Text Size

২০২২০৩০২ শ্রীশ্রী রাধামাধবের সুবর্ণ জয়ন্তী মহোৎসব উপলক্ষে বার্তা

2 Mar 2022|Duration: 00:21:31|Bengali|Public Address|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
 যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
 পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
 হরি ওঁ তৎ সৎ

জয়পতাকা স্বামী:- আমি শ্রী শ্রীমৎ লোকনাথ স্বামী, বাসু ঘোষ প্রভু, হৃদয় চৈতন্য প্রভু এবং এখানে সমবেত সকল সন্ন্যাসীদের, আমার গুরুভ্রাতাদের এবং সকল ভক্তদের আমার বিনম্র প্রণতি নিবেদন করতে চাই। 

আমার মনে পড়ে যখন শ্রীল প্রভুপাদ আমাকে মায়াপুরে পাঠিয়েছিলেন, তখন সেখানে শুধু ঘাসের কুটির ছিল এবং পিছনে রান্না করার জন্য একটি তাবু ছিল। শ্রীবিগ্রহগণ জননিবাস প্রভুর সাথে ছিলেন এবং ওঁনারা কিছু পরে এসেছিলেন। সেই সময় আমাদের ৬-৭ জন ভক্তদের ভরণপোষণের জন্য কোনোভাবে প্রতি সপ্তাহে ৩৫ টাকা খরচা করা যেত। তাই আমি কিছু শাকসবজি এবং এমন কিছু উৎপাদনের জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম। তমাল কৃষ্ণ মহারাজ, তিনি বললেন, “সে একটি শহরের ছেলে, সে কি করতে পারবে?” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, “ঠিক আছে তাকে চেষ্টা করতে দাও!” এবং একটি ছোট জমিতে, যেমন এক কাটাতে আমি উৎপাদন করেছিলাম এবং ভক্তরা, আপনারা অবাক হয়ে যাবেন যে সেই এক কাটায় কত সবজি উৎপাদন হয়েছিল। কুইন্টাল, টন টন। তাই আমাদের ভক্তরা বলতেন, “আর মুলো নয়। দয়া করুন আর মুলো নয়।” মুলো বিভিন্নভাবে রান্না করার খুব বেশি কিছু উপায় ছিল না। 

যাইহোক আমি আমার মনে পড়ে, শ্রীল প্রভুপাদ এখানে এসেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, “এই কুটিরগুলো হল সত্ত্বগুণের এবং সেই অতিথি আলয় ও অন্যান্য যেগুলি ইট, সিমেন্ট, স্টিল দিয়ে তৈরি সেগুলি হল রজগুণের। কিন্তু ঘাসের কুটিরের মধ্যে কে থাকবে? তাই আমাদেরকে অতিথিশালা এবং উদ্যান বানাতে হবে যাতে মানুষেরা এখানে থাকে।” এবং মায়াপুরে সেই সময় আমাদের শুধু বাঁশের গেট ছিল আর লোকেরা তাদের বাইসাইকেলে করে সকালে জুট মিলে কাজ করতে যেত। সেই রাস্তার ধারে আমরা একদিন একটি বাঘ দেখতে পেয়েছিলাম এবং সেই সময় এই স্থানটি ছিল অত্যন্ত দূরস্থিত অঞ্চল কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ পরিকল্পনা করেছিলেন যে তিনি এখানে একটি নগর তৈরি করতে চান। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “মায়াপুরে আমরা একটি নগর তৈরি করতে চাই, যেখানে আমাদের ৫০,০০০ ভক্ত থাকবে।” এবং আমাদের পুরো কল্পনা ছিল। 

এবং যখন তমাল কৃষ্ণ সেই জমি কিনতে এসেছিলেন, তখন আমি কলকাতার মন্দির অধ্যক্ষ ছিলাম।  যখন তিনি এবং শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীধর মহারাজকে দেখতে গিয়েছিলেন, তখন আমার রাধাগোপীনাথ শ্রী বিগ্রহের অর্চনা করার সুযোগ হয়েছিল। যাইহোক, আমার মনে পড়ে যখন তমাল কৃষ্ণ ফিরে এসেছিলেন, তিনি বললেন এই জমির লেনদেনের কার্য যে সুসম্পন্ন হয়েছে তা নিশ্চিত করতে। তার কাছে প্রতি পয়সা ক্রমিক নম্বর অনুসারে লেখা ছিল। সাধারণত এটি করা হয় না কিন্তু তিনি করেছিলেন। সেই সময় কৃষকেরা লরিতে করে লাঠি নিয়ে বের হয়েছিল। যদিও তা ছিল কেবল ১৪০০০ টাকা কিন্তু সেই সময় তা ছিল প্রচুর অর্থ। ভূমি খনন হিসেবে যা বর্ণনা করা হয়েছে, সেটি আসলে শ্রীল প্রভুপাদ অনন্ত শেষ স্থাপন করেছিলেন এবং তারা গভীরে ভূমি খনন করেছিলেন ও একটা মই দিয়ে সেই ভূমির নিচে নেমেছিলেন। সেখানে অন্যান্য গৌড়ীয় মঠের সন্ন্যাসীরা তার সঙ্গে ছিলেন, অনেক মহারাজ ও ব্রহ্মচারীরা তারা এসেছিলেন, আমরা শ্রী শ্রীমৎ লোকনাথ মহারাজের থেকে এর সুন্দর বর্ণনা শুনলাম। 

শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্য একটি মন্দির নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, বৈদিক তারামণ্ডলী এবং তিনি বিভিন্ন নকশা দেখছিলেন ও এটি তাঁর ইচ্ছা ছিল যে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্য যাতে বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়।

একদিন আমাদের শ্রীধর স্বামী তিনি উচ্চ প্রযুক্তির পুরী বেলার যন্ত্র নিয়ে আসেন। আমাদের জন্য তা উচ্চ প্রযুক্তির ছিল। দুটি ছোট প্লাস্টিকের চ্যাপ্টা অংশ ছিল, তিনি তাতে কিছু আটার দলা দিয়ে দিচ্ছিলেন এবং নিচের দিকে চেপে দিচ্ছিলেন ও ঘি লাগিয়ে দিচ্ছিলেন, আর সেটি বেলা হয়ে যাচ্ছিল ও ঘিতে ভাজা হয়ে যাচ্ছিল। আমরা এর স্বাদ নিছিলাম এবং আমরা এর সাথে কিছু খেজুরের গুড় নিয়ে ছিলাম। সেই পুরীর সাথে খেজুর গুড় দিয়ে খাচ্ছিলাম এবং শ্রীল প্রভুপাদ ঘাসের কুটিরের জানলা দিয়ে এই সবকিছু দেখছিলেন এবং আমাকে ডাকলেন, বললেন, “এটা সন্ন্যাস জীবন নয়!তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দিচ্ছিলেন, যেমন শুভক্ষণ বলেছেন তপস্যা! কোন ইন্দ্রিয় তৃপ্তি নয়! এমনকি খেজুর গুড় দিয়ে পুরী খাওয়াও নয়। এইভাবে আমরা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছিলাম, আমরা শাকসবজি, ধান উৎপাদন করেছিলাম। 

আমাদের কিছু গাভী ছিল এবং আমাদের কাছে মৌচাক ছিল। একটা মৌচাক ছিল শ্রীল প্রভুপাদের পাশে এবং আমাদের একটি কমদুখ গাভী ছিল, যে বাছুর ছাড়াই দুধ দিত। এ অত্যন্ত বিরল। সে সেই মৌচাকের তলায় ঘাস খেত। একসময় সে সেই মৌচাকে ধাক্কা খেয়েছিল এবং শ্রীল প্রভুপাদ ডাকছিলেন, “জয়পতাকা! জয়পতাকা!” তার ওপর পুরো মৌমাছি ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি আমার মৌমাছি থেকে রক্ষার জুতো পড়ে নেই এবং কাপড় গায়ে দিয়ে তাদেরকে তাড়ানোর জন্য যাই। তারপর শ্রীল প্রভুপাদ বললেন, “মৌমাছিদের অন্য কোন স্থানে রাখা ভালো।” 

এইভাবে বিভিন্ন ঘটনা হয়েছিল। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে এটি হলো তাঁর পূজার স্থান, বৃন্দাবন হল তাঁর বাসস্থান এবং বোম্বে হল তাঁর কর্মস্থান। সেখানে একটি পুকুর ছিল এবং একসময় তিনি বলেছিলেন যে এই পুকুরের পাড়ে তার জন্য যাতে একটি ভজন কুটির, এক বাসস্থান বানানো হয়। কিন্তু তিনি তার কিছু আগেই অপ্রকট হয়েছিলেন, এই কারণে আমরা তাঁর সমাধি এখানে নির্মাণ করেছি। 

আমি আপনাদের আরো কিছু বলতে পারি যে কিভাবে বব চহেন, ব্রহ্ম তীর্থ প্রভু তিনি শ্রীল প্রভুপাদকে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ, তাঁর এক দূরদৃষ্টি ছিল। প্রথমে, তিনি ভেবেছিলেন, তিনি একটি পদ্ম ভবন নির্মাণ করবেন, তারপর তিনি সেই সময় কংগ্রেস সরকারের কাছে গিয়েছিলেন ৪০০ একর জমি পাওয়ার জন্য। কিন্তু তা হওয়ার আগে কমিউনিস্ট সরকার গঠন করা হয়েছিল এবং সাম্প্রতিক তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠিত হয়েছে ও মমতা ব্যানার্জি এবং তার ক্যাবিনেট আমাদের ৭৫০ একর জমি মঞ্জুর করেছেন।

হৃদয় চৈতন্য সেই প্রধান পরিকল্পনায় সেবা করছেন, শ্রীল প্রভুপাদ একটি মহাপরিকল্পনা করতে চেয়েছিলেন এবং যেমন আমি বললাম তিনি এখানে একটি পারমার্থিক শহর তৈরি করতে চেয়েছিলেন, ৫০ বছর আগে আমাদের ৬-৭ জন ভক্ত ছিল, এখন প্রায় ৬-৭ হাজার ভক্ত আছে। এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদের দূরদৃষ্টি ছিল যে আমাদের এখানে ৫০০০০ ভক্তবৃন্দ থাকা উচিত। আমরা এখানে থাকা সকল ভক্তদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যারা বৈদিক তারামণ্ডলী মন্দির নির্মাণে সাহায্য করছেন এবং এই শহর তৈরি করতে সাহায্য করছেন। এবং আমরা পারমার্থিক শহর নির্মাণের মাধ্যমে, শ্রীল প্রভুপাদ ও পূর্বতন আচার্যবর্গের সেই পরিকল্পনা পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করছি।

আমি আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চাই! হরে কৃষ্ণ! 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী 9/5/2023
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions