Text Size

২০২১১২২৫ শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৩৮

25 Dec 2021|Duration: 00:51:22|Bengali|Śrīmad-Bhāgavatam|শ্রীমায়াপুর্ ধাম, ভারত

প্রদত্ত প্রবচনটি শ্রী শ্রীমৎ জয়পতাকা স্বামী ২৫ ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, শ্রীধাম মায়াপুরে প্রদান করেছেন। শ্রীমদ্ভাগবতের ১.১৩.৩৮ শ্লোক পাঠের মাধ্যমে প্রবচন শুরু হয়েছে।

মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ

ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
    ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!  

শ্রীমদ্ভাগবতম ১.১৩.৩৮
অথাজগাম ভগবান্‌ নারদঃ সহতুম্বুরুঃ ।
প্রত্যুত্থুয়াভিবাদ্যাহ সানুজোঽভ্যর্চয়ন্মুনিম্‌ ॥ 

অনুবাদ:- সঞ্জয় যখন এইভাবে বলছিলেন, তখন বীণা হস্তে মহাভাগবত নারদ সেইখানে আবির্ভূত হলেন। মহারাজ যুধিষ্ঠির তখন তার ভাইদের সঙ্গে নিজ আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে নারদ মুনিকে অভিবাদনপূর্বক পূজা করে অভ্যর্থনা জানালেন।

তাৎপর্য:- ভগবানের বিশেষ অন্তরঙ্গ ভক্ত বলে নারদ মুনিকে এখানে ভগবান বলে সম্বোধন করা হয়েছে। যাঁরা ভগবানের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত, তাঁরা ভগবান এবং ভগবানের অন্তরঙ্গ ভক্তদের সমপর্যায়ে বিবেচনা করেন।

ভগবানের অন্তরঙ্গ ভক্তরা ভগবানের অত্যন্ত প্রিয়, কারণ তাঁদের ক্ষমতা অনুসারে তাঁরা সর্বত্র ভ্রমণ করে ভগবানের মহিমা প্রচার করেন এবং মায়াবদ্ধ উন্মাদ জীবদের ভগবদ্ভক্তে পরিণত করে তাদের মানসিক সুস্থিরতার স্তরে উন্নীত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। প্রকৃতপক্ষে জীব কখনই পরমেশ্বর ভগবানের ভক্ত না হয়ে পারে না, কারণ ভগবানের ভক্ত হওয়াই তার স্বরূপসিদ্ধ মর্যাদা, কিন্তু কেউ যখন অভক্ত বা নাস্তিক হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে যে, সেই ব্যক্তির জীবনধারা সুস্থ অবস্থায় নেই। ভগবানের অন্তরঙ্গ ভক্তরা এই ধরনের মোহাচ্ছন্ন জীবদের পরিচর্যা করেন, এবং তাই তারা ভগবানের চোখে অত্যন্ত প্রিয়। 

ভগবদ্‌গীতায় ভগবান বলেছেন যে, যাঁরা অবিশ্বাসী অভক্তদের ভগবদ্ভক্ত করে তোলার প্রয়াসে তাদের মধ্যে যথাথই তাঁর মহিমা প্রচার করেন, তার কাছে তাদের চেয়ে প্রিয় আর কেউ নয়। স্বয়ং পরম পুরুষোত্তম ভগবানকে যেভাবে শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হয়, নারদ মুনির মতো এই ধরনের বিশিষ্ট মহাপুরুষদের উদ্দেশ্যে সেই ভাবেই উপযুক্ত শ্রদ্ধা নিবেদন করা কর্তব্য এবং নারদ মুনির মতো এক শুদ্ধ ভগবদ্ভক্ত যে তীর বীণা নিয়ে পরমেশ্বর ভগবানের মহিমা কীর্তন ছাড়া আর কোনও কাজ করতেন না, তাকে মহারাজ যুধিষ্ঠির, তার মহান্‌ ভ্রাতারা সহ, যেভাবে অভ্যর্থনা জানিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন, তা অন্যের কাছে দৃষ্টান্ত-স্বরূপ। 

জয়পতাকা স্বামী:-  এটি ছিল নারায়ণ মাস, ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুরের তিরোভাব তিথি উদযাপিত হয়েছে এবং এখন আজকে শনিবার আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম পড়ছি, এখন নারদ মুনি যুধিষ্ঠিরের রাজসভায় এসেছেন তারপর সবাই তাঁকে সন্মান জানিয়ে প্রণাম করে অভ্যর্থনা করলেন, তারা তাঁকে প্রণাম করেন এবং পূজা করেন। এটা বৈষ্ণব ব্যাবহার ঠিক হইল। 

এবং আমরা দেখতাম যে প্রভুপাদ আসার সময় তাঁকে দাঁড়িয়ে, প্রণাম করে, পূজো করত। শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী যখন শ্রীল প্রভুপাদদের সেবা করা শুরু করেছিলেন, তখন প্রত্যেক সময়ে তিনি যখনই ঘরের ভিতর প্রবেশ করতেন, তখনই তার প্রণতি নিবেদন করতেন। অন্য সচিব হয়তো প্রথমে প্রণাম করতেন আর তারপরে করতেন না কিন্তু ভক্তিচারু স্বামী, তিনি প্রত্যেকবার প্রভুপাদকে প্রণাম করতেন। তিনি শ্রীল প্রভুপাদের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধা পরায়ণ ছিলেন। এবং একসময় আমরা রাত্রি প্রহরী রেখেছিলাম তাঁকে দেখভাল করার জন্য ও রক্ষা করার জন্য, যাতে কেউ শ্রীল প্রভুপাদের ঘরে প্রবেশ করতে না পারে এবং সেইসময় আমার মনে হয় সদাদন্য প্রভু সবকিছু লক্ষ্য রাখছিলেন। তখন তিনি বললেন, “কেউ একজন সেখানে আছে! কেউ একজন সেখানে আছে!এবং তিনি সব দিকে তাকাচ্ছিলেন, তিনি অনুভব করছিলেন যে কেউ হয়তো তাকে দেখছে। টর্চ দিয়া বিভিন্ন জায়গায় দেখছে কি কেউ আছে নাকি, তারপর সিঁড়ির নিচে দেখলেন সেখানে শ্রীল প্রভুপাদ। তৎক্ষণাৎ তিনি শ্রীল প্রভুপাদকে তার প্রণাম নিবেদন করলেন, শ্রীল প্রভুপাদ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “আমি তোমার দিকে নজর রাখছিলাম।তিনি দেখছিলেন যে সেই রাত্রি প্রহরী তাঁর দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা। আমি শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় ছিলাম, আমি যখন শ্রীল প্রভুপাদের ঘরে প্রবেশ করতাম, তখন আমি তাঁকে প্রণতি নিবেদন করতাম।  

যুধিষ্ঠির মহারাজ তিনি উঠে দাঁড়িয়ে নারদ মুনিকে প্রণাম নিবেদন করলেন, কেবল তিনি নয়, তার সকল ভ্রাতা ও উপস্থিত সকলে নারদ মুনিকে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন, কেননা নারদ মুনির কোন কাজ নাই, তাঁর সেবা সবাইকে কৃষ্ণ গুণগান শোনা। ভগবদ্‌গীতার মধ্যে অষ্টাদশ অধ্যায়তে লেখা আছে যে কৃষ্ণ সব থেকে প্রিয় হচ্ছে যে ওঁনার গুণগান করেন, এইভাবে অভক্তকে ভক্ত করে বলে কৃষ্ণের সবথেকে প্রিয়জন। কৃষ্ণ ভক্ত এই গীতা জয়ন্তীর মাস, ডিসেম্বর মাসে গীতার বিতরণ করছেন, তারা অভক্তকে এইভাবে ভক্ত করে তোলার জন্য সেবা করছে, সব থেকে ভগবানের প্রিয়। পাশ্চাত্য দেশে ক্রিসমাস বলে সবাইকে একটা দানের মনবৃত্তি আছে, এই সুযোগ নিয়া ভগবদ্‌গীতা, শ্রীমদ্ভগবতম বিতরণ করা বিশেষ সেবা। মানুষেরা পরম পুরুষের মহিমা সম্পর্কে অজ্ঞাত, তাই তারা যদি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা শ্রবন করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে তাদের ভক্তি জাগরিত হবে। তাই চৈতন্য মহাপ্রভুর অনুসারীগণ এই সেবা করে থাকে। 

দুই ধরনের ভক্ত থাকে, একজন তার নিজের মুক্তি চায় — ভজনানন্দী এবং অন্যজন অন্যদের সাহায্য করতে চায় — গোষ্টিয়ানন্দী। প্রহ্লাদ মহারাজ ছিলেন গোষ্টিয়ানন্দী, শ্রীল প্রভুপাদ ছিলেন গোষ্টিয়ানন্দী। তিনি তাঁর নিজের মুক্তির জন্য বৃন্দাবনে থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি সমগ্র বিশ্বে প্রচারের জন্য এসেছিলেন। তিনি জানতেন যে মানুষেরা তাদের অজ্ঞানতার কারণে দুঃখ কষ্ট ভোগ করছে এবং তিনি যদি তাদের জন্য কিছু করতে পারেন। তিনি সেই সকল গৌরব তাঁর গুরু এবং শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুকে দিয়েছেন, এটিই হচ্ছে ভক্তের মনোভাব — কৃষ্ণকে কৃতিত্ব প্রদান করা। ভক্তরা নিজেদেরকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীহস্তের সাধনি বলে মনে করে। উনি নিজে অহংকার করে কোনো দাবি করেন না। এইভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে সম্পূর্ণ ভগবানের সেবা। আমাদেরকে ভাবতে হবে যে, কিভাবে আমরা যেসকল ব্যক্তিদের প্রচার করছি তারা কৃষ্ণকে গ্রহণ করবে। এইভাবে, সর্বদা আমরা মানুষদেরকে কৃষ্ণের কাছে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা করি।  

সাধারণ মানুষ তারা ইন্দ্রিয় তৃপ্তি চিন্তা করে জীবনের লক্ষ্য এবং তাদের কৃষ্ণের সাথে কোন সম্পর্ক নেই, আসলে নারদ মুনি তিনি সর্বদা ভ্রমণ করেন ও ভগবানের মহিমা কীর্তন করেন। এইভাবে আমাদের জীবন যদি মানুষদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কে জ্ঞান জাগরিত করতে উৎসর্গীকৃত থাকে, তাহলে সেটি হচ্ছে সার্থকতা। চৈতন্য মহাপ্রভু আধ্যাত্মিক জগত থেকে এই জগতে অবতীর্ণ হয়েছেন, কলিযুগে মানুষদের তাঁর কৃপা প্রদান করার জন্য এবং তিনি এসেছেন ভগবানের নামকীর্তন সংকীর্তন যাতে জনপ্রিয় হয়ে যায় এটা, এইভাবে এখন কৃষ্ণসেবা সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে যায় সেই কারণে উনি এসছেন। এটি চৈতন্য দেবের অসীম কৃপা, প্রত্যেক অবতারের একটি নির্দিষ্ট মনোভাব থাকে, নরসিংহদেবের রাগের ভাব ছিল। চৈতন্য মহাপ্রভু এসছেন ওঁনার দয়া ভাব। এই কলিযুগের মানুষ দয়া দরকার। 

এখন আমাদের সমগ্র বিশ্বে মহামারী হয়েছে ও এই ভিন্ন অমিক্রন ভাইরাস মানুষের মধ্যে ভীতি উৎপন্ন করছে। আমি আমাদের নেত্রীদের অনুরোধ করছিলাম যে এই সুযোগ গ্রহণ করে প্রত্যেককে ভগবানের নাম জপ করার জন্য উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা করুন। এই জড় জগতে আমরা ত্রিতাপ ক্লেশ ভোগ করছি, তা কৃষ্ণ চেতনায় না থাকার কারণে কিন্তু আমরা যদি কৃষ্ণ ভক্তি লাভ হয়, এই ত্রিতাপ আমাদের লাগে না। এই জড় জগতে আমাদের কাছে একটি বিকল্প আছে, হয় আমরা কৃষ্ণভাবনাকে গ্রহণ করতে পারি বা মায়া ভাবনাকে গ্রহণ করতে পারি। তাই আমরা চাই সকল ভক্তরা যাতে যতটা সম্ভব কৃষ্ণভাবনাময় হয়, এইটা হচ্ছে মনুষ্য জীবনের বিশেষ লক্ষ্য। আমাদের শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুকে অনুসরণ করার এই সুযোগ গ্রহণ করা উচিত।  

যুধিষ্ঠির মহারাজের কাছে নারদ মুনি এসেছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান অনুভব করছিলেন। শ্রীল প্রভুপাদ নারদ মুনির পরম্পরায় আছেন এবং তিনি সব দেশে গেলেন, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ইত্যাদি ঘুরেছেন। এইভাবে তিনি প্রত্যেকের কাছে নারদ মুনির কৃপা নিয়ে এসেছিলেন এবং শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে আমাদের বলশালী হওয়া উচিত ও মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কৃষ্ণের সেবা করার প্রচেষ্টা করা উচিত। এমনই জলের মধ্যে হাতি ও কুমিরের মধ্যে লড়াই হচ্ছিল। কিন্তু যেহেতু হাতি হচ্ছে স্থলের প্রাণী ও কুমির জলের প্রাণী, তাই সেই কুমির শক্তি পাচ্ছিল ও গজেন্দ্র তার শক্তি হারিয়ে ফেলছিল। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে আমাদেরকে মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে বলশালী হওয়া উচিত এবং যে পরিবেশ এক একজনের শক্তিশালী হয় সেই পরিবেশে থাকতে হয়। কেউ হয়তো বৈরাগী, ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসী হিসেবে শক্তিশালী অনুভব করতে পারে এবং কেউ হয়তো গৃহস্থ হিসেবে শক্তিশালী অনুভব করতে পারে। তাই কাউকে এমন পরিস্থিতিতে থাকতে হবে, যেখানে তিনি নিজেকে অধিক বলশালী অনুভব করতে পারবে। কিন্তু আমাদের মায়ার সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে, মায়া আমাদেরকে কৃষ্ণকে ভোলানোর প্রচেষ্টা করে এবং আমরা সকলকে শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করাতে চাই। এই কারণে আমরা গ্রন্থ বিতরণ করি, প্রচার করি, এইভাবে যেতে কৃষ্ণচেতনা হয়ে যায় আমরা চেষ্টা করি। কৃষ্ণের সেবা করার মাধ্যমে উচ্চতর স্বাদ আস্বাদন করা যায়, আমরা সব সময় সেই স্বাদ আস্বাদন করতে পারি, কিন্তু ইন্দ্রিয়তৃপ্তি করলে আমরা সবসময় একটা অশান্তি মধ্যে থাকি। 

ভুক্তি-মুক্তি-সিদ্ধি — কামী সকলিঅশান্ত
কৃষ্ণভক্ত — নিষ্কাম, অতএবশান্ত
।।
[চৈ চ মধ্য ১৯.১৪৯] 

যারা ইন্দ্রিয় ভোগ, মুক্তি এবং সিদ্ধির পিছনে লালায়িত, তারা সকলে অশান্ত। কিন্তু কেবল কৃষ্ণভক্ত, যেহেতু তাঁর কৃষ্ণ ছাড়া অন্য কোনো কামনা নেই, তাই তিনি শান্ত ও সন্তুষ্ট। 

যেমন নারদ মুনি কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের প্রতি উৎসর্গীকৃত, তেমনই আমরা আশা করি যে, সকল ভক্তরাও কৃষ্ণভাবনামৃত প্রচারের প্রতি উৎসর্গীকৃত হবে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে আমরা মায়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি এবং এখন আমাদের সেই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। মায়ার চায় যাতে আমরা কৃষ্ণকে ভুলে যাই, আমরা কৃষ্ণকে যাতে মনে থাকে এভাবে চেষ্টা করি। এইভাবে আমরা চাই প্রত্যেকেই যাতে হরে কৃষ্ণ জপ করে এবং সুখী হয় এবং শ্রীল প্রভুপাদের দিব্য শাস্ত্র অধ্যয়ন করে ও আনন্দিত থাকে। শ্রীল প্রভুপাদ গ্রন্থের পরিসংখ্যা শুনে ও গ্রন্থগুলি মুদ্রিত হচ্ছে দেখে আনন্দে ক্রন্দন করতেন। আমাদের গ্রন্থ বিতরণের প্রতি অত্যন্ত অনুপ্রাণিত থাকা উচিত। আমরা এটিকে বৃহৎ কীর্তন বলে ডাকি এবং সকলে যদি ভগবানের নাম করে, তাহলে এইভাবে আমরা শান্তি পরিবেশে আসতে পারব। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে নারদ মুনি শ্রীবাস ঠাকুর রূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন আর কত ভক্তরা চৈতন্য মহাপ্রভুকে সংকীর্তন আন্দোলনের প্রচারে সহায়তা করেছিলেন। চৈতন্য মহাপ্রভু ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে তাঁর বাণী প্রতি নগর ও গ্রামে প্রচারিত হবে। তাই আমরা চাই সকল ভক্তরা যাতে চৈতন্য মহাপ্রভুকে সহায়তা করেন, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। তিনি অত্যন্ত আনন্দিত হবেন যে মানুষেরা কৃষ্ণভাবনাময় হচ্ছে। এইভাবে আপনি যদি কেবল একজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারেন, তাহলে আপনার এই আন্দোলন সফল। যারা গৃহস্ত আছেন, তাদের সন্তান যদি ভক্ত হয়, তার কার্য সফল হল।  

আমরা দেখি যে নারদ মুনি কিভাবে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ভ্রমণ করেন, আর কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদ সমগ্র বিশ্বে ভ্রমণ করেছিলেন, তাই সকল ভক্তবৃন্দ যদি তাদের স্থানীয় নগর ও গ্রামে প্রচার করে, তাহলে তাও সহায়ক হবে। আমরা কৃষ্ণের কাছে কোন জাগতিক কিছু কামনা করি না, কিন্তু জড় জাগতিক মানুষ সে কৃষ্ণ থেকে অনেক কিছু আশা আছে, সেটা একটা অপরাধ যুক্ত নাম। কিন্তু জপ না করার থেকে অপরাধযুক্ত নাম করা ভালো। তাই কোনো না কোনোভাবে আজকালকার দিনে, এই যুগে মানুষদের দিয়ে জপ করাতে হবে, তারা হয়তো মহামারীর কারণে জপ করবে নাকি আমি জানিনা, কিন্তু ভগবানের নাম নিশ্চয়ই তাদের করা উচিত। ধ্রুব বিভিন্ন ভৌতিক আশা ছিল, কিন্তু একবার যেই ভগবানের দর্শন পেয়েছে, তার শুদ্ধ ভক্তি এসেছে। এইভাবে কোন না কোন ভাবে আমরা যদি মানুষদের দিয়ে নাম জপ করাতে পারি, তাহলে তা তাদের স্বতঃস্ফুর্ত ভক্তি বিকশিত করবে। 

যাইহোক ইতিমধ্যেই নটা বেজে গেছে। কোন প্রশ্ন আছে

প্রশ্ন:- আপনি যেমন শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামীর কথা উল্লেখ করলেন যে, যখনই তার শ্রীল প্রভুপাদের সাথে সাক্ষাৎ হত, তখনই তিনি তাঁকে প্রণতি নিবেদন করতেন। এটি অত্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ও অনুপ্রেরণা দায়ক। গুরু মহারাজ কখনও কখনও আমাদের মানসিক প্রবৃত্তি এমন হয় যে, সেবার কারণে ভক্তদের সাথে প্রায় সময় সাক্ষাতের ফলে আমরা কখনও কখনও আমাদের প্রণাম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করি না, কখনও কখনও অবশ্য পরিস্থিতির বশবর্তী হয়েও, যেমন শ্রী বিগ্রহের সামনে আমরা তাদেরকে প্রণাম নিবেদন করতে পারি না। তাই এই পরিস্থিতিতে কি করা যেতে পারে?  

জয়পতাকা স্বামী:- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীবিগ্রহের সামনে আমরা শ্রীবিগ্রহকে প্রণাম নিবেদন করি, তাই তা দেখে গুরু প্রসন্ন হন যে আমরা কৃষ্ণকে প্রণাম নিবেদন করছি। কিন্তু আমরা যদি গুরুকে অন্য কোন স্থানে দর্শন করি, তাহলে আমরা আমাদের প্রণাম নিবেদন করি। প্রথমবার যখন সন্ন্যাসীদের দর্শন করি, তখন আমরা প্রণাম নিবেদন করি। সব সময় গুরুকে দর্শন করে প্রণাম নিবেদন করি। কিন্তু যারা ব্যক্তিগতভাবে গুরু বা শ্রী-বিগ্রহের সেবা করছে, তারা হয়ত একবার তাদের প্রণাম নিবেদন করতে পারে ও তারপর থেকে তারা হয়তো তা নাও করতে পারে, কারণ যেহেতু তাকে দিনের মধ্যে অনেকবার গুরুর কক্ষে যেতে হবে তাই। তবে শ্রী শ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী প্রত্যেক সময় প্রণাম নিবেদন করতেন। 

- END OF TRANSCRIPTION -
Transcribed by ভক্তিপ্রিয়া রাই দেবী দাসী (21/6/2023)
Verifyed by
Reviewed by

Lecture Suggetions