Text Size

২০২২০৩০৪ শ্রীশ্রী রাধামাধবের সুবর্ণ জয়ন্তী মহোৎসবে ৩য় দিনে বার্তা

4 Mar 2022|Duration: 00:14:22|Bengali|Festival Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আপনারা শিবরাম মহারাজ, লোকনাথ মহারাজ, দেবামৃত মহারাজ এবং শচীনন্দন স্বামী ও অন্যান্যদের থেকে শুনেছেন। আপনারা বুঝলেন যে কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের থেকে আদেশ পেয়েছিলেন। অবশ্য আমি তখন উপস্থিত ছিলাম না, কিন্তু আমি মায়াপুরে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে ছিলাম এবং আমি দেখেছিলাম প্রভুপাদ তিনি বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দির নির্মাণের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ভক্তদের তাদের টিওভিপি মন্দিরের জন্য নকশা দিতে বলেছিলেন এবং সুরভী মহারাজ ও অন্যান্যরা তাদের পরিকল্পনা বলেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি পৃথিবীর যেখানে যেতেন, তিনি স্থাপত্যশিল্পী দেখতেন এবং বলতেন যে তিনি কি চান। সম্ভবত, তিনি আমেরিকার কোন নির্দিষ্ট এক স্থাপত্যশিল্পীকে প্রশংসনীয় কিছু বলেছিলেন, তাই শ্রীপাদ অম্বরিশ প্রভু তা গ্রহণ করেন এবং তার নকশা অনুসারে বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি নির্মাণ করছেন। 

এবং শ্রীমন নিত্যানন্দ প্রভু, শ্রীবাস ঠাকুর ও জীব গোস্বামীর সাথে কথা বলছিলেন। তাঁর এক দূরদৃষ্টি ছিল যে সেখানে এক মন্দির হবে। তিনি বলেছিলেন,

“এক অদ্ভুত মন্দির হইবে প্রকাশ।
গৌরাঙ্গ-নিত্য-সেবা হইবে বিকাশ॥”

এর মানে হল এখানে এমন এক মন্দির নির্মিত হবে যা অদ্ভুত, অপরূপ, অসাধারণ এবং সেই মন্দির থেকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী সমগ্র বিশ্বে বিস্তারিত হবে। তারা সেখানে পঞ্চতত্ত্ব এবং রাধামাধব অষ্টসখীর ছোট মূর্তি এবং গুরুপরম্পরা রেখেছে, যাতে আমরা বৈদিক তারামণ্ডলীর মত অনুভব করি। আমি কেবল বলতে চাই, কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদ সেই সময়, প্রায় শুরু থেকে তিনি এই বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরের বিষয়ে বলেছিলেন। এবং আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে অম্বরিশ প্রভু ও ব্রজবিলাস প্রভু এটি শুরু করেছেন। তাই আমরা এখন তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই! কিন্তু তারা গোল্ড মেডেল নিতে চান না, তারা এই মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করতে চান। এটাই তাদের জন্য গোল্ড মেডেল। 

তাই আমরা ভাবতে পারি, লোকনাথ মহারাজ যেমন বললেন, আমরা কিভাবে একসাথে কাজ করব আর এই বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি সম্পন্ন করব। এর পশ্চিম দিকে বৈদিক সৃষ্টি তত্ত্বের প্রদর্শনী হবে, এর মূলভাবনাটি হলো যে এই মন্দিরটি মন্দিরের থেকেও বেশি কিছু, আসলে এটি হল বৈদিক তারামণ্ডলী মিউজিয়াম এবং আমরা দেখতে চাই যে মানুষেরা তা দর্শন করে আসলে পরিবর্তিত হবে। এবং আমি বলতে চাইছি, লোকনাথ মহারাজ ৫০০০০ দর্শকের কথা বলেছেন, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, এখানে ৫০০০০ স্থানীয় ভক্ত বসবাস করবে এবং এখন আমাদের ৭৫০০ ভক্ত আছে। ব্রজবিলাস যেমন বলেছেন যে প্রতি বছর আমাদের ৬ মিলিয়ন দর্শক আসে এবং তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেছেন যে যখন এই মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন হবে তখন তা গুন হয়ে ৬০ মিলিয়ন হবে।  

আপনারা বিভিন্ন মহারাজ, বিভিন্ন ভক্তদের থেকে শুনলেন যে আমাদের কিভাবে একসাথে কার্য করা উচিত, কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদ এই অসম্ভব কার্য করেছিলেন — তিনি সমগ্র বিশ্বে গিয়েছিলেন, কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচার করেছিলেন। বৃন্দাবনে অন্যান্য বাবাজি ও সাধুরা বলছিলেন যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তিনি যখন বলেছিলেন “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম/ সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম” তখন তিনি ভারতের মতো সভ্য বিশ্বের কথা বলেছেন, নেপাল, আমি জানিনা। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “না পৃথিবী মানে সমগ্র বিশ্ব — রাশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া সর্বত্র” আর শ্রীল প্রভুপাদ সেই কার্য সম্পন্ন করেছেন, প্রথম তিনি কেবল পাশ্চাত্যে প্রচার করেছিলেন কিন্তু তিনি বৃন্দাবন এবং মায়াপুরে ভক্তদের পরিদর্শনের জন্য মন্দির নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। আর লস এঞ্জেলের শ্রীবিগ্রহ তার সাথে কথা বলেন, ওঁনারা তাকে বললেন তার ভারতেও প্রচার করা উচিত। এখন আমাদের সমগ্র বিশ্বে গ্রন্থ বিতরণ ও বিভিন্ন প্রকল্প চলছে। আমরা দেবামৃত স্বামীর থেকে শুনলাম যে এটি হয়তো অযৌক্তিক বা অসম্ভব কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “অসম্ভব হলো মূর্খের শব্দকোষের শব্দ।” আমরা দেখতে পারছি যে কিভাবে এই মন্দির সুসম্পন্ন হচ্ছে। আপনাদের সকলের সহযোগিতার জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ! আপনারা যা করতে পারেন তাই করুন এবং স্মরণ করুন যে শ্রীল প্রভুপাদ এই ইচ্ছা করেছিলেন।

হরে কৃষ্ণ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/5/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions