মূকং করোতি বাচালং পঙ্গুং লঙ্ঘয়তে গিরিম্
যৎকৃপা তমহং বন্দে শ্রী গুরুং দীন তারণম
পরমানন্দমাধবম্ শ্রী চৈতন্য ঈশ্বরম্
হরি ওঁ তৎ সৎ
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
ওঁ নম ভগবতে বাসুদেবায়!
শ্রীমদ্ভাগবতম ১/১৩/২৯
এবং রাজা বিদুরেণানুজেন
প্রজ্ঞাচক্ষুর্বোধিত আজমীঢ়ঃ।
ছিত্ত্বা স্বেষু ন্সেহপাশান্ দ্রঢ়িম্নো
নিশ্চক্রাম ভ্রাতৃসন্দর্শিতাধ্বা॥
অনুবাদ:- এইভাবে তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা বিদুর কর্তৃক উপদিষ্ট হয়ে আজমীঢ় বংশজ মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র আধ্যাত্মিক জ্ঞান (প্রজ্ঞা) লাভ করে চিত্তের দৃঢ়তার দ্বারা আত্মীয়বর্গের নিবিড় স্নেহপাশ ছিন্ন করে গৃহ থেকে মুক্তিলাভের পথে বহির্গত হলেন
তাৎপর্য:- শ্রীমদ্ভাগবতের বাণীর মহান্ প্রচারক শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সাধুসঙ্গ এবং ভগবানের শুদ্ধ ভক্ত-সঙ্গের মহিমা বিশ্লেষণ করে বলেছেন — “লব মাত্র সাধুসঙ্গে সর্ব সিদ্ধি হয়”। আমাদের ব্যবহারিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা নিঃসঙ্কোচে বলতে পারি যে, কৃষ্ণকৃপাশ্রীমূর্তি শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী গোস্বামী মহারাজের সাথে মাত্র কয়েক মিনিটের প্রথম সঙ্গ প্রভাব না পেলে আমাদের পক্ষে ইংরেজি ভাষায় শ্রীমদ্ভাগবতের বর্ণনা দেওয়ার মতো সুবিপুল কার্যভার গ্রহণ করা সম্ভব হত না। সেই বিশেষ সময়ে তার সঙ্গে যদি সাক্ষাৎকার না হত, তা হলে হয়ত আজ আমরা বিপুল ব্যবসায়ীতে পরিণত হতে পারতাম, কিন্তু সেই মহাপুরুষের নির্দেশ অনুসারে ভগবানের সেবায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তির পথে অগ্রসর হতে পারতাম না।
বিদুরের সঙ্গ প্রভাবে ধৃতরাষ্ট্রের পরিবর্তন তার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত। মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং পারিবারিক বন্ধনের জালে নিবিড়ভাবে আবদ্ধ ছিলেন, এবং তার পরিকল্পনা অনুসারে তথাকথিত সাফল্য লাভের সব রকম চেষ্টা তিনি করেছিলেন, কিন্তু তা সত্তেও সর্বদাই জড়জাগতিক কার্যকলাপে তাকে নিরাশ হতে হয়েছে। কিন্তু তবুও তার ব্যর্থতার জীবন সত্ত্বেও সর্বোত্তম সাধু, ভগবানের শুদ্ধভক্তের সঙ্গ প্রভাবে তিনি অধ্যাত্মজ্ঞান লাভ করে জীবনের চরম সাফল্য অর্জন করেছিলেন।
তাই শাস্ত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্য সমস্ত সঙ্গ পরিত্যাগ করে কেবলমাত্র সাধুর সঙ্গ করা উচিত, এবং তার ফলে সাধুর শ্রীমুখনিঃসৃত বাণী শ্রবণ করে জড় জগতের মায়ার বন্ধন ছিন্ন করা যায়।
প্রকৃতপক্ষে এই জড় জগৎ হচ্ছে একটি মহামায়া, কারণ এখানে সব কিছুই বাস্তব সত্য বলে মনে হলেও পর মুহূর্তেই তা সমুদ্রের বুদ্বুদের মতো মিলিয়ে যায়। আকাশের মেঘকে নিঃসন্দেহে বাস্তব বলে মনে হয়, কারণ তার থেকে বৃষ্টি হয়, এবং সেই বৃষ্টির ফলে কত অস্থায়ী সবুজ গাছপালার জন্ম হয়, কিন্তু চরমে সব কিছুই অন্তর্হিত হয়ে যায় — মেঘ, বৃষ্টি এবং উদ্ভিদ, সবই যথাসময়ে লুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু আকাশ থাকে, এবং আকাশের বুকে বিভিন্ন রকমের জ্যোতিষ্কমণ্ডলী চিরকাল বিরাজমান থাকে।
তেমনই, পরম সত্য আকাশের মতো চিরকাল বিরাজমান থাকে, কিন্তু অনিত্য মেঘের মতো, মায়া আসে এবং মিলিয়ে যায়। মূর্খ জীবসত্তারা অনিত্য মেঘের দ্বারা আকৃষ্ট হয়, কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষেরা বৈচিত্রমণ্ডিত নিত্য শাশ্বত আকাশের প্রতি অনুরক্ত থাকে।
***
জয়পতাকা স্বামী:- এই বিদুরকে ধৃতরাষ্ট্রের পুত্রদের দ্বারা অপমানিত হতে হয়েছিল। দুর্যোধন বিদুরকে অপমান করেছিল এবং তাই বিদুর চলে গিয়েছিলেন। পরে দূর্যোধন ভীম দ্বারা পরাজিত হয় এবং তখন বিদুর তার বড় ভাইকে প্রচার করার জন্য ফিরে আসেন। অনেক ভক্ত জিজ্ঞেস করে আমাকে যদি কেউ হিংসা করে, অপমান করে, আমি কি করব? কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিদুর তিনি ফিরে এসে তার দাদাকে প্রচার করলেন। যেমন চৈতন্য চরিতামৃত বলা হয়েছে:-
‘সাধুসঙ্গ’, ‘সাধুসঙ্গ’—সর্ব্বশাস্ত্রে কয়।
লবমাত্র সাধুসঙ্গে সর্ব্বসিদ্ধি হয়॥
(শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত, ২/২২/৫৪)
মহান মহাত্মা বিদুরের সঙ্গ লাভ করে ধৃতরাষ্ট্র এই সব কিছু ছেড়ে আত্ম উপলব্ধি করার প্রতি দৃঢ়তা লাভ করেছিল। তাই পরিবারের একজন ব্যক্তি পুরো পরিবারকে উদ্ধার করতে পারে, এমনকি এক বৌমা সে পুরো একটা পরিবার উদ্ধার করতে পারে। এইভাবে আমাদের কৃষ্ণের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়ে দৃঢ় হতে হবে এবং অন্য ব্যক্তিদের আত্ম উপলব্ধি করতে সাহায্য করতে হবে। সাধারণ জীব মনে করে এই ভৌতিক জগত সব কিছু, কিন্তু মেঘের মতো এটা আসে কিন্তু কখন চলে যাবে, তেমনই এই জড় জগৎ বর্তমান আছে কিন্তু এটি স্থায়ী নয়। শ্রীমদ্ভাগবতম্ আমাদেরকে মহান ভক্তদের ও পরম পুরুষোত্তম ভগবানের ইতিহাস বর্ণনা করে।
ধৃতরাষ্ট্র তিনি পাণ্ডবদের গৃহে থাকছিলেন এবং বিদুর তার প্রতি কঠোরভাবে কথা বলেছিলেন, কটু বাক্য বলেছিলেন। এইভাবে তখন তা দ্বাপর যুগ ছিল এবং এই কলিযুগে কারো মন্দিরে গিয়া, তীর্থস্থান গিয়া থাকতে হয়। এবং যারা ইস্কনের মন্দিরের কাছে থাকে, সেখানে গিয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করতে পারে, মন্দিরের ১ - ১/২ মাইলের