জয়পতাকা স্বামী: আজকে আমাদের এখানে প্রায় ১০০ ভক্ত উপস্থিত, যারা কুরুক্ষেত্র থেকে এখানে এসেছেন আমরা প্রথমে তাদের থেকে প্রশ্ন নেবো এবং তারপর অনলাইনে থাকা ভক্তদের থেকে।
প্রশ্ন: মহারাজ আপনি বলেছেন যে একজনের সংকল্পবদ্ধ হয়ে ভক্তি অনুশীলন করা উচিত, আমরা আপনাকে এই পরিস্থিতিতে দেখি। এত বছর ধরে, আপনি এই কঠিন পরিস্থিতিতে থেকেও কৃষ্ণভাবনামৃত অনুশীলন করছেন এবং সারা বিশ্বে তা প্রচার করছেন। তাই, শ্রীল প্রভুপাদের সেবায় আপনার সংকল্পের রহস্য কি? যাতে আমরা আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারি।
জয়পতাকা স্বামী: দেখুন, আমি শ্রীল প্রভুপাদকে বলেছিলাম যে, “আমার বাবা বলছেন ভিয়েতনামের যুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমেরিকার সেনাবাহিনীতে আমার নাম দিয়ে দেবেন এবং আমি মারা যাব কারণ আমি হিন্দু হয়েছি বলে তিনি খুব রেগে গেছিলেন” শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন, “কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে থাকা ভালো” তাই আমি কৃষ্ণের সেনাবাহিনীতে সেবা করছি। তিনি আমাকে ভারতে আসতে বলেছিলেন এবং আমি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে এখানে আসি, তিনি আমাকে ভারতীয় নাগরিক হতে বলেছিলেন এবং এখন আমি একজন ভারতীয় নাগরিক, এইভাবে আমি শ্রীল প্রভুপাদের সেবা করার চেষ্টা করছি, তাঁর সেবা করে আমি অনেক আনন্দ অনুভব করি।
প্রশ্ন: আপনি কি কিছু লীলা বলতে পারেন, আপনার সাথে শ্রীল প্রভুপাদের ব্যক্তিগত কোনো লীলা যা আপনাকে আপনার জীবন ওঁনার সেবায় উৎসর্গ করতে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে?
জয়পতাকা স্বামী: কেউ একজন আমাকে বলেছিলেন যে যখনই আমি গুরুদেবকে দর্শন করব, তখনই আমার তাঁর মহিমাকীর্তন করা উচিত এবং তাঁর সামনে নিজেকে বিনীতভাবে প্রকাশ করা উচিত এবং তাঁর কৃপা প্রার্থনা করা উচিত। যখন আমি শ্রীল প্রভুপাদকে দর্শন করতাম তখন আমি তাই করতাম। একসময়, আমি শ্রীল প্রভুপাদকে বলেছিলাম, “আপনি অনেক কৃপাময় এবং আমি মূর্খ।” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” তারপর আমি শ্রীল প্রভুপাদকে বললাম, “আমি জন্ম-জন্মান্তর ধরে আপনার সেবা করতে চাই” তিনি বললেন, “কেন তুমি আমাকে আবার এখানে ফিরিয়ে আনতে চাও?” আমি ভাবলাম, “ আমি কি ভুল বলেছি?” তারপর আমি বললাম, “আমি আপনার সেবা করতে চাই এমনকি জন্ম-জন্মান্তর ধরে!” এর মানে যদি আমি আধ্যাত্মিক জগতে ফিরে না যাই, তাহলেও আমি ওনার সেবা করতে চাই। এইভাবে আমি দেখলাম যে শ্রীল প্রভুপাদ, তিনি ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি খুবই আপন। এবং তাই তার ব্যক্তিগত গুণ গুলি এমন কিছু যা আমার খুবই প্রিয়।
প্রশ্ন: ইস্কনের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আপনার উপদেশ গুলি কি কি?
জয়পতাকা স্বামী: চৈতন্য মহাপ্রভুর আদেশ পালন করুন, শ্রীল প্রভুপাদের আদেশ পালন করুন, ভগবদ্গীতা পড়ুন, ভক্তিরসামৃতসিন্ধু, উপদেশামৃত, শ্রী ঈশোপনিষদ, শ্রীমদ্ভাগবতম, চৈতন্য চরিতামৃত এইভাবে ক্রমানুযায়ী পড়ুন। এবং আপনি আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন। পরবর্তী প্রজন্ম, শ্রীল প্রভুপাদ বলেছেন যে তার সর্বশ্রেষ্ঠ জিনিস আছে তার বইয়ের মধ্যে। তাই, আমরা শ্রীল প্রভুপাদ গ্রন্থ অধ্যায়ন করতে উৎসাহিত করি। তিনি কুরুক্ষেত্রে একটি মন্দির নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন কারণ সেটি হলো সেই স্থান যেখানে কৃষ্ণ ভগবদ্গীতা বলেছেন এবং তিনি ভগবদ্গীতা কে জনপ্রিয় করতে চেয়েছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল ভগবদ্গীতার কোন ভাষান্তরটি পড়া উচিত। তখন, তিনি বলেছিলেন, তিনি কোনটিই সুপারিশ করতে পারবেন না, এটির ওপর একশত এর বেশি মন্তব্য আছে কিন্তু বক্তারা তাদের নিজস্ব অভিমত প্রকাশ করেছেন, কেউ কেউ আছেন অন্য কারোর থেকে ভালো বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু যখন তিনি ভগবদ্গীতা যথাযথ লিখলেন, তখন তিনি বলেননি যে কৃষ্ণ এরকম বলেছেন, আসল মানে যা সেটা প্রকাশ করেছেন। তিনি যথাযথভাবে বর্ণনা করেছেন যে কৃষ্ণ এটি বলছেন। যা এটিকে অত্যন্ত সহজবোধ্য করেছে। এখন আমি শুনলাম যে আপনারা সকলে কুরুক্ষেত্র থেকে এসেছেন। ভগবদ্গীতা প্রথম বই যা অধ্যায়ন করাতে আমাদের মনোনিবেশ করা উচিত। ভগবদ্গীতা থেকে শুরু করে আমরা শ্রীমদ্ভাগবতম এবং অন্যান্য বই অধ্যায়ন করতে পারি। ঠিক আছে!
চ্যাটে কোনো প্রশ্ন আছে কি?
প্রশ্ন: আপনি যখন মন্দির নির্মাণ করেছিলেন তখন মায়াপুরে কত সমস্যা এসেছিল এবং আমরা এখনো দেখতে পাই যে কত সমস্যা আসছে। তাই মহারাজ, আপনি কিভাবে এই সব সমস্যাগুলির সম্মুখীন হন?
জয়পতাকা স্বামী: যখনই কোন সমস্যা আসত, তখন আমি আমার আধ্যাত্মিক গুরুদেবকে স্মরণ করতাম, তার নির্দেশাবলী পালন করার চেষ্টা করতাম এবং তা এটাকে সহজসাধ্য করে তুলত।
লক্ষ্মী রাধা দেবী দাসী, মথুরাদেশ: শুকদেব গোস্বামী ব্যাসদেবের থেকে শ্রীমদ্ভাগবতম শ্রবণের পূর্বে একজন নির্বিশেষবাদী ছিলেন। কিন্তু আমরা এটাও শুনেছি যে শুকদেব ছিলেন রাধারানীর টিয়া পাখি। এবং তাঁকে ভগবান শিব কর্তৃক তাড়া করা হয় যখন তিনি ভাগবতম শ্রবণ করেছিলেন, এইরকম কিছু শুনেছি। তাই এটা কিভাবে সম্ভব যে রাধারানীর এরকম একজন প্রিয় পার্ষদ একজন নির্বিশেষবাদীরূপে প্রকাশিত হচ্ছেন, যদিও তিনি দেবাদিদেব শিবের থেকে ও ব্যাসদেবের থেকেও ভাগবতম শ্রবণ করেছিলেন, তাহলে তিনি কখন গর্ভে ছিলেন?
