"মুকম করোতি বাচালম পঙ্গুম লঙ্ঘয়তে গিরিম
যৎকৃপা তমহম বন্দে শ্রীগুরুম দিন তারিনম্
পরমানন্দ মাধবম শ্রীচৈতন্য ঈশ্বরম।"
হরি ও তৎসৎ॥
জয়পতাকা স্বামী: কলিযুগে সাধারন নীতি এই যে, সন্ন্যাস গ্রহন নিষিদ্ধ। কিন্তু যদিও কয়েকজন সন্ন্যাস নিতে পারে কিন্তু সেটা আশ্রমে থাকার জন্য। বেশিরভাগজনকে বিয়ে করতে হবে এবং সেইজন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে স্ত্রীকেও একজন বৈষ্ণবী হওয়া উচিত। অন্যথায় মানুষের কৃষ্ণবিস্মৃতি হওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই বৈষ্ণবী হল সহধর্মিনী। সে স্বামীকে কৃষ্ণচিন্তা করতে সহায়তা করে।
প্রকৃতপক্ষে, ইতিহাসে আমরা অনেক মহান বৈষ্ণবীকে দেখতে পাই। ধ্রুব মহারাজের মা ছিলেন সুনীতি দেবী। তিনি পারমার্থিক জগতে প্রস্থান করেন।স্বায়ম্ভূব মনুর কন্যা দেবহুতি ছিলেন কর্দম মুনির স্ত্রী। তিনি কপিল মুনির মাতা হন এবং তার জীবনের শেষে তিনি পারমার্থিক জগতে প্রত্যাবর্তন করেন। তাই এইরকম অনেক মহান বৈষ্ণবীর উদাহরণ রয়েছে। ভগবদ্গীতায় কৃষ্ণ বলেছেন যে স্ত্রী, শুদ্র, বৈশ্য এবং যেই তাঁর শরণ গ্রহণ করে তারাই পারমার্থিক জগতে প্রত্যাবর্তন করতে পারে। এবং তিনি স্ত্রী, বণিক ও শ্রমজীবীদেরও অন্তর্ভূক্ত করেছেন।
সুতরাং, এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ যে বৈষ্ণবীরা কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলনে অত্যন্ত দক্ষ হন এবং তারা পারমার্থিক সুখ আস্বাদন করে সেটিকে স্বামী ও সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তরিত করেন। এবং এইভাবে মনুষ্যজীবন হল কৃষ্ণের কাছে ফিরে যাবার জন্য একটা বড় সুযোগ। বেশিরভাগ মানুষই জানে না মনুষ্য জীবনের উদ্দেশ্য কী। চেন্নাইতে আমি একটি নাটক দেখছিলাম এবং কিছু মেয়ে একটি গোঁফ এঁকেছিল। আর তারা যমরাজ ও যমদূতের চরিত্রে অভিনয় করছিল এবং যমদূতগণ অভিযোগ করছিল—‘আমরা বাড়িতে গিয়ে দেখি, তারা কৃষ্ণ বিগ্রহের পূজা করছে, পবিত্র নাম জপ করছে, ভাগবতম পাঠ করছে, আমরা তাদেরকে নিতে পারি না তার কারন তারা সকলেই ভক্ত। আমরা কি করবো? যমরাজ, আমাদের কোনো কাজ নেই! তাই এই নাটকটা দেখে আমি খুব খুশী হলাম। আমরা দেখি যে-যদি বৈষ্ণবীরা বাড়িতে বিগ্রহ পূজা করতে পারে, যদি তারা সন্তানদের কৃষ্ণভাবনামৃত শেখায়, তাহলে তারা সমগ্র পরিবারকে উদ্ধার করতে পারে।আর তারা নিজেদেরকেও উদ্ধার করতে পারে। তাই এটা আসলে খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে এই কলিযুগে নারীদের কৃষ্ণভাবনাময় হওয়া উচিত এবং তাদের কৃষ্ণভাবনাময় ও কৃষ্ণকেন্দ্রীক পরিবার গড়ে তোলা উচিত। আমরা সেটা বিকশিত হতে দেখার চেষ্টা করছি এবং বেঙ্গালুরু ও হায়দ্রাবাদে এই বৈষ্ণবী গার্লস ফোরামটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা রাধাপ্রিয়া দেবী দাসীর কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। আর আমরা রায়চুর-এর বিষয়েও শুনেছিলাম। সুতরাং এটার মত, এটা একটা অত্যন্ত মহৎ বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃষ্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাঁকে সেবা করার মাধ্যমে যে কেউ তাঁর কাছে ফিরে যেতে পারে, এতে কোনো বাধা নেই।