মধ্যে থাকা ধামের মত। হয়ত যদি তাদের শালিগ্রাম শিলা ও অন্যান্য কিছু থাকলে, তাহলে এটি আরও বৃহদ পরিসর হবে। ভক্তি তীর্থ স্বামী গীতা নগরীতে থেকেছিলেন এটি প্রদর্শন করার জন্য যে ইস্কন মন্দিরও একটি পবিত্র স্থান। কিছু ব্যক্তিরা হয়ত মায়াপুর, বৃন্দাবনে আসতে পারে ও সেখানে থেকে কিছু ভক্তিমূলক সেবা করতে পারে। তিরুপতি ভূমন্ডলের বৈকুন্ঠ নামে পরিচিত, বাংলাদেশে অনেক মন্দির আছে যেমন পুণ্ডরীক ধাম, এটা একটা শ্রীপাট, একটা পবিত্র স্থান। পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি তিনি ছিলেন বৃষভানু মহারাজ পূর্ব লীলা। তিনি ছিলেন রাধারানীর পিতা। সেই জন্য শ্রীচৈতন্য বলছেন ওনাকে, “বাপ! বাপ!” শশুর একরকম বাপ হয়, শাশুড়ি মা হয়। তাই রাধারানীর অবতার রূপে গদাধর পুণ্ডরীক বিদ্যানিধির থেকে দীক্ষা গ্রহণ করেছিলেন, তাই তিনি ছিলেন তার গুরু পিতা। এইভাবে অনেক তীর্থস্থান আছে।
পশ্চিমবাংলা হরিদাসপুর আছে, সেখানে হরিদাস ঠাকুর ছিলেন। ওখানকার গ্রাম নাম হরিদাসপুর, সেখানে উচ্চ বিদ্যালয় হচ্ছে হরিদাসপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সেখানকার সীমানা এলাকা হরিদাসপুর সীমান্ত নামে পরিচিত। আমাদের সেখানে একটি ইস্কন মন্দির আছে এবং সেখানে রাধাশ্যাম ও নিতাই গৌর আছেন। আমাদের কাছে সেই স্থানটি আছে যেখানে হরিদাস ঠাকুর বসতেন। বেনাপোল তাঁর আবির্ভাব স্থান। যদিও তিনি একটি অ-হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কিন্তু তবুও তিনি প্রত্যেকদিন ৩লক্ষ কৃষ্ণ নাম জপ করতেন। এক জমিদার বলেছিল যে সে কাউকে হাজার রৌপ্য মুদ্রা দেবে, যে হরিদাস ঠাকুরের পতন করাতে পারবে। একটা বেশ্যা সেই সুযোগ নিয়েছেন যে, “আমি তাকে পতন করব।” তাই সে সেই স্থানে যায় ও হরিদাস ঠাকুরের সঙ্গ করার মনোবাসনা ব্যক্ত করে। তখন তিনি (হরিদাস ঠাকুর) বললেন, “অবশ্যই আমি আপনার ইচ্ছা পূর্ণ করব. কিন্তু আমাকে প্রথমে আমার নাম জপ শেষ করতে হবে।” তিনি জপ করছিলেন — হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে/হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে। এই করতে করতে সূর্য উদয় হল ও সে চলে যায়। পরের দিন সে আবার রাত্রের সময় চলে আসে এবং আবার সে তার মনোবাসনা প্রকাশ করে এবং হরিদাস ঠাকুর বললেন, “আমি এখনও আমার মালা জপ শেষ করতে পারিনি, তাই যখন মালা শেষ হবে, তখন আপনার মনোবাসনা পূর্ণ করব।” আবার সকাল হয়ে গেল আর সেই বেশ্যা চলে গেল। তারপর তৃতীয় দিন সে আবার আসে এবং সে হরিদাস ঠাকুরের সাথে জপ করছিল, আর তখন সে তার অপরাধ উপলব্ধি করতে পারে যে হরিদাস ঠাকুর হচ্ছেন একজন শুদ্ধ ভক্ত, তাই সে হরিদাস ঠাকুরের শ্রী চরণে পতিত হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা চায়। হরিদাস ঠাকুর তাকে দীক্ষা দিয়া, সে বসে তুলসী গাছে জপ করছিল। সেই জমিদার রামচন্দ্র খান এই শুনে বিশ্বাস করতে পারছিল না যে সে একজন ভক্তে পরিণত হয়েছে। তাই তিনি সেখানে যায় ও নিজে তা দেখে যে সে হরে কৃষ্ণ নাম জপ করছে।
তাই, এইভাবে অল্প সাধুসঙ্গ পূর্ণ পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ধৃতরাষ্ট্রের সাধুসঙ্গ ছিল বিদুরের সঙ্গে তাই তার জীবন সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে গেল। শ্রীল প্রভুপাদ, ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ উনি পাশ্চাত্য দেশে গেলেন, ওঁনার সঙ্গ পেয়ে মানুষ জীবন পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি মালেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সমগ্র বিশ্বে গিয়েছিলেন, জাপান, আমেরিকা, কানাডা, লন্ডন, ইউরোপ, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকায় গিয়েছিলেন, এইভাবে শ্রীল প্রভুপাদ তিনি তাঁর সৎসঙ্গ প্রদান করে ছিলেন এবং মানুষদের পরিবর্তন করেছিলেন। এছাড়াও তিনি আমাদেরকে শ্রীমদ্ভাগবতম, ভগবদ্গীতা প্রদান করেছেন মানুষদেরকে উদ্ধার করার জন্য। যারা শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ বিতরণ করছে, আমি সেই সকল ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞ। এখন প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ে আমরা তাঁর সঙ্গ লাভ করতে পারি। আমরা পড়ছি যে কিভাবে বিদুর ধৃতরাষ্ট্রের কাছে প্রচার করেছিলেন এবং আমরা সেখান থেকেও কিছু অনুপ্রেরণা পেতে পারি যে ঠিক যেমন ধৃতরাষ্ট্র তিনি দৃঢ় সংকল্প হয়েছিলেন, তেমনই আমাদেরও কৃষ্ণ সেবার ক্ষেত্রে দৃঢ় সংকল্প হওয়া উচিত। জাগতিক ব্যক্তিরা মনে করে যে এই জগৎ হচ্ছে সত্য। এটি সত্য, কিন্তু তা অস্থায়ী। আকাশের মেঘ আছে, মেঘ থাকে এবং চলে যায়। আমরা হয়ত এই জড় জাগতিক পরিস্থিতিকে চিরস্থায়ী হিসেবে গ্রহণ করতে পারি, কিন্তু তা সব সময় পরিবর্তিত হয়। ধৃতরাষ্ট্র তিনি ভক্তদের প্রতি হিংসাত্মক ছিলেন, তাই তিনি অষ্টাঙ্গ যোগ করতে পেরেছিল, কিন্তু ভক্তিযোগ করতে পারেনি। বিদুর তার কাছে প্রচার করেছিলেন যাতে সে তার পক্ষে যা সর্বশ্রেষ্ঠ, তা অর্জন করতে পারে। কিন্তু শ্রীল প্রভুপাদ আমাদেরকে বলেছেন যে সবথেকে শ্রেষ্ঠ পন্থা হচ্ছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূর্ণ শরণ গ্রহণ করা।
এখন অস্ট্রেলিয়াতে গ্রীষ্মকাল। সেখানে বিভিন্ন গ্রীষ্ম মণ্ডলীয় ফল যেমন লিচু, আম, চেরি ইত্যাদি হচ্ছে। কিছুদিন আগে পার্থে রথযাত্রা হয়েছিল, ২৬তম বক্সিং দিনে মেলবর্ণে স্নানযাত্রা হবে এবং সেখানে পানিহাটি উৎসব এ চিড়াদধি ও ফল নিবেদন করা হবে। সেই সময় সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় গ্রীষ্মকালীন ফল পাওয়া যায়। আমি যেতাম কিন্তু সীমান্ততে সব বন্ধ আছে, তাই আমরা GBC-কে বলেছি যে এই মহামারীর সময় আমাদের হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ কীর্তনের বিষয়টি প্রচার করা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বলা হয়েছে যে মানুষেরা এই মহামারীর চিন্তায় মারা যাচ্ছে, এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের থেকেও বাজে। শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে যদি তারা হরে কৃষ্ণ জপ করতে না চায়, তাহলে তারা আল্লাহ বা ভগবানের অন্য কোন নাম জপ করতে পারে। এই মন্ত্রের কথা বলা হয়েছে, “হরের নাম হরের নাম হরের নামৈবকেবলম” — হরের নামের অর্থ হচ্ছে পরম পুরুষোত্তম ভগবানের নাম করা, হরের নাম হচ্ছে হরিনাম, এটি হচ্ছে হরি বা পরম পুরুষোত্তম ভগবানের নাম। ভগবানের যে কোন নাম যেকোনো ভাষায় বলা হলে, তারও কিছু আধ্যাত্মিক প্রভাব থাকবে, কিন্তু হরে কৃষ্ণ জপ করা, হরিনাম করা সহজ কারণ এতে কেবল তিনটি শব্দ আছে — হরে, কৃষ্ণ এবং রাম। অনেক মানুষেরাই হয়ত ভগবানের নাম সংস্কৃততে উচ্চারণ করতে চাইবে। কোননাকোনভাবে এই কলি যুগে তাদের পরমেশ্বর ভগবানের নামের আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন আন্তঃধর্মীয় সংগঠন, ধর্মীয় গোষ্টি দ্বারা সোশ্যাল মিডিয়া, রেডিও বা বিভিন্নভাবে আমাদের হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করার বিষয়টি জনপ্রিয় করতে হবে। শুদ্ধ ভক্তরা কোন জড়জাগতিক ইচ্ছার কারণে জপ করতে চায় না, তাই আমরা এমনকি আধ্যাত্মিক গুরুদেবের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রার্থনা করার সময়ও বলি, “হে ভগবান, যদি আপনি তাতে প্রীত হন!”
শ্রীল প্রভুপাদ বলেছিলেন যে কলকাতায় একটি প্লেগ ছিল, শত শত মানুষ মৃত্যু হয়েছিল। ১৮৯৮ সালে প্লেগ ছিল। একটা বাবাজি তাদের বাড়িতে গিয়া সবাইকে বলছে ভগবানের নাম করতে। কেবল হিন্দুরা নয়, মুসলিম, খ্রিস্টান, পারসী সকলে হরিনাম করেছিল। এইভাবে সেই প্লেগ দূরে চলে যায়, তাই আমাদের কোনো না কোনোভাবে মানুষদের দিয়ে জপ করানো উচিত।
আমরা ভেবেছিলাম যে এই মহামারী চলে গেছে, কিন্তু ওম-আইক্রণ ভেরিয়েন্ট এসছে এবং এটি আমেরিকা ও লন্ডনের মধ্যে সবথেকে বেশি পাওয়া গেছে। সকল ব্যক্তিদের দিয়ে জপ করান, সেটাই হচ্ছে একমাত্র আশা, আর কোন নিশ্চয়তা নেই, এমনকি ভ্যাকসিনও কাজ করছে না। তারা মানুষদের বুস্টার নিতে বলছে, কিন্তু এরও কোন নিশ্চয়তা নেই, তাই আমাদের পবিত্র নাম করা উচিত, এটিই প্রকৃত সমাধান। অন্ততপক্ষে যদি এইসব ব্যক্তিরা এমনকি অপরাধ যুক্ত ভাবেও নাম করে, তাহলে তাও না জপ করার থেকে ভালো। ঠিক যেমন বিদুর ধৃতরাষ্ট্রকে আত্ম-উপলব্ধি করতে বলেছিলেন, তেমনই আমাদেরও ব্যক্তিদের হরে কৃষ্ণ জপ করতে উৎসাহিত করা উচিত। এখন ভারতবর্ষে এখন কিছু কম হয়েছে, বলা যায়না আবার কেউ বলছে বাড়ছে। তাই এই অমিক্রম ভ্যারিয়েন্ট সমগ্র বিশ্বের মানুষদের উপর প্রভাব ফেলছে। এই ভেরিয়েন্টকে বলা হয় ওম-আইক্রন। কোন না কোনভাবে মানুষেরা উচ্চারণ করছে ওঁ (ওম)। কোন না কোনভাবে আমাদের মানুষদের দিয়ে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র বলানো উচিত। দক্ষিণ আমেরিকায় কেউ একজন বলছিল যীশু খ্রীষ্ট যীশু খ্রীষ্ট খ্রীষ্ট খ্রীষ্ট যীশু যীশু। কিছু পরে সে ভাবল যীশু খ্রীষ্ট কেন? হরে কৃষ্ণ কেন নয়? এটি অনেকটা একই রকম। তাই সে হরে কৃষ্ণ জপ করার মাধ্যমে আরও শক্তি পেয়েছিল।
বিদুর তার দাদাকে আধ্যাত্মিক জীবন গ্রহণের জন্য প্রচার করেছিলেন। এই জড়জগৎ আমাদের থাকার জন্য নাই। আমাদের আধ্যাত্মিক জগতে যেতে হবে। হরে কৃষ্ণ! তাই আমাদের মানুষদেরকে জপ করাতে হবে এবং দেখাতে হবে যে এই জড় জগৎ মানুষদের থাকার জায়গা নয়, আমাদেরকে ভগবদ্ধামে ফিরে যেতে হবে। এটিই হচ্ছে চৈতন্য মহাপ্রভুর বিশেষ কৃপা। তিনি বলেছেন, “পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম, সর্বত্র প্রচারিত হইবে মোর নাম (চৈ ভা অন্ত ৪.১২৬)এটিই হচ্ছে আমাদের সুযোগ যে আমাদেরকে মানুষদের দিয়ে পবিত্র নাম উচ্চারণ করাতে হবে, এটিই একমাত্র আশা।
আমি আশা করি প্রত্যেকেই আমার অ্যাপটি ডাউনলোড করেছে — জয়পতাকা স্বামী অ্যাপ। এটি এন্ড্রয়েড এবং অ্যাপেলে আছে। গতকাল কত মানুষেরা আমার ভার্চুয়াল টেবিলে অনলাইনে ভগবদ্গীতা অনুদান দিয়েছে। এবং ৬০০০ উপরে ভগবদ্গীতা অনুদান হয়েছিল। আমি ১০০০ গীতা দক্ষিণ আমেরিকায় দেব। এখন আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি এইভাবে যারা আমাকে সাহায্য করছে। দয়া করে মানুষের দিয়ে জপ করান এবং সুখী হন!
হরে কৃষ্ণ! কোন প্রশ্ন আছে?
সুবাহু শচীসূত দাস:- আমরা দেখি হরিদাস ঠাকুর অথবা বিদুরের মতো যে সমস্ত মহাত্মারা এই জড়জগতে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, ওঁনারা সকলে শ্রীকৃষ্ণের পার্ষদ ছিলেন, ওঁনাদের জন্য বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করা খুব সহজ ছিল। সেই সাথে ওঁনাদের সঙ্গে সঙ্গের প্রভাবে অনেক ভক্তও হয়েছেন, কিন্তু আমার মত সাধারন ব্যক্তিরা ভক্তির বাঁধাসমূহ অতিক্রম করা তো দূরের কথা, অসৎ সঙ্গের প্রভাবে প্রভাবিত হয়। গুরুমহারাজ এক্ষেত্রে আমার কি করা কর্তব্য?
জয়পতাকা স্বামী:- দেখো যে সব পরীক্ষা হরিদাস ঠাকুর পেয়েছে, আমাদের এত বড় পরীক্ষা হয় না। ২২ বাজারে মারধর দেওয়া হল, বেশ্যা তাকে চেষ্টা করছে পতন করার। আমি শুনছি যে দুর্গা দেবী, উনিও এসেছেন তাকে পরীক্ষা করতে। এত বড় পরীক্ষার আমাদের সম্মুখীন হতে হয় না। আমরা যদি কৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করি আমাদের সাহায্য করার জন্য, তিনি সেটা সাহায্য করেন। আমাদের কাছে ছোট্ট পরীক্ষা আসে, সেটাও আমরা ব্যর্থ হয়। কিন্তু আমরা অতিক্রম করতে পারি, যদি ইচ্ছা করি। আর যদি কৃষ্ণের উপরে ভরসা করি, তাহলে সমস্ত পরীক্ষা পার করব।
আনন্দিনী সীতা দেবী দাসী [দুর্গাপুর]:- আপনি আজকের ক্লাসে বললেন যে যদি আমরা অনেক শুদ্ধ ভক্তদের সাথে সঙ্গ করি, তাহলে আমরা নিজেদের অপরাধ থেকে মুক্ত হতে পারব। কিন্তু আমরা অভক্তদের দ্বারা হওয়া অপরাধ এড়িয়ে চলতে পারি? যারা খুব কমই কৃষ্ণ বা জপ করার বিষয়ে বিশ্বাস করে? কখনও কখনও আমরা তাদের সাথে থাকতে বাধ্য হই। যদি আপনি কৃপা করে নির্দেশনা দেন যে আমাদের এই অবস্থায় কি করা উচিত?
জয়পতাকা স্বামী:- ধন্যবাদ আনন্দিনী সীতা দেবী দাস! যদিও আমাদেরকে অভক্তদের সাথে মিশতে হয়, কিন্তু আমাদের কখনই তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সঙ্গ করা উচিত নয় এবং যদি আমরা তাদেরকে পবিত্র নাম সম্পর্কে বলি, ভগবদ্গীতা দেই, তাহলে এটি অনেক প্রভাব ফেলবে। আমরা তাদের সঙ্গ গ্রহণ করি না, আমরা তাদেরকে আমাদের সঙ্গ প্রদান করি। বিদুর ধৃতরাষ্ট্রের কাছে তার সৎসঙ্গ গ্রহণ করতে যাননি, তিনি তাকে তাঁর সৎসঙ্গ প্রদান করতে গিয়েছিলেন। যখন আমরা অভক্তদের সাথে সাক্ষাত করব, তখন আমাদের ভাবা উচিত যে কিভাবে আমি এই ব্যক্তিকে কৃষ্ণের কাছে আনতে পারে। আমাদের তাদের সঙ্গে প্রজল্পে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়। এই প্রশ্নের জন্য তোমায় ধন্যবাদ আনন্দিনী সীতা!
হরিহর কৃষ্ণ চৈতন্য দাস:- যেমন আপনি উল্লেখ করলেন যে অল্প সঙ্গও পরিবর্তন ঘটাতে পারে। তাই কেউ যদি খুব বেশি ভক্ত সঙ্গ না পায়, কিন্তু সে যদি প্রত্যেকদিন শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ পড়ে ও আপনার প্রবচন শোনে, তাহলে সে কি এর দ্বারা সফল হবে? প্রিয় আধ্যাত্মিক পিতা কৃপা করে বলুন।
জয়পতাকা স্বামী:- কেন নয়? অবশ্যই এগুলি তোমার আধ্যাত্বিক জীবনে খুবই সাহায্যকারী, কিন্তু আমাদেরকে অভক্তদের সঙ্গ এড়িয়ে চলতে হবে এবং তাই ভালো হবে যদি তোমার কাছাকাছি কোন মন্দির থাকে, তাহলে তুমি সেখানে যেতে পার, ভক্তদের সঙ্গ করতে পার। কিন্তু যদি কোন ভক্ত না থাকে, তাহলে তোমার কাছে শ্রীল প্রভুপাদের গ্রন্থ আছে, তুমি আমার ক্লাস শোনো। এখন ইন্টারনেটে আমরা বিভিন্ন জয়পতাকা স্বামী শিষ্যসমূহ অনুষ্ঠান দেখি, তুমি তাতে অংশগ্রহণ করতে পার। আসলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে youtube-এ আমি প্রত্যেকদিন বিভিন্ন মন্দির দেখি। তাই, এখন এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ভক্তদের সঙ্গ করতে পারব। ইন্টারনেটের দ্বারা আমরা ভালো সঙ্গ পেতে পারি, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সৎসঙ্গ করা যায় আবার কুসঙ্গ করা যায়। তাই আমাদের ভালোটি গ্রহণ করা উচিত ও বাজে সঙ্গ পরিত্যাগ করা উচিত।
অপূর্ব অরুন্ধতী দেবী দাসী:- আমরা কিভাবে ভালো ভক্ত এবং মহান ভক্তের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে পারব?
