রাতের বেলা কুকুররা চিৎকার করত। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন, “আমি এই কুকুরদের চিৎকারে ঘুমাতে পারছি না, তাই একজন ভক্ত ছিল, যিনি কুকুরদের ভয় দেখাতে গিয়েছিলেন। ততদিনে আমাদের পদ্মভবন হয়ে গিয়েছিল এবং রাধামাধব সেখানে ছিলেন, শ্রীল প্রভুপাদ তাদের পূজা করতেন, পরিক্রমা করতেন এবং একবার আমি শুনলাম যে রাতের বেলা যখন সকলে তাদের মুড়ি আর গুড় নিতে গিয়েছিল, সেই সময় একটি কুকুর এসেছিল ও শ্রীল প্রভুপাদের সামনে সষ্টাঙ্গ প্রণাম নিবেদন করেছিল। এটা বিশ্বাস করা কঠিন, তাই আমি সেই ট্রলির পিছনে লুকিয়ে ছিলাম এবং তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। নিশ্চিতভাবে সেই কুকুর আসে ও সষ্টাঙ্গ প্রণাম নিবেদন করে চলে যায়। শ্রীল প্রভুপাদ বলছিলেন যে বৃন্দাবনের কিছু সাধুরা, তারা যদি বাজে কার্য করে, তাহলে তারা বাঁদর হয়ে পুনরায় ফিরে আসে।” তাই আমি ভাবছিলাম সেই কুকুর কে ছিল?!
আপনারা শ্রীল প্রভুপাদের শ্রী বিগ্রহ পরিক্রমা সম্পর্কে শুনলেন। এইভাবে এক সময় আমি কীর্তন করছিলাম এবং হরে কৃষ্ণ কীর্তনের পর আমি বলছিলাম “বলো”, মানে বলুন। শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে ডেকে বললেন, “মহামন্ত্রে কোন নতুন শব্দ যোগ করবে না।”
আপনারা যেমন শুনলেন শ্রীল প্রভুপাদ পদ্মভবনে থাকছিলেন, এমনকি তা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে সেখানে শৌচালয় পুরো হয়েছিল না। এবং সেখানে শৌচালয়ে একটি পাত্র রাখা থাকত আর আমি ও ব্রহ্মানন্দ সেই পাত্র নেওয়ার জন্য দৌড় লাগাতাম। তিনি বেশিরভাগ জিততেন! যাই হোক, প্রভুপাদ তিনি এখানে বছরে দুবার আসতেন। একবার দামোদর মাসের আগে বা দামোদর মাসের পরে। সাধারণত তিনি দামোদর মাস বৃন্দাবনে কাটাতেন এবং তিনি গৌর পূর্ণিমার সময় এখানে আরেকবার আসতেন। এত সময় ধরে রাধামাধবের শ্রীবিগ্রহই মূল বিগ্রহ ছিল অর্থাৎ এই রাধামাধবের শ্রীবিগ্রহ শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে পূজিত হয়েছিল এবং অনেক বছর ধরে কাগজের তৈরি গৌরাঙ্গ বিগ্রহ তাঁর সাথে ছিল এবং তারপর তিনি আমাকে অষ্টধাতু গৌরাঙ্গ নির্মাণের কথা বলেন। আমার মনে আছে জর্জ হ্যারিসন এসেছিলেন এবং শ্রীবিগ্রহের সামনে প্রণাম নিবেদন করেছিলেন। কিভাবে সকল ভক্তবৃন্দ সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে তারা এয়ার ইন্ডিয়া করে এসেছিলেন, এ ছিল কলকাতায় প্রথম এয়ার ইন্ডিয়া উড়োজাহাজ, জাম্বো জেট এবং সেখান থেকে ভক্তবৃন্দ বেরিয়ে এসে প্রণাম করেছিল, কলকাতায় তাদের মাথা স্পর্শ করেছিল। তারা বলছিল যে, “এটি হলো গৌর মণ্ডল ভূমি!” অতএব আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যশালী।
প্রতিবছর এই শ্রীবিগ্রহগণ, তারা ঝুলন যাত্রা করে এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে যদি আমরা অষ্টধাতু গৌরাঙ্গ রাখতে চাই, তাহলে আমাদের শালিগ্রাম শিলা প্রয়োজন। একসময় সেই ভবন নির্মাণাধীন ছিল আর সেখানে একটি কালো রাজা কোবরা ছিল, সে সেই ইটের গাদা থেকে বেরিয়ে আসে ও সব কর্মীরা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আমি গুলি করার বন্দুক নিয়ে নীচে নেমে আসি, যখন আমি ঘাসের মধ্যে নেমে আসি, প্রায় দেড় ফুট দূরে, আমি দেখতে পারছিলাম না সেই সাপ কোথায় আছে। ভক্তরা যারা ছাদে ছিল আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, “সেই সাপ কোথায় আছে?” “সেখানে! সেখানে! সেখানে! সেখানে!” কিন্তু ছাদ থেকে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে, তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কত ফুট দূরে? কোন দিকে, ২টো? ৪টে?” তারপর তারা বলল, “২০ফুট।”