জয়পতাকা স্বামী: আমাদেরকে নির্দেশাবলী আক্ষরিক অর্থে বুঝতে হবে। যখন তিনি মায়ের গর্ভে ছিলেন, তখন তাঁর নির্বিশেষ উপলব্ধি ছিল। যখন তাঁকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল যে কিভাবে কৃষ্ণের চিন্তা করার মাধ্যমে তিনি এই জগৎ অতিক্রম করতে পারবেন, তখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ভক্তিযোগ অনুশীলন করেন। এটি একটি অত্যন্ত গুহ্য বিষয় এবং অপরটি হলো আরেকটি পৃথক বিষয়। এখন আজকের প্রবচনে কারো কোন প্রশ্ন আছে?
প্রশ্ন: যদিও আমরা অনেকবার শুনি যে কিভাবে আধ্যাত্মিক গুরুদেবের নির্দেশাবলী মান্য করার ক্ষেত্রে সংকল্পবদ্ধ হতে হবে, কিন্তু আপনি যেভাবে আপনার জীবন দিয়ে প্রদর্শন করেছেন যে কিভাবে শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী অনুসরণ করার ক্ষেত্রে আপনি সংকল্পবদ্ধ, সে ক্ষেত্রে আমরা কোনভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক গুরুদেব ও শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশাবলী পালনের ক্ষেত্রে এইরকম বিশ্বাস বা সংকল্পবদ্ধ হতে পারি না। আমরা এত সুন্দরভাবে এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করতে পারি না, আমরা কি করতে পারি, কখনো আমরা ভক্তিমূলক সেবায় উন্নতি করি আবার কখনো নিম্ন স্তরে আসি, অনেক নিম্ন স্তরে নেমে আসি। কিভাবে আমরা আমাদের জীবনে এইরকম সংকল্পবদ্ধ হতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী: দেখুন আপনি যদি মনে করেন যে আপনি আপনার মনকে অনুসরণ করবেন বা এমন কিছু ব্যক্তিকে অনুসরণ করবেন যারা জগতে চারটি ত্রুটির অধীনস্ত। তাদের ইন্দ্রিয় অপূর্ন, তারা ত্রুটিপূর্ণ, তারা প্রতারণা করে এবং তারা মায়াতে থাকে। ঠিক যেমন আপনি সূর্য দেখবেন, আমরা মনে করি ওহ ১ ইঞ্চ বা হাফ এর মতো হবে। কিন্তু আমরা জানি যে সূর্য পৃথিবীর থেকেও অনেক বৃহৎ। তাই আমাদের ইন্দ্রিয় অপূর্ন, তাহলে কেন শাস্ত্র সাধু এবং গুরুর কথা মান্য করবেন না যারা এই ত্রুটিগুলি থেকে মুক্ত? শাস্ত্র আমাদেরকে পরম সত্যের ধারণা দেয়, সাধুরা ভক্তিযোগ অনুশীলন করেন এবং গুরুদেব শাস্ত্র ব্যাখ্যা করেন যাতে আমরা তা বুঝতে পারি এবং আমাদের জীবনে প্রয়োগ করতে পারি। অতএব অবশ্যই যতক্ষণ আপনার দৃঢ় সংকল্প আছে, তখন প্রশ্ন হল আপনি কাকে অনুসরণ করতে চান? ঠিক যেমন আমি লোকেদের জিজ্ঞাসা করি, আপনাদের মধ্যে কয় জনের উন্মত্ত শাসনকর্তা আছে? সকলে তাদের হাত তুলল! তারা সকলেই ভাবে যে তাদের একজন উন্মত্ত শাসনকর্তা আছে। তাই যদি আপনি এমন কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পান যিনি হলেন একজন শুদ্ধ ভক্ত, একজন প্রকৃত সাধু, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনি তাঁকে অনুসরণ করতে চাইবেন।
Lecture Suggetions
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