জয়পতাকা স্বামী:- যাইহোক আমরা যদি ভালো ভক্ত বা মহান ভক্তদের সাথে সঙ্গ করি, তাহলে তা খুব মঙ্গলজনক হবে। অনুভব কৃষ্ণ প্রেমে বিভোর ব্যক্তির লক্ষণ বলে, যার অনুভব আছে, আমরা তাদেরকে মহান ভক্ত হিসেবে বুঝতে পারব।
পূর্বী দাস:- ধামে যদি শারীরিকভাবেও না থাকতে পারে কিন্তু মানসিকভাবে অবশ্যই ধাম বাস করা উচিত। আমার প্রশ্ন এই যে আমরা কিভাবে মানসিকভাবে ধাম বাস করতে পারি?
জয়পতাকা স্বামী:- আমরা যদি মানসিকভাবে মন্দিরে থাকি, ধামে থাকি, এইভাবে এখন ইন্টারনেটে আমি অন্য স্থানে যাই, আমি কিন্তু মায়াপুরে মঙ্গল আরতিতে এখানে থাকি। এইভাবে এখন ইউটিউবের দ্বারা বিভিন্ন মন্দির দর্শন করা যায়, মায়াপুর টিভির দ্বারা। সেইভাবে মানসিকভাবে তুমি পবিত্র ধাম আসছ।
Lecture Suggetions
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২২ দেবানন্দ পণ্ডিতের শ্রদ্ধাহীনতা বক্রেশ্বর পণ্ডিতের কৃপার দ্বারা ধ্বংস হয়
-
২০২১০৭২৩ দেবানন্দ পণ্ডিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে শ্রীমদ্ভাগবত ব্যাখ্যা করার সঠিক উপায় সম্পর্কে নির্দেশ দানের অনুরোধ করলেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৪ঠা মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২৬ নবাব হুসেন শাহ্ বাদশা তাজা সংবাদ পেলেন – রামকেলি গ্রামে একজন সন্ন্যাসী আগমন করেছেন
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৫ই মার্চ ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ৩০শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব্ব – ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭১৯ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল।
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব - ৩রা মার্চ ২০২২
-
20221103 Addressing Kārtika Navadvīpa Mandala Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব- ২৭শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২১শে ফ্রব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20210320 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 4 Koladvīpa Address
-
20210318 Navadvīpa Maṇḍala Parikramā Day 2 Haṁsa-vāhana Address
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
২০২১০৭২১ ভক্তদের মহিমা কীর্তন এবং দিব্য পবিত্র নাম কীর্তনে ভক্তগণের অপরাধ অপসারণ
-
20221031 Address to Navadvīpa-maṇḍala Kārtika Parikramā Devotees
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব, ২রা মার্চ – ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
20220306 Addressing Śrī Navadvīpa-maṇḍala-parikramā Participants
-
২০২২০৪০১ প্রশ্নোত্তর পর্ব
-
২০২১০৭১১ গোলোকে গমন করো – ভাদ্র পূর্ণিমা অভিযান সম্বোধন জ্ঞাপন
-
২০২১০৭২০ ফলশ্রুতি – কুলিয়ায় শ্রীচৈতন্যদেবের লীলা প্রসঙ্গ শ্রবণের ফল- ২য় ভাগ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২৮শে মার্চ, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ
-
প্রশ্নোত্তর পর্ব – ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দ