নিন্মোক্ত বার্তাটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী মহারাজ প্রদান করেছেন, ৮ জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুর, ভারত। প্রবচনটি শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৫১ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে।
মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়
শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৫১
ধৃতরাষ্ট্রঃ সহ ভ্রাত্রা গান্ধার্যা চ স্বভার্যয়া।
দক্ষিণেন হিমবত ঋষিণামাশ্রমং গতঃ॥
অনুবাদ: হে রাজন্, আপনার পিতৃব্য ধৃতরাষ্ট্, তাঁর ভ্রাতা বিদুর এবং তাঁর পত্নী গান্ধারী সহ হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে গিয়েছেন, যেখানে ঋষিদের আশ্রম আছে।
তাৎপর্য: শোকগ্রস্ত মহারাজ যুধিষ্ঠিরকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য নারদ মুনি প্রথমে দার্শনিক তত্ব বিশ্লেষণ করেন, এবং তারপর তিনি তাঁর পিতৃব্য ধৃতরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গতিবিধি বর্ণনা করতে শুরু করেন, যা তিনি তাঁর দিব্য দৃষ্টিতে দর্শন করতে পেরেছিলেন এবং সেই অনুসারে তিনি নিন্মোক্তভাবে বর্ণনা করতে শুরু করেন।
শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৫২
স্রোতোভিঃ সপ্তভির্যা বৈ স্বর্ধুনী সপ্তধা ব্যধাৎ।
সপ্তানাং প্রীতয়ে নানা সপ্তস্রোতঃ প্রচক্ষতে॥
অনুবাদ : সেই স্থানে পবিত্র গঙ্গানদী সপ্তখঝষির প্রীতি সম্পাদনের জন্য নিজেকে সপ্তধারায় বিভক্ত করেছেন, সেই জন্য এই স্থানকে লোকে সপ্তস্রোত তীর্থ বলে।
শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৫৩
স্নাত্বানুসবনং তস্মিন্ হুত্বা চাগ্নিন্ যথাবিধি।
অব্ভক্ষ উপশান্তাত্মা স আস্তে বিগতৈষণঃ॥
অনুবাদ : সেই সপ্তস্রোতা নদীর তীরে, ধৃতরাষ্ট প্রতিদিন সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যায় স্নান করে, অগ্নিহোত্র যজ্ঞ সম্পাদনপূর্বক কেবলমাত্র জলপান করে অষ্টাঙ্গ-যোগ অনুশীলন শুরু করেছেন। এই অনুশীলন মন এবং ইন্দ্রিয় সংযমে সহায়ক এবং মানুষকে পুত্র-কলত্রের আসক্তি থেকে সম্পূর্ণ রূপে মুক্ত করে।
তাৎপর্য : মন এবং ইন্দ্রিয়-সমূহকে বিষয়াসক্তি থেকে মুক্ত করে অধ্যাত্ব চেতনায় নিযুক্ত করার মাধ্যমে সংযত করার গতানুগতিক পন্থা হল যোগ প্রক্রিয়া। যোগের প্রাথমিক প্রক্রিয়াগুলি হচ্ছে আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধ্যান, ধারণা এবং অবশেষে পরমাত্মা উপলব্ধির মাধ্যমে সমাধি। এইভাবে গতানুগতিক পন্থায় আধ্যাত্মিক স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রতিদিন ত্রিসন্ধ্যায় স্নান, যতদূর সম্ভব উপবাস করা, আসনে উপবিষ্ট হয়ে মনকে অধ্যাত্ম চিন্তায় একাগ্র করা এবং সেই ভাবে ধীরে ধীরে জড় বিষয় থেকে মুক্ত হওয়া ইত্যাদি বিধি অনুশীলন করার ব্যবস্থা রয়েছে। জড় অস্তিত্ব মানে মায়িক জড় বিষয়ে মগ্ন হওয়া। ঘরবাড়ি, দেশভূমি, পরিবার-পরিজন, সমাজ-সম্প্রদায়, সন্তান-সন্ততি, বিষয়-সম্পত্তি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য হল আত্মার কয়েকটি আবরণ, এবং যোগ প্রক্রিয়া এই সমস্ত মায়িক চিন্তা থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে এবং ধীরে ধীরে পরমাত্মার প্রতি আত্মাকে উন্মুখ করে। জড় বিষয়ের সান্নিধ্য এবং শিক্ষার প্রভাবে আমরা কেবল অনিত্য বিষয়ে মনোনিবেশ করার শিক্ষা লাভ করি, কিন্তু যোগ হচ্ছে সেই সমস্ত বিষয় বিস্মৃত হওয়ার পন্থা। আধুনিক যুগের তথাকথিত যোগী এবং যোগ পদ্ধতি কেবল কতকগুলি যাদু কৌশল প্রদর্শন করে; এবং মূর্খ মানুষেরা তাদের সেই কপটতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, অথবা তারা স্থুল জাগতিক শরীরটাকে রোগমুক্ত করবার সস্তা পন্থা বলে যোগ পদ্ধতিকে মনে করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যোগ পদ্ধতি হচ্ছে জীবন সংগ্রামে আহরিত হয়েছে যে সমস্ত বিষয়-বাসনা, সেগুলি থেকে মুক্ত হওয়ার পন্থা। ধৃতরাষ্ট্র বরাবর পাণ্ডবদের প্রতারণা করে তাঁর নিজের পুত্রদের রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত করার চিন্তায় মগ্ন ছিলেন। আধ্যাত্মিক জ্ঞানরহিত বিষয়াসক্ত মানুষ এইভাবেই সচরাচর আচরণ করে থাকে। সে বুঝতে পারে না কিভাবে এই ধরনের মনোবৃত্তি তাকে স্বর্গ থেকে নরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। ধৃতরাষ্ট্র তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিদুরের কৃপায় দিব্য জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং তাঁর স্থূল মায়ার বন্ধন সম্বন্ধে অবগত হয়েছিলেন, এবং এইভাবে দিব্য জ্ঞান লাভ করার ফলেই তিনি পরমার্থ সাধনের উদ্দেশ্যে গৃহত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আকাশ গঙ্গার ধারায় পবিত্র স্থানে তাঁর পারমার্থিক প্রগতির কথা নারদ মুনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। কোন কিছু আহার না করে কেবল জলপান করে থাকলে তাকেও উপবাস বলে বিবেচনা করা হয়। পারমার্থিক প্রগতির পথে এই ধরনের উপবাস অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। মূর্খ মানুষ কোন রকম বিধি-নিয়মাদি অনুশীলন না করেই যোগী হতে চায়। যে মানুষ তার জিহ্বাকে দমন করতে পারে না, সে কখনই যোগী হতে পারে না। যোগী এবং ভোগী সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থবোধক শব্দ। আহার ও পানাসক্ত ভোগীরা কখনই যোগী হতে পারে না, কারণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে আহার এবং পান করা যোগীদের পক্ষে অনুচিত। আমরা এখানে দেখতে পাই ধৃতরাষ্ট্র কিভাবে কেবলমাত্র জল গ্রহণ করে, এবং সমাহিত চিত্তে এক পবিত্র পারমার্থিক পরিবেশে উপবেশন করে যোগ অনুশীলন শুরু করেছিলেন, এবং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীহরির চিন্তায় গভীরভাবে মগ্ন হয়েছিলেন।
***
জয়পতাকা স্বামী:- সুধীবৃন্দ এখন ধৃতরাষ্ট্র, গান্ধারী, বিদুর চলে গেলেন, তাতে খুব চিন্তিত ছিলেন যুধিষ্ঠির মহারাজ। প্রথমে তিনি তত্ত্বগত কারণ প্রদান করছিলেন, এখন তিনি ব্যবহারিক তথ্য প্রদান করছেন, কারণ তিনি হচ্ছেন ত্রিকাল জ্ঞানী, প্রথমে তিনি বললেন কেন যুধিষ্ঠির মহারাজের চিন্তিত হওয়া উচিত নয়, কারণ সবকিছু কৃষ্ণের দ্বারা পরিচালিত। এখন তিনি ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করছেন যে তার কাকা এবং কাকিমা চলে গেছেন এবং উনি এটা জানতে পেরেছেন যে ধৃতরাষ্ট্র অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলন করছেন হিমালয়ের দক্ষিণ দিকে। ওখানে সপ্তস্রোত তীর্থ ছিল, গঙ্গা সাতটা বিভাগে বিভাজিত হয়েছিলেন সপ্ত ঋষির জন্য, এটিও আকর্ষণপূর্ণ যে ৭ জন ঋষি তাদের নিজেদের নির্দিষ্ট গঙ্গা চেয়েছিলেন। এটি প্রদর্শন করে যে, এমনকি যদিও একজন সপ্ত ঋষির মত দিব্য হতে পারে কিন্তু তাদের নিজেদের পৃথক গঙ্গা রয়েছে। তাই শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে, “আধ্যাত্মিক জগতে বৈচিত্র আছে, কিন্তু যেহেতু প্রত্যেকে কৃষ্ণকে ভালোবাসেন, তাই কোন বিভেদ নেই। কিন্তু জড়জগতে বৈচিত্র আছে তবে তা নিয়ে মতবিরোধ এবং বাকবিবাদও আছে।” তাই নারদ মুনি ব্যাখ্যা করছিলেন যে কিভাবে ধৃতরাষ্ট্র অষ্টাঙ্গ যোগে নিযুক্ত ছিলেন। যাই হোক সাধারনত আমরা ভক্তিযোগ অনুশীলনের কথা বলি কিন্তু ধৃতরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অষ্টাঙ্গযোগ ছিল শ্রেষ্ঠ বিকল্প, কারণ ধৃতরাষ্ট্র সারা জীবন এই পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে তার ছেলেদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিযোগের জন্য তিনি উপযুক্ত ছিলেন না। তাই অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলনের মাধ্যমে তাকে পরমাত্মার উপর মনোযোগী হতে হয়েছিল, সেটা হচ্ছে কৃষ্ণের একটা প্রকাশ, সেটা উনি হয়তো জানে না।
এখানে শ্রীল প্রভুপাদ কর্তৃক যোগ পদ্ধতির মহিমা বর্ণিত হয়েছে। আমার মনে পড়ে যে যখন শ্রীল প্রভুপাদ প্রথম বিদেশী ভক্তবৃন্দদের নিয়ে ভারতে এসেছিলেন, সেই সময় কিছু রাজনীতিবিদ বলছিলেন যে পাশ্চাত্যের ভক্তরা হল সিআইএস। একসময়, শ্রীল প্রভুপাদ ইন্দিরা গান্ধীকে দেখেছিলেন, তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি কিভাবে জানেন যে আপনার অনুগামীরা সিআইএ নয়?” উনি বলছেন যে, “সিআইএ পাঁচ তারা হোটেলে থাকে, মদ খায়, মাংস খায়। আমার যে সমস্ত শিষ্য তারা সব নিরামিষ খায়, চারটে ওঠে, মন্দিরে থাকে।” তখন ইন্দিরা গান্ধী বললেন, “ঠিক আছে! আমি আপনার অনুগামীদের বিশেষ ভিসা প্রদান করব।” এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদকে অনেক সময় এই সমস্ত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা দেখি যে কিভাবে ধৃতরাষ্ট্র তার পরিবারের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন, কিন্তু তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিদুর কর্তৃক তাকে গভীরভাবে প্রচার করা হয়েছিল, এবং তিনি আধ্যাত্মিক পথ গ্রহণ করেছিলেন, তিনি গঙ্গার ধারে থাকছিলেন, তিনবার স্নান করছিলেন, কেবল জল পান করে থাকছিলেন। এই যোগ পথ ভোগ পথের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভোগের পন্থা হচ্ছে ভোগ করা, যোগ হচ্ছে ইন্দ্রিয় সংযম করা। ভক্তিযোগের পথে আমরা আমাদের চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করি এবং কৃষ্ণের ইন্দ্রিয় তৃপ্তি করার চেষ্টা করি। কিন্তু ভোগ পথে, যা বেশিরভাগ মানুষেরা করে থাকে, তারা কেবল তাদের নিজেদের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির কথা ভাবে। তাই বন্ধু কে যে আপনার ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে সাহায্য করে? নাকি আপনার শত্রু হলো এমন একজন যে আপনাকে তাতে বাধা দেয়? যেমন প্রহ্লাদ মহারাজ তিনি তার পিতার শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন। কারণ হিরণ্যকশিপু ভেবেছিলেন সে আমার ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে বাধা প্রদান করছে, এই কারণে তিনি তার সন্তানের প্রতি অত্যন্ত অত্যন্ত অত্যাচারী হয়ে উঠেছিলেন, যে কেবল পাঁচ বছর বয়সী ছিল। এবং এমনকি তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। ভগবান নরসিংহদেব প্রহ্লাদ মহারাজকে রক্ষা করেছিলেন, সেই জন্য ভগবানের আরেকটা নাম হচ্ছে পতিতপাবন বা ভক্তবৎসল, তাঁর ভক্তের বন্ধু, তাঁর ভক্তের রক্ষক। তাই ভক্তদের সবসময় ভগবানের কৃপার উপর নির্ভরশীল হতে হবে। কোন না কোনভাবে, এই জড় জগতে, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন, “আমরা মায়ার সাথে যুদ্ধে আছি!” মায়া আমাদেরকে দিয়ে ইন্দ্রিয়ের সেবা করাতে চায়, কিন্তু আমরা কৃষ্ণের সেবা করতে চাই। মায়া অত্যন্ত শক্তিশালী কিন্তু আমরা যদি কৃষ্ণের প্রতি শরণাগত থাকি, তাহলে তাঁর সহায়তায় আমরা মায়াকে অতিক্রম করতে পারব। আমাদের ভক্তদের মায়ার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অত্যন্ত স্থির হতে হবে, যাতে আমরা যেখানেই শক্তিশালী, আমরা সেখানে থেকেই যেন মায়ার সাথে যুদ্ধ করতে পারি। কিছু ব্যক্তিরা বৈরাগী হিসেবে শক্তিশালী, কিছু ব্যক্তিরা গৃহস্ত হিসেবে শক্তিশালী, কিন্তু আমরা যে যেই আশ্রমে থাকি না কেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। হয় আমরা একসাথে একটি দল হিসেবে কাজ করব, স্বামী-স্ত্রী, অথবা আমরা স্বতন্ত্র হিসেবে সেই কার্য করব, কিন্তু এমনকি একা বৈরাগী হয়েও আমরা ভক্তদের সাথে সঙ্গ করতে পারি। অন্যান্য ভক্তদের সঙ্গে থাকলে আমাদের অত্যন্ত যত্নশীল এবং সেইসব কর্মীদের প্রতি প্রেমপূর্ণ হতে হবে। আমাদের অত্যন্ত সতর্ক হওয়া উচিত যে আমরা কিভাবে কথা বলি, কিভাবে আচরণ করি, কেননা এই ভৌতিক জগতে এমনি কাউকে বিশ্বাস করা যায় না, কিন্তু ভক্তি জগতে এমন ব্যবহার করা উচিত যাতে সবাই সম্পর্কিত অনুভব করে। এখন বিশেষত করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে আমাদের এক কঠিন সময় চলছে, এখন ভারতে তৃতীয় ঢেউ চলছে, এটা দু সপ্তাহ আগে ৫০০০ ছিল, কিন্তু কালকে ১,১৭,০০০ ছিল। তাই এটি প্রায় ২২ গুন বেড়েছে। এটি খুবই ভয়ংকর! আমাদের অনেক বরিষ্ঠ ভক্তরা এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, তাই আমাদের তাদের যত্ন নেওয়া দরকার, তাদের জন্য প্রার্থনা করা দরকার। অবশ্যই আমরা কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করব যে “যদি আপনি তা চান” এইভাবে। আমরা অন্যদের কষ্টের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হতে চেষ্টা করছি। কেউ হালকা মনে হচ্ছে, কেউ গুরুতর অসুস্থ হচ্ছে। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তিনি এই জড়জগতে এসেছেন প্রত্যেককে আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য। নিজে করলেন কত আনন্দ হয় কৃষ্ণ প্রেম করা, আমরা কৃষ্ণকে ভালোবাসা মধ্যে থেকে কত বিপুল আনন্দ হয়। যখন এই শরীর তরুণ অবস্থায় থাকে, তখন আমরা হয়তো এত সমস্যা অনুভব করি না। আমি শ্রীল প্রভুপাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আমার কি দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার আশা করা উচিত?” তিনি বলেছিলেন, “কেন? বার্ধক্যে আরও সমস্যা হয়!” তাই আমরা দেখি যে জড় জগতে কিছু কিছু জিনিস আছে যেগুলি নিশ্চিত — মৃত্যু, রোগ এবং বৃদ্ধতা। যাদের মৃত্যু হয়, ওদের পুনর্জন্ম হবে। কেউ একজন প্রশ্ন করেছিলেন, “কেউ কি তার কর্ম অন্য দেহে নিয়ে যেতে পারে?” শ্রীল প্রভুপাদ প্রত্যুত্তরে বলেছিলেন, “যেহেতু আমাদের দুটি শরীর আছে, আমাদের স্থূল শরীর আছে যা মারা যায়, সুক্ষ শরীর যা আমাদের আত্মার সাথে যায়, আমাদের কামনা, আমাদের কর্ম সেই সূক্ষ্ম শরীরের সাথে থাকে।” তাই কেউ যদি মৃত্যুর সময় তার স্ত্রীয়ের কথা মনে করে, তাহলে পরবর্তীতে তিনি হয়তো নারী হবেন। যদি স্ত্রী তার স্বামীর কথা চিন্তা করে, তাহলে সে পরবর্তীতে পুরুষ হয়। কিন্তু যদি স্বামী এবং স্ত্রী মৃত্যুর সময় কৃষ্ণের কথা চিন্তা করে, তাহলে তারা গোলোকে যায়। তাই আমাদের একে অপরকে সর্বদা কৃষ্ণকে স্মরণ করতে এবং তাকে কখনো ভুলে না যেতে সাহায্য করতে হবে। এইভাবে বিদুর তার ভ্রাতাকে আধ্যাত্মিক চেতনাময় করে তোলার জন্য সাহায্য করতে সত্যিই দয়াশীল ছিলেন। সাধারন আমরা মনে করি যে এই জীবনের জিনিসপত্র খুব মূল্যবান, কিন্তু যেহেতু এই সমস্ত বিষয়গুলি সাময়িক, তাই আমাদের এমন চিন্তা করা উচিত নয়। যেহেতু সেগুলি সাময়িক, সেই কারণে আমাদের সেগুলিকে নিত্য বলে মনে করা উচিত নয়। আমি সকলকে আজকে উপস্থিত থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই। এবং আমি আশা করি যে সকলে সতর্ক থাকবেন যাতে আপনারা এই ঢেউয়ের দ্বারা প্রভাবিত না হন। আমি প্রার্থনা করি যে আপনারা সর্বদা কৃষ্ণের কথা স্মরণ করুন এবং তাকে কখনো ভুলেন না।
আমাদের জেপিএস কেয়ার অফিস সেট করতে হবে এবং অন্যান্য সকল শিষ্যদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কেবল কিছু শতাংশ শিষ্যদের তাদের সঠিক টেলিফোন নাম্বার, হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার, ইমেইল ইত্যাদি আছে। তাই যারা আমার শীষ্য, যারা আকাঙ্ক্ষী বা আশ্রিত বা দীক্ষিত যদি তারা আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে চায়, তাহলে তারা জেপিএস কেয়ারের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। আমি শিক্ষা শিষ্য ও অন্যান্যদের কথা বলেছি, যারা এর সংস্পর্শে থাকতে চায়, ঠিক যেমন ভক্তি তীর্থ স্বামী আমাকে বলেছিলেন, তার শিষ্যরা যখন চাইবেন, তখন আমি যেন তাদের সাহায্য করি। এবং যদিও ভক্তিচারু স্বামী, আমার তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলার আগেই তিনি হঠাৎ অপ্রকট হলেন, তবে আমি তার সকল শিষ্যদের প্রতি দায়বদ্ধ অনুভব করি এবং এইভাবে অনেক গুরুবৃন্দ অপ্রকট হয়েছে এবং তাদের শিষ্যরা আছে।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।