তাই, মানুষ জানে না যে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল কৃষ্ণপ্রেম বিকশিত করা। শ্রীকৃষ্ণের অনন্তরূপ রয়েছে। অবশ্য তাঁর বিভিন্ন অবতার রয়েছে, যেমন- নৃসিংহদেব, রামচন্দ্র, সীতারাম প্রভৃতি। কিন্তু এরা হলেন ভগবানের সমস্ত ব্যক্তিত্ব। আমরা হলাম তাঁর তটস্থা শক্তি এবং প্রকৃতপক্ষে আমাদের উদ্দেশ্য হল তাঁর সেবা করা। এই জড় জগত হল সমগ্র শক্তির এক চতুর্থাংশ মাত্র। তিন-চতুর্থাংশ হল আধ্যাত্মিক জগত। সুতরাং সমগ্র মনুষ্য জন্মের অর্থ হল—ঘরে প্রত্যাবর্তন করা অর্থাৎ ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়া এবং তোমাদের প্রত্যেকের ভগবানের কাছে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তোমরা অন্য কারো উপর নির্ভরশীল নও। তুমি অন্যদের সহায়তা করতেই পার, কিন্তু তুমি মানুষকে কৃষ্ণভাবনাময় হতে সহায়তা করতেও পার এবং তাদেরকে উদ্ধার করতেও পার। সুতরাং, গুরু ও কৃষ্ণের জন্য ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ণ ও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করা হল অনেক আনন্দের বিষয়। প্রকৃতপক্ষে, কৃষ্ণসেবায় কতটা আনন্দ রয়েছে তা কেউ বোঝে না। আসলে যেহেতু আমরা অগ্রগতি লাভ করি, তাই আমরা প্রথমে এই সকল নিয়মকানুনগুলি পালন করি, পরে আমরা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে পড়ি এবং এটা আমাদেরকে একটা উচ্চস্তরে নিয়ে যায়। পরিশেষে আমরা পরমানন্দদায়ক কৃষ্ণপ্রেম লাভ করতে পারি এবং এটা বিশুদ্ধ কৃষ্ণপ্রেমে আরও পরিমার্জিত হতে পারে।
সুতরাং, অবশ্য, যেহেতু আমরা জড় জগতে রয়েছি, তাই কিছু জাগতিক বাসনা থাকাটা স্বাভাবিক। কিন্তু ভক্তিযোগের মাধ্যমে আমরা যুক্তবৈরাগ্য অনুশীলন করতে পারি যার অর্থ এই বাসনাগুলিকে কৃষ্ণসেবায় সংযুক্ত করা। ঠিক যেমন একজন এক সন্তান চায় এবং তারপর তারা শিশুটিকে একজন ভক্ত করে তোলার জন্য লালনপালন করার চেষ্টা করে। যেমন- কেউ ভাল খাবার খেতে চায় তাহলে কৃষ্ণকে সেটা নিবেদন করুক। সুতরাং এটার মত আমরা সবকিছুকে একটা কৃষ্ণভাবনাময় পথে সম্পাদিত করার চেষ্টা করতে পারি। আমরা স্বায়ম্ভূব মনু সম্পর্কে পড়েছি। তিনি গৃহস্থ ছিলেন। তার কয়েকটি ছেলে-মেয়ে ছিল। আর তার কন্যাগণ খুব মহান ছিলেন এবং তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেবহুতি। কিন্তু কথিত আছে যে যদিও তিনি একজন গৃহস্থ ও একজন জাগতিক ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ রাজা ছিলেন, তবুও তিনি কৃষ্ণকে সর্বদা কেন্দ্রে রাখতেন। এইভাবে তিনি কৃষ্ণভাবনাময় থাকতে পেরেছিলেন। তিনি জাগতিক জীবনে বিজড়িত হননি। তিনি সর্বদা কৃষ্ণভাবনাময় ছিলেন।
আমরা চাই তোমরা সবাই পরমানন্দে কৃষ্ণসেবার স্বাদ আস্বাদন কর। যেমন: জপ করা, প্রবচন দেওয়া, সেবা করা ও গ্রন্থ অধ্যয়ণ করা প্রভৃতি। ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু মানুষকে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ, কৃষ্ণসেবা ও কৃষ্ণের উপদেশাবলী যেমন: ভগবদ্গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতম অধ্যয়ন করার কথা বলেছিলেন। সুতরাং, এইভাবে তাদের জীবন সার্থক হয়েছিল। যদিও এটি কলিযুগ এবং এটি কপটতা, কলহ ও জড়বাদের যুগ কিন্তু তবুও এই যুগে জপের মাধ্যমে পারমার্থিক জগতে প্রত্যবর্তন করা সহজ। আমি শুনে খুব খুশী হলাম যে তোমাদের কেউ কেউ ১৬ মালা, ৮ মালা বা অতন্ত পক্ষে ১ মালা জপ করছো। ১৬ মালা জপ মানে বছরে ১০ মিলিয়ন (১ কোটি) কৃষ্ণনাম করা। ৮ মালা মানে ৫ মিলিয়ন (৫০ লাখ) কৃষ্ণনাম করা এবং ২ মালা মানে ১.২৫ মিলিয়ন (১২৫০০০০) কৃষ্ণনাম করা। সুতরাং এটি সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। তাই এটি ড্রিপ সেচের মতো! এবং তোমার ভক্তিলতা বৃদ্ধি পেতেই থাকবে! তোমাদেরকে অনেক ধন্যবাদ। তোমাদের সকলকে দেখে এবং তোমাদের সকলের সাথে সময় কাটিয়ে আমি খুব খুশী।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