এইভাবে আমি কিছু ধারণা পেয়েছিলাম এবং সেই সাপ তার ফনা উঁচু করে তখন আমি সেই সাপকে গুলি করি এবং সেই কর্মীরা বলছিল যে, “আপনার ছবি সেই সাপের চোখের মধ্যে ধরা পড়েছে, আপনাকে সেই সাপকে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, অন্যথায় সেই সাপের সঙ্গী আপনার ছবি দেখে নেবে এবং আপনাকে খুঁজে বার করবে ও এসে দংশন করবে।”
এবং এমন অনেক কিছু হয়েছিল, শ্রীল প্রভুপাদ শৌচালয়ে ছিলেন, তিনি আমাকে ডাকলেন। তাকে একটি সাপ আক্রমণ করেছিল, সেই সাপটি দরজার মধ্যে ছিল কিন্তু যদি আপনি সেই দরজা খোলেন তাহলে সেই সাপ বেরিয়ে আসবে, আর শ্রীল প্রভুপাদকে দংশন করবে, এ ছিল এক বিষধর সর্প। এভাবে আমরা এমন এক দেশে বসবাস করছিলাম। এ ছিল এক বিশেষ পরিবেশ।
শ্রীল প্রভুপাদের অপ্রকটের পর, কেশরী আমাকে বললে যে তিনি মায়াপুরে যুক্ত হয়েছেন, তিনি বললেন তার জাপানে ড্রেস ডিজাইনার হিসেবে প্রশিক্ষণ আছে। তাই এই কারণে আমরা তাকে কৃষ্ণের পোশাকের নকশা তৈরি করতে নিযুক্ত করেছি। এখন আমাদের আরো পোশাক দরকার, আরো অনেক মহিলারা তারাও পোশাক বানাতে পারে।
আমি অনেক কিছু বলতে পারি, কিন্তু অন্যরা বলার জন্য আছেন। এটি এক মহান সুযোগ আমাদের কাছে আছে যে এই শ্রীবিগ্রহকে আপনি আজকে ঝোলায় ঝোলাতে পারবেন, প্রত্যেক বছর আমরা শ্রী বিগ্রহ গানকে নিয়ে ঝুলন যাত্রা উদযাপন করি এবং তাদের অভিষেক হয়। রাধামাধব মায়াপুর চন্দ্র অত্যন্ত বিশেষ শ্রীবিগ্রহ। এখন আমাদের বড় রাধামাধব অষ্টসখী আছে এবং আমাদের পঞ্চতত্ত্ব আছে। আমি ব্রজ বিলাস প্রভুর থেকে শুনলাম যে আমাদের বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি সম্পন্ন করতে হবে এবং গতকাল তিনি উল্লেখ করছিলেন যে প্রতিবছর ৫০০,০০০ ডলারের অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেলে ভালো হবে। তাই আপনারা যেমন দেখলেন যে আপনারা যদি অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে একটি বিশেষ মেডেল পাবেন। এমনকি আপনি যদি ৫০০,০০০ ডলার বা ৩.৫ লক্ষ টাকা না দিতে পারেন, এটি একটি মেডেলের, তাহলে আপনি যা দিতে পারবেন তাই দিয়ে এই সুযোগ গ্রহণ করুন এবং আমরা রাধামাধব অষ্টসখী, রাধামাধব মায়াপুরচন্দ্র, পঞ্চতত্ত্ব, নরসিংহদেব, প্রহ্লাদ সকল শ্রী বিগ্রহগণকে নতুন মন্দির নিবেদন করতে চাই। এটি প্রায় সমাপ্তের মুখে, কেবল আরো কিছু অনুদান দরকার। অতএব এটি এক অত্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠান, রাধা-মাধব মায়াপুর চন্দ্রের প্রতিষ্ঠার ৫০ তম বার্ষিকী।
এবং প্রথম গৌর পূর্ণিমা মহোৎসব ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল। অবশ্য আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল, কিন্তু আমাদের মহোৎসবটি ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে হয়েছিল। তাই আমরা সকল ভক্তদের প্রতি সকল, নেতাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে আপনারা এখানে এই পবিত্র দিনে এই উৎসবে এসেছেন। ধন্যবাদ!
Lecture Suggetions
